Home Blog Page 92

মেসি-ইয়ামাল চাচা ভাতিজার বিশ্বকাপ ফাইনাল!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সময় কত দ্রুত চলে যায়! ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ফটো শুটে মাত্র ৫ মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে গোসল করিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ১৯ বছর পর সেই ছবি আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। উপলক্ষ অবশ্য বিশ্বকাপের ফাইনাল। ছবির দৃশ্যটা এমন ছিল যেন চাচা তার ভাতিজাকে পরম মমতায় গোসল করাচ্ছেন। আর আজ মনে হচ্ছে চাচা তার ভাতিজাকে খেলোয়াড় বানিয়ে বলছেন ভাতিজা তুমি কত বড় খেলোয়াড় হয়েছো আসো আগে আমার সাথে তুমি পরীক্ষা দাও! তবে পরীক্ষার মঞ্চটা ঘরোয়ো কোন মঞ্চ নয় একেবারেই বিশ্ব মঞ্চ, যে পরীক্ষার কোন ট্রায়াল নেই সরাসরি বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালকে বলা যায় মেসি-ইয়ামাল চাচা ভাতিজার বিশ্বকাপ ফাইনাল।  

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপে প্রথম বারের মত প্রতিপক্ষ ইয়ামাল-মেসি। আর এই ফাইনালকে ঘিরে ২০০৭ সালে ইয়ামালকে গোসল করানোর মেসির সেই ছবিটা আলোচানায় সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়ায় আর সাথে নানা মন্তব্য ও প্রশ্ন, তাহলে কে জিতবে বিশ্বকাপ ট্রফি? চাচা নাকি ভাতিজা? ৩৯ বছর বয়সী মেসির সামনে যখন আর্জেন্টিনার হয়ে ২য় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ তখন অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনকে শিরোপা জেতানোর স্বপ্নে বিভোর। এই মহারণ ম্যাচের আগে নিউইয়র্কে সেই ঐতিহাসিক ভাইরাল ছবি নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন মহা তারকা মেসি। তিনি বলেন- সত্যি বলতে, ছবিটা একেবারে পাগলামির মতো। তখন ও শিশু ছিল, আমরা একসঙ্গে ছবি তুলেছিলাম। আর আজ আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। এটাই তো জীবন।

’

মেসি আরো বলেন, ‘লামিন অসাধারণ প্রতিভাবান। আমি ওকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করি, কারণ ও এমন একটি ক্লাবে খেলে, যাকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। ওর সামনে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন এবার সেটা ও করতে না পারে। আমি শুধু ওর জন্য শুভ কামনা জানাতে পারি।’ 

স্পেনের লামিন ইয়ামাল

ইয়ামালের প্রশংসা করে মেসি আরো বলেন ‘কোনো সন্দেহ নেই, এই মুহূর্তে ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ওর সাফল্য কামনা করি, কারণ ওর ভালো হওয়া মানেই বার্সেলোনার ভালো হওয়া। আর সত্যি বলতে, ওই ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য-জীবন কত অদ্ভুত!’ ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করলে তা নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভাগ্যবান ফটোগ্রাফারঃ ছবির ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ট জানান, ইউনিসেফ ও স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। তবে ফটোগ্রাফার তার ক্যারিয়ারের অনন্য ছবিটি তুলেছিলেন তা কি তিনি তখন ভেবেছিলেন যে এই ছবিটা একদিন বিশ্বময় পরিচিতি পাবে? হয়তো না, হয়তো এইটুকু ভেবেছিলেন যে বার্সার ভবিষ্যত এক তারকা আর এক শিশু মাত্র এর বেশি কিছু কি? আর আজ তার তোলা ছবির দুজনেই যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবল মহাতারকা তাও আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজনেই একই মঞ্চে দুজনার প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য। সত্যি ভাগ্যবান ফটোগ্রাফার বটে!

ফাইনালের হতাশা ভুলে ব্রোঞ্জের যুদ্ধে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপে আজ শনিবার দিবগত রাত ৩ টায় ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মাঠে নামছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটিতে নেই ফাইনালে উঠার কোন তাড়না নেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, কিন্তু যেটা আছে সেটা হল সম্মান, ভবিষ্যতের বার্তা আর বিশ্বকাপে পরিসংখ্যানে এগিয়ে যাওয়ার হিসেব। দু-দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে ব্রিটিশরা তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে আবার ফরাসিরা। তাই এই ম্যাচকে বলা যায় ‘ফাইনালের হতাশা ভুলে ব্রোঞ্জের যুদ্ধে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স’।

ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারার দুঃখ কোন কিছুতেই ভোলার নয় তারপরও দুধের স্বাদ ঘোলে তো মিটাতেই হয় সেই দিক থেকে ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচটা উভয় দলের কাছে কিছুটা সান্তনা আবার কিছুটা হতাশা ভোলার ম্যাচ তবে কিভাবে হতাশা ভুলে দু-দল এই ম্যাচ থেকে কিছু পেতে পারে তা দেখবো।

১. সেমিফাইনালের হতাশা কাটানোর লড়াই:

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চাপ হবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডিফেন্সিভ খেলার ভুল শুধরানো আর শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হারানোর হতাশা ভুলে মাঠে নামা। অপরদিকে ফ্রান্সের চাপ হবে স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের আক্রমণভাগের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের জবাব দেওয়া।

২. কার বিদায়টা হবে হাসিমুখে:
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য এটি জাতীয় দলের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ হতে পারে। তাই ফরাসিরা তাঁর অধ্যায়ের শেষটা জয়ে রাঙাতে চাইবে।

৩. ইংল্যান্ডের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ:
ইংল্যান্ড ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হেরেছিল। এবার জিতলে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের অন্যতম সেরা সমাপ্তি হবে।

৪. ব্যক্তিগত লড়াই:
এই ম্যাচে অনেক খেলোয়াড়ের জন্য গোল্ডেন বুট বা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে। ফলে আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখার সম্ভাবনা বেশি।

৫. প্রমাণের ম্যাচ:
যারা সেমিফাইনালে সমালোচিত হয়েছেন, তারা নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবেন। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপর চাপ থাকবে সমালোচনার জবাব দেওয়ার।

৬. বেঞ্চের তারকাদের সুযোগ ও কৌশল:
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অনেক সময় কোচরা নতুন বা কম খেলা ফুটবলারদের সুযোগ দেন। এতে ম্যাচের গতি ও কৌশল কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

৭. নির্ভার কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবল:
ফাইনালে ওঠার চাপ নেই। তাই দুই দলই তুলনামূলক মুক্তভাবে খেলতে পারে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোতে সাধারণত গোলও বেশি হয়।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারিকেইন

দুই দলের বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান:

২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে দুই দল বিশ্বকাপে ৩ বার মুখোমুখি হয়েছিল। আজকের ম্যাচটি হবে ৪র্থ বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ।

বছরপর্বফলাফল
১৯৬৬গ্রুপ পর্বইংল্যান্ড ২-০ ফ্রান্স
১৯৮২দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বইংল্যান্ড ৩-১ ফ্রান্স
২০২২কোয়ার্টার ফাইনালফ্রান্স ২-১ ইংল্যান্ড

দুই দলের আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান:

দুই দল মোট ৩২টি অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ১৭ টি আর ফ্রান্স জিতেছে ১০টি ম্যাচ অপরদিকে ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।  

অর্থাৎ, সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডে এগিয়ে যদিও কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স তুলনা মূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।

তাই ফ্রান্স-ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচের ভেতরের গল্পটা হতে পারে উভয় দলের কাছে হতাশা বনাম পুনর্জাগরণ, আবার কোচ দেশমের সম্মান বাঁচানোর শেষ সুযোগের বিদায়ী লড়াই, অন্যদিকে টুখেলের জন্য সেটা আত্ম সম্মানের যুদ্ধ, ফাইনাল মিসের ক্ষত সারানোর ৯০ মিনিট।

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের ভেতরে তিন দ্বৈরথ

বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে কে, স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা ? এই প্রশ্ন এখন কোটি ফুটব ভক্তের। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউইয়র্কে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াই শুধু দুই দলের নয়, ম্যাচের ভেতরে কয়েকটি ব্যক্তিগত দ্বৈরথও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দলীয় লড়াইটা আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের। এর ভেতরে আরও অনেকে তৈরি হয়ে আছেন ‘সম্মুখযুদ্ধে’ লড়তে, দলকে সাফল্যের চূড়ার পথটি দেখাতে। আক্রমণ, রক্ষণ, মাঝমাঠ- তিন বিভাগে দুই দলের নির্ভরতার কমতি নেই। উত্তাপের ঝাঁঝ, রোমাঞ্চের রেণু তাই ছড়িয়ে পড়ছে নিউ ইয়র্কের ফাইনাল ঘিরে।

বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই ১টায় (এএম) মুখোমুখি হবে দুই দল। শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। আর ২০১০ সালের পর, দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ী হওয়ার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা স্পেনের।

দুই দলই সেরা, নির্ভরযোগ্য, ক্ষিপ্র ‘যোদ্ধা’দের নিয়ে মহারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিন বিভাগে তিনটি ‘ডুয়েলস’- হয়ে উঠতে পারে ফাইনালের নির্ণায়ক।

লিওনেল মেসি বনাম এমেরিক লাপোর্ত দ্বৈরথ

দুই সপ্তাহের একটু আগে ৩৯ বছরে পা রেখেছেন মেসি। কিন্তু বয়স এই মহাতারকার কাছে স্রেফ সংখ্যা। ম্যাচ জেতানোর সম্মোহনী ক্ষমতা আজও অটুট, অম্লান। ইতোমধ্যে আট গোল করে ছুটছেন গোল্ডেন বুট জয়ের পথে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট শোভা পাচ্ছে তার মাথায়। ফিফার ‘পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে’ সৃষ্টিশীলতার তালিকায় তিনি আছেন শীর্ষে। চারটি অ্যাসিস্টও আছে; এর মধ্যে দুটি আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে।

দুর্বার মেসিকে জায়গা ছেড়ে দিলে যে সর্বনাশ, তা ভালো করে জানা স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের। প্রতিপক্ষের অধিনায়ককে কড়া পাহারায় রাখার গুরুত্বদায়িত্ব তিনি তুলে দিতে পারেন এমেরিক লাপোখ্তের কাঁধে। আথলেতিক বিলবাওয়ের এই ডিফেন্ডারও আছেন দারুণ ফর্মে। ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবার্সির সঙ্গে দূর্ভেদ্য জুটি তিনি গড়ে তুলেছেন রক্ষণে। চলতি আসরে এ পর্যন্ত খেলা সাত ম্যাচে স্পেনের স্রেফ এক গোল হজমের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, এই জুটির কার্যকারিতা।

লামিন ইয়ামাল বনাম নিকোলাস তালিয়াফিকো

দুজনের বয়সের ব্যবধান ১৪ বছর! কিন্তু ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনের আক্রমণভাগের সবচেয়ে ক্ষিপ্র তারকা। সেখানে, ৩৩ বছর বয়সী তালিয়াফিকো আর্জেন্টিনার রক্ষণ দেয়ালের সবচেয়ে শক্ত পাথর; সরানো তো দূর অস্ত, নড়ানোই কঠিন!

ইয়ামাল অবশ্য চলতি আসরে এখনও প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পারেননি পুরোটা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে শুরুতে তাকে ভুগতে হয়েছে। এরপর মাঠে ফিরে দেখিয়েছেন, যখন-তখন জ্বলে উঠতে পারেন তিনি।

গতি ও বক্সের ভেতরে বিপজ্জনক এলাকায় ক্ষিপ্র ছোটাছুটি করে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে পেনাল্টি এনে দেন দলকে। মিকেল ওইয়ারসাবাল তা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে নেন ‘লা রোজা’দের। তরুণ ইয়ামালের কল্পনাশক্তি, খেলা পড়তে পারার দক্ষতার প্রমাণ মিলছে ফিফার সৃজনশীলতার ‘পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে’ তার ছয় নম্বরে অবস্থানে।

ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রাখার দায়িত্ব অভিজ্ঞ তালিয়াফিকোর পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত বিশ্বকাপে এই লেফট-ব্যাক ছিলে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়কদের একজন। মাঝের সময়ে ঋদ্ধ হয়েছেন আরও। চলতি আসরেও আলবিসেলস্তেদের রক্ষণে অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে চলেছেন তিনি।

মূলত ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তালিয়াফিকো ভীষণ শক্তিশালী, পরীক্ষিত ও সচেতন। যে সেনানীর ওপর নির্ভর করা যায় নির্ভার থেকে। জাতীয় দলের হয়ে ৮২ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার ২০২২ বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলেছিলেন ১২০ মিনিট। বড় ম্যাচে দলের রক্ষণের জোয়াল দৃঢ়তা ও বিশ্বস্ততার সাথে টেনে নেওয়ার প্রমাণ তিনি আগেও দিয়েছেন, আবারও দিতে প্রস্তুত থাকবেন নিশ্চিতভাবেই।

রদ্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ দ্বৈরথ

মেসি ও ইয়ামালকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে হলে ঠিকঠাক পেতে হবে বলের যোগান। সেটা আসবে মাঝমাঠ থেকে। মাঝমাঠ দখলের তুমুল লড়াই হতে পারে রদ্রি ও এন্সো ফের্নান্দেসের মধ্যে। রদ্রি শুরু থেকেই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে, ফের্নান্দেস দেরিতে হলেও খুঁজে পেয়েছেন নিজেকে।

রদ্রি আবার স্পেন দলের অধিনায়ক। ফলে, তার দায়িত্বের ভার যে কারো চেয়ে বেশি। সেটা তিনি বয়েও চলেছেন অবিশ্বাস্য আস্থায়। প্রতিটি ম্যাচে নিখুঁত পাসের যোগান রেখেছেন অব্যাহত। চলতি আসরে, রদ্রির চেয়ে সফল পাস (৬৪৮টি) দিতে পারেননি আর কেউ। তার সঠিক পাস দেওয়ার সক্ষমতাও ঈর্ষণীয়, শতকরা ৯৩ শতাংশ!

শারীরিক সামর্থ্য ও দমের প্রমাণও রদ্রি দিয়েছে। ৮৩ হাজার ৮০২ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এখন তিনি টুর্নামেন্টের রেকর্ডধারী। প্রতিপক্ষের আক্রমণের তাল মাঝমাঠে কেটে দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। একই কাজ তিনি আরও সূচারুভাবে করতে চাইবেন ফাইনালে। কিন্তু সেখানে নিশ্চিতভাবে বাধ সাঁধবেন ফের্নান্দেস। রদ্রির জন্য ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ হয়ে মাঠে নামার সামর্থ্য আছে এই আর্জেন্টাইনের।

সাড়ে তিন বছর আগের বিশ্বকাপে, ফিফা সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জয়ী ফের্নান্দেস বল পায়ে তো বটেই, বল ছাড়াও অক্লান্ত পরিশ্রমের সামর্থ্য, মানসিকতা-দুটোই আছে। এ পর্যন্ত ৪৩ বার বল পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি, যা আর্জেন্টিনার যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

ফের্নান্দেসের আবার প্রয়োজনের সময় গোল করার বাড়তি গুণও আছে।

মিশরের বিপক্ষে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় পড়া আর্জেন্টিনাকে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি তিনি এনে দিয়েছিলেন দুর্দান্ত হেডে। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছিল, তখনও তিনি আসেন ত্রাতা হয়ে। মেসির পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন গোলে ফেরান সমতা। পরে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেস।

ফাইনালেও মাঝমাঠের দখল রাখার পাশাপাশি, গোলের দাবি মেটাতে হতে পারে ফের্নান্দেসকে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আসরের শুরুর দিকে সন্তুষ্ট না থাকলেও, ইংল্যান্ডর ম্যাচের পর তিনি এখন আত্মবিশ্বাসে ফুটছেন টগবগ করে।

ইংল্যান্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ফ্লাওয়ার

ইংল্যান্ড টেস্ট দলের প্রধান কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কয়েক দফা আলোচনা করলেও সাবেক এই জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। বর্তমানে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং দা হান্ড্রেডে লন্ডন স্পিরিটের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয় ইসিবি। তবে তিনি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্বে থাকবেন। এরপরই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে ইংল্যান্ড বোর্ড এবং সেই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ফ্লাওয়ার।

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ছিলেন ফ্লাওয়ার। তার অধীনে ইংল্যান্ড তিনটি অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজও জিতেছিল। জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সফল কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

ইসিবি এমন প্রস্তাবও দিয়েছিল যে, ইংল্যান্ডের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কোচ হিসেবেও কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন ফ্লাওয়ার। তবে আইপিএল শেষ হওয়ার পরপরই ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরু হওয়ায় বিষয়টিকে বাস্তবসম্মত মনে করেননি তিনি।

লর্ডসে দা হান্ড্রেড শুরুর আগে ফ্লাওয়ার বলেন, `হ্যাঁ, আমি নিজেকে এই দৌড় থেকে সরিয়ে নিয়েছি। ইসিবির সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তবে আমি বর্তমানে যে কাজ করছি, তা নিয়েই খুব খুশি।’

আগামী ১৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবে ইংল্যান্ড। তার আগে নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ দিতে চায় ইসিবি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউকে নিয়োগ দেওয়া না গেলে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন মার্কাস ট্রেসকোথিক।

নতুন কোচের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্টিভেন ফ্লেমিং, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, রিচার্ড ডসন, জোনাথান ট্রট, মাইক হেসন, টম মুডি এবং কুমার সাঙ্গাকারা।

নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্লেমিং জানিয়েছেন, ইসিবি এখনো তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি। তবে এমন আলোচনায় নিজের নাম আসাকে তিনি সম্মানের বলে মনে করেন।

এদিকে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ চলাকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। নতুন অধিনায়কের নামও এখনও ঘোষণা করেনি ইসিবি। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড জানিয়েছেন, নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের পরই অধিনায়ক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

টি-২০ সিরিজ জিততে চাই : সাইফউদ্দিন

0

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ক্যামিওর পর বল হাতেও রেখেছেন অবদান। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ, ফিরিয়েছে সমতা। যেকোনো মূল্যে এই সিরিজ জিতে দেশে ফিরতে চায় টাইগাররা। 

সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ট্রফিই খোয়াতে হয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলে সেই ক্ষতে একটু হলেও প্রলেপ দেওয়া যাবে। তবে তার আগে কন্ডিশন বড় চ্যালেঞ্জ টাইগারদের জন্য। যদিও মাসখানেকের সফর এখন শেষপ্রান্তে।

পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন বলেন, ‘আপনারা জানেন এই কন্ডিশন একটু কঠিন আমাদের ব্যাটারদের জন্য। আজকের ম্যাচ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ আমরা প্রথম ম্যাচটা হেরেছি। গত কয়েক মাস ধরে ঘরের মাঠে আমরা খুব ভালো খেলছিলাম। বাইরে খেলতে এলে মাঝে মাঝে একটু কষ্ট হচ্ছে। একটা সিরিজের ৫-৭ দিন আগে আসি, প্র্যাকটিস করি, তাতেও কন্ডিশন ও উইকেটে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়। এমন অনেক কিছুই আছে। তবে আশা করি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতব।’

এছাড়া তিনি বলেন,‘এখনও একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা অনেক আলোচনা করেছি গত কয়দিন, কীভাবে উইকেট-আবহাওয়া এসব সামলাবো। আজ তা কাজে লেগেছে।’

স্বাগতিক ক্রিকেটারদের মাত্রাতিরিক্ত ক্যাচ মিসের ফায়দাও কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘হ্যাঁ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা আজ বেশ কিছু ক্যাচ ছেড়েছে। আমাদের জন্য ভালোই হলো। আশা করি রবিবারেও এমন হবে (হাসি)। টেস্ট ও ওয়ানডেতে হেরেছি, আমরা এই সিরিজ জিততে চাই।’

ক্যাচ মিসে জিম্বাবুয়ে পিছিয়ে গেছে জানিয়ে স্বাগতিক দেশের সাংবাদিকদের সাইফউদ্দিন বলেন, ‘যেকোনো ফরম্যাটেই ক্যাচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ২-৩টি ক্যাচ হাতছাড়া হলে প্রতিপক্ষের দিকে মোমেন্টাম চলে যায়। আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক আছি। অনেক ফিল্ডিং সেশন করেছি, প্র্যাকটিস সেশনও হয়। টপ অর্ডারের এক-দুটো ক্যাচ মিস করলেও মাশুল দিতে হয়। এখন শেষ ম্যাচেই আমাদের মনোযোগ।’

ফ্রান্সের দেশোঁর অধ্যায় শেষ!

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছিল ফ্রান্স। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন শিরোপা নয়, তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে দিদিয়ে দেশোঁর দলকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্সের ডাগআউটে শেষবারের মতো দেখা যাবে সফল এই কোচকে।

মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৯ জুলাই) ভোর ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। অনেকের কাছেই ম্যাচটি গুরুত্বহীন হলেও, ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের সামনে থাকছে ব্যক্তিগত এক বড় অর্জনের সুযোগ। বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন আট, যা লিওনেল মেসির সমান। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তাই শেষ সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইবেন ফরাসি তারকা।

চলতি বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল দুই দলই। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হার মানে ফ্রান্স, আর আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ফলে দুই দলেরই শেষ লড়াই এখন তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ে দেশোঁর ১৪ বছরের অধ্যায়। তাঁর অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল দলটি, যদিও টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। দেশোঁর কোচিংয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপেই অন্তত সেমিফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স।

৫৭ বছর বয়সী দেশোঁর আশা ছিল, আরেকটি বিশ্বকাপ জিতেই দায়িত্ব ছাড়বেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে এমবাপে, চুয়ামেনি ও সতীর্থদের সামনে সুযোগ আছে দীর্ঘদিন ফ্রান্সকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করা কোচকে অন্তত জয় দিয়ে বিদায় জানানোর।

অন্যদিকে, ম্যাচটি নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই ইংল্যান্ড শিবিরেও। কোচ টমাস টুখেল স্পষ্টই বলেছেন, সেমিফাইনালে হারের পর কোনো খেলোয়াড়ই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না।

`এই খেলোয়াড়দের কেউই, ফরাসি খেলোয়াড়দের কেউই এই ম্যাচটি খেলতে চায় না। সবাই ফাইনালে খেলতে চেয়েছিল। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু দিয়েছি।’

দুই দলই সেরা একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাঁরা টুর্নামেন্টে কম সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের সুযোগ দিতে পারেন দেশোঁ ও টুখেল। তবে এমবাপের শুরু থেকেই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না তিনি।

কাগজে-কলমে ম্যাচটির গুরুত্ব কম হলেও, ফ্রান্সের জন্য এর তাৎপর্য ভিন্ন। একদিকে এমবাপের সামনে থাকছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, অন্যদিকে দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের পর দেশোঁকে জয় দিয়ে বিদায় জানানোর শেষ মঞ্চও এটি।

কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স আর নেই

সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন, কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড (গ্যারি) সোবার্স আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মহান ক্রিকেটার। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ৯৩টি টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করেন সোবার্স। ২৬টি সেঞ্চুরিতে ৮ হাজার ৩২ রান করার পাশাপাশি নেন ২৩৫টি উইকেট। বাঁহাতি ব্যাটিং, পেস ও স্পিন-দুই ধরনের বোলিং এবং অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের জন্য তাঁকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৬৫ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলে দীর্ঘদিন টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড নিজের দখলে রাখেন তিনি। ১৯৬৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে আরেকটি ইতিহাসও গড়েন। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে পান নাইট উপাধি। তাঁর সম্মানেই আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারের নাম রাখা হয়েছে ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’।

২০০৯ সালে আইসিসি হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই কিংবদন্তির মৃত্যুতে ক্রিকেটবিশ্বে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর বিদায়ে হারিয়ে গেল ক্রিকেট ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার কীর্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপ জিতবে ‘লা মাসিয়া’!

ফাইনালে বার্সার একাডেমী লড়াই

৭০২ সালে বার্সা নগরীতে নির্মিত ফার্মহাউস ভবনটি শুধু একটি ভবনই নয় এটি একটি ইতিহাস একটি ফটবল গল্পের অপর নাম। যে ভবনকে কেন্দ্র করেই ফুটবল বিশ্ব এখন তোলপাড় কারণ ১৯৭৯ সালে এই ভবনটিকে বার্সার ‍যুব খেলোয়াড়রা আবাসন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এবং সেখান থেকেই “লা মাসিয়া” একাডেমির পরিচিতি শুরু হয় বিশ্বময়। উল্লেখ্যে ১৯৭৯ সালের ২০ অক্টোবর ‘লা মাসিয়া; ফুটবল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। স্প্যানিশ ভাষায় ‘লা মাসিয়া’ শব্দের বাংলা অর্থ ফার্মহাউস বাংলায় যাকে বলে খামার। আপনারা হয়তো বুঝতে পেরেছেন কোন খামারের কথা বলা হচ্ছে। পৃথিবীতে অনেক ফুটবল–খামার আছে তবে বার্সেলোনার মতো এত বিখ্যাত ও সাফল্য মণ্ডিত মনে হয় আর আনেই। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন মিলে মোট ৯ জন‘ লা মাসিয়া’ একাডেমীর ফুটবলার খেলবেন এই অর্থে বলা যায় ‘বিশ্বকাপ জিতবে লা মাসিয়া’।

ইয়ামাল যখন লা মাসিয়ার ছাত্র

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনায় তাই এই ‘লা মাসিয়া’ ‘ফুটবল-খামার’। অবশ্য ফাইনালকে ‘লা মাসিয়া ডার্বি বললেও ভূল বলা হবেনা কারণ ‘স্পেন ৮-১ আর্জেন্টিনা’ এই স্কোরলাইন দেখুন, কি ভাবছেন এটা ফাইনাল ম্যাচের গোল স্কোর? না না গোল স্কোর নয়! এই স্কোর হল বিশ্বকাপ ফাইনালে বার্সার ফুটবল–খামার ‘লা মাসিয়া’র কয়জন খেলোয়াড় খেলছেন, সেটার হিসাব মাত্র।

এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন দলে খেলবেন লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা খেলোয়াড় ৮ জন-লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। আর আর্জেন্টিনা দলে মাত্র ১ জন সবেধন নিলমনি লিওনেল মেসি।

স্পেন ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তখন দলে লা মাসিয়ার গ্র্যাজুয়েট ছিলেন ৯ জন-ভিক্টর ভালদেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনা।

তবে বিশ্বকাপে এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন কারণ লা মাসিয়া খামারের ইতিহাসে সেরা ফুটবলার মেসি যে খেলবেন স্পেনের বিপক্ষে। তাতে কি! লা মাসিয়ার তো ঘরেই যাচ্ছে বিশ্বকাপ জয়ের পদক তাইনা? ফাইনালে আর্জেন্টিনা–স্পেনের মধ্যে যে দলই বিশ্বকাপ জিতুক-অন্তত একটি পদক লা মাসিয়ার সন্তানের গলায় শোভা পাবেই। সেটা হোক মেসি কিংবা স্পেন দলের বাকি ৮ জন। ব্যাপারটা সত্যিই লা মাসিয়ার জন্য রোমাঞ্চকর! এ কারনেই লা মাসিয়ার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। আবার এই ফাইনাল লড়াই ‘লা মাসিয়ার’ অতীতের সঙ্গে বর্তমানেরও বটে কারণ লিওনেল মেসি লা মাসিয়ার অতীত আর বর্তমান হলেন লামিনে ইয়ামাল!

মেসি যখন লা মাসিয়ার ছাত্র

মেসি ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় ঢুকে ১৭ বছর বয়সে বের হয়েছিলেন মেসি। এরপর কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তারা মিলে সর্বজয়ী বার্সা হয়ে উঠেছিলেন। ২০২১ সালে বার্সা ছেড়ে যাওয়া মেসি তারপর এ নিয়ে দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবেন। মেসি যদি হন লা মাসিয়ার সোনালি অতীত, ইয়ামাল তাহলে বর্তমান ও ভবিষ্যত।

নিউ জার্সির ফাইনাল যখন শেষ হবে তখন সেখান থেকে হাজার মাইল দূরে থাকবে এক নীরব বিজয়ী। তা হল ‘লা মাসিয়া’ নামক বার্সেলোনার ফুটবল খামার। লা মাসিয়ার কোন জীবন নেই আছে শুধু ধূসর রঙের একটি ভবন, সামনে কিছু গাছগাছালি ও সবুজ মাঠ। বার্সার সমর্থকরা বলেন, আসলে সেটা ভবনও নয়, সেটা আসলে একটা স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মেসি, ইয়ামালরা। নাম তার লা মাসিয়া। এমন একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের জন্য ‘লা মাসিয়া তো গর্ব করতেই পারে তাই না?

ইয়ামালের জন্মের আগেই মেসি যা কিছু অর্জন করেছিলেন!

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে যখন আর্জেন্টিনা এবং স্পেন মুখোমুখি হবে, তখন তা হবে মূলত ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে শ্রেষ্ঠত্বের মশাল হস্তান্তরের ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফুটবল বিশ্ব দেখবে দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার লড়াই; বার্সেলোনার এক কিংবদন্তির মুখোমুখি হবেন ক্লাবটির বর্তমান মহাতারকা। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল।

লামিনে ইয়ামাল মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্পেনকে উয়েফা ইউরো ২০২৪ জেতাতে সাহায্য করে ইতিমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে একটি সুপরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন। তবে লিওনেল মেসিও তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতে সময় নষ্ট করেননি। ২০০৭ সালে ইয়ামালের জন্ম নেওয়ার আগেই মেসি এমন কিছু অনন্য অর্জন এবং রেকর্ড গড়েছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। নিচে তার একটি বিস্তারিত কালানুক্রমিক বিবরণ দেওয়া হলো:

১. এফসি বার্সেলোনা সিনিয়র দলে অভিষেক (১৬ অক্টোবর, ২০০৪)

লিওনেল মেসি বার্সেলোনার সিনিয়র দলের হয়ে তাঁর প্রথম ম্যাচ খেলেন চিরপ্রতিদ্বন্দী এস্পানিওলের বিরুদ্ধে। ম্যাচটিতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি এবং বার্সেলোনা ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।

২. উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক (৭ ডিসেম্বর, ২০০৪)

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মেসির অভিষেক হয়। শাখতার দোনেৎস্কের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচে তিনি মূল একাদশে (Start) খেলেছিলেন, যদিও ম্যাচটিতে বার্সা ২-০ ব্যবধানে হেরে যায়।

৩. বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোল (১ মে, ২০০৫)

২০০৫ সালের ১ মে লা লিগার একটি ম্যাচে আলবাসেতের (Albacete) বিরুদ্ধে মেসি বার্সেলোনার সিনিয়র দলের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করেন।

৪. প্রথম লা লিগা শিরোপা জয় (১৪ মে, ২০০৫)

২০০৪-০৫ মৌসুমে চিরপ্রতিদ্বন্দী রিয়াল মাদ্রিদকে ৪ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলে বার্সেলোনা লা লিগা শিরোপা নিজেদের করে নেয়। এর মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মেসি তাঁর প্রথম বড় ট্রফি জয়ের স্বাদ পান। ১৯৯৯ সালের পর এটিই ছিল বার্সেলোনার প্রথম লিগ শিরোপা।

৫. অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয় এবং এমভিপি (২ জুলাই, ২০০৫)

নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে নেতৃত্ব দেন মেসি। এটি ছিল দেশের হয়ে তাঁর প্রথম ট্রফি (এর পরের ট্রফির জন্য তাঁকে প্রায় ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল)। এই টুর্নামেন্টে মেসি একাধারে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ এবং সর্বোচ্চ ৬টি গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ লাভ করেন।

৬. গোল্ডেন বয় অ্যাওয়ার্ড জয় (ডিসেম্বর, ২০০৫)

ইউরোপের সবচেয়ে উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে মেসি ২০০৫ সালের ‘গোল্ডেন বয়’ পুরস্কার জিতে নেন। এই দৌড়ে তিনি ওয়েন রুনি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের পেছনে ফেলেছিলেন।

৭. প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগা শিরোপা (১৭ মে, ২০০৬)

২০০৬ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্সেনালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বার্সেলোনা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতে, যেখানে মেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পুরো টুর্নামেন্টে মেসি ৬টি ম্যাচে অংশ নেন, যার মধ্যে ৪টিতে তিনি মূল একাদশে ছিলেন। পানাথিনাইকোসের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিনি একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

৮. দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা (১৯ মে, ২০০৬)

১৯৯৭-৯৮ এবং ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের পর এই প্রথম বার্সেলোনা টানা দুইবার (Back-to-back) লা লিগা শিরোপা জেতার কীর্তি গড়ে। পরবর্তীতে সেই গ্রীষ্মেই বার্সা ‘সুপারকোপা দে এস্পানিয়া’ জয় করে, যা মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে আরও একটি শিরোপা যুক্ত করে।

৯. ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক (১৬ জুন, ২০০৬)

মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলেন মেসি। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিনি মূল একাদশে ছিলেন এবং সার্বিয়া ও মন্টেনিগোর বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজের ১৯তম জন্মদিনে, মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শেষ ১৬-র ম্যাচে দলকে ২-১ ব্যবধানে জেতাতে সাহায্য করেন তিনি।

১০. ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশে অন্তর্ভুক্তি (নভেম্বর, ২০০৬)

মাত্র ১৯ বছর বয়সে সহকর্মী পেশাদার ফুটবলারদের ভোটে মেসি ‘FIFPro World XI’ (বিশ্বের সেরা একাদশ)-এ জায়গা করে নেন, যা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়।

১১. এল ক্লাসিকোতে হ্যাটট্রিক (১১ মার্চ, ২০০৭)

ক্যাম্প ন্যূ-তে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে মেসি তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয় এবং ১০ জনের বার্সেলোনা দলকে তিনি একাই পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচান।

১২. সেই বিখ্যাত ‘আঙ্কারা মেসি’ গোল (১৮ এপ্রিল, ২০০৭)

কোপা দেল রেই-এর একটি ম্যাচে গেটাফের (Getafe) বিরুদ্ধে মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা একক (Solo) গোলটি করেন। নিজের হাফ থেকে দৌড় শুরু করে একে একে পাঁচজন ডিফেন্ডার এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তিনি বল জালে জড়ান। এই গোলটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক গোলের সাথে সরাসরি তুলনায় আসে। এই ম্যাচের ধারাভাষ্যকার কাতালান ভাষায় বারবার বলছিলেন “Encara Messi” (যার অর্থ: “এখনও মেসি”), যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের কাছে কিংবদন্তিতুল্য “Ankara Messi” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

২০০৭ সালের জুলাই মাসে যখন ল্যামিন ইয়ামাল পৃথিবীতে আসেন, ততক্ষণে লিওনেল মেসি ফুটবল বিশ্বের শীর্ষ স্তরে নিজের রাজত্ব তৈরি করে ফেলেছিলেন এবং একজন বিশ্বমানের তারকা হিসেবে নিজের নাম খোদাই করে নিয়েছিলেন।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার আগ্রাসী ফুটবলে শঙ্কিত স্পেন

বিশ্বকাপের ফাইনালের বাঁশি বাজতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অবশ্য শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে স্পেন শিবিরের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ নয়, বরং তাদের আগ্রাসী ফুটবল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শারীরিক ফুটবল স্পেনকে ভাবিয়ে তুলেছে। একের পর এক কড়া ট্যাকল, অপ্রয়োজনীয় ফাউল এবং ম্যাচের উত্তাপ বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা স্প্যানিশ শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেই কারণেই ফাইনালের আগে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাপোর্তে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আক্রমণাত্মক ফুটবলে তাঁর আপত্তি নেই, তবে সেটি যেন ফুটবলের সীমার মধ্যেই থাকে। রেফারি যদি নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে আগ্রাসী ফুটবল নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয়, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলায় আমরা এমন কিছু দেখেছি, যা সত্যিই বিস্ময়কর। ট্যাকলের নামে এমন কিছু করা হয়েছে, যা এই পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।’

স্প্যানিশ ডিফেন্ডার বলেন, ‘এই ধরনের ট্যাকল খেলোয়াড়দের বিরক্ত করে তোলে। তখন মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে যায়। একজন বা দুজন ফুটবলারও যদি এভাবে খেলেন, পুরো ম্যাচের আবহ বদলে যেতে পারে। তাই খেলা যেন ফুটবলই থাকে, সেটি নিশ্চিত করা রেফারির অন্যতম দায়িত্ব।’

স্পেন নিজেদের ফুটবল দর্শন থেকে সরবে না

লাপোর্তে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্পেন নিজেদের ফুটবল দর্শন থেকে একচুলও সরে আসতে চায় না। তাঁর ভাষায়, এই বিশ্বকাপজুড়েই স্পেন পরিচ্ছন্ন, নিয়ন্ত্রিত এবং মার্জিত ফুটবল খেলে এসেছে। প্রতিপক্ষকে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা কিংবা অকারণ ফাউল করে ম্যাচের গতি নষ্ট করা তাদের কৌশলের অংশ নয়।

রেফারির সঙ্গে কথা বলছেন লাপোর্তে

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমরা পরিষ্কার ও মার্জিত ফুটবল খেলছি। প্রতিপক্ষকে আঘাত করা বা অপ্রয়োজনীয় ফাউল করার উদ্দেশ্যে আমরা মাঠে নামি না। এই নীতিতেই আমরা অটল থাকতে চাই। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে রেফারি কীভাবে ম্যাচ পরিচালনা করেন তার ওপর।’

যদিও আর্জেন্টিনার খেলার ধরন নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে, তবে লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে ভোলেননি লাপোর্তে। বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘মেসি একজন কিংবদন্তি। আমি ছোটবেলা থেকেই তাঁকে কিংবদন্তি হিসেবে দেখে বড় হয়েছি। তাঁর অসংখ্য ম্যাচ ও ভিডিও আমরা দেখেছি। বহু বছর ধরে তাঁর ফুটবল উপভোগ করেছি। কিন্তু এবার আশা করছি, ফাইনালটা মেসির নয়, আমাদের হবে।’

আমাদের ওপর কেউ আস্থা রাখেনি

লাপোর্তে আরও জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে হয়তো অনেকেই স্পেনকে শিরোপার দাবিদার হিসেবে দেখেননি। কিন্তু দলের ভেতরে বিশ্বাসের কোনো ঘাটতি ছিল না। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা ধাপে ধাপে ফাইনালে পৌঁছেছে। এখন এত দূর এসে শিরোপা হাতছাড়া করা তাদের জন্য হবে সবচেয়ে বড় হতাশা।

এখন দেখার বিষয়, ফাইনালের মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কারা-লিওনেল মেসির জাদুকরী পা, নাকি রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের বাঁশি। কারণ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচে শারীরিক লড়াই আর শৈল্পিক ফুটবলের সূক্ষ্ম সীমারেখা কোথায় টানা হবে, সেটিও হতে পারে শিরোপা নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।