Home Blog Page 88

মোসাদ্দেককে পেছনে ফেলে আইসিসির মাসসেরা স্মিথ

মোসাদ্দেক ও গিলকে পেছনে ফেলে আইসিসির মাসসেরা নির্বাচিত হয়েছেন স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ সেরা হওয়া ন্যাথান স্মিথ পেয়েছেন বড় এক স্বীকৃতি। ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ নির্বাচিত হয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার। জুন মাসের সেরার লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশের মোসাদ্দেক হোসেন ও ভারতের শুবমান গিলকে।

রোরবার আইসিসি গত মাসের সেরা পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। মেয়েদের ক্রিকেটে জুনের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ইংল্যান্ডের ড্যানি ওয়াট-হজ। লড়াইয়ে তিনি হারিয়েছেন স্কটল্যান্ডের ক্যাথরিন ব্রাইস ও ভারতের শ্রী চারানিকে।

এদিকে প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে মাস সেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেন মোসাদ্দেক। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডের যৌথ পারফরম্যান্সে সেরার বিবেচনায় উঠে আসেন গিল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে মোসাদ্দেক ও গিলকে পেছনে ফেলেন স্মিথ। ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউ জিল্যান্ডের স্মরণীয় সিরিজ জয়ে এই পেসার শিকার করেন ১৬ উইকেট। এর মধ্যে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে এক ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে নেন ৯ উইকেট।

দ্বিতীয়বারের মতো মাস সেরার পুরস্কার জিতলেন ওয়াট-হজ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার পথে বড় অবদান ছিল ওয়াট-হজের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি উপহার দেন তিনি, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৮৯ রানের ইনিংস।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে তিনশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম ক্রিকেটার তিনি। সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে মাস-সেরা নির্বাচন করা হয়ে থাকে আইসিসির স্বাধীন ভোটিং একাডেমি ও ক্রিকেট অনুসারীদের ভোটে। ভোটিং একাডেমির ভোট বিবেচনায় নেওয়া হয় ৯০ শতাংশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দল ঘোষণা

0

জিম্বাবুয়ে সফর শেষে বিশ্রামের সুযোগ নেই টাইগারদের। এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ডারউইন ও ম্যাকেতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সিরিজের দলে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, পেসার জশ হ্যাজলউড এবং অভিজ্ঞ অফ স্পিনার নাথান লায়ন।

সফরে আগামী ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২২ থেকে ২৬ আগস্ট ম্যাকেতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। এই দলে সবচেয়ে বড় খবর তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা কামিন্স, হ্যাজলউড ও লায়ন এখন পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরেছেন।

অভিজ্ঞ ওপেনার উসমান খাজাকে এবার আর দেখা যাবে না। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় তিনি এই সিরিজের জন্য বিবেচনায় ছিলেন না।

সর্বশেষ সিডনি টেস্টে স্কোয়াডে থাকা মাইকেল নেসার, টড মারফি ও ব্রেন্ডান ডগেট মূল ১৩ সদস্যের দলে জায়গা পাননি। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা সম্প্রসারিত দলের সঙ্গে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনে সিরিজ শুরুর আগে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি কামিন্স, হ্যাজলউড ও লায়নের প্রত্যাবর্তনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্যাট, জশ এবং নাথানের দলে ফেরায় আমরা খুবই আনন্দিত। গত কয়েক মাসে তারা নিজ নিজ চোট থেকে ফিরে আসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিকেল দলের সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছে।’

বর্তমান স্কোয়াডে ১৩ জন থাকলেও প্রয়োজন হলে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান বেইলি, ‘যদিও এটি ১৩ সদস্যের দল, তবুও ম্যাচের আগে প্রয়োজন হলে পরিবর্তনের জন্য আরও কিছু খেলোয়াড় প্রস্তুত এবং উপলব্ধ রয়েছে।’

আগামী এক বছরে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে আরও অনেক ক্রিকেটারের সুযোগ আসতে পারে বলেও মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক, ‘আগেও আমরা বলেছি, আগামী ১২ মাসে ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির কারণে সব সংস্করণেই অনেক খেলোয়াড়ের সামনে সুযোগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো শুরু করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াডঃ প্যাট কামিন্স, স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেক ওয়েদারাল্ড এবং বিউ ওয়েবস্টার।

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সমর্থকদের অশ্রুভেজা অভ্যর্থনা

0

কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তার সম্পূর্ণ বিপরীত এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো দেশটি। এবার হাতে ট্রফি ছিল না, ছিল না বিজয় মিছিল কিংবা উন্মুক্ত বাসে লাখো মানুষের সঙ্গে উদ্‌যাপন। ছিল শুধু অপূর্ণ স্বপ্নের কষ্ট, তবুও ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। কারণ, রানার্সআপ হয়েও লিওনেল স্কালোনির দলকে আপন করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।

স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছাড়া করার একদিন পর দলের একটি বড় অংশ নিউইয়র্ক থেকে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা দেয়। তাদের বহনকারী বিমান বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায়।

তবে পুরো দল একসঙ্গে দেশে ফেরেনি। বিশ্বকাপ শেষে খেলোয়াড়দের একটি অংশ সরাসরি নিজ নিজ ক্লাব বা বিশ্রামের গন্তব্যে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে আলবিসেলেস্তেদের প্রত্যাবর্তন ছিল অনেকটাই অসম্পূর্ণ।

সবচেয়ে বড় অনুপস্থিতির নাম অবশ্যই লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান এবং পরে পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। মেসির সঙ্গে রদ্রিগো ডি পলও আর্জেন্টিনায় ফেরেননি। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নাহুয়েল মোলিনা, ফ্রাঙ্কো রুলি, নিকো পাজসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও দলের সঙ্গে একই বিমানে ফেরেননি; তারা সরাসরি ক্লাব কিংবা ছুটির গন্তব্যে রওনা দেন।

বুয়েন্স আইরেসে তাদের স্বাগত জানাতে বিপুল সংখ্যক সমর্থক হাজির ছিল

তবুও যারা ফিরেছেন, তাদের অভ্যর্থনা জানাতে এজেইজা বিমানবন্দরের বাইরে সকাল থেকেই জড়ো হন শত শত সমর্থক। কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা, কারও গায়ে বিশ্বকাপজয়ী দলের জার্সি। অনেকেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন শুধু এক ঝলক প্রিয় ফুটবলারদের দেখার জন্য। বিমানবন্দর থেকে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রশিক্ষণকেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে তারা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

এবার অবশ্য কোনো গণসংবর্ধনা হয়নি। বিশ্বকাপ জয়ের পর যেমন রাজধানীজুড়ে উৎসব হয়েছিল, এবার তেমন কোনো আয়োজন করা হয়নি। আর্জেন্টাইন সরকার জাতীয় ছুটির বিষয়টিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। এএফএও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ফাইনালের হতাশার পর বড় ধরনের জনসমাগম বা উদ্‌যাপন হবে না।

তবে উৎসব না থাকলেও ভালোবাসার অভাব ছিল না। সমর্থকদের কণ্ঠে ছিল একটাই বার্তা-“ধন্যবাদ।” অনেকের চোখে জল, আবার অনেকের মুখে গর্বের হাসি। কারণ, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এবং শিরোপার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করাকেই তারা বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে তদন্ত শুরু ফিফার

বিশ্বকাপ শেষ হতেই একের পর এক বিপদ ধেয়ে আসছে আর্জেন্টিনার দিকে। শিরোপা তো ধরে রাখতে পারেনি দলটি, পাশাপাশি গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট হাতছাড়া হয়েছে। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তদন্তে নামছে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতাহাতি, মারপিট করেছিলেন কয়েকজন খেলোয়াড়। সেই ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করবে ফিফা। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ফকল্যান্ড নিয়ে যে ব্যানার দেখানো হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত হবে।

স্কাই নিউজ জানিয়েছে, হারের পর আর্জেন্টিনার আচরণ ফিফার আতশকাচের নিচে এসেছে। লিওনেল মেসির দলের খেলোয়াড়দের এমন কাণ্ড একেবারেই বরদাস্ত করতে রাজি নয় ফিফা। জানা গিয়েছে, কোনরকম প্ররোচনা ছাড়াই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা এমন কাজ করেছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা অ্যালান শিয়েরার বলেছেন, কোনো রকম প্ররোচনা ছাড়াই লিয়ান্দ্রো পারেদেস বিপক্ষে খেলোয়াড়দের আক্রমণ করছিল। ফুটবলে এ সব আচরণের কোনো জায়গা নেই। আমি জানি হারতে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটা ধরণ রয়েছে। আর্জেন্টিনার এমন আচরণ আগেও অনেকবার দেখেছি। শেষ বাঁশি বাজার পর তারা যে আচরণ করেছে তা ভয়ঙ্কর।’

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ঝামেলা শুরু

রবিবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয়। স্পেনের কয়েকজন ফুটবলার আনন্দে উৎসব করতে শুরু করেন। আর্জেন্টিার কয়েকজন হতাশ হয়ে শুয়ে পড়নে। অন্যদিকে মাঠের মাঝখানে দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ঝামেলা শুরু হয়। প্রথমে একে অপরের প্রতি গালিগালাজ ছিল। এরপর খেলোয়াড়রা হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। কোচ স্ক্যালোনিকে দেখা যায় স্পেনের এরিক গার্সিয়ার দিকে তেড়ে যেতে।

খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ছাড়াতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি

ঝামেলার কেন্দ্রে পারেদেস

ঝামেলার কেন্দ্রে ছিলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মাঠের নামার পর থেকেই তিনি শারীরিক ফুটবল খেলছিলেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন। ম্যাচের তিনি সবার আগে গার্সিয়ার সঙ্গে ঝামেলা করেন। গার্সিয়ার ঘাড় চেপে ধরেন। এরপর গাভির সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান। গাভিকে ঠেলে দিয়ে মাঠে ফেলে দেন।

ঘটনা দেখে দুইদলের সাপোর্ট স্টাফরা দৌড়ে আসেন। তারা ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করতে থাকেন। স্ক্যালোনি এসে নিজেদের খেলোয়াড়দের সরিয়ে নিয়ে যান। তার আগে গার্সিয়ার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় তার স্ক্যালোনির। তাকে মেজাজ হারাতেও দেখা যায়। ঠান্ডা মেজাজের মানুষ হিসেবে পরিচিত স্ক্যালোেকে অতীতে এমন রূপে কখনো দেখা যায়নি।

মেয়াদ শেষে বেলজিয়ামের দায়িত্ব ছাড়ছেন রুডি গার্সিয়া

বিশ্বকাপে প্রশংসনীয় পারফরম্যান্সের পরও বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে আর থাকছেন না রুডি গার্সিয়া। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই ৬২ বছর বয়সী এই ফরাসি কোচের সঙ্গে পথচলার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। চলতি মাসের ৩১ জুলাই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি।

দায়িত্ব নিয়েছিলেন গত বছর

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দোমেনিকো তেদেস্কোর উত্তরসূরি হিসেবে বেলজিয়ামের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গার্সিয়া। সে সময় দলটি কঠিন এক সন্ধিক্ষণ পার করছিল। মাঠের ফল, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং প্রজন্ম পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ-সব মিলিয়ে চাপের মধ্যেই দায়িত্ব শুরু করেছিলেন তিনি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে আবারও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন অভিজ্ঞ এই কোচ।

তার অধীনেই ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে দলটি শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত এগোয়। সেখানে শিরোপাজয়ী স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। যদিও ট্রফি জেতা হয়নি, তবুও বেলজিয়ামের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিদায়ী বার্তায় গার্সিয়া

বিদায়ী বার্তায় গার্সিয়া বলেন, ‘আরবিএফএর সঙ্গে আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গত ১৮ মাসের অসাধারণ যাত্রা আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি দল রেখে যাচ্ছি, যারা নেশনস লিগের ‘এ’ বিভাগে রয়েছে এবং বিশ্বের সেরা আট দলের অন্যতম।’

বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে রুডি গার্সিয়া

নিজের বক্তব্যে খেলোয়াড়, ক্রীড়া পরিচালক ভিনসেন্ট মানার্ট এবং সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গার্সিয়া। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুরু করে দেওয়া প্রজন্ম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও সফল হবে বেলজিয়াম।

অন্যদিকে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ক্রীড়া পরিচালক ভিনসেন্ট মানার্ট গার্সিয়ার অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রুডি গার্সিয়া নিঃসন্দেহে বেলজিয়ান রেড ডেভিলসকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কঠিন ক্রীড়া ও আর্থিক পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তার অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠার কারণে দলের ঐক্য ফিরেছে এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপে দলটি দারুণ ফল করেছে।’

মানার্ট আরও জানান, গার্সিয়া ও তার সহকারী কোচদের গত ১৮ মাসের অবদানের জন্য ফেডারেশন আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে নতুন চক্র শুরুর প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

রোমা, মার্সেই ও নাপোলির মতো ইউরোপের নামকরা ক্লাব পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলের দায়িত্বে এসেছিলেন গার্সিয়া। বেলজিয়ামে তার সময়টা খুব দীর্ঘ না হলেও দলকে নতুন করে গুছিয়ে তোলা, বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করাই হয়ে থাকবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন দেখার বিষয়, নতুন কোচের অধীনে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বেলজিয়াম আবারও ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হতে পারে কি না।

টিভিতে আজকের খেলা: ২১ জুলাই ২০২৬

ব্যাডমিন্টনে চলছে ওয়ার্ল্ড ট্যুর। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্ব ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ টুতে মুখোমুখি নামিবিয়া ও নেপাল।

ব্যাডমিন্টন
ওয়ার্ল্ড ট্যুর
সকাল ৬–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ ২
নামিবিয়া–নেপাল
বেলা ৩টা, ফ্যানকোড

টেনিস: ইউএস ওপেন
বেস্ট অব সেরেনা
রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

ফাইনালের বিশৃঙ্খলায় তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে যখন মেতে উঠেছে স্পেন, তখন ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের আচরণ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাগুলো নিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে ফিফা।

সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস-এর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ-পরবর্তী একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও ও রেফারির রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তদন্ত শেষে প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

ফাইনাল শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন লিয়েন্দ্রো পারেদেস। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একাধিক স্প্যানিশ ফুটবলারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত লাল কার্ড দেখেন।

এ ছাড়া নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে দানি ওলমোকে ধাক্কা ও গলায় আঘাত করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে।

বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো, স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারের পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। ফিফা বিষয়টিকেও ক্রীড়াসুলভ আচরণের পরিপন্থী কি না, তা যাচাই করবে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পরই আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।
সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর এমন ঘটনা বিশ্বকাপের সমাপ্তিতে কিছুটা হলেও বিতর্কের ছাপ ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না ফিফা।

ইয়ামালকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সেরা তরুণ কুবারসি

বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে আসা লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি ছিলেন ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দুই তরুণ তারকা। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠবে ইয়ামালের হাতেই। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছাপিয়ে এই সম্মান জিতে নিয়েছেন তার সতীর্থ পাউ কুবারসি।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেনের রক্ষণভাগের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন এই সেন্টারব্যাক। শুধু তাই নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কারিগরও ছিলেন তিনি।

পুরো টুর্নামেন্টে আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন। ওপেন প্লে থেকে প্রতিপক্ষকে তারা সুযোগ দিয়েছে মাত্র ১.৬৯ এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি), যা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
ফাইনালেও আর্জেন্টিনাকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেয় স্প্যানিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো শটই নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। অতিরিক্ত সময়সহ পুরো ম্যাচে তাদের শট ছিল মাত্র দুটি।

সেই ম্যাচে কুবারসি ছিলেন স্পেনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলারদের একজন। তিনি সর্বোচ্চ ১৩৯ বার বল স্পর্শ করেন, ১২১টি সফল পাস দেন, পাসিং নির্ভুলতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ২১টি লাইন-ব্রেকিং পাস সম্পন্ন করেন। রক্ষণেও ছিল তার দাপট; সর্বোচ্চ ৬টি ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি ৭টি ডুয়েল জেতেন তিনি।

পুরো বিশ্বকাপেই বল নিয়ে আধিপত্য দেখিয়েছেন কুবারসি। রদ্রির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৭১টি সফল পাস দিয়েছেন এই ডিফেন্ডার। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ২২১টি ফরোয়ার্ড পাস এবং রদ্রির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৪টি লাইন-ব্রেকিং পাসও এসেছে তার পা থেকে।

শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল অসাধারণ। প্রতিপক্ষের প্রেস ভেঙে খেলা তৈরি করার ক্ষেত্রে কুবারসি ছিলেন স্পেনের অন্যতম বড় অস্ত্র।
অন্যদিকে ইয়ামালও দারুণ একটি বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন।

আক্রমণে সুযোগ তৈরি, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা এবং দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যান এবং ফাইনালে আধিপত্যপূর্ণ প্রদর্শনের কারণে শেষ পর্যন্ত বন্ধুকে পেছনে ফেলে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন পাউ কুবারসি।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নতুন দায়িত্ব পেলেন খালেদ মাহমুদ সুজন

0

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে খালেদ মাহমুদ সুজনের। এবার তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের উন্নয়ন কার্যক্রমে।
গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের পর নতুন বোর্ড গঠন করা হয়।

পরে পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন তামিম ইকবাল। নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
সেই বণ্টনে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। দেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতেই এবার যুক্ত করা হয়েছে খালেদ মাহমুদ সুজনকে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এইজ গ্রুপ ক্রিকেট বিভাগের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।

তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তিনি।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর দ্রুতই কাজ শুরু করার কথা রয়েছে সুজনের। দেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতেই তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় বিসিবি।

উল্লেখ্য, নতুন বোর্ড গঠনের পর রাজশাহী অঞ্চল থেকে নির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব বণ্টন করে বিসিবি।

মেসির ব্যাটন ইয়ামালের হাতে: ফুটবল সিংহাসনে রাজবংশের নতুন অধ্যায়

ফুটবলে কিছু উত্তরাধিকার ট্রফি দিয়ে মাপা যায় না। কিছু উত্তরাধিকার এক জোড়া পায়ের ছন্দে, একটি হাসিতে, কিংবা বলের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত সম্পর্কের মধ্যে বেঁচে থাকে। এক সময় সেই গল্পের একক নায়ক ছিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্ব ফুটবলকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিজের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন তিনি। বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী লা মাসিয়া থেকে উঠে এসে কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রতীক হয়ে ওঠা মেসি দেখিয়েছেন, উচ্চতায় নয়, মহত্ত্ব তৈরি হয় প্রতিভা, অধ্যবসায় আর বিনয় দিয়ে। তাঁর বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় অসংখ্য রাত রূপকথায় পরিণত হয়েছে।

কিন্তু ফুটবলের নিয়মই হলো, সময় থেমে থাকে না। কিংবদন্তিরা একদিন ধীরে ধীরে মঞ্চ ছেড়ে দেন, আর নতুন কেউ আলোয় উঠে আসে। সেই নতুন নামটি আজ লামিন ইয়ামাল।

লা মাসিয়া: একই সুরের দুই অধ্যায়

সবচেয়ে সুন্দর মিলটি হয়তো অ্যাকাডেমির সূত্রে। লা মাসিয়া, যে একাডেমি বিশ্বকে উপহার দিয়েছিল মেসিকে, সেখান থেকেই উঠে এসেছেন ইয়ামাল। যেন ফুটবল রূপকথার একই গল্পের দুটি ভিন্ন অধ্যায়।

  • প্রথম অধ্যায়: এক অপ্রতিরোধ্য কিংবদন্তির সৃষ্টি।
  • দ্বিতীয় অধ্যায়: এক নতুন সম্ভাবনার মহাকাব্যিক সূচনা।

মাত্র কিশোর বয়সেই স্পেন ও বার্সেলোনার জার্সিতে যে পরিণত ফুটবল ইয়ামাল খেলছেন, তাতে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা ভবিষ্যতের সুপারস্টারের স্পষ্ট আভাস পাচ্ছেন। তাঁর নিখুঁত ড্রিবলিং, অদম্য আত্মবিশ্বাস, গতি আর সৃজনশীলতা বারবার মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল এখনও নতুন করে বিস্ময় তৈরি করতে জানে।

প্রত্যাশার চাপ ও তুলনা

ফুটবলপাড়ায় গুঞ্জন, “মেসির ব্যাটন এখন ইয়ামালের হাতে।” তবে কথাটি মূলত প্রতীকী। কারণ মেসির মতো আর কেউ হবে না; যেমন আরেকজন মারাদোনা আসেননি, তেমনি আরেকজন মেসিও আসবেন না। তবে প্রতিটি প্রজন্মেরই এমন একজন থাকে, যে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আজ সেই স্বপ্নের নাম ইয়ামাল।

তবে এই তরুণ তুর্কির সামনের পথটা মোটেও সহজ নয়। প্রতিভার সঙ্গে তাঁকে বহন করতে হবে কোটি মানুষের প্রত্যাশা, ধ্রুপদী তুলনা আর অদৃশ্য এক মানসিক চাপ।

“প্রতিটি ভালো ম্যাচের পর তাঁকে বলা হবে ‘নতুন মেসি’, আর প্রতিটি খারাপ ম্যাচের পর উঠবে সমালোচনার ঝড়।”

কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, ইয়ামালের অন্য কারও ছায়া হওয়ার দরকার নেই। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত, সে শুধুই লামিন ইয়ামাল; নিজের গল্পের একক নায়ক, নিজের সময়ের আসল প্রতীক।

মশাল কখনো নেভে না

মেসি ফুটবলকে যা দিয়েছেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ইয়ামালের কাজ সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করা নয়, বরং সবুজ ঘাসে নিজের নতুন ইতিহাস লেখা।

সময় একদিন সিংহাসন বদলায়। আলো এক মুখ থেকে আরেক মুখে গিয়ে পড়ে। কিংবদন্তিরা বিদায় নেন, কিন্তু স্বপ্নের মশাল কখনও নিভে যায় না। ফুটবল রূপকথার নতুন এই মশালের শিখায় এখন বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন বুনছেন লামিন ইয়ামাল।