Home Blog Page 90

রদ্রির গোল্ডেন বল নিয়ে বিতর্ক

বিশ্বকাপ শেষ হলেও বিতর্ক থামছে না। নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু গোল্ডেন বল। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আট গোল করেছেন। চারটি গোলে সহায়তা ছিল তার। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলে পাঁচবার হয়েছেন ম্যাচ সেরা। সে কারণে ফাইনালে স্পেনের কাছে হারলেও অনেকেরই ধারণা ছিল এবারের গোল্ডেন বল পেতে যাচ্ছেন মেসি। কিন্তু গোল্ডেন বল দেওয়া হয়েছে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে। আর তাতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল পুরস্কারের জন্য রদ্রির নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারি থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মেসির নামে জয়ধ্বনি দিতে শুরু করে। তা দেখে কেঁদে ফেলেন মেসি। তাদের এই জয়ধ্বনি যে ফিফার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ তা ছিল স্পষ্ট।

এবারের বিশ্বকাপ মেসি খেলবেন কিনা তা নিয়ে একটা সময়ে জল্পনা কল্পনার শেষ ছিল না। কিন্তু মেসি এই বিশ্বকাপের জন্য গত একটা বছর ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। ম্যাচের পর ম্যাচ দলকে জিতিয়েছেন। সামনে থেকে দিয়েছেন নেতৃত্ব। ২০২২ সালেও পাঁচ ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন মেসি। এবারও পেয়েছেন। ২০২২ সালে সাতটি গোল করেছিলেন। এবার করেছেন আটটি। ফলে মেসির জন্য যে সব সমর্থক গলা ফাটাচ্ছেন তাদের পক্ষে যুক্তি রয়েছে।

গোল্ডেন বল হাতে স্পেনের রদ্রি

যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না ইব্রাহিমোভিচ

মেসির পক্ষে যুক্তি যারা দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক খেলোয়াড় জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও আনহেল দি মারিয়া। ইব্রাহিমোভিচ বলেছেন, গোল্ডেন বল জয়ের জন্য মেসিকে আর কী করতে হতো? আমি বুঝতে পারছি না কোনো যুক্তিতে এই পুরস্কার রদ্রিকে দেওয়া হলো। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া হারলেও লুকা মদরিচকে সোনার বল দেওয়া হয়েছিল। তাহলে এবার মেসি কেন পেল না?

দি মারিয়ার আঙ্গুল ফিফার দিকে

মেসির সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়া সরাসরি ফিফার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি প্রায় দুই দশক মেসির সঙ্গে খেলেছি। আমার বলতে দ্বিধা নেই, ফিফা সবচেয়ে অপমানজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সোনার বল মেসিরই প্রাপ্য।

রদ্রির পক্ষেও যুক্তি রয়েছে। স্পেনের বিশ্বজয়ের প্রধান কারিগর তিনি। আটটি ম্যাচেই শুরু থেকেই দলের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পাস খেলেছেন তিনি। রক্ষণে যেমন সহায়তা করেছেন, তেমনি তার পাসে তৈরি হয়েছে আক্রমণ। তিনি গোল করেননি, অ্যাসিস্টও করেননি, এমনকি তিনি উঠে যাওয়ার পর এসেছে জয়সূচক গোল। তাতেও তার কৃতিত্ব কমে যায় না।

গোল্ডেন বুট এমবাপ্পের, ব্যক্তিগত পুরস্কারে স্প্যানিশদের জরজয়কার

বিশ্বকাপ শেষ। কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়। ট্রফি উঠেছে স্পেনের হাতে, আর সেই সঙ্গে উঠেছে অসংখ্য প্রশ্নও। কে হলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়? কার হাতে উঠল গোল্ডেন বুট? কে ছিলেন পোস্টের নিচে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রহরী? আর কোন তরুণ ফুটবলার নিজের নাম লিখলেন বিশ্ব ফুটবলের আগামী দিনের তারকা হিসেবে?

বিশ্বকাপ জেতা যেমন একটি দলের স্বপ্ন পূরণ করে, ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত পুরস্কার একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারে হয়ে থাকে অমর স্বীকৃতি। এবার সেই স্বীকৃতির মঞ্চে কারা ছিলেন সেরা? চলুন, একে একে দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কারের বিজয়ীদের।

গোল্ডেন বল, অর্থাৎ ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। মাঝমাঠে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাসিং, ম্যাচের গতি নির্ধারণ এবং নেতৃত্ব, সব মিলিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের সাফল্যের অন্যতম স্থপতি ছিলেন তিনি। তাই বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার উঠেছে রদ্রির হাতেই।

গোল্ডেন বুট। গোলের লড়াইয়ে অবশ্য সবার ওপরে ছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্দান্ত গতি, নিখুঁত ফিনিশিং আর ধারাবাহিক গোল করে জিতে নিয়েছেন ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। দল শিরোপা না জিতলেও ব্যক্তিগত অর্জনে তিনিই ছিলেন সবার সেরা গোলদাতা।

গোলবারের নীচে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন স্পেনের উনাই সিমোন। পোস্টের নিচে স্পেনের অদম্য দেয়াল ছিলেন উনাই সিমোন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে তিনি জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন গ্লাভস। স্পেনের বিশ্বজয়ের পেছনে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি। বড় মঞ্চে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস আর পরিণত পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, স্পেনের রক্ষণভাগ আগামী বহু বছর নিরাপদ হাতেই রয়েছে।

বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা, আরও একবার সেটিই প্রমাণ করেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা জিতেছেন সিলভার বল ও সিলভার বুট। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম পেয়েছেন ব্রোঞ্জ বলের স্বীকৃতি। ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে আরেকবার নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা যেমন গেছে স্পেনের ঘরে, তেমনি ব্যক্তিগত পুরস্কারের মঞ্চেও ছিল তাদের উজ্জ্বল আধিপত্য। রদ্রি, উনাই সিমোন আর পাউ কুবার্সির অর্জন বলছে, স্পেন শুধু বর্তমানের নয়, ভবিষ্যতেরও পরাশক্তি।

হেরেও গর্বিত আর্জেন্টিনা কোচ স্ক্যালোনি

0

বিশ্বকাপ ফুটবলে দারুণ সব কীর্তি গড়ার হাতছানি ছিল আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সামনে। কাতারে বিশ্বকাপ জিতলেও নিউ জার্সিতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি স্ক্যালোনির। স্পেনের কাছে হেরে দ্বিতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার কোচকে। শিরোপা জিততে ব্যর্থ হওয়ায় আশাহত হলেও অসন্তুষ্ট নন স্ক্যালোনি। তিনি বলেন, এই পর্যায়ে দ্বিতীয় হওয়া কম গর্বের নয়।

রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর স্ক্যালোনি বলেন, মাঠে তার দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এ সময়ে তিনি নিজের এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেন।

স্ক্যালোনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা পারিনি। যারা দেশকে আরও একবার ফাইনালে তুলেছে তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তারা শেষ পর্যন্ত লড়ছে। আমরা জিতলেও দারুণ দল ছিলাম। হারলেও তার ব্যতিক্রম নই। আমরা দারুণ দলই থাকবো। যাহোক খেলোয়াড়, সমর্থক, দেশবাসী-সবাইকে ধন্যবাদ। আজকের মতো যদি মাঠে নিজেদের সর্বস্ব নিংড়ে দেওয়া হয় তাহলে তার মতো গর্বের আর কিছু নেই। হারলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো শিখতে হয়। আর কোনো রাস্তা নেই।

লিওনেল স্ক্যালোনি

স্ক্যালোনি বলেন, আমরা দ্বিতীয় হয়েছি, মানুষ আমাদেরও মনে রাখবে। এ জায়গায় আসতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমরা জয়ের জন্য মাঠে নেমেছিলাম। স্বাভাবিকভাবে সকলে হতাশ। কিন্তু মাঠে নেমে সবকিছু দেওয়ার পর জয় না পেলে অতটা ভেঙে পড়ার কিছু নেই।

মেসিকে নিয়ে যা বললেন

মেসির শেষ ম্যাচ কিনা- এ বিষয়ে স্ক্যালোনি বলেন, এখন তার বয়স ৩৯ বছর। অবিশ্বাস্য। ওর থেকে আমি নতুন কিছু আর বের করতে পারবো না। আমি আগেও বলেছিলাম, এখনও বলছি, সে যতদিন খেলতে চায় ততদিন খেলতে পারে। সব সমর্থক, সতীর্থরা তার পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত প্রত্যেকে তাকে নিয়ে গর্বিত। মেসি যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের সেরা ফুটবলার।

নিজের সম্পর্কে স্ক্যালোনি

ভবিষ্যত বিষয়ে স্ক্যালোনি বলেন, আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে তার সময় হয়তো শেষ। তিনি বলেন, সত্যি বলতে আমি এখনো মেসির সঙ্গে কথা বলিনি। সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমার চুক্তি ডিসেম্বরে শেষ হবে। আপাতত চুক্তির শেষ সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চাই। তারপর দেখতে হবে কি করা যায়। এত বড় কিছু আর অর্জন করতে পারবো কিনা জানিনা। তবে আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য সভাপতিকে ধন্যবাদ।

টিভিতে আজকের খেলা: ২০ জুলাই ২০২৬

আজ লাইভ কোনো ম্যাচ নেই। বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনঃপ্রচার দেখতে পারেন টেলিভিশনে।

বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল: পুনঃপ্রচার
আর্জেন্টিনা-স্পেন
সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

টেনিস
নাদাল: ইউএস ওপেন বেস্ট অব গোট
রাত ১০-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়

বিশ্ব ফুটবলের নতুন চ্যাম্পিয়ন এখন স্পেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লামিনে ইয়ামালরা। অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোহারা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরল স্পেন, আর একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়ে নিজেদের নাম লিখিয়ে নিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, ছোট ছোট পাস আর সংগঠিত আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে তারা। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও নিকো উইলিয়ামস বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি স্পেন।

অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচজুড়েই রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা অন্য কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেননি। স্পেনের উচ্চ প্রেসিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে ম্যাচের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। স্পেন ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যায়, আর আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণ আরও নিচে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, আয়মেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবার্সির প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ করে দেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আর্জেন্টিনা বড় ধাক্কা খায়। প্রথমে আপত্তি জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর পাউ কুবার্সির ওপর কঠোর ট্যাকলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও কোনোভাবে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

অতিরিক্ত সময়েও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। শেষ পর্যন্ত ১০৬তম মিনিটে আসে প্রতীক্ষিত গোল। ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর উঁচু ক্রসে নিকো উইলিয়ামস দারুণ হেডে বল বাড়িয়ে দেন। সেই সুযোগে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ছাদে। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া সেই গোলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে স্পেন।

গোল হজমের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে মরিয়া চেষ্টা চালালেও সমতায় ফিরতে পারেনি। বদলি খেলোয়াড় জুলিয়ানো সিমেওনের একটি শট অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির উত্তরসূরিরাও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল। লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমোদের নিয়ে গড়া নতুন স্পেন আবারও দেখিয়ে দিল যে, বল দখলভিত্তিক, ধৈর্যশীল এবং ছন্দময় ফুটবল এখনও বিশ্বজয়ের সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।

অন্যদিকে, লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষ উপস্থিতি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর এবার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেল ফাইনালেই। আর্জেন্টিনার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার একাধিক অসাধারণ সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের এক গোলেই নির্ধারিত হলো ফাইনালের ভাগ্য। স্পেনের জন্য এটি নতুন এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা, আর আর্জেন্টিনার জন্য অপূর্ণ থেকে গেল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

বিপর্যয় কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

0

জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুটা ছিল হতাশায় ভরা। একমাত্র টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টি-টোয়েন্টিতেও প্রথম ম্যাচে পরাজয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে সেখান থেকেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। টানা দুই ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।

রোববার হারারেতে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় সফরকারীরা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে একাই লড়াই করেন ডিওন মায়ার্স। ৫৩ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে তিনি হাঁকান ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ব্রায়ান বেনেট, যিনি ৩৮ বলে করেন ৪৭ রান।

তবে শেষ দিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। এছাড়া মাহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন ও আবদুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন। দুটি রানআউটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জবাবে শুরুতেই সাইফ হাসানকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন ৫৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান দলকে। ইমন ২২ বলে ২৪ রান করে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন তানজিদ।

অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ১৯ বলে ২৪ এবং ইয়াসির আলী ৯ বলে ১০ রান যোগ করেন। শেষদিকে কয়েকটি দ্রুত উইকেট পড়ে গেলেও ভেঙে পড়েননি তানজিদ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে অপরাজিত ৬৬ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ৪টি ছক্কা।

শেষ পর্যন্ত ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে মাহেদী হাসানের বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ে শুধু সিরিজই জেতেনি টাইগাররা, সফরের হতাশাও অনেকটাই ভুলিয়েছে।

ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের শক্তি ও দুর্বলতা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনাল শুধু দুই পরাশক্তির লড়াই নয়, দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও পরীক্ষা। দুই দেশের সিনিয়র জাতীয় দল এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একবার বিশ্বকাপে এবং বাকি ১৩টি ছিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সব মিলিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব একেবারে সমানে সমান-আর্জেন্টিনা ও স্পেন জিতেছে ৬টি করে ম্যাচ, আর ড্র হয়েছে ২টি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ এবং শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রথম মুখোমুখি লড়াই।

আর্জেন্টিনার বড় শক্তি

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। ফিফার টুর্নামেন্ট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ২২ গোল করে সর্বোচ্চ গোল করা দল । আর সেই আক্রমণের কেন্দ্রে আছেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি  ফাইনালের আগে তার গোল সংখ্যা ৮, সঙ্গে রয়েছে একটি অ্যাসিস্ট। ফিফার পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়েও আক্রমণ ও সৃজনশীলতা দুই বিভাগেই আর্জেন্টিনার প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছেন মেসি।

তবে আর্জেন্টিনার আক্রমণ শুধু মেসি নির্ভর নয়। লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের মতো ফরোয়ার্ডরা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পলের উপস্থিতি দলকে আরও ভারসাম্য দেয়। আর্জেন্টিনার বড় সুবিধা হলো, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাচের ধরন বদলাতে পারে। বল দখলে রেখে খেলতে পারে, আবার দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকেও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

আর্জেন্টিনার দুর্বলতা

আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে স্পেনের বল দখল ও পজিশনাল ফুটবল সামলানো। স্পেন দীর্ঘ সময় বল নিজেদের কাছে রাখতে পারলে আর্জেন্টিনাকে অনেকটা সময় বল ছাড়া খেলতে হতে পারে। এতে রক্ষণ ও মাঝমাঠের ওপর চাপ বাড়বে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেসির ওপর আক্রমণ তৈরির নির্ভরতা। তিনি এই বিশ্বকাপে অসাধারণ খেললেও নকআউট পর্বের প্রতিটি মিনিট খেলেছেন, যার মধ্যে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো দুটি ম্যাচও রয়েছে। ফলে ফাইনালে ম্যাচের গতি খুব বেশি হলে ৩৯ বছর বয়সী মেসির শারীরিক চাপও একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। অবশ্য এত দিনের অভিজ্ঞতায় তিনি গতি কমিয়েও কীভাবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রভাব ফেলতে হয়, সেটি বারবার দেখিয়েছেন।

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের জমাট রক্ষণ। তবে আক্রমণেও কম কার্যকর নয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাইনালে ওঠার পথে সাত ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৩ গোল করেছে স্পেন, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি। সেই একমাত্র গোলটি আসে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, যখন স্পেনের জালে সমতাসূচক গোল করেছিল বেলজিয়াম। অর্থাৎ ফাইনালের আগে বাকি ছয় ম্যাচেই নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছে স্প্যানিশরা। এমন দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙা যে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য ফাইনালে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও স্পেনের রক্ষণভাগের দাপট স্পষ্ট। ফিফা পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ের ডিফেন্ডিং বিভাগে ৮.০৩ রেটিং নিয়ে সবার ওপরে রদ্রি। তার ঠিক পরেই পেদ্রো পোরো ৭.৭০ এবং তরুণ সেন্টারব্যাক পাউ কুবারসি ৭.৫০ রেটিং নিয়ে রয়েছেন। আয়মেরিক লাপোর্তের রেটিং ৭.২৯, তিনিও এই বিভাগের সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন। একই দলের চারজন খেলোয়াড়ের এমন অবস্থানই বলে দেয়, স্পেনের রক্ষণ কোনো একজনের ওপর নির্ভরশীল নয়, এটি পুরো দলের সম্মিলিত শক্তি।

বিশেষ করে মাঝ মাঠে রদ্রির উপস্থিতি স্পেনকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি রক্ষণ থেকে আক্রমণে বল নিয়ে যাওয়ার কাজটিও তিনি করেন। তার পেছনে কুবারসি ও লাপোর্তের মতো ডিফেন্ডাররা থাকায় স্পেনকে ভাঙা এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষদের জন্য কঠিনই হয়েছে। তবে ফাইনালে তাদের সামনে অপেক্ষা করছেন আট গোল করা মেসি-তাই স্পেনের এই দুর্দান্ত রক্ষণ এবার টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

স্পেনের আরেকটি বড় অস্ত্র বলের নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং ফুটবল। ফিফার টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্পেনের পজেশন কন্ট্রোল প্রায় ৫৮ শতাংশ। ফাইনালের আগে দলটি মোট ৪,৫৯২টি পাস খেলেছে, যার মধ্যে সফল হয়েছে ৪,১৫৬টি; পাসিং অ্যাকুরেসি ৯১ শতাংশ। ব্যক্তিগত ভাবেও স্প্যানিশদের দাপট চোখে পড়ার মতো-রদ্রি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬৪৮টি সফল পাস দিয়েছেন, পাউ কুবারসি ৫৪৭টি এবং আয়মেরিক লাপোর্তে ৫৩৩টি। অর্থাৎ পেছন থেকে ধীরস্থির ভাবে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ছোট ছোট পাসে প্রতিপক্ষের প্রেসিং ভাঙার ক্ষেত্রে স্পেন কতটা কার্যকর, এই সংখ্যা গুলোই তার প্রমাণ। তবে মজার বিষয় হলো, মোট পাস ও সফল পাসের সংখ্যায় স্পেনের চেয়েও এগিয়ে আর্জেন্টিনা-তারা ৪,৭৭২টি পাসের মধ্যে ৪,৩২৪টি সফল করেছে। ফলে ফাইনালে মাঝমাঠ ও বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইটাও হতে পারে বেশ জমজমাট।

আর্জেন্টিনার জন্য বড় হুমকি

স্পেনের আক্রমণে লামিন ইয়ামাল আলাদা নজর কাড়বেন। তার গতি, ড্রিবলিং এবং একের বিপক্ষে এক পরিস্থিতিতে ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করার ক্ষমতা আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

ফিফার সৃজনশীলতার পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮.৮৫ রেটিং নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তার ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের রেটিং ৮.৬০।  তার সঙ্গে দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইজ এবং স্পেনের অন্যান্য আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের সমন্বয় দলটির আক্রমণে বৈচিত্র্য এনেছে। তাই আর্জেন্টিনা শুধু একজন খেলোয়াড়কে আটকানোর পরিকল্পনা করলে সমস্যায় পড়তে পারে।

স্পেনের দুর্বলতা

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তিই কখনো কখনো তাদের দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে। দলটি অনেক সময় প্রচুর বল দখলে রেখেও সুযোগ কাজে লাগাতে সমস্যায় পড়ে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ২৭টি শট নিয়েও গোল করতে পারেনি স্পেন, ম্যাচ শেষ হয়েছিল ০-০ ব্যবধানে।

ফাইনালের মতো ম্যাচে এমন সুযোগ নষ্ট করা বিপজ্জনক। কারণ আর্জেন্টিনার মতো অভিজ্ঞ দলকে একটি সুযোগ দিলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে। বিশেষ করে মেসির একটি পাস কিংবা দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক স্পেনের উঁচুতে উঠে খেলা রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে পারে।

কোথায় নির্ধারিত হতে পারে ম্যাচ?

এই ফাইনালের মূল লড়াই হতে পারে মাঝ মাঠে। স্পেন চাইবে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্জেন্টিনাকে ছন্দহীন করতে। বিপরীতে আর্জেন্টিনা চেষ্টা করবে স্পেনের পাসিং লাইন বন্ধ করে দ্রুত সামনে যেতে এবং মেসিকে এমন জায়গায় বল দিতে, যেখান থেকে তিনি ম্যাচের পার্থক্য গড়তে পারেন।

পরিসংখ্যানের ভাষায় এটি কার্যত সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণের লড়াই। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ২২ গোল করে সর্বোচ্চ গোল করা দল, বিপরীতে হজম করেছে মোট ৭ গোল। অন্যদিকে স্পেন ১৩ গোল করার পাশাপাশি ফাইনালে এসেছে মাত্র একটি গোল হজম করে। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে শুধু পরিসংখ্যানই শেষ কথা নয়। চাপ সামলানো, সুযোগ কাজে লাগানো এবং ছোট ভুল এড়ানো এই তিনটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কে হবে।

আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা ও মেসির ব্যক্তিগত জাদুর বিপরীতে থাকবে স্পেনের তারুণ্য, শক্তিশালী রক্ষণ এবং দলগত নিয়ন্ত্রণ। তাই ম্যাচটি শুধু মেসি বনাম ইয়ামাল নয়, বরং আর্জেন্টিনার সরাসরি ও অভিযোজনক্ষম ফুটবলের সঙ্গে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত পজিশনাল ফুটবলের এক আকর্ষণীয় কৌশলগত লড়াই হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশকে ১৪৪ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৪৪ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে। রবিবার বুলাওয়েতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান তোলে স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজ জিততে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে।

এদিন বুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা।

ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মেয়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট। এদিন ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।

বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন তিনজন বোলার।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ। সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে মাঠে নামছে টাইগাররা। বুলাওয়েতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রুপ নিয়েছে।

তবে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন যখন রোববার নিউ জার্সিতে তাকিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের অপেক্ষায়, এর আগে বাংলাদেশ দল নামবে বুলাওয়ায়োতে শেষের স্বস্তির খোঁজে। এই সফরে এমনিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তির ছিল সামান্যই, হারানোরই ছিল অনেক বেশি। দুই সংস্করণে সেই শঙ্কাই সত্যি হয়েছে। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পরে ওয়ানডে সিরিজ হেরে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজরা।

নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়। এখানেও সিরিজ শুরু হয় বড় হার দিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার ব্যাটে-বলে ভালো পারফরম্যান্সে সিরিজ জিইয়ে রাখেন হৃদয়রা।

এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের একটি প্রাপ্তি ইয়াসির আলি চৌধুরির ব্যাটিং। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর হুট করেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে নেওয়া হয়েছে তাকে। তখন সেটা প্রশ্নের জন্ম দিলেন জবাব দিয়েছেন তিনি ব্যাট হাতে।

বাংলাদেশ একাদশ : তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, ইয়াসির আলি চৌধুরি, মোসাদ্দেক হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: ব্রায়ান বেনেট, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ডিয়ন মেয়ার্স, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল, মিল্টন শুম্বা, টিনোটেন্ডা মাপোসা, ক্লিভ মাদান্দে (উইকেটরক্ষক), ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি।

ফাইনালের ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবল মহারণ

বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৬

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-স্পেন ১৯৬৬ বিশ্বকাপে একবার মুখোমুখি হয়েছিল সেবার আলবিসেলেস্তেরা ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল স্পেনকে। তবে বিশ্বকাপসহ আন্তর্জাতিক ম্যাচে উভয় দল মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে যার মধ্যে জয় সমান ৬টি করে আর ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে আজকের লড়াই ভিন্ন একদিকে যেমন বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচ অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখা ও পুনরুদ্ধার করার হিসেব। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালটি শুধুই দুই দলের লড়াই নয়, এটি একদিকে যেমন দুই দেশের ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ অন্যদিকে স্পেনের বল দখল, পজিশনাল ফুটবল ও সমন্বিত প্রেসিং অ্যাটাক, আবার আর্জেন্টিনার নমনীয় কৌশল, দ্রুত ট্রানজিশন এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা সৃজনশীলতার লড়াই। বিশ্লেষকদের মতে এই ম্যাচ হবে; ফাইনালের ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবল মহরণ।

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে উভয় দলের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা গুলো নিয়ে বিশ্লেষন করে দেখবো কোন দলটি এগিয়ে রয়েছে:

স্পেনের কৌশলঃ

স্পেন বলের দখল নিয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে খেলবে, পূর্বের ম্যাচে বিশেষ করে সেমিতে ফ্রান্সকে এই নীতি অবলম্বন করে হারিয়েছে। স্পেন সাধারনত ৬০-৬৫ শতাংশ বল দখলে রাখার চেষ্টা করবে। রদ্রিকে কেন্দ্র করে মিডফিল্ডে ত্রিভুজ তৈরি করে খেলতে চাইবে আবার ফুলব্যাকরা ওপরে উঠে মাঠকে বড় করবে।  

হাই প্রেসিং:

স্পেনের খেলার অন্যতম ধরন বল হারানোর ৫-৭ সেকেন্ডের মধ্যেই তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে এবং প্রতিপক্ষকে স্থির হতে দেয়না। আজও তারা আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলতে চাইবে হাই প্রেসিং করে।

লামিন ইয়ামাল:

ওয়ান টু ওয়ান এ খুবই বিপদজনক তিনি। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে ড্রিবল ও কাট-ইনের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করেন এ ক্ষেত্রে তিনি আর্জেন্টিনার অ্যালিস্টার, ফের্নাান্দেজ আর ট্যাগলিয়াফিকোর সামনে পড়বেন যা আর্জেন্টিনার বাম ডিফেন্ডারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আর্জেন্টিনার কৌশলঃ

মিড-ব্লক ডিফেন্স সবসময় হাই প্রেস করবে না। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষকে আটকে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক চালাবে। মাঠের মাঝামাঝি অংশে একটি সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ তৈরি করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর চেষ্টা করবে। আর্জেন্টিনা সাধারণত প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধের মাঝামাঝি পর্যন্ত এগিয়ে আসতে দেয়। এরপর মিডফিল্ড ও ডিফেন্সের দূরত্ব কমিয়ে খেলার জায়গা সংকুচিত করে।

মেসি ফ্রি রোল: মেসি মাঝমাঠে নেমে খেলবেন বল তৈরীর জন্য। তিনি স্পেনের দুই মিডফিল্ডারের মাঝখানের জায়গা কাজে লাগাতে চাইবেন। তার পাস থেকেই লাউতারো বা উইঙ্গারদের রান শুরু হবে আবার অ্যালিস্টার লং পাসে সহায়তা করবেন।

দ্রুত ট্রানজিশন:

প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল নিয়েই দ্রত ৩-৪ পাসে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করবে। স্পেনের ডিফেন্ডররা যখন ওপরে উঠে আসবে তখন তাদের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে আক্রমন চালাবে। এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা একাধিক নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও দ্রুত ট্রানজিশন ও শেষ মুহূর্তের কার্যকর আক্রমণে জয় পেয়েছে।

ফাইনালের ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবল মহারণ
আর্জেন্টেনা কোচ লিওনেল স্কালোনি

 দু-দলের বড় ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধঃ

রদ্রি বনাম মেসি: রদ্রি যদি মেসির পাসিং লেন বন্ধ করতে পারেন, স্পেন সুবিধা পাবে। আবার মেসি যদি রদ্রিকে পাশ কাটিয়ে জায়গা বের করতে পারেন তাহলে আর্জেন্টিনা ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

লামিন ইয়ামাল বনাম আর্জেন্টিনার বামপ্রান্ত:

স্পেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ইয়ামালের গতি ও ড্রিবল। তাকে ডাবল মার্কিং না করলে বড় ক্ষতি হতে পারে আর্জেন্টিনার সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার লেফট মিডফিল্ডার এনজো ফের্নান্দেজ ও অ্যালিস্টারকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে লামিন ইয়ামালকে সামলানোর জন্য।

ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো বনাম স্প্যানিশ মিডফিল্ড: প্রথমতস্পেনের আক্রমন ভাঙ্গবেন তার পর বলের দখল নিয়ে দ্রুত আক্রমনে যেতে পারলে সফল হবেন। স্পেনের পাসিং ভাঙা, দ্বিতীয়ত বল দখল এবং দ্রুত কাউন্টারে যাবেন এই তিন কাজই তাদের করতে হবে। তাহলে মধ্যমাঠে সফল হবে আর্জেন্টিনা।

কোন দল কোথায় এগিয়ে?

স্পেন বল দখল, পজিশনাল ফুটবল, দলগত সমসন্বয় আর মিডফিল্ডে সামান্য এগিয়ে থাকবে অপরদিকে আর্জেন্টিনা ট্রানজিশন, রক্ষণভাগ, কাউন্টার অ্যাটাক আর মানসিক দৃঢ়তা আর মেসির ব্যক্তিগত ম্যাচ উইনিং পাওয়ারে কিছুটা এগিয়ে থাকবে।  

ম্যাচের সম্ভাব্য চিত্র:

প্রথম ২০ মিনিট স্পেন বল দখলে রেখে ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করবে। ২০–৬০ মিনিট: আর্জেন্টিনা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ খুঁজবে। শেষ ৩০ মিনিট ম্যাচ ওপেন হয়ে যেতে পারে। স্পেন আক্রমণ বাড়ালে আর্জেন্টিনা দ্রুত ট্রানজিশনে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হবে।

ম্যাচ নির্ধারণ করতে পারে যে ৫টি বিষয়ঃ

স্পেন মেসিকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চাইবে। আর্জেন্টিনার ইয়ামালকে সামলানো। বলের দখলে জয়ী। সেট-পিসে সফল হওয়া এবং বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব।

সার্বিক মূল্যায়নঃ

ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে স্পেনের পজিশনাল ফুটবল, প্রেসিং এবং বলের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা এগিয়ে। তবে আর্জেন্টিনার বড় শক্তি হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানো, দ্রুত ট্রানজিশন এবং মেসির সৃজনশীলতা। ফলে ম্যাচটি একপেশে হওয়ার সম্ভাবনা কম; বরং ছোট ছোট ট্যাকটিক্যাল মুহূর্ত, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং ট্রানজিশনের কার্যকারিতাই বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করতে পারে।