Home Blog Page 87

বিশ্ব একাদশের নেতৃত্বে মেসি, ডাগআউটে বিশ্বজয়ী দে লা ফুয়েন্তে

বিশ্ব ফুটবল একাদশ

বিশ্বকাপ শেষ স্পেন চ্যাম্পিয়ন কিন্তু বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন খেলায়াড় কারা ছিলেন? আচ্ছা যদি বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণকারী সকল দেশের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে বাছাই করে সেরা ১১ জন নিয়ে একটি একাদশ গঠন করা যায় তাহলে কেমন হবে? হ্যাঁ সেটাই এখানে দেখিয়েছি খেলা ডট লাইভের অনুসন্ধানে যেখানে বিশ্ব একাদশের নেতৃত্বে মেসি, ডাগআউটে বিশ্বজয়ী দে লা ফুয়েন্তে।

গোল রক্ষকঃ দিয়েগো কস্তা। রক্ষণভাগ: আশরাফ হাকিমি, পাউ কুবার্সি, দায়োত উপামেকানো, মার্ক কুকুরেয়া। মধ্যমাঠ: রদ্রি, জুড বেলিংহাম, মাইকেল ওলিসে। আক্রমন ভাগ: লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, এমবাপ্পে।

অধিনায়কঃ লিওনেল মেসি। কোচঃ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

বিশ্ব একাদাশঃ

গোল রক্ষক: দিয়োগো কস্তা (গোলরক্ষক, পর্তুগাল) কস্তা বিশ্বকাপে মোট ১৯টি সেভ করেছেন আর গোলমুখে শট ২৩টি শট মোকাবিলা করেছেন। বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ৬টি শটের মধ্যে ৫টি সেভ করেন। যদিও পর্তুগাল ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়, তারপরও কস্তার পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত দিক। পারফরম্যান্স র‍্যাঙ্কিংয়ে গোল ঠেকানোর দক্ষতায় তাঁর স্কোর ছিল ৮.৪৫ যা এই ক্যাটাগরিতে সবার ওপরে।

রক্ষণভাগ:

আশরাফ হাকিমি: (রাইটব্যাক, মরক্কো) এখানে পেদ্রো পোরোও থাকতে পারতো কিন্তু এই বিশ্বকাপে খেলা সব রাইটব্যাকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গতিময় এবং অনেক বেশি আক্রমণাত্মক তিনি তাই হাকিমিকেই রাখা হয়েছে।

পাউ কুবার্সি: (সেন্টারব্যাক, স্পেন) কুবার্সি বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হয়েছেন। শুধু সে কারণেই নয়, সেন্টারব্যাক হিসেবে দ্রুত রিকভারিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। এখানে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বিবেচনায় ছিলেন শেষ পর্যন্ত কুবার্সিকেই সেরা মনে হয়েছে এখানে।

দায়োত উপামেকানো: (সেন্টারব্যাক, ফ্রান্স)
আর্জেন্টিকার রোমেরোসহ আরও দু-একজন এখানে বিবেচনায় ছিল কিন্তু রক্ষণ সামলে আক্রমণে সহায়তা করতে উপামেকানো বেশ ভালো অবদান রাখতে পারেন।

মার্ক কুকুরেয়া: (লেফটব্যাক, স্পেন) বর্তমানে এই পজিশনে তাঁর বিকল্প নেই। আক্রমণেই বেশি থাকেন, কিন্তু প্রয়োজনের সময় রক্ষণে দ্রুত এসে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডকে চোখে চোখে রেখে রিকভারিং করতে পারেন। ফাইনাল ম্যাচেও তার চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মত।

মাঝমাঠ

রদ্রি: (হোল্ডিং মিডফিল্ডার, স্পেন) বিশ্বকাপের রদ্রি কোনো গোল না করে বা অ্যাসিস্ট না করেও জিতেছেন গোল্ডেন বল। তাঁকে হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে রেখেছি কোনো বিকল্প নাম না ভেবেই। পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাঁর আছে। কখন খেলা ধীর, কখন দ্রুত খেলতে হবে-সবই তাঁর জানা। তাছাড়া স্পেনের হয়ে কাউন্টার প্রেসিং ফুটবলে তিনি নতৃত্ব দিয়ে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন।

জুড বেলিংহাম: (অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, ইংল্যান্ড) বেলিং হামের দুটি গুন রয়েছে যথা- সেন্টার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে গোল করা আর গোল করানো। দুটিতেই বেশ দক্ষ আর দুটিতেই তিনি নাম্বার ওয়ান। ‘বিটুইন দ্য লাইন’  জুড খুব ভালো বল  নিতে পারেন। বেলিং হাম ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচেও ২টি গোল করেছেন।

মাইকেল ওলিসে: (অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, ফ্রান্স)
এই পজিশনে তিনি নির্ভরযোগ্য। ডান বা বাঁ প্রান্ত হোক সব দিক থেকেই খেলা তৈরি করতে পারেন। প্রয়োজনে মেসি-এমবাপ্পের সঙ্গে জায়গা পরিবর্তন করতেও পারবেন তাই তিনি এই একাদশে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

আক্রমণভাগ

লিওনেল মেসি: (রাইট উইংগার, আর্জেন্টিনা)। রাইট উইংয়ে মেসির বিকল্প নেই ডানপ্রান্ত তাঁর ফেবারিট জায়গা। আর মেসির খেলোয়াড়ি দক্ষতা নিয়েও নতুন করে বলার দরকার নেই।

হ্যারি কেইন: (স্ট্রাইকার, ইংল্যান্ড)। নাম্বার ৯ এর জায়গায় আর্লিং হালান্ডসহ আরও দু-একজন আলোচনায় আসতে পারতেন তবে সেন্টার ফরোয়ার্ড বা নম্বর নাইন হিসেবে খেলা ডট লাইভের প্রথম পছন্দ কেইন। তার বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে গোল করার পাশাপাশি বিল্ডআপেও যে সহায়তা করতে পারেন তা এই বিশ্বকাপে দিখেয়েছেন।

কিলিয়ান এমবাপ্পে: (লফট উইংগার, ফ্রান্স) এমবাপ্পে বাঁ পাশে খেলেন, এই পজিশনে তিনি ২০২২ এবং এই বিশ্বকাপে খেলে গোল্ডেন বুট জিতেছেন এবার তিনি ১০টি গোল করেছেন, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২টি গোল এই পজিশনে খেলে করেছেন। একারণে এমবাপ্পের বদলে অন্য কাউকে নেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

অধিনায়ক: (লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা) মেসি গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন এবার ফাইনালে তুলেছেন নিজে গোল করেছেন ৮টি ও ৪ গোলে সহায়তা করেছেন তাই অধিনায়ক হিসেবে খেলা ডট লাইভের প্রথম পছন্দ অবশ্যই লিওনেল মেসি। তাছাড়া নেতা হিসেবেও তিনি অসাধারন।

কোচ: লিওনেল স্কালোনি, দিদিয়ের দেশম সহ আরও দু-একজন বিবেচনায় আসতে পারতো। তবে স্পেনকে তিনি যেভাবে চ্যাম্পিয়ন করেছেন তাতে অন্য নাম ভাবার কারণ নেই বলে মনে হয়, তাই বিশ্বকাপের সেরা একাদশের কোচ হিসেবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেই ভরসা।  

প্রিয় পাঠক কেমন হল খেলা ডট লাইভের বিশ্ব একাদশ? কমেন্টে জানতে পারেন অথবা আপনার নিজের একাদশ ও কমেন্টে জানিয়ে দিতে পারেন।

ব্যথাটা অনেক গভীর, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে : মেসি

বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গের পরও মাথা উঁচু রেখেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের কষ্ট স্বীকার করলেও, পুরো অভিযানের জন্য সতীর্থদের প্রশংসা করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সঙ্গে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আবেগঘন এক বার্তায় মেসি লিখেছেন, ‘এই কষ্ট অনেক বড়, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। কিন্তু ভালো স্মৃতিগুলোও আমার সঙ্গে থাকবে। যেসব ম্যাচে আমরা সর্বস্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, সেসব মুহূর্ত চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে থাকবে।’

এছাড়া তিনি লিখেন ‘পুরো দেশের সমর্থন, আর এই দলের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে ফিরিয়ে এনেছে। এখন হয়তো সেটা পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন, কিন্তু এই দল টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে,’ যোগ করেন তিনি।

কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবারও দারুণ এক অভিযান শেষে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার আশা জাগিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। তবে ফাইনালে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।

এবারের বিশ্বকাপে ৩৯ বছরে পা রাখা মেসি ভবিষ্যতে আর বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি। তবে তার এই পোস্টকে অনেকেই বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে। তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর।

সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি লিখেছেন, ‘প্রতিটি শুভেচ্ছা ও বার্তার জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ। আমরা আবারও পুরো দেশকে একসূত্রে গাঁথতে পেরেছি এবং আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্ব সবাই মিলে ভাগ করে নিয়েছি।’

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি যোগ করেন। ‘স্পেনকে শিরোপা জয়ের জন্য অভিনন্দন।’ যদিও এবার ট্রফি জেতা হয়নি, তবু ব্যক্তিগতভাবে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড ভেঙে ক্যারিয়ার শেষ করেন ২১ গোল নিয়ে। তবে সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় তাকে ছাড়িয়ে গেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, যার গোলসংখ্যা এখন ২২।

ট্রান্সফার বাজারে উত্তাপ: আলভারেজ বার্সায়, রদ্রিকে চায় রিয়াল

0

চেলসি-লিভারপুল-আর্সেনালের বড় পরিকল্পনা

বিশ্বকাপের উত্তাপ শেষ হয়েছে। এবার ক্লাব ফুটবলে ফেরার পালা। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পর‌্যায়ক্রমে মাঠে গড়াবে। তার আগেই দলবদলের বাজারে আগুন লেগেছে। একের পর এক গুঞ্জন ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে ক্লাবগুলো। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভিড়াতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বার্সেলোনা।

জুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে মুখ খুললেন এনরিকে সেরেজো ‘দুই পক্ষেরই আগ্রহ রয়েছে।’

কাতালান ক্লাবটি ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং জানিয়ে দিয়েছে, এর বেশি অপেক্ষা করবে না। যদিও আতলেতিকো সভাপতি এনরিকে সেরেজো স্পষ্টভাবে বলেছেন, আলভারেজ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এই ট্রান্সফার নিয়ে নতুন অগ্রগতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে যে, ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি (পুরো নাম রদ্রিগো হার্নান্দেজ কাসকান্তে) রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে আগ্রহী। রেডিও মার্কার দাবি, বিশ্বকাপ শেষে রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো তাকে দলে নিতে আগ্রহী। তবে অন্যদিকে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমানে রদ্রিকে সই করানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেকের রিয়ালে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় শেষ, কারণ তার বিশেষ রিলিজ ক্লজের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং বিশ্বকাপে চোট পেয়েছেন এই জার্মান ডিফেন্ডার।

রদ্রিগো হার্নান্দেজ কাসকান্তে

চেলসির স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসনকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে অ্যাস্টন ভিলা। কোচ উনাই এমেরি তার সাবেক শিষ্যকে আবারও দলে চান বলে জানা গেছে। তবে জ্যাকসনের সঙ্গে চেলসির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকায় স্থায়ী নয়, ধারে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

নিকোলাস জ্যাকসন অ্যাস্টন ভিলা কোচ উনাই এমেরি-ফাইল ছবি।

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি ডাচ মিডফিল্ডার তিজ্জানি রেইন্ডার্সকে কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি নয়। নিউক্যাসল ইউনাইটেড, আতলেতিকো মাদ্রিদ ও গালাতাসারাইয়ের আগ্রহ থাকলেও তাকে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

লেস্টার সিটির তরুণ ডিফেন্ডার বেন নেলসন ক্লাব ছাড়তে চান। তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড। লেস্টার তার জন্য প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি দাবি করছে।

এদিকে ব্রিটিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন মরগান রজার্স। অ্যাস্টন ভিলা থেকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডকে দলে নিতে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে চেলসি। আর্সেনালও তাকে চাইলেও ভিলার চাওয়া অর্থ দিতে রাজি হয়নি।

লিভারপুল ভবিষ্যতের কথা ভেবে ১৭ বছর বয়সী কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার স্যামুয়েল মার্টিনেজকে দলে ভেড়াতে যাচ্ছে। মেডিকেল শেষে তিনি আগামী মৌসুমে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানফিল্ডে যোগ দেবেন। এছাড়া ক্রিস্টাল প্যালেসের অ্যাডাম ওয়ার্টনও লিভারপুলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যদিও তাকে কিনতে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ হতে পারে। একই সঙ্গে মোহাম্মদ সালাহর বিদায়ের পর নতুন একজন ডান প্রান্তের উইঙ্গার খুঁজছে অলরেডরা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো। ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমায় যোগ দেওয়াকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বার্সেলোনার সঙ্গে চেলসির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর নাম জড়ালেও এই গুঞ্জন বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানো।

আর্সেনাল ১৮ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক এলাইজা আপসনকে দলে ভেড়ানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে। তরুণ এই ডিফেন্ডার টটেনহ্যামের প্রস্তাব ফিরিয়ে গানার্সদের বেছে নিয়েছেন।

এছাড়া এসি মিলান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আমাদ দিয়ালোকে দলে নিতে আগ্রহী, জুভেন্টাস টটেনহ্যামের রিচার্লিসনকে চায়, নিউক্যাসল ও নাপোলি চেলসির ডিফেন্ডার বেনোয়া বাদিয়াশিলেকে নজরে রেখেছে এবং ওয়েস্ট হ্যামের ক্রিসেনসিও সামারভিলকে দলে নিতে আলোচনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এএস রোমা।

ইউরোপীয় ফুটবলের দলবদল বাজারে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বড় চুক্তি ও নাটকীয় মোড় আসতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

শেষ বাঁশিতে মেসির অশ্রু, স্পেনের উল্লাস-চিরস্মরণীয় বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপ আসে বিশ্বকাপ চলে যায় এর মাঝে রেখে যায় দুঃখ ও সুখস্মৃতির কিছুর মুহুর্ত। যেখানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ একটু আলাদাভাবেই যেন দাগ কেটেছে ফুটবল অনুরাগীদের হৃদয়ে। ৪৮ দেশ আর ৪টি নতুন দেশ নিয়ে জমবে কিনা আবার ৩ দেশ মিলিয়ে আয়োজন, বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের ট্রাভেলিং ধকল এ ধরনের নানা সঙ্কা নিয়ে অবশ্য বিশ্বকাপের সফল সমাপ্ত ঘটেছে তবে ‘শেষ বাঁশিতে মেসির অশ্রু আর স্পেনের উল্লাসে অবশ্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বিশ্বকাপ-২০২৬।

ফাইনাল শেষে হতাশা মিসি

নতুন স্পেন:

কেপ ভার্দের সাথে গোল শুন্য ড্র করেই যাত্রা শুরু হয়েছির স্পেনের এর পর জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে একে একে পর্তুগাল এবং ফ্রান্সের মত বিশ্ব সেরা দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ২০১০ চ্যাম্পিয়নরা, সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে যেভাবে বোতল বন্দি করে জিতেছে তা অবশ্যই এই বিশ্বকাপের স্পেন যে নতুন পথ চলা শুরু করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনো। আর তাতেই বোঝা যাচ্ছে স্পেনের এই জয় ফুটবল বিশ্বের জন্য নতুন বার্তা এবং তাদের কাউন্টার প্রেসিং ও পাসিং ফুটবল বিশ্ব ফুটবলের প্রতিনিধত্ব করবে।

আর্জেন্টিনা আবেগঃ

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বাধার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বড় বিপদে পড়তে হয়নি কিন্তু ইংল্যান্ডের সাথে সঙ্কা থেকে যেভাবে উতরিয়ে গেছে তা তাদের লড়াকু মনোভাবের অংশ হিসেবে মনে করা হচ্ছিল কিন্তু স্পেন বাধা পেরুতে তাদের সেই মানসিকতা যথেষ্ট ছিলনা। তাই মেসির শেষ বিশ্বকাপের আবেগ- ৩৯ বছর বয়সে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, ফাইনালে ওঠা এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতছাড়া হওয়া এসবই ছিল আর্জেন্টিনার আবেগের কেন্দ্রবিন্দু।

সাইড বেঞ্চের পারফর্ম্যান্স;

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়-ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের গোলটি হয়ে থাকবে আসরের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আর স্পেনের বেঞ্চের খেলোয়াড়রা যে কতটা সামর্থবান তা তারা প্রমান করে দিয়ে বিশ্বকাপকে অমরত্ব দিয়েছে।

মেসি বনাম ইয়ামাল;

 দুজনের মধ্যে প্রতীকী দ্বৈরথ ছিল-একদিকে ফুটবলের কিংবদন্তি মেসি, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের তারকা লামিনে ইয়ামাল তাই ফাইনালকে ঘিরে ‘পুরোনো যুগ বনাম নতুন যুগ’-এর যে গল্প তৈরি হয়েছিল, তা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহুর্তের একটি ছিল যদিও নতুন ইয়ামাল জিতেছে।

আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়: ফাইনালে ওঠার লড়াই- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ জয় এবং ফাইনালে যাওয়া ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তন আর এ কারণেই এই ম্যাচটা যে কোন পিছিয়ে পড়া দলের জন্য অনুকরনীয়, স্মরনীয় ম্যাচ।  

ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের গোলবন্যা: তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ১০ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াই ফ্রান্স ৬-৪ ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে মনে থাকবে। তাছাড়া সাকার হ্যাট্রিক, বাপ্পের হ্যাট্রিকের সম্ভবানা আবার গোল্ডেন বুটের প্রতিকি লড়াইয়ের রোমাঞ্চ হয়ে থাকবে বিশ্বকাপের ১০৩ নম্বর ম্যাচটি। 

হ্যাট্রিকের পর সাকা

৪৮ দল: বিশ্বকাপের নতুন অভিজ্ঞতা- ৪৮ দল ও ১০৪ ম্যাচের এই বৃহত্তর বিশ্বকাপ নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ-কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র-মিলে আয়োজন করাও ছিল ঐতিহাসিক। নতুন দেশ গুলো কেমন করবে এমন যে সঙ্কা ছিল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর তা উড়ে গেছে বিশ্বকাপ শেষে তাইতো ফিফার ভাবনায় এখন ৬৪ দেশের বিশ্বকাপ।

মেসির বিদায়ী মুহূর্ত: ফাইনাল শেষে মেসির হতাশ মুখ, শূন্য দৃষ্টিতে মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং স্পেনের খেলোয়াড়দের উৎসব এই দৃশ্যগুলো বিশ্বকাপের আবেগঘন স্মৃতির তালিকায় থাকবে চিরদিন।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে হয়তো মনে রাখা হবে মেসির শেষ অধ্যায়, স্পেনের উত্থান, ইয়ামালের নতুন যুগের প্রতীক হয়ে ওঠা এবং একটি রোমাঞ্চকর ফুটবল মহাকাব্য হিসেবে।

শেষ বাঁশিতে মেসির অশ্রু, স্পেনের উল্লাস- চিরস্মরণীয় বিশ্বকাপ ২০২৬
এমবাপ্পে গোলের পর

৪টি নতুন দেশ: ২০২৬ বিশ্বকাপে চারটি দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে-কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তান। চার দলের মধ্যে সবচেয়ে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া দলগুলোর পারফরম্যান্স:

দেশপারফরম্যান্সউল্লেখযোগ্য দিক
কাবো ভার্দেগ্রুপ পর্বে ভালো চমকস্পেনের বিপক্ষে ০-০ ড্র; উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ এবং সৌদির সাথে ০-০ ড্র-অভিষেকেই নজরকাড়া পারফরম্যান্স
কুরাসাওগ্রুপ পর্বে বিদায়জার্মানির বিপক্ষে গোল করে ইতিহাস; ইকুয়েডরের বিপক্ষে ০-০ ড্র করে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট
জর্ডানগ্রুপ পর্বে বিদায়প্রথম বিশ্বকাপ গোল করে ইতিহাস; অভিষেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল।
উজবেকিস্তানগ্রুপ পর্বে বিদায়কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম বিশ্বকাপ গোল; অভিষেকেই লড়াকু মানসিকতা।

কেপ ভার্দে ছিল সবচেয়ে বড় চমক। মাত্র প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি অভিষেকেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও ছিল ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ।

কুরাসাও-এর গল্পটিও ছিল আবেগময়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশগুলোর একটি হিসেবে তাদের অভিষেক হয়। জার্মানির বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করার পর ইকুয়েডরের বিপক্ষে ০-০ ড্র করে পায় ঐতিহাসিক প্রথম পয়েন্ট।

অপরদিকে জর্ডান ও উজবেকিস্তান অভিষেকেই নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করে। জর্ডানের হয়ে আলি ওলওয়ান এবং উজবেকিস্তানের হয়ে আব্বোসবেক ফায়জুল্লায়েভ সেই ঐতিহাসিক গোলের নায়ক হয়েছেন।

সারসংক্ষেপে বলা যায় অভিষেক কারীদের মধ্যে কেপ ভার্দে সবচেয়ে বড় চমক, কুরাসাও দারুন চমক, আর জর্ডান ও উজবেকিস্তান ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের মাধ্যমে। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ যে নতুন ফুটবল-শক্তির উত্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, এই চার দলের অভিষেক তারই অন্যতম প্রমাণ। বিশ্বকাপের যাত্রায় সামিল হোক নতুন নতুন দেশ ফুটবলের বিশ্বায়ন হোক ছড়িয়ে পড়ুক ফুটবল আনন্দ বিশ্বময় অপেক্ষায় রইলাম ২০৩০ বিশ্বকাপের।

দেশে ফিরে স্কালোনিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে ফাইনালেই। নিউইয়র্কে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছে আর্জেন্টিনা। তবু দেশে ফেরার পর সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।

আনুষ্ঠানিক কোনো সংবর্ধনার আয়োজন না থাকলেও বিমানবন্দর ও সড়কের দুই পাশে হাজারো সমর্থক জড়ো হয়ে জাতীয় দলকে স্বাগত জানান। কোচ লিওনেল স্কালোনি ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় ছাদখোলা বাসে করে দলের সদস্যরা শহরের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। পথে-ঘাটে সমর্থকেরা গান, নাচ ও পতাকা উড়িয়ে দলকে অভিনন্দন জানান।

তবে দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দে পল, এন্সো ফের্নান্দেস, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা ও আরও কয়েকজন ফুটবলার। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে দেশে ফেরেন বাকি ১৬ জন খেলোয়াড়।

ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচেই চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে একমাত্র গোল হজম করে শিরোপা হারায় স্কালোনির দল।

দল দেশে ফেরার পর এক বিবৃতিতে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বিবৃতিতে বলা হয়, মাঠে প্রতিটি খেলোয়াড় সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন অনুভব করেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য পূরণ না হলেও দল ও সমর্থকদের মধ্যকার সম্পর্ক যে কোনো ফলাফলের ঊর্ধ্বে-এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে।

বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারত!

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেছেন। তার মতে, ক্রীড়া কূটনীতি দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সাম্প্রতিক সময়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেটিও দূর হবে।

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা দেয়, ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারত। মূলত ২০২৫ সালে হওয়ার কথা থাকলেও দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছিল।

তবে এরপর একাধিক ঘটনায় সফরটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সম্প্রতি বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। ভারত সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রির উদ্যোগ, পাশাপাশি ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরের সূচিতে পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন,`বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আর ক্রিকেট যেহেতু আমাদের জন্য একটি মর্যাদার জায়গা, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। সবাই সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় রয়েছে।’

তিনি মনে করেন, এই সফর শুধু ক্রিকেটীয় দিক থেকেই নয়, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আমিনুল হক বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশে এলে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ছোট ঘটনার কারণে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেটি আমরা অতিক্রম করতে পারব বলে মনে করি। আশা করি, ক্রীড়া কূটনীতি, পারস্পরিক যোগাযোগ ও দুই দেশের চলমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।’

ভারত সিরিজ ঘিরে এর আগে বিসিবিও জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও সম্প্রতি মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় সফরটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে সরকারের সর্বশেষ অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশ এখনও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্র হিসেবে এই সফরকে দেখছে সরকার।

বাংলাদেশে গ্লোবাল সুপার লিগের খেলা দেখাবে টি-স্পোর্টস

0

২০২৬ সালের গ্লোবাল সুপার লিগের (GSL) সম্প্রচার তালিকা প্রকাশ করেছে আয়োজকরা। এবারের আসরে আগের মৌসুমগুলোর তুলনায় আরও বিস্তৃত পরিসরে সম্প্রচার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকরা এবার টুর্নামেন্টের ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।

গ্লোবাল সুপার লিগের এবারের সম্প্রচার ব্যবস্থায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও ভুটান। ফলে এসব অঞ্চলেও এবার প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টটির নির্দিষ্ট সম্প্রচার সুবিধা থাকছে।

২০২৬ সালের সম্প্রচার অংশীদারদের তালিকায় বাংলাদেশে গ্লোবাল সুপার লিগের ম্যাচ সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে টি স্পোর্টস। ভারত ও মালদ্বীপে ম্যাচ দেখা যাবে সনি-তে। অস্ট্রেলিয়ায় ফক্স স্পোর্টস এবং নিউজিল্যান্ডে স্কাই এনজেড ম্যাচ সম্প্রচার করবে।

পাকিস্তানে ম্যাচ দেখা যাবে এ স্পোর্টস ও তামাশা-তে। আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া ও নেপালে সম্প্রচারের দায়িত্বে রয়েছে স্টাইক্সস্পোর্টস। মধ্যপ্রাচ্যে ম্যাচ সম্প্রচার করবে মাইকো। শ্রীলঙ্কায় দর্শকরা ডায়ালগ টিভিতে খেলা দেখতে পারবেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সম্প্রচার করবে উইলো এবং যুক্তরাজ্যে এআরওয়াই ডিজিটাল। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ম্যাচ দেখা যাবে রাশ লাইভ অ্যান্ড লাউডার-এ। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের দর্শকদের জন্য ম্যাচ সম্প্রচার করা হবে ইউটিউবে।

২০২৬ সালের গ্লোবাল সুপার লিগের সম্প্রচার অংশীদারদের পূর্ণ তালিকা হলো—

  • আফগানিস্তান: StyxSports
  • অ্যান্টিগুয়া: Winners TV
  • অস্ট্রেলিয়া: Fox Sports
  • বাংলাদেশ: T Sports
  • বার্বাডোস: CBC
  • ভুটান: Sony
  • গায়ানা: ENET
  • গ্রেনাডা: GBN
  • ভারত: Sony
  • মালদ্বীপ: Sony
  • মালয়েশিয়া: StyxSports
  • মধ্যপ্রাচ্য: MYCO
  • নেপাল: StyxSports
  • নিউজিল্যান্ড: Sky NZ
  • পাকিস্তান: A Sports, Tamasha
  • প্যান-ক্যারিবিয়ান: Rush Live & Louder
  • শ্রীলঙ্কা: Dialogue TV
  • সেন্ট কিটস: ZIZ
  • সেন্ট লুসিয়া: Winners TV
  • ত্রিনিদাদ: CNC3
  • যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা: Willow
  • যুক্তরাজ্য: ARY Digital
  • বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল: YouTube

গ্লোবাল সুপার লিগের চেয়ারম্যান স্যার ক্লাইভ লয়েড বলেন, এবারের সম্প্রচার তালিকা প্রমাণ করে টুর্নামেন্টটি কতটা বিস্তৃত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট বাজারে একচেটিয়া অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও ভুটানে প্রথমবারের মতো নতুন দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রিকেট একটি বৈশ্বিক খেলা। তাই বিশ্বের যেখানেই দর্শক থাকুন না কেন, তাদের কাছে গ্লোবাল সুপার লিগকে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং টুর্নামেন্টটি উপভোগের সুযোগ নিশ্চিত করাই আয়োজকদের লক্ষ্য।

২০২৬ সালের আসরে গ্লোবাল সুপার লিগের সম্প্রচার পরিধি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০টিরও বেশি অঞ্চলে সম্প্রচার নিশ্চিত হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে আরও কয়েকটি সম্প্রচার অংশীদারের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের সংঘর্ষে তদন্তে ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের শিরোপা উদ্‌যাপনের মুহূর্তে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একজন তদন্তকারী নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তকারীর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফাইনাল শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। একপর্যায়ে পারেদেস গার্সিয়াকে ঘুষি মারলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সতীর্থকে রক্ষা করতে দ্রুত এগিয়ে আসেন স্পেনের খেলোয়াড়েরা। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন গাভি। তবে উত্তেজনা কমার বদলে আরও বাড়ে। আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা গাভিকে ধাক্কা দিলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় পারেদেস গাভির মুখেও আঘাত করেন। আঘাতে গাভি মাটিতে পড়ে গেলেও পরে উঠে দাঁড়ান।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, স্পেন অধিনায়ক রদ্রির সঙ্গেও পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনার বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে স্পেনের দানি ওলমোকে আঘাত করতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। এখন ফিফার তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন বিদেশি লিগে ফিরলেন মোস্তাফিজ

এ বছর মাঠে গড়াচ্ছে কানাডা সুপার সিক্সটি লিগের দ্বিতীয় আসর। এবারের টি-টেন ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে মাঠ মাতাবেন টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তাকে মার্কুই প্লেয়ার ক্যাটেগরিতে দলে ভিড়িয়েছ ভ্যানকুবার অ্যাংকরস।

মোস্তাফিজ ছাড়াও এই দলে আছেন ইংলিশ তারকা মঈন আলি, ক্রিস জর্ডান, নেপালের দীপেন্দ্র সিং আইরের মতো ক্রিকেটাররা। দলটির প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকবেন মিকি আর্থার। টুর্নামেন্টে আরো খেলবেন টম কারান, ইমাদ ওয়াসিম, কলিন মুনরো, আন্দ্রে রাসেল, নিকোলাস পুরান, ক্রিস লিন, সিকান্দার রাজারা।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট। যা চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান।

ভ্যানকুবার অ্যাংকরস স্কোয়াড : দীপেন্দ্র সিং আইরে, আখিল কুমার, ম্যাক্স চু, ক্রিস জর্ডান, মুস্তাফিজুর রহমান, শের আলি, আদবিত ঢাবে, ম্যাথু স্পুরস, শুবম হান্ডা, গুরনেক জোহাল, আনেরিন ডোনাল্ড, টম মুরস, বেন স্যান্ডারসন, মঈন আলি।

২০২৬ সাফের আয়োজক বাংলাদেশ, ঘরের মাঠে হামজাদের নতুন স্বপ্ন

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের আয়োজক হচ্ছে বাংলাদেশ। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। আগামী ৪ নভেম্বর পর্দা উঠবে টুর্নামেন্টের, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর। প্রতিযোগিতার সব ম্যাচই হবে ঢাকায়।

মূলত ২০২৫ সালে দুই বছর বিরতির পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সাংগঠনিক ও সূচিগত নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে আসরটি আয়োজন সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের হাতেই দায়িত্ব তুলে দিয়েছে সাফ।

টুর্নামেন্ট ঘিরে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২৫ জুলাই ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে প্রতিযোগিতার লোগো। এরপর ১ আগস্ট ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে দলগুলোর গ্রুপ নির্ধারণের ড্র।

বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের জন্য এবারের আসরে রয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। দেশের মাঠে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবেন হামজা চৌধুরী, শোমিত সোম ও ফাহামিদুল ইসলাম। জাতীয় দলের নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলারদের ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক।

এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সেই আসরেই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্রবারের মতো শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দুই দশকের বেশি সময় পর আবারও ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

সবশেষ ২০২৩ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল বাংলাদেশ। এবার নিজেদের দর্শকদের সামনে আরও ভালো করার লক্ষ্য থাকবে দলের।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ভারত। এখন পর্যন্ত ৯ বার শিরোপা জিতেছে তারা। ভারতের বাইরে সবচেয়ে বেশি দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালদ্বীপ (২০০৮ ও ২০১৮)। এছাড়া বাংলাদেশ (২০০৩), আফগানিস্তান (২০১৩) ও শ্রীলঙ্কা (১৯৯৫) একবার করে ট্রফি জিতেছে।