Home Blog Page 89

বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে দেশে ফিরল স্পেন

বিজয় শোভাযাত্রায় যোগ দেবেন লাখো সমর্থক

দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফিরেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাদ্রিদের বারাখাস বিমানবন্দরে পৌঁছায় নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাজধানীজুড়ে তাদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি, আর বিজয় শোভাযাত্রায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। বিমান থেকে নামার সময় দলের অধিনায়ক রদ্রি সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। সেই মুহূর্তে বিমানবন্দরে উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। এই সাফল্যে পুরো দেশে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস।

সোমবার সকালে মাদ্রিদের প্রধান সড়ক কাস্তেয়ানাজুড়ে আগের রাতের উদযাপনের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। রাস্তাজুড়ে পড়ে ছিল ক্যান, কাচের টুকরো ও বিভিন্ন আবর্জনা। অনেক সমর্থক রাতভর উৎসব শেষে সড়কের পাশেই ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিজয় শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে নেমে পড়েন।

মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেস-আলমেইদা বলেন, “উদযাপন আর ম্যাচের উত্তেজনার কারণে খুব একটা ঘুমাতে পারিনি।”

দেশে ফেরার পর প্রথমে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপের সঙ্গে জারসুয়েলা প্রাসাদে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ফুটবলাররা। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আমন্ত্রণে সরকারি বাসভবন লা মনক্লোয়ায় যাবেন তারা।

এরপর রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সিবেলেস স্কয়ার পর্যন্ত একটি খোলা ছাদের বাসে বিজয় শোভাযাত্রা করবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেখানে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আয়োজকদের ধারণা, পুরো শোভাযাত্রার পথে প্রায় ১০ লাখ সমর্থক উপস্থিত থাকবেন। এ জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

৩২ বছর বয়সী সমর্থক ব্রুনো গনসালেস দেল ইয়েরো বলেন, “এমন মুহূর্ত তো বারবার আসে না। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন, তাই উদযাপন করতেই হবে।”

এই সাফল্যের মাধ্যমে অনন্য এক কীর্তিও গড়েছে স্পেন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন পুরুষ ও নারী-দুই বিভাগের বিশ্বকাপ ট্রফিই একই সঙ্গে স্পেনের দখলে।

২০৩০ সালে নিজ দেশেই বিশ্বকাপ শিরোপা রক্ষার সুযোগ পাবে স্পেন। সেবার পর্তুগাল ও মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে দেশটি।

আনন্দের মধ্যেও বিষাদের ছায়া

তবে আনন্দের মাঝেও এসেছে দুঃসংবাদ। পশ্চিমাঞ্চলীয় সিউদাদ রদ্রিগো শহরে উদযাপনের সময় একটি ফোয়ারার অংশ ধসে পড়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনায় নেমে আসে হতাশার ছায়া। লিওনেল মেসিকে নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও দেশে ফেরার পর রানার্সআপ দলকেও সংবর্ধনা জানাতে বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে।

১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জন উদযাপন করতে এখন প্রস্তুত পুরো দেশ।

সোশ্যাল মিডিয়া খুঁজে বেড়াচ্ছে ইয়ামালের নতুন বান্ধবী ইনেস গার্সিয়া – কে

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোল, আর তাতেই আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের পাশাপাশি মাঠের ভেতরের এক রোমান্টিক মুহূর্ত নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্প্যানিশ ফুটবলের উঠতি তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়ার উদ্ভাসিত যৌথ উদযাপন এখন অনুরাগী ও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই মাঠে নেমে আসেন ২১ বছর বয়সী ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার ইনেস গার্সিয়া। ইয়ামালের সঙ্গে জয় উদযাপনের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে তিনি লেখেন, “তুমি পেরেছ! অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।” মুহূর্তের মধ্যেই এই ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

গ্যালারি থেকে সোশাল মিডিয়া: ইয়ামালের প্রতিটি পদক্ষেপে ইনেস

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই গ্যালারিতে নজরকাড়া উপস্থিতি ছিল স্পেনের সেভিল নিবাসী এই ইনফ্লুয়েন্সারের। ইয়ামালের পরিবারের সঙ্গেই প্রায় প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করেছেন তিনি।

  • सऊदी আরবের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইয়ামাল যখন প্রথম গোল করেন, তখন ইনেস সোশাল মিডিয়ায় তাকে “বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়” হিসেবে বর্ণনা করেন।
  • ফাইনালের আগে নিজের জনপ্রিয় ‘গেট রেডি উইথ মি’ (GRWM) ভিডিওতে ইনেস জানান, ফাইনালের উত্তেজনার কারণে আগের রাতে তিনি মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছিলেন।

ভার্চ্যুয়াল বিশ্ব থেকেই শুরু প্রেমের গল্প

ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২০ লাখ এবং টিকটকে ১৯ লাখের বেশি অনুসারী থাকা ইনেস মূলত ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও বিউটি কনটেন্ট তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছেন। সম্প্রতি স্প্যানিশ সাময়িকী Hola-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রূপকথার মতো কোনো গল্প নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদেই তাদের প্রথম পরিচয়।

২০২৬ সালের এপ্রিলে গ্রিস ভ্রমণের সময় প্রথমবারের মতো এই জুটিকে জনসম্মুখে একসঙ্গে দেখা গেলেও ইনেসের দাবি—আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার অনেক আগেই তাদের এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল।

আলোচিত ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের রাজকীয় মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন লামিনে ইয়ামাল। তবে মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনও বরাবরই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে।

  • ইউরো ২০২৪ চলাকালে অ্যালেক্স পাদিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়।
  • এরপর আনা গেগনোসো, ফাতি ভাসকেজ ও ক্লাউদিয়া বাভেলের সাথে তার নাম জড়ালেও সেগুলোর কোনো স্পষ্ট সত্যতা পাওয়া যায়নি।
  • ২০২৫ সালে আর্জেন্টাইন র‌্যাপার নিকি নিকোলের সাথে সংক্ষিপ্ত সময়ের এক সম্পর্কের পর অবশেষে ইনেস গার্সিয়ার সঙ্গেই স্থায়িত্ব খুঁজে পেলেন এই তরুণ তুর্কি।

বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ফুটবল জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জনের রাতে ব্যক্তিগত জীবনের সমস্ত আলোচনা পেছনের সারিতে ফেলে ইয়ামাল ও ইনেসের জোড়া উদযাপনই এখন ভক্তদের কাছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

মেসিকে আবেগঘন বার্তা আইতানা বোনমাতির: “ফুটবল তোমাকে মিস করবে, অনেক ধন্যবাদ”

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা নারী ফুটবলার এবং দুইবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আইতানা বোনমাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে লিওনেল মেসির উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন।

তিনি লিখেছেন, “Football will miss you. Thanks a lot.” (ফুটবল তোমাকে মিস করবে। অনেক ধন্যবাদ।) বার্তার সঙ্গে তিনি একটি ইমোজি যোগ করেন। যা ফুটবলভক্তদের কাছে “Greatest of All Time (GOAT)”-এর প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

মেসির আবেগঘন বিদায়বার্তার পরই বোনমাতির এই পোস্ট আসে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অভিযান শেষ হওয়ার পর মেসির বার্তাকে অনেকেই তাঁর কিংবদন্তি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব দিক স্পষ্ট নয়, তবুও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বর্তমান ও সাবেক ফুটবলাররা মেসির প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা দিচ্ছেন।

বার্সেলোনার ফুটবল দর্শনে বেড়ে ওঠা আইতানা বোনমাতি অতীতেও একাধিকবার বলেছেন, মেসি তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।

মেসির অসাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি, সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং, গোল করার ক্ষমতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
বোনমাতির এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি শুধু একজন ফুটবলারের আরেকজন কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং পুরো ফুটবল বিশ্বের অনুভূতিরই প্রতিফলন।

অসংখ্য রেকর্ড হয়তো একদিন ভেঙে যাবে, কিন্তু লিওনেল মেসির রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার, খেলার সৌন্দর্যে তাঁর অবদান এবং কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি যে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে কেন অসহায় পরাজয় আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৬

ইতিহাস বলে র‌্যাঙ্কিং এর নম্বর দল কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি আবার গত ৬৪ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি কোন দল। কিন্তু তাই বলে যে আর্জেন্টিনা পারবেনা তা তো নয়। হ্যাঁ আর্জেন্টিনা পারবে তবে তার জন্য শর্ত একটাই ছিল ভাল খেলতে হবে তাই না? নাকি অন্য কিছু! না অন্য কোন কারণ নেই। যে দল ভাল খেলবে তারাই জিতবে বিশ্বকাপ এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের সবার। তাহলে ম্যাচে হলোটা কি? যা হয়েছে তা হল স্পেন ভাল খেলেছে অনেক ভালে খেলেছে যতটা ভাল খেললে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় ঠিক ততটাই ভাল খেলেছে আর তাতেই বিশ্বকাপের ফাইনালে অসহায় পরাজয় হয়েছে আর্জেন্টিনার।

বিশ্বকাপ জয়ের পর অধিনায়ক রদ্রি ও পুরো দল

তাহলে চলুন এবার দেখা যাক স্পেন আর আর্জেন্টিনার জয় পরাজয়ের পার্থক্য কোথায়:

১. বল দখল: মধ্যমাঠের দখল যে দল নিতে পারবে আক্রমনে সে দল ততটাই সফল হবে। স্পেন শুরু থেকেই মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আক্রমনের পর আক্রমন চালিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ক্লান্ত করে দিয়েছে যার ফলে শিষ দিকে তার ফল স্বরুপ গোল পেয়েছে। আবার আর্জেন্টিনা স্পেনের মধ্যমাঠ দখলের ব্লক ভেঙ্গে দিতে পারেনি যেখান থেকে আক্রমনে যেতে পারে বা মেসিকে অ্যাটাকিং থার্ডে বল দিতে পারে।

২. সমন্বয়: মাঝ মাঠ রদ্রি, পেদ্রি ও রুইজ দখলে নিয়ে ত্রিভুজ সৃষ্টি করেছেন যাতে সহজে স্পেন আক্রমনে যেতে পারে আর্জেন্টিনা এই সমন্বয় ভাঙ্গতে পারেনি।  

৩. মেসি: মেসি যখন ডান প্রান্তে গেছেন তখন তাকে কুকুরেয়া দেখেছেন আবার যখন মাঝ মাঠ দিয়ে আক্রমনে যেতে চেয়েছেন তখন অধিনায়ক রদ্রি একটু নিচে নেমেছেন আবার কুবার্সি ও সহায়তা করেছেন মোট কথা মেসিকে ম্যান মার্কিং না করেও জোনাল মার্কিং করেছে এমনভাবে যেন মেসিকে বল দেওয়ার লেন তৈরী করতে না পারে আর্জেন্টিনা আবার বল পেলেও মুভ করার স্পেস পাননি এভাবেই মেসিকে মার্ক করেছে স্পেন।

 ৪. কাউন্টার প্রেসিং: স্পেনের কাউন্টার প্রেসিং আর্জেন্টিনাকে একেবারেই পেছেনে ফেলে দিয়েছে। আর্জেন্টিনা যখন বল পেয়েছে তখন স্পেন দ্রুত সেকেন্ডের ব্যবধানে চাপ সৃষ্টি করে বল পুনরায় দখলে নিয়েছে তাদেরকে স্থির হতে দেয়নি যার কারণে সফল আক্রমন বিল্ডআপ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এই পজিশনাল ফুটবল ভাঙ্গতে না পেয়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা বডি কন্ডাক্ট এ মনোযোগী হয় আর তাতে দলের স্বাভাবিক খেলা নষ্ট হয়ে যায়।

গোলের পর ফেরান তোরেস

আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার: আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার নিকো গঞ্জালোর সমস্যা ছিল অনেক সেই জায়গায় বলা যায় ম্যাক অ্যলিস্টার ও ট্যাগলিয়াফিকো ভাল করেছেন কিন্তু স্পেনের ডান প্রান্তের পেদ্রো, ওলমো ও লামিন ইয়ামালের আক্রমন সামাল দিতেও হিমসিম খেয়েছেন ভাগ্য ভাল যে গোল রক্ষক মার্টিনেজ ভাল সেভ করেছেন তা না হলে নির্ধারিত সময়েই জিতে যেত স্পেন।  

মনস্তাত্বিক গেম: মনস্তাত্বিক খেলায় পরাজিত হয়ে ছন্দ পতন হয়েছে আর্জেন্টিনার এবং একের পর এক হলুদ কার্ড এমনকি এনজো ফানান্দেজকে লাল কার্ড দেখতে হয়েছে আর তখনই যতটুকু আর্জেন্টিনার আশা ছিল যে ম্যাচটা টাইব্রেকারে নিয়ে যাবে তখন সেই আশাও শেষ হয়ে গেছে।

স্পেনের সাইড বেঞ্চ: স্পেনের সাইড বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও যে জয়ের মমেন্টাম তৈরি করতে পারে বা গোল করে ম্যাচ জিতাতে পারে তা প্রমান করেছেন উইলিয়ামসের অ্যাসিস্ট থেকে ফেরেন তোরেসের করা ম্যাচের ১০৬ মিনিটের সময় জয় সূচক সেই গোলটি। এছাড়া বদলি নেমে এরিক, মেরিনা সবাই প্রমান করেছেন তারা মূল একাদশে খেলতে পারেন। আর আর্জেন্টিনার সাইড বেঞ্চের কোন খেলোয়াড় স্পেনের মত ভূমিকা রাখতে পারেনি একক মন্সিয়ানায় জয়ের জন্য ভূমিকা রাখতে পারেনি।

অন টার্গেট শটস: স্পেন পোস্টে শটস নিয়েছে ২০টি যার মধ্যে ১১টি ছিল অন টার্গেট অপরদিকে আর্জেন্টিনা মোট ৩টি শট নিতে পেরেছে পোস্টে আর তাতে অন টার্গেটের কোন শট ছিলনা তাহলে গোল আসবে কি করে! শেষ দিকে শর্ট কর্ণার নেয়ার পর মেসি য়ে ক্রসটি করেছিলেন সেই ক্রসটি চলে যায় সামান্যের জন্য লক্ষ ভ্রস্ট হয়ে ক্রসচিপ উঁচিয়ে আর তাতেই যেন সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায় আর্জেন্টিনার।  

বল পজেশন: ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হারানোর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা বল পজেশনেও অনেক পিছিয়ে ছিল স্পেন ৬৮% আর আর্জেন্টিনা ৩২% পজেশন নিয়ে খেলেছে। স্পেন মোট ৮০৩টি পাস দিয়েছে বিপরিতে আর্জেন্টিনার পাস ছিল ৪৪৫টি। স্পেন ৯০% সঠিক পাস দিয়েছে আর মিসের দল ৭৮%, স্পেনের ফাউল ২১টি, আর্জেন্টিনার ২৪টি, স্পেনের হলুদ কার্ড নাই আর্জেন্টিনার ৫টি ও লাল কার্ড ১টি। স্পেন অফ সাইড হয়েছে ৪বার আর্জেন্টিনা ১বার, আবার কর্ণার কিক পেয়েছে স্পেন ৯টি আর আর্জেন্টিনা ৪টি।  

লালকার্ড: ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের ৩মিনিটের সময় আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিয়ে গিয়ে যে, গোল রক্ষক এমি মার্টিনেজের ওপর ভরসা করে থাকবে তার শেষ আশাটাও শেষ হয়ে যায়।

উপসংহারে বলা যায় বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন জিতেছে শুধু একটি গোলের কারণে নয়; তারা জিতেছে পরিকল্পনা, ধৈর্য, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচ জুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ছন্দ খুঁজে পায়নি। মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, মাঝমাঠের দখল হারানো এবং সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়াই শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনার জন্য। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোল স্পেনকে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়, আর আর্জেন্টিনার টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

লিটনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনুমতি ছাড়াই বিদেশ সফরে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

গতকাল রোববার বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন লিটন। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জিম্বাবুয়ে সফর শেষে বিসিবিকে না জানিয়ে তাঁর চীন সফর নিয়েই মূলত আপত্তি উঠেছে।

লিটনের কুঁচকির চোটের কারণে আগামী ২০ জুলাই পুনর্বাসনের জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। একই চোটের কারণে তিনি জিম্বাবুয়ে সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। খেলতে পারেননি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও।

বিসিবির পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, শুনানিতে লিটন নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। এখন বিষয়টি বোর্ডের মেডিকেল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে যাচাই করা হবে। প্রাথমিকভাবে তাঁর বক্তব্যে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিসিবি।

আলমগীরের ভাষ্য, লিটনের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শৃঙ্খলা ভঙ্গের উল্লেখযোগ্য কোনো নজির নেই। বোর্ডের ধারণা, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে না পারার হতাশা এবং যোগাযোগের ঘাটতি থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় থাকা একজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে বোর্ডকে না জানিয়ে বিদেশ সফরে যাওয়া চুক্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি।

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে হাতাহাতিতে চরম বিশৃঙ্খলা: পারেদেসের লাল কার্ড

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা গোলটিই লিখে দিল ইতিহাস। স্পেন এখন বিশ্বসেরা। তবে ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের উল্লাসের আমেজ মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনায়। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচটি শেষ হলেও রেফারিকে টানতে হলো রেড কার্ডের চরম সিদ্ধান্ত।

স্পেনের ১-০ গোলের জয়ে শেষ বাঁশি বাজার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হারের চরম হতাশায় ডুবে থাকা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পাশে তখন স্পেন শিবিরের উল্লাস। এই উদ্‌যাপনের সময় মাঠের মধ্যভাগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সাথে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার। পরিস্থিতি দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়, যখন উত্তেজিত হয়ে পারেদেস সরাসরি গার্সিয়াকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।

সতীর্থকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে শান্ত থাকতে পারেননি ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার পাবলো গাভি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পারেদেসকে সরিয়ে নিতে দ্রুত এগিয়ে আসেন গাভি। কিন্তু এই হস্তক্ষেপে পারেদেস আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গাভিকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও আঘাত করতে উদ্যত হন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

দুই দলের অন্যান্য খেলোয়াড় ও কোচ লিওনেল স্কালোনি দ্রুত মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুজনকে আলাদা করেন। ততক্ষণে পুরো মাঠে এক থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস আচরণের জন্য ম্যাচ রেফারি লিয়োয়ান্দ্রো পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

বিশ্বকাপের এমন এক ঐতিহাসিক ফাইনালের শেষে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে এবং ম্যাচ-পরবর্তী নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফাইনালে যে ৫ কারণে হেরেছে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের ফাইনালে ফাইনালে স্পেনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। হাইভোল্টেজ ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যেন কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলায় মেতে উঠেছিল স্পেন। ফাইনালে হারের পর প্রশ্ন উঠেছে! কোচ লিয়োনেল স্কালোনির পরিকল্পনায় গলদ ছিল?
না কি অন্য কোনও কারণ? চলুন খতিয়ে দেখা যাক আর্জেন্টিনার হারের পাঁচ কারণ।


অতিরিক্ত মেসি নির্ভরতাঃ
এখনও এই দল মেসির উপরেই নির্ভরশীল। আগের ম্যাচগুলিতে কঠিন পরিস্থিতি থেকে মেসি দলকে টেনে তুলেছিলেন। গোল করেছিলেন।
করিয়েছিলেন। কিন্তু এ ম্যাচে পারেননি। কার্যত দর্শকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে তাকে। মেসি আটকে যেতে আটকে গিয়েছে আর্জেন্টিনা।


স্পেনের শক্তিশালী মাঝমাঠঃ গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে ফুল ফুটিয়েছে স্পেনের মাঝমাঠ। ফাইনালেও সেই ছবিই দেখা গিয়েছে। বলের দখল তাদের পায়েই ছিল। তারা নিজেদের ছন্দে খেলা চালিয়েছে। আক্রমণে উঠেছে। গোটা ম্যাচ জুড়ে স্পেনকে তাড়া করে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠের দখল নিতে পারেনি তারা।


ফের্নান্দেজের লাল কার্ডঃ একজন কম নিয়েও ১১ বনাম ১১ জনের যুদ্ধে লড়াই করছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এঞ্জো ফের্নান্দেজের লাল কার্ড দেখার পর আর কিছু করার ছিল না তাদের। ১০ জন নিয়ে এ স্পেনকে সামলানো অসম্ভব ছিল। সেটাই হয়েছে।


লিসান্দ্রো মার্তিনেজের চোটঃ
বিশ্বকাপের শুরু থেকে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে সামলাচ্ছিলেন লিসান্দ্রো। আবার আক্রমণেও সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু এ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়ে প্রথমার্ধে উঠে যেতে বাধ্য হন তিনি। লিসান্দ্রো উঠে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার রক্ষণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।


স্কালোনির রক্ষণাত্মক মানসিকতাঃ
গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে স্কালোনির এ রক্ষণাত্মক মানসিকতার সমালোচনা হয়েছে। খেলার গতি কমিয়ে, অযথা ফাউল করে খেলার ছন্দ নষ্ট করেছেন তার ফুটবলারেরা। ফাইনালেও রক্ষণাত্মক মানসিকতার বাইরে বার হতে পারলেন না তিনি। অথচ, আর্জেন্টিনা আক্রমণ করলে কতটা ভয়ঙ্কর তা আগের ম্যাচে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ফাইনাল স্কালোনির পরিকল্পনা ডুবিয়ে দিল দলকে।

মেসিদের নিয়ে কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলেছে স্পেন

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ছেলে খেলায় মেতে উঠেছিল স্পেন। ম্যাচের ৯০ মিনিট যে মেসিদের নিয়ে যেন চোর পুলিশ খেলেছে লামিনে ইয়ামালরা। অতিরিক্ত সময়েও আর্জেন্টিনার ফুটবলার ছিল অসহায়।


মেসিদের চোখের সামনে বল নিয়ে স্পেন যেভাবে চোর পুলিশ খেলায় মেতে উঠেছিল। অনেকটা কানামাছি ভোঁ ভো খেলার মতোই অবস্থা হয়ে উঠেছিল ফাইনালে।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। নিউজার্সিতে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে উঠে স্পেনের ফুটবলাররা। বিপরীতে হতাশায় ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল।


এরই মাঝে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার ব্যর্থতায় মেজাজ হারিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলারদের গলা চেপে ধরেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস।


শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর এরিক গার্সিয়া তার কয়েকজন সতীর্থকে নিয়ে মাঝমাঠে চিৎকার করে উদযাপন করছেন। মুহূর্তের মধ্যেই পারেদেস সেখানে গিয়ে গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ঘটনাটা ঘটিয়েছেন একজন সহকারী রেফারি থাকা সত্ত্বেও। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিভি ক্যামেরায় সেটা ধরা পড়েছে।
পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখে লিওনেল স্কালোনি দ্রুত এগিয়ে এসে দুজনকে (পারেদেস-গার্সিয়া) আলাদা করার চেষ্টা করেন। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ সামুয়েল ওয়ালতারও ওয়াল্টার হস্তক্ষেপ করেন।


এদিকে গাভিও আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। থিয়াগো আলমাদা যখন এই হাতাহাতির মাঝখানে পড়ে যান, পারেদেস তখন গাভির জার্সি ধরে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। ম্যাচ শেষে পারেদেসকে দেখানো হয় লাল কার্ডও।

প্রতিপক্ষকে সমীহ জানিয়ে মেসির বিদায়ী বার্তা

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হেরে শেষ হলো আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। ট্রফির খুব কাছ থেকে খালি হাতে ফেরার বেদনা আর চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, পরাজয়কে সসম্মানে মেনে নিয়ে প্রতিপক্ষকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

পুরো ম্যাচজুড়েই স্প্যানিশদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বল দখল থেকে শুরু করে পাসিং ও আক্রমণ, প্রতিটি বিভাগেই আর্জেন্টিনাকে স্পষ্ট ব্যবধানে পিছিয়ে রাখে ‘লা রোহা’রা। পরিসংখ্যানেও তার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে; গোলে শটের দিক থেকে স্পেন ২০-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং ৮৪৫টি সফল পাস দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলে।

ম্যাচ শেষে রানার্সআপ মেডেল গলায় ঝোলানোর সময় নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আবেগে আপ্লুত হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,

“সত্যি বলতে, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং তা মেনে নিচ্ছি। আমি দুঃখিত, তবে আমি জানি যে আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।”

১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় ডুবে গেলেও টুর্নামেন্টে সতীর্থদের প্রচেষ্টা এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসার কথা স্মরণ করে মেসি যোগ করেন,

“এই হার মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি তা ভুলে যাব। আমি আমার দেশের মানুষ, সতীর্থ ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও পরাজয়কে এভাবে সাদরে মেনে নিয়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আবারও নিজের অনন্য মহানুভবতা প্রমাণ করলেন মেসি। বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই কান্না কেবল এক পরাজয়ের কষ্ট নয়, বরং এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের বিদায়ী আবেগ হয়ে রইল।

বিশ্ব জয়ের পর ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামালের উচ্ছ্বাস

বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে মাঠ ভাসছিল স্পেনের লাল-হলুদ উৎসবে। সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনের পর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। সেই উদযাপনের সবচেয়ে আলোচিত মুখ ছিলেন না ইয়ামাল নিজেই-বরং ছিলেন তার মাত্র তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কিয়েন।

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে পরিবারের সঙ্গে মাঠে উদযাপন করেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। মা শেইলা এবানা, প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া এবং ছোট ভাই কিয়েনকে নিয়ে তোলা ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই গ্যালারিতে কিয়েনের নানা অভিব্যক্তি ছিল ভক্তদের অন্যতম আকর্ষণ। কখনও উচ্ছ্বাস, কখনও বিস্ময়, আবার কখনও ভাইয়ের খেলা দেখে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে ছোট্ট এই শিশুটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

অনেক ম্যাচ শেষে মাঠ থেকে বড় পর্দায় নিজের ভাইকে খুঁজে দেখার চেষ্টাও করেছেন ইয়ামাল। কিয়েনকে দেখে হাত নাড়ানোর সেই মুহূর্তগুলোও ভক্তদের মন জয় করে। ইয়ামালের মা শেইলা এবানা নিয়মিত স্যোশাল মিডিয়ায় ছেলে কিয়েনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন।

সেগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই কিয়েন হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের অন্যতম পরিচিত শিশু মুখ। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়াও। চলতি বছরের মে মাসে নিজেদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনেন এই জুটি।

ফ্যাশন ও বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ইনেস বিশ্বকাপজুড়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। জমকালো পোশাকের পরিবর্তে সহজ-সরল ও স্বাভাবিক সাজে হাজির হওয়ায় সমর্থকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি।