Home Blog Page 91

ইয়ামালকে নিয়ে স্বস্তির খবর, ফাইনালের জন্য প্রস্তুত স্পেনের তরুণ তারকা

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য দলের সেরা তারকা লামিনে ইয়ামাল শতভাগ ফিট বলে জানিয়েছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনালে লুকা দিনিয়ের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পায়ে ব্যথা পান ইয়ামাল। তারপরও ম্যাচের পুরো সময় মাঠে ছিলেন তিনি। কিন্তু ফাইনালের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি ইয়ামাল। তাই ইয়ামালের ফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কা জাগে। কিন্তু সেই শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে।

ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামলাকে নিয়ে স্পেন কোচ জানান, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড।

লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে ২২ মিনিটে পেনাল্টির ঠিক আগে লুকার সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছিল ইয়ামাল। তখন থেকেই বেশ অস্বস্তিবোধ করছিল সে। তারপরও পুরো ম্যাচ খেলেছে ইয়ামাল। ম্যাচ শেষে বিশ্রামে ছিল সে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম, সে আলাদা অনুশীলন করুক এবং ফিজিওদের পর্যবেক্ষণে থাকুক। আমরা তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। তবে সে এখন ঠিক আছে এবং তার শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। শারীরিকভাবে সে পুরোপুরি প্রস্তুত আছে। চিকিৎসক দলের সঙ্গে কথা বলেছি, সব কিছুই ইতিবাচক আছে।’

ইয়ামাল দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন বলে জানান দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘ফাইনালের দু’দিন আগে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছে ইয়ামাল। আজ (গতকাল) দলের সবাই এক সঙ্গে অনুশীলন করেছে। আগামীকাল (আজ) শেষ অনুশীলন পর্বটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’

এদিকে পেশিতে টান লাগায় ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মাঠ ছাড়েন রাইটব্যাক পেদ্রো পোরো। ইয়ামালের মত দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি তিনিও। তবে ফাইনালের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন পোরোও।

নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

বিশ্বকাপ থেকে দলগুলো ও ফুটবলাররা কত টাকা পাচ্ছে

আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে জমকালো ও বড় আসর হতে যাচ্ছে এই বিশ্বকাপ। স্পেন-আর্জেন্টিনার ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামছে বিশ্বকাপের। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দল। বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন নজরকাড়া এক ফুটবল মহোৎসব।

সেইসঙ্গে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অঙ্কের প্রাইজমানি পেতে যাচ্ছেন অংশগ্রহণকারী দলগুলো। বিশ্বকাপের এই প্রাইজমানি কীভাবে ভাগ করা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন দল কত অর্থ পাচ্ছে-এসব তথ্য নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খেলাধুলা বিষয়ক বিভাগ দ্য অ্যাথলেটিক।

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছে। যা চার বছর আগে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি এবারের প্রাইজমানি। নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকে ন্যূনতম ১ কোটি ৫ লাখ ডলার পাচ্ছে।

এর মধ্যে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার। সঙ্গে তাদের প্রস্তুতি খরচ বাবদ দেওয়া হয়েছে আরও ১৫ লাখ ডলার।

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ডলার।

রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

তৃতীয় স্থান দল ইংল্যান্ড ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

চতুর্থ স্থান দল ফ্রান্স যাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড-প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে।

শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া ৮টি দল পেয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

শেষ ৩২ থেকে ছিটকে যাওয়া ১৬টি দল পেয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার।

ব্যক্তিগত সেরা পুরস্কার কী কী?

বিশ্বকাপ সেরা খেলোয়াড় পান গোল্ডেন বল

সেরা গোলরক্ষক জেতেন গোল্ডেন গ্লাভস

আসরজুড়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা জিতে নেন গোল্ডেন বুট পুরস্কার।

এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে কোনো অর্থ পুরস্কার নেই।

পুরস্কারজয়ীরা পাবেন শুধু ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের নাম লেখানোর গৌরব।

জয় দিয়ে সফর শেষ করতে চায় বাংলাদেশ

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রুপ নিয়েছে।

তবে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন যখন রোববার নিউ জার্সিতে তাকিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের অপেক্ষায়, এর আগে বাংলাদেশ দল নামবে বুলাওয়ায়োতে শেষের স্বস্তির খোঁজে। এই সফরে এমনিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তির ছিল সামান্যই, হারানোরই ছিল অনেক বেশি। দুই সংস্করণে সেই শঙ্কাই সত্যি হয়েছে। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পরে ওয়ানডে সিরিজ হেরে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজরা।

নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়। এখানেও সিরিজ শুরু হয় বড় হার দিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার ব্যাটে-বলে ভালো পারফরম্যান্সে সিরিজ জিইয়ে রাখেন হৃদয়রা।

এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের একটি প্রাপ্তি ইয়াসির আলি চৌধুরির ব্যাটিং। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর হুট করেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে নেওয়া হয়েছে তাকে। তখন সেটা প্রশ্নের জন্ম দিলেন জবাব দিয়েছেন তিনি ব্যাট হাতে।

প্রথম ম্যাচে দল হারলেও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি উপহার দেন ইয়াসির। পরের ম্যাচে শেষ দিকে নেমে ১২ বলে ২২ রানে গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও খেলেন।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগের দিন বিসিবির ভিডিও বার্তায় ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বললেন, দেশের জন্য ভালো কিছু করার তাড়না থেকেই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেছেন তারা।

‘মরিয়াভাব নয়, আমরা সবাই চেষ্টা করছিলাম যার যার জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, দলের যে একটা বন্ডিং, স্পিরিট, ওটা মাথায় নিয়েই সবাই নেমেছিল যে, আমরা বাংলাদেশের জন্য খেলব এবং বাংলাদেশকে জেতাব। আমার কাছে মনে হয়, সবারই ওরকম (ভাবনা) ছিল যে, বাংলাদেশকে জেতাব।’

দুই ম্যাচের ফাঁকে এক দিনের বিরতিতে অনুশীলন সেশন ছিল না দলের। হোটেলেই ছিল শুধু শারীরিক কসরত। ইয়াসির বললেন, আগের ম্যাচের পথ ধরেই শেষ ম্যাচে জয়ের চেষ্টা করবেন তারা।‘আজকে শুধু একটু জিম সেশন ও রিকভারি সেশন হয়েছে। আশা করি, এটা আগামীকালের ম্যাচের জন্য আমাদেরকে ভালো করতে উজ্জীবিত করবে।

এছাড়া তিনি বলেন,‘ আমরা সবশেষ ম্যাচটি যেভাবে খেলেছি, আমরা চেষ্টা করব ওভাবে খেলার। ইতিবাচক অ্যাপ্রোচ অবশ্যই থাকবে। আমরা চেষ্টা করব দেশের জন্য খেলতে, দেশকে একটি সিরিজ যেন আমরা জেতাতে পারি।’

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসিকে টপকে গেলেন এমবাপ্পে

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াইও জমে উঠেছে। গোল্ডেন বুট জয়ের পথে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তবে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়ে এখনও সবচেয়ে বড় দাবিদার আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। যদিও ফ্রান্স ৬-৪ ব্যবধানে হেরে যায়, তবুও এই দুই গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। অন্যদিকে মেসির গোল ৮টি। ফলে গোল্ডেন বুট জিততে হলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মেসিকে অন্তত দু’টি গোল করে এমবাপ্পের সমতায় ফিরতে হবে, আর তিনটি গোল করলে তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে দুজনেরই গোল ছিল সমান ৮টি। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় তখন টাইব্রেকারে এগিয়ে ছিলেন মেসি। এমবাপের জোড়া গোল সেই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

তবে গোল্ডেন বুট হাতছাড়া হলেও মেসিকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে গোল্ডেন বল পুরস্কারকে ঘিরে। ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক টানা দ্বিতীয়বারের মতো দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে গোল্ডেন বল জিতে ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুইবার এই সম্মান অর্জন করেছেন তিনি। এবার জিততে পারলে সেটি হবে তাঁর রেকর্ড তৃতীয় গোল্ডেন বল।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে নিয়ে বলেন, “সে ইতিহাস। সে একজন কিংবদন্তি।”

মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অপূর্ণতা এখনও গোল্ডেন বুট। আটটি ব্যালন ডি’অরসহ প্রায় সব বড় ব্যক্তিগত অর্জন তাঁর ঝুলিতে থাকলেও বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার এখনও জেতা হয়নি।

অন্যদিকে এমবাপে নিজের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পর এবারও সেই পুরস্কারের সবচেয়ে বড় দাবিদার তিনি। পাশাপাশি ১৯৭০ সালে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক আসরে ১০ গোল করার কীর্তিও গড়েছেন ফরাসি এই তারকা।

যদি মেসি ফাইনালে এমবাপেকে টপকে গোল্ডেন বুট জেতেন এবং আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদোর পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের নজির গড়বেন তিনি।

এদিকে স্পেনের খেলোয়াড়রাও ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে আছেন। গোল্ডেন গ্লাভসের অন্যতম দাবিদার গোলরক্ষক উনাই সিমন, যিনি সাত ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেছেন। আর ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল ২১ বছর বা তার কম বয়সী ফুটবলারদের জন্য দেওয়া সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় পুরস্কারের অন্যতম ফেভারিট।

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল, গোল্ডেন গ্লাভস এবং সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের প্রস্তুত করা সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ভোটে নির্ধারিত হবে।

কার মুখে ফুটবে সোনালি হাসি!

কার মুখে ফুটবটে শেষ সোনারি হাসি! লিওনেল মেসি নাকি লামিনে ইয়ামাল? ফুটবল দুনিয়ার সব চোখ নিউ জার্সিতে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনাল নিয়ে সারা দুনিয়ায় উৎসবের আমেজ।

ফুটবল বিশ্বের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শৈল্পিক ফুটবলের দুই পরাশক্তির এই লড়াই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় শুরু হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। দক্ষিণ আমেরিকার আবেগঘন ফুটবল আর ইউরোপীয় কৌশলনির্ভর খেলার লড়াইয়ে জমে উঠবে ফাইনাল-এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।

আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ ছিল কঠিন। নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচে প্রতিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলে এগোতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে। অভিজ্ঞ লিওনেল মেসির গোল, অ্যাসিস্ট ও নেতৃত্ব দলকে বারবার বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে। ৩৯ বছর বয়সেও নিজের পারফরম্যান্সে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। বল দখল, দ্রুত পাসিং ও সংগঠিত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই তাদের বড় শক্তি। টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠা স্পেন এবার নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে।

ফাইনালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ হতে পারে লিওনেল মেসি ও তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামালের মধ্যে। বার্সেলোনার লা মাসিয়ার দুই ভিন্ন প্রজন্মের এই দুই তারকার লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

একদিকে বিদায়ের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবদন্তি মেসি, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় থাকা ইয়ামাল। তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পিচ ও আবহাওয়াও।

 মাঠের মান নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছেন খেলোয়াড় ও কোচরা। পাশাপাশি প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং গরম আবহাওয়া দুই দলের জন্যই বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের এই ফাইনালে গর্জনের চেয়ে বেশি থাকবে ফুটবলীয় সৌন্দর্যের প্রদর্শনী। দুই দলের লক্ষ্য একটাই-শৈল্পিক নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নেওয়া।

ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের টিকিট বলে কথা। সোনার হরিণের চেয়েও এখন দামী। এক একটা টিকিটের দাম শুনলে চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। একটা সাধারণ টিকিটের দামও এখন কয়েক গুন বেশি। একদল সমর্থক ফাইনালের টিকিটি ওয়েবসাইটে বিক্রি করছেন। সে টিকিটের দাম আকাশ ছোঁয়া।

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের আমেরিকার খেলাধূলার ইতিহাসে সবচেয়ে দামী ম্যাচ হতে চলেছে। সবচেয়ে কম দামী টিকিট ৬ লক্ষ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল আরও বেশি। সেই ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ছিল সাত লক্ষ টাকা।

গড় দাম ১১ লক্ষ টাকা

একটি ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে ফাইনালের এক একটি টিকেটের গড় দাম প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। আমেরিকায় কোনো খেলার কোনো টিকিটের গড় দাম কখনো এত বেশি ছিল না। এই মুহুর্তে ফাইনালের সবচেয়ে দামী টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৭ লক্ষ ৪২ হাজার টাকায়। আজ রাতেই মাঠে গড়াবে ফাইনাল ম্যাচ। এ সময়ে টিকিটের দাম আরও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের আগে আমেরিকায় সবচেয়ে দামী ম্যাচ ছিল ২০২৪ সালের সুপার বোলে সান ফ্রান্সিসকো ও কানসাস সিটি চিফসের ম্যাচ। সেখানে টিকিটের গড় দাম ছিল ৯ লক্ষ টাকা।

অভিজ্ঞতার বিপক্ষে তারুণ্যের লড়াই

এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুই দলের দুই তারকা লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। মেসির বয়স ৩৯ আর ইয়ামালের ১৯। অভিজ্ঞতার বিপক্ষে তারুণ্যের লড়াই। ফাইনালের আগে একে অপরের বিষোদগারে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও উভয়ে উভয়ের প্রশংসার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। মেসি ইয়ামালের প্রশংসায় বলেছেন, সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের একজন। তার জন্য আমার শুভকামনা থাকবে। তার সাফল্য মানে বার্সেলোনার সাফল্য। তবে ফাইনালে আমরা চেষ্টা করবো ইয়ামালকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে। যে যাতে তার সেরা খেলাটা খেলতে না পারে সে চেষ্টাটাই আমরা করবো। শুধু ইয়ামাল নয়, স্পেনের পুরো দলটাই দূর্দান্ত।’

ইয়ামালের প্রশংসায় মেসি আরও বলেন, ওর বয়স মাত্র ১৯। সামনে তার পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে। সে অসাধারণ এক এক খেলোয়াড়। তবে আজকের দিনটা তার হতে দেওয়া যাবে না। আমরা তাকে থামিয়ে রাখার জন্য সব ধরণের চেষ্টা করবো।’

বিশ্বকাপ জিতলেই অবসর নেবেন কুকুরেলা

বিশ্বকাপ জয় যে কোনো ফুটবলের আজম্ম স্বপ্ন। বিশ্বকাপ জিতলেই পূরণ হয় সেই স্বপ্ন। অনেকেই সেই মুহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক রকম কাজ করে থাকেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের আগে স্পেনের তারকা খেলোয়াড় মার্ক কুকুরেলা যে ঘোষণা দিলেন তা অনেককেই অবাক করার জন্য যথেষ্ঠ। স্পেনের এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ জিতলে তিনি অবসর নেবেন।

অবসরের কারণ

অবসরের কারণে জানিয়ে কুকুরেলা বলেন, সবার একটা লক্ষ্য থাকে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেলে আর পাওয়ার কিছু থাকে না। ক্ষুধা থাকে না। বিশ্বকাপ জিতলে স্পেনের ফুটবল খেলার কোনো ক্ষুধা আর আমার থাকবে না।

দুই বছর স্পেন স্পেন ইউরো কাপ জয় করেছিল। সেই দলের সদস্য ছিলেন কুকুরেলা। বিশ্বকাপেও তিনি দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একাধিক ম্যাচে তিনি আলো ছড়িয়েছেন। তার আলোয় পথ চলে স্পেনের জয়ের দেখা পেয়েছে। মাঝমাঠ থেকে দলের খেলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি।

স্পেন দলের স্তম্ভ মার্ক কুকুরেলা

ফাইনালে নামার আগে ফ্রান্সের এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাতকারে কুকুরেলা বলেন, আমরা বিশ্বকাপ জয় করলে পরের দিন কোচ লুইকে ফোন করবো। আমি তখন আমার অবসরের কথা জানিয়ে দেব। জাতীয় দলের জন্য আমাকে যেন আর বিবেচনায় না রেখে তা জানাব। একটা ইউরো, একটা বিশ্বকাপ জয় করেছি। এর থেকে ভালো কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

কুকুরেলা এমন কথা বললেও অতীতে স্পেনের এমন দাপটের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। ২০০৮ সালে তারা ইউরো জেতার পর ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয় করেছিল। দুই বছর পর আবার তারা ইউরো জয় করেছিল। টানা তিন শিরোপা জয়ের উৎসব করেছিল দলটি। সে দলের তিন স্তম্ভ ছিলেন আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, জাভি আর সের্হিও বুসকেটস। দীর্ঘদিন এক সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন এই তিনজন।

কোচের ট্যাটু আঁকবেন

বিশ্বকাপ জয় করলে আরও একটি কাজ করার কথা জানিয়েছেন কুকুরেলা। বাইসেপে কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের মুখের একটা ট্যাটু করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিশ্বকাপে এবার স্পেন দুর্দান্ত খেলা উপহার দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে তারা কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলেও পরে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে। এ সময়ে সাত ম্যাচে মাত্র একবারই গোল হজম করেছে দলটি।

টিভিতে আজকের খেলা: ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল আজ। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে তৃতীয় টি-টুয়েন্টি আজ।

বিশ্বকাপ ফুটবল: ফাইনাল
আর্জেন্টিনা-স্পেন
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

ক্রিকেট
৩য় টি-টুয়েন্টি

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
বিকেল ৪-৩০ মি., টি স্পোর্টস ও নাগরিক

৩য় ওয়ানডে
ইংল্যান্ড-ভারত
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ১ ও ৫

৪র্থ ওয়ানডে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-নিউজিল্যান্ড
রাত ৮টা, ফ্যানকোড

১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলো ইংল্যান্ড

0

ইংল্যান্ড ৬-৪ ফ্রান্স

একটি অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের একদিকে যেমন ছিল গোলের বন্যা, অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড।

দুই দলেরই লক্ষ্য ছিল ফাইনালে খেলা, কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড হেরে যাওয়ায় তাদের ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে নামতে হয়। মিয়ামির প্রচণ্ড গরমে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই দলের কোচই শুরুর একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। ইংল্যান্ড বস থমাস টুখেল তাঁর শুরুর একাদশে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামকে রাখেননি। অন্যদিকে, ১৪ বছর পর ফ্রান্সের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে যাওয়া দিদিয়ে দেশম বাদ দেন ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলেকে।

প্রথমার্ধেই ইংল্যান্ডের আধিপত্য

ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই দূরপাল্লার শটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস। এরপর এজরির কোনসার দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান হয় ২-০। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও মাইকেল ওলিস ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক ডিন হ্যান্ডারসন বেশ কয়েকটি দারুণ সেভ করেন।

এরপর ফরাসিদের ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে এক পাল্টা আক্রমণ থেকে বুকায়ো সাকা স্কোরলাইন ৩-০ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সাকা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় থমাস টুখেলের দল।

এমবাপের বিশ্বরেকর্ড ও ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তন

প্রথমার্ধের এই পারফরম্যান্সকে ফরাসি টিভি চ্যানেল M6-এর কাছে “বিপর্যয়কর” বলে আখ্যা দেন ফরাসি কোচ দেশম। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি দেম্বেলে, উপামেকার্নো, লুকাস ডিন ও বারকোলাকে মাঠে নামান। এই পরিবর্তনের ফল মেলে হাতেনাতে।

চলতি টুর্নামেন্টে নিজের ৯ম গোলটি করে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে চলে যান এমবাপে। এর কিছুক্ষণ পরেই বারকোলা ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর ওলিসের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমে ইতিহাস গড়েন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২২টি গোল নিয়ে তিনি এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (মেসির চেয়ে ২ গোল বেশি)।

রোমাঞ্চকর শেষ মুহূর্ত

ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক সুযোগ নষ্ট করছিল, ঠিক তখনই ডিজাড স্পেন্সকে পেনাল্টি বক্সে ম্যালো গুস্তো ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা।

ম্যাচের নাটকীয়তা এখানেই শেষ হয়নি। দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করে ব্যবধান কমালেও, শেষ মুহূর্তে একক নৈপুণ্যে ম্যাচের ১০ম গোলটি করেন জুড বেলিংহাম। এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে একটি বিশ্বকাপে ৭টি গোল করার রেকর্ড গড়েন।

বিশ্বকাপের প্রাপ্তি ও সমীকরণ

১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের সেরা আসর। যদিও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের ক্ষত তাদের তাড়িয়ে বেড়াবে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বজয়ী ও গতবারের রানার্স-আপ ফ্রান্স এবার অন্যতম ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

এদিকে, আজ রাতের মেগা ফাইনালে নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ও একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের।

দেশ্যম অধ্যায়ের শেষ ম্যাচ, অপেক্ষায় জিদান যুগ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশ্যমের ১৪ বছরের অধ্যায়ের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আর তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।

৫৭ বছর বয়সী দেশ্যম চেয়েছিলেন তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে বিদায় নিতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের শুরুতে দারুণ ফুটবল খেললেও সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে তাদের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
এখন তাদের সামনে কেবল তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার লড়াই।

তবে বিদায়ের ম্যাচকে আবেগে ভাসাতে চান না দেশ্যম। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক অসাধারণ মুহূর্ত দেখেছি, আবার কঠিন সময়ও পার করেছি। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। আমি ইতিবাচক মানুষ। ফ্রান্সের কোচ হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

দেশ্যমকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হবে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের স্থপতি হিসেবে। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন তিনি, আর দুই দশক পর কোচ হিসেবে উপহার দেন দ্বিতীয় শিরোপা।
২০১০ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার পর ফরাসি ফুটবলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন দেশ্যম। তার অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

তবে সব পথ মসৃণ ছিল না। ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার এবং ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজয় তার সময়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তারপরও পরিসংখ্যান দেশ্যমের পক্ষেই কথা বলে। সাতটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মধ্যে পাঁচটিতেই ফ্রান্সকে অন্তত সেমিফাইনালে তুলেছেন তিনি।

গত এক বছরে নিজের দর্শনেও পরিবর্তন এনেছেন দেশ্যম। দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে এমবাপ্পে, ওসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে কেন্দ্র করে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করেছেন। যদিও স্পেনের বিপক্ষে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

এই বিশ্বকাপ তার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন ছিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মায়ের মৃত্যুতে শেষকৃত্যে অংশ নিতে তাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল এবং একটি ম্যাচে দলের সঙ্গেও থাকতে পারেননি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে দেশ্যমের ২৭তম ম্যাচ, যা একটি নতুন রেকর্ড। এরপরই শেষ হবে ফরাসি ফুটবলের এক সফল অধ্যায়, আর শুরু হতে পারে জিদানের নতুন যুগ।