Home Blog Page 86

ওয়ানডে নেতৃত্ব ছাড়লেন আফগানিস্তানের হাশমতুল্লাহ

ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেটার হাশমতুল্লাহ শহিদি। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৩১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার।

২০২২ সালের শুরুতে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন শহিদি। তার অধীনেই ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয় আফগানরা। অবশ্য তার নেতৃত্বে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছে। আর ভারতে অনুষ্ঠিত ২০২৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আলোড়ন তোলে আফগানিস্তান। যদিও শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি দলটি।

ওয়ানডে নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণায় হাশমতুল্লাহ লিখেছেন, ‘পূর্ণ সম্মান ও স্বেচ্ছায় আজ আমি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে আমার দলের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য ছিল বিশাল সম্মানের। সততা, ঐক্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সেবা করতে পেরে আমি গর্বিত।’

এছাড়া নিজের নেতৃত্বে অর্জিত সাফল্যের কৃতিত্ব একা নিতে চাননি হাশমতুল্লাহ। এ বিষয়ে তিনি বলেন,‘ আমরা অনেক জয় পেয়েছি, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতেছি, বড় বড় দলকে হারিয়েছি এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করেছি। কিন্তু এসব অর্জন শুধু আমার নয়, পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও সমন্বয়ের ফল।’

আগামী মাসের শুরুতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। তার আগেই নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের নাম ঘোষণা করবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপ ২০২৬ এ স্পেন চ্যাম্পিয়ন তা হয়তো একটু পুরনো খবর কিন্তু বিশ্বকাপের রেশ কিছুটা হলেও এখনও রয়ে গেছে তার কারণ সেমিফাইনাল ও ফাইনালে স্পেন যে কৌশলী ফুটবল খেলে টপ ফেভারিট ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করেছে স্পেনের সেই কৌশলের মূল কারিগর ছিলেন হোল্ডিং মিডিফিল্ডার অধিনায়ক রদ্রি। স্পেনের পাসিং ও কাউন্টার প্রেসিং এবং দলীয় সমন্বয়ের অসাধারন মেলবন্ধন তৈরিতে রদ্রি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। আর এ কারণেই বিশ্বকাপে কোন গোল এবং অ্যাসিস্ট না করেও বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল বিজয়ী হয়েছেন তিনি। রদ্রির পজিশনে বিশ্বকাপে খেলেছেন অবদান রেখেছেন এমন সেরাদের নিয়ে খেলা ডট লাইভের ‘সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডার’।

রদ্রি বিশ্বকাপে মোট ৭৯৯ টি পাস খেলেছেন সম্পন্ন করেছেন ৭৪৭টি পাস, সঠিক পাস ৯৩%, ডিফেন্স করেছেন ২১টি যার শতকরা হার ৯০%, ক্রস তুলেছেন ৩টি, আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ১০৬টি পাস খেলেছেন যার মধ্য ১০৩টি পাস সঠিক ছিল। এ থেকেই বোঝা যায় রদ্রি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে কতটা ভূমিকা রেখেছেন। বিশ্বকাপে অন্তত রাউন্ড অব সিক্সটিন পর্যন্ত যে দলগুলো খেলেছে তাদের মধ্য থেকেই সেরা ১১ জন দেখুন।

রদ্রি: 

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার ছিলেন রদ্রি, খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রিই স্পেনের এক নম্বর পছন্দ। তিনি মিডফিল্ডের সামনে থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ, বল পুনরুদ্ধার, প্রেস ভাঙা এবং ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি স্পেনের পাসিং টেম্পোও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বিশ্বকাপের পর তাঁর পারফরম্যান্সকে ঘিরে পরিসংখ্যানেও তিনি খুব উঁচুতে ছিলেন—তাঁর ৭৪৭টি সফল পাস, ২৬টি ট্যাকল, ডিফেন্স ২১টি উল্লেখ যোগ্য।  

সারকথা: যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের নিয়ে একটি বিশ্ব একাদশ বানানো হয়, রদ্রিকে আমি আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের চেয়ে এগিয়ে রাখব। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়কও ছিলেন রদ্রি।

এনজো ফার্নান্দেজ:

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা ডট লাইভের পছন্দ এনজো ফার্নান্দেজ।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার-বিশুদ্ধ ডিপ-লাইং হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে লিয়ান্দ্রো পারেদেস বেশি স্বাভাবিক পছন্দ। কিন্তু পুরো বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স, বল পুনরুদ্ধার, প্রেসিং, ডিফেন্সিভ কভার এবং বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা মিলিয়ে এনজোকে এগিয়ে রাখতে হবে। আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দুজনই মিডফিল্ডার ছিলেন।

এক লাইনে: আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ দলের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার-এনজো ফার্নান্দেজ; আর খাঁটি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে-লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি:

ডিফেন্সের সামনে থেকে স্ক্রিন হিসেবে কাজ করার ক্ষমতা, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকল, পজিশনিং এবং ডিফেন্সিভ কভার, চাপের মধ্যে বল ধরে রাখা ও পাসিং মিডফিল্ড থেকে ডিফেন্সে ভারসাম্য তৈরিতে বেশ পারদর্শি।  

ফ্রান্সের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে চুয়ামেনি, এন’গোলো কান্তে, মানু কোনে, আদ্রিয়েন রাবিও এবং ওয়ারেন জাইর-এমেরি ছিলেন। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে চুয়ামেনি ও রাবিও মাঝমাঠে শুরু করেছিলেন।

র‍্যাঙ্কিং: অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি-সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, এন’গোলো কান্তে-অভিজ্ঞতা ও বল জয়ের দক্ষতায় দুর্দান্ত, নু কোনে-শারীরিক শক্তি ও প্রেসিংয়ে বেশী কার্যকর।

সারকথা হল: যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের নিয়ে একাদশ বানানো যায়, তাহলে ফ্রান্স থেকে চুয়ামেনিকেই আমি বেছে নেব।

ডেকলান রাইস:

তিনি পুরোপুরি ক্লাসিক ৬ নম্বর নন বরং ৬ এবং ৮ দুই ভূমিকাতেই খেলতে পারেন। তবে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ডিফেন্সের সামনে ভারসাম্য তৈরি, বল পুনরুদ্ধার, প্রেসিং, ট্রানজিশন থামানো এবং দ্রুত আক্রমণে সহায়তা করা। ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াড তালিকাতেও রাইসকে মিডফিল্ডার হিসেবে রাখা হয়েছে।

র‍্যাঙ্কিং: ডেকলান রাইস-সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, এলিয়ট অ্যান্ডারসন-বল দখল ও মিডফিল্ড প্রেসিংয়ে কার্যকর, জর্ডান হেন্ডারসন-অভিজ্ঞতা ও রক্ষণাত্মক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ

সারকথা: আপনার যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের নিয়ে একাদশ বানানোর পরিকল্পনা থাকে, তবে ইংল্যান্ড থেকে ডেকলান রাইসকে পছন্দ করতেই হবে।

জোয়াও পালহিনহা:

জোয়াও পালহিনহা- পর্তুগালের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, তিনি মূলত একজন ক্লাসিক নাম্বার ৬ পজিশনের ফুটবলার, যার প্রধান শক্তি হলো—

ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন তৈরি করা, ট্যাকল ও বল পুনরুদ্ধার, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া ও দুর্দান্ত পজিশনিং জ্ঞান এবং শারীরিক শক্তি ও ডুয়েল জেতার দক্ষতা।

র‍্যাঙ্কিং: জোয়াও পালহিনহা-সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, রুবেন নেভেস- পাসিং ও গভীর থেকে খেলা পরিচালনায় এগিয়ে, ভিতিনিয়া-পজেশন ও প্রেস-রেজিস্ট্যান্সে অসাধারণ, তবে খাঁটি নাম্বার ৬ নয়। তাই চূড়ান্ত পছন্দ: জোয়াও পালহিনহা।
যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের বিশ্ব একাদশ বানানো হয়, পর্তুগাল থেকে পালহিনহা পছন্দের প্রথমেই থাকবে।

আমাদু ওনানা:

আমাদু ওনানা- বেলজিয়ামের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, তার প্রধান শক্তিগুলো হলো-ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন, শারীরিক শক্তি ও এরিয়াল ডুয়েলে দক্ষতা, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকল, প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো, পজিশনিং ও মিডফিল্ড কভার।

র‍্যাঙ্কিং: আমাদু ওনানা — সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, অ্যাস্টার ফ্রাঙ্কস — পরিশ্রমী ও ভারসাম্যপূর্ণ, কেভিন ডি ব্রুইনে — গভীর থেকে খেলা তৈরি করতে পারেন, তবে মূলত হোল্ডিং মিডফিল্ডার নন। তাই চূড়ান্ত পছন্দ: আমাদু ওনানা।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের তালিকা করলে বেলজিয়াম থেকে ওনানাই প্রথম চয়েস হবে।

স্যান্ডার বার্গ:

বার্গ মূলত একজন ডিফেন্সিভ/হোল্ডিং মিডফিল্ডার, যিনি নরওয়ের মিডফিল্ডে ভারসাম্য ধরে রাখার পাশাপাশি রক্ষণে সহায়তা করেন।

কেন বার্গ: ডিফেন্সের সামনে কভার তৈরি করতে পারেন, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকলিংয়ে কার্যকর, ভালো পজিশনিং ও গেম রিডিং, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং ডুয়েলে কার্যকর, ডিফেন্স থেকে আক্রমণে ট্রানজিশনে সহায়তা করেন।

র‍্যাঙ্কিং: স্যান্ডার বার্গ—সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, মর্টেন থর্সবি—পরিশ্রমী ও ডিফেন্সিভ অবদানে কার্যকর, প্যাট্রিক বার্গ — পাসিং ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণে ভালো, তাই চূড়ান্ত পছন্দ: স্যান্ডার বার্গ।

গ্রানিত জাকা:

জাকা একজন অভিজ্ঞ ডিপ-লাইং/হোল্ডিং মিডফিল্ডার, যিনি মিডফিল্ড থেকে দলের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডিফেন্সিভ ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কেন জাকা: ডিফেন্সের সামনে অবস্থান নিয়ে ভারসাম্য তৈরি করেন, দূরপাল্লার ও নির্ভুল পাসে আক্রমণ শুরু করেন, পজিশনিং ও গেম রিডিংয়ে অভিজ্ঞ, শারীরিক ডুয়েলে কার্যকর, ম্যাচের গতি ও টেম্পো নিয়ন্ত্রণে দক্ষ।  

র‍্যাঙ্কিং: গ্রানিত জাকা- সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, রেমো ফ্রয়লার — ডিফেন্সিভ কভার ও বল পুনরুদ্ধারে কার্যকর, ভিনসেন্ট সিয়েরো — পাসিং ও পজেশন নিয়ন্ত্রণে ভালো, চূড়ান্ত পছন্দ: গ্রানিত জাকা।

সোফিয়ান আমরাবাত:

আমরাবাত মূলত একজন ক্লাসিক নাম্বার ৬ পজিশনের ফুটবলার, যিনি ডিফেন্সের সামনে থেকে দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন।

কেন আমরাবাত: ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন তৈরি করেন, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকলিংয়ে দক্ষ, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে কার্যকর, পজিশনিং ও গেম রিডিং ভালো, শারীরিক ডুয়েলে শক্তিশালী, বল জিতে দ্রুত ট্রানজিশনে সাহায্য করেন

র‍্যাঙ্কিং: সোফিয়ান আমরাবাত — সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, বিলাল এল খান্নুস — বল নিয়ন্ত্রণ ও প্রেসিংয়ে কার্যকর, তবে বেশি আক্রমণাত্মক, আজ্জেদিন উনাহি — পজেশন ও বল এগিয়ে নিতে দক্ষ, তবে মূলত নাম্বার ৮, তাই চূড়ান্ত পছন্দ: সোফিয়ান আমরাবাত।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের তালিকায় মরক্কো থেকে আমরাবাতকেই আমি রাখব।

মারওয়ান আতিয়া:

মারওয়ান আতিয়া — মিশরের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, তিনি মূলত একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অর্থাৎ নাম্বার ৬। যিনি ডিফেন্সের সামনে থেকে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন।

কেন আতিয়া: ডিফেন্সের সামনে কভার দেন, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকলিংয়ে কার্যকর, ভালো পজিশনিং ও গেম রিডিং, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ, বল জিতে দ্রুত পজেশন বদলে দিতে পারেন।

র‍্যাঙ্কিং: মারওয়ান আতিয়া — সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, হামদি ফাত্তাহি — রক্ষণাত্মক ভারসাম্য ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে, মোহাম্মদ এলনেনি — অভিজ্ঞতা ও পাসিংয়ে শক্তিশালী, তবে আগের তুলনায় বেশি গভীর প্লেমেকার। তাই চূড়ান্ত পছন্দ: মারওয়ান আতিয়া।

এডসন আলভারেজ:

তিনি একজন ক্লাসিক নাম্বার ৬ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, যিনি মেক্সিকোর মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক ভারসাম্য ধরে রাখার পাশাপাশি ডিফেন্সের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কভার দেন।

কেন আলভারেজ: ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন, ট্যাকল ও বল পুনরুদ্ধারে দক্ষ, পজিশনিং ও গেম রিডিং ভালো, প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে কার্যকর, বল জিতে দ্রুত আক্রমণে রূপান্তর করতে পারেন

র‍্যাঙ্কিং: এডসন আলভারেজ — সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, লুইস শাভেজ — পাসিং ও দূরপাল্লার শটে শক্তিশালী, কার্লোস রদ্রিগেজ — বল নিয়ন্ত্রণ ও পজেশন ধরে রাখতে কার্যকর

চূড়ান্ত পছন্দ: এডসন আলভারেজ।

প্রিয় পাঠক কেমন হল সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডার নির্বাচন। আপনি কি খেলা ডট লাইভের সাথে একমত? নাকি আপনার ভিন্নতা রয়েছে? কমেন্টে জানিয়ে দিতে পারেন আপনার সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডারের তালিকা।

এলপিএলে খেলা হচ্ছে না তাসকিনের

এলপিএল টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান চোটে পড়ায় তাসকিনকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য রেখে দেওয়া হয়। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেই শ্রীলঙ্কায় গিয়ে এলপিএলে অংশ নেবেন তাসকিন আহমেদ।

কিন্তু না, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) আসন্ন মৌসুমে খেলা হচ্ছে না তাসকিন আহমেদের। জাফনা কিংসে খেলার কথা ছিল তাসকিনের। শ্রীলঙ্কার বদলে বাংলাদেশে ফিরছেন তাসকিন।   

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনসের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘আমরা তো তাসকিনকে বেশ আগেই এনওসি (এলপিএল খেলার অনাপত্তিপত্র) দিয়ে রেখেছি।

জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ শেষে ওর শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ছিল। ১২ জুলাই থেকে এনওসি দেওয়া ছিল। কিন্তু মুস্তাফিজ ইনজুরিতে পড়ার পর আমরা তাসকিনকে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও রেখে দিয়েছিলাম। এখন ওর মনে হয়েছে, এলপিএল খেলার বদলে দেশে ফিরে কয়েক দিন বিশ্রাম নিয়ে এরপর লাল বলের ক্রিকেটের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।’

এছাড়া নাফীস আরও বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাসকিন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই সিরিজটি খেলতে চায়। তার সিদ্ধান্তটিকে বিসিবি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আশা করি, খুব ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দেবে সে।’

আগস্টের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ১৩ আগস্ট ডারউইন টেস্ট দিয়ে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

নীরবে রোজারিওতে ফিরলেন মেসি

0

বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই নিজের শহর রোজারিওতে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর কয়েক দিনের বিশ্রাম কাটাতে মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট লডারডেল থেকে ব্যক্তিগত বিমানে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান তিনি।

স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৭ মিনিটে মেসির ব্যক্তিগত বিমান রোজারিওর কাছাকাছি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ভোররাত থেকেই শত শত সমর্থক জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেন। অনেকেই আশা করেছিলেন, বিশ্বকাপ শেষে হয়তো একবার হলেও তাদের সামনে এসে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাবেন প্রিয় তারকা। কিন্তু সেটি আর হয়নি।

সরাসরি গাড়িতে মেসি


বিমান থেকে নেমেই মেসি কোনো জনসমক্ষে না এসে সরাসরি অপেক্ষমাণ একটি এসইউভি গাড়িতে উঠে পড়েন। সেই গাড়িতে করেই স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি রোজারিওর পাশের অভিজাত আবাসিক এলাকা ফুনেসে চলে যান। পুরো বিশ্বকাপজুড়েই মেসির পরিবার উত্তর আমেরিকায় তার সঙ্গে ছিল।

বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সমর্থকদের মধ্যে আবেগের কমতি ছিল না। ভোর সাড়ে তিনটা থেকেই অনেকেই অবস্থান নেন। আর্জেন্টিনার জার্সি পরা দুই কিশোরীর হাতে ছিল একটি হৃদয়স্পর্শী ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, ‘মেসি, তুমি একজন কিংবদন্তি। আমাদের হৃদয়ে আনন্দ এনে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পুরো দেশ তোমাকে ভালোবাসে।’ মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পারলেও তার গাড়ির এক ঝলক দেখেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছে অধিকাংশ ভক্তকে।

মেসির জন্য অপেক্ষা

রোজারিওতে মেসির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার ৬৮ বছর বয়সী বাবা হোর্হে মেসি। বিশ্বকাপ চলাকালেই পরিবার জানিয়েছিল, তিনি একটি অনির্দিষ্ট অসুস্থতার চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোই এখন মেসির প্রধান অগ্রাধিকার।

লিওনেল মেসির এমন চিত্র আর্জেন্টিনার সর্বত্র

এদিকে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই দেশে ফিরেছে। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের ১৫ জন খেলোয়াড় সোমবার চার্টার্ড বিমানে বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আলবিসেলেস্তেরা।

মেসির তৃতীয় ফাইনাল

এই ফাইনাল ছিল মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২২ সালেও ফাইনাল খেলেছিলেন। এবারের আসরে তিনি আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০ গোল করে শীর্ষস্থান দখল করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে সবার ওপরে উঠে গেছেন, যেখানে মেসির গোলসংখ্যা ২১।

শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনার কোটি কোটি মানুষের কাছে মেসির মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিমানবন্দরের সেই ভোরের অপেক্ষা এবং সমর্থকদের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

গার্নাচোকে ধারে নিতে চেলসির দ্বারস্থ অ্যাস্টন ভিলা

0

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দলবদলের বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার আলেহান্দ্রো গার্নাচো। চেলসির এই ফুটবলারকে ধারে দলে নিতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। প্রস্তাবে মৌসুম শেষে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও (অব্লিগেশন টু বাই) থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন।

২২ বছর বয়সী গার্নাচোকে চলতি গ্রীষ্মেই ক্লাব ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে চেলসি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। দলের আক্রমণভাগে নিয়মিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন মৌসুমের পরিকল্পনায়ও তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গার্নাচোকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে নতুন মৌসুমে তার নিয়মিত একাদশে থাকার নিশ্চয়তা নেই। এরপর দুই পক্ষের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, তার জন্য নতুন ঠিকানা খুঁজে নেওয়াই হবে সবচেয়ে ভালো সমাধান। সেই কারণেই জুলাইয়ের শুরুতে শুরু হওয়া প্রাক-মৌসুম অনুশীলনেও যোগ দেননি তিনি। ক্লাব ও খেলোয়াড়-উভয় পক্ষের সম্মতিতেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে অনুশীলনের বাইরে রাখা হয়েছে।

গার্নাচোকে স্থায়ীভাবে ছাড়তে চেলসি

গার্নাচোকে স্থায়ীভাবে ছাড়তে চেলসি প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৫ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার) ট্রান্সফার ফি প্রত্যাশা করছে। তবে অ্যাস্টন ভিলা শুরুতে ধারের চুক্তির পথ বেছে নিয়েছে, যাতে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে স্থায়ী চুক্তি কার্যকর হতে পারে।

আর্জেন্টাইন উইঙ্গার আলেহান্দ্রো গার্নাচো

গার্নাচোকে নিয়ে শুধু অ্যাস্টন ভিলাই আগ্রহ দেখায়নি। প্রিমিয়ার লিগের আরও কয়েকটি ক্লাব, ইতালির বিভিন্ন দল, ইউরোপের অন্য লিগ এবং সৌদি আরব থেকেও তার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তবে খেলোয়াড়ের প্রধান অগ্রাধিকার এমন একটি ক্লাবে যাওয়া, যেখানে তিনি নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন এবং নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারবেন।

চেলসির অভ্যন্তরীণ সূত্রের আশা, খুব দ্রুতই গার্নাচোর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান হবে। এতে খেলোয়াড় যেমন নতুন পরিবেশে ক্যারিয়ার পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন, তেমনি চেলসিও তাদের স্কোয়াড পুনর্গঠনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবে।

চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যে সম্পর্ক

এদিকে দলবদলের বাজারে চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবার ভিলা থেকে ইংলিশ মিডফিল্ডার মরগান রজার্সকে ক্লাব-রেকর্ড ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চেলসি। সেই বড় অঙ্কের লেনদেনের পর এবার উল্টো পথে গার্নাচোর সম্ভাব্য ভিলা যাত্রা দুই ক্লাবের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, গার্নাচোর ভবিষ্যৎ এখন দলবদলের বাজারের অন্যতম আলোচিত বিষয়। অ্যাস্টন ভিলার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, নাকি অন্য কোনো ক্লাব শেষ পর্যন্ত তাকে দলে ভেড়াবে-সেই উত্তর মিলতে পারে খুব শিগগিরই।

টিভিতে আজকের খেলা: ২২ জুলাই ২০২৬

শ্রীলঙ্কায় চলছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। আজ দুটি ম্যাচ। ব্যাডমিন্টনে ওয়ার্ল্ড ট্যুর চলমান।

ব্যাডমিন্টন
ওয়ার্ল্ড ট্যুর
সকাল ৬-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

ক্রিকেট
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
কলম্বো-জাফনা
বেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ডাম্বুলা-গল
রাত ৮টা, টি স্পোর্টস

টেনিস
ইউএস ওপেন
বেস্ট অব সেরেনা
রাত ১০-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

মেসির বিদায়ের মঞ্চ কি হতে পারে ফাইনালিসিমা?

0

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে হতাশা দিয়ে। ফাইনালে উঠেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লিওনেল মেসিদের। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির ভবিষ্যৎ কী?

৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এখনও জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। এমনকি তাকে ঘিরে ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে মেসির বিদায় ম্যাচ নিয়ে ভিন্ন এক প্রস্তাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত হোয়াকিন মারিয়া দে আরিস্তেগুই লাবোর্দে।

রেডিও মিত্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কেন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালিসিমা ম্যাচটিকে লিওনেল মেসির জন্য একটি বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানে পরিণত করা হবে না?’

স্প্যানিশ এই কূটনীতিকের মতে, ফুটবল বিশ্বের প্রাপ্য এই দুই পরাশক্তির আরেকটি মহারণ। তিনি বলেন, ‘ফুটবল এই দুই দলের আরেকটি ম্যাচ পাওয়ার যোগ্য। আমি আশা করি ভবিষ্যতে সেটি সম্ভব হবে।’

মূলত ২০২৬ সালের মার্চে কাতারের দোহায় ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভেন্যু ও সূচি নিয়ে জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

মাদ্রিদ, বুয়েনস আইরেস ও রোমকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে ম্যাচটি স্থগিত হয়ে পরে পুরো পরিকল্পনাই বাতিল হয়ে যায়।

যদিও ফাইনালিসিমা হয়নি, বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। তবে সেখানে স্পেন ছিল পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তারকারী দল। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা স্পেনের গোলমুখে অন টার্গেটে একটি শটও নিতে পারেনি।

এমন পরিস্থিতিতে আবারও ফাইনালিসিমা আয়োজনের আলোচনা সামনে এসেছে। আর যদি সেই ম্যাচ বাস্তবায়িত হয়, তবে সেটিই হয়তো হতে পারে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন বিদায়ের মঞ্চ। তবে শেষ সিদ্ধান্তটি অবশ্যই নির্ভর করছে মেসি নিজে কী চান, তার ওপর।

সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য টাইগার্স ডেন

0

বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্মিত হয়েছে ‘টাইগার্স ডেন’ নামে একটি বিশেষ লাউঞ্জ, যেখানে জাতীয় দলের সাবেক নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা খেলা উপভোগ করতে পারবেন এবং অবসর সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।

মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নতুন এই লাউঞ্জ ঘুরে দেখান। বর্তমানে লাউঞ্জটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও করা হয়নি।

মিরপুর স্টেডিয়ামের ম্যানুয়াল স্কোরকার্ডের পাশেই তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ লাউঞ্জ। এতদিন অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স বক্স’ থাকলেও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা ছিল না। সেই অভাব পূরণ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান বোর্ড।
এ বিষয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটারদের জন্য টাইগার্স ডেন নামে এই লাউঞ্জটি করেছি।

বাংলাদেশের হয়ে একদিনের জন্যও যারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সেই সব নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য এখানে বসে খেলা দেখার এবং সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, বর্তমান ও সাবেক সব ক্রিকেটারকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের অংশ হিসেবে সম্মান দিতে হবে। তাদের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, বিসিবি সেগুলো করার চেষ্টা করবে। এটি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের ছোট একটি উদ্যোগ।’

তামিম জানান, লাউঞ্জে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মারক ও ছবি সংযোজনের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। সব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে ‘টাইগার্স ডেন’।

বিশ্বকাপের সেরা ১১ রাইট উইঙ্গার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এ যারা মূলত রাইট উইং বা ডান প্রান্তে খেলেছেন, তাদের পারফরম্যান্স, গোল-অ্যাসিস্ট, সৃষ্টিশীলতা, ড্রিবলিং ও ম্যাচে প্রভাব বিবেচনা করে খেলা ডট লাইভের বিশ্বকাপের সেরা ১১ রাইট উইঙ্গার।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা ১১ রাইট উইঙ্গার

১. মাইকেল অলিসে। ২. লামিনে ইয়ামাল। ৩. বুকায়ো সাকা। ৪. লিওনেল মেসি। ৫. জেরেমি ডোকু। ৬. ব্রাহিম দিয়াজ। ৭. অ্যান্থনি গর্ডন। ৮. রবার্তো আলভারাদো। ৯. বারিশ আলপার ইয়িলমাজ। ১০. ক্রিসেনসিও সামারভিল। ১১. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

  • মাইকেল অলিসে-সেরা পছন্দ। ৭ অ্যাসিস্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা এবং ফিফার ক্রিয়েটিভিটি পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং এ শীর্ষে আছেন। ডান প্রান্ত থেকে তাঁর ক্রস, পাস ও সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা তাকে অসাধারণের আসন দিয়েছে।
  • লামিনে ইয়ামাল- ড্রিবলিং ও ওয়ান-অন-ওয়ানে দুর্দান্ত। ফিফার পরিসংখ্যানে ৩৫টি সফল টেক অন নিয়ে সবার ওপরে আছৈন এই ১৯ বছর বয়সী তরুন।
  • বুকায়ো সাকা- গতি, কাট-ইন, গোলের সুযোগ তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রভাবের কারণে ইংল্যান্ডের সাকা অন্যতম সেরা তিনি ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন।  
  • লিওনেল মেসি-পুরোপুরি রাইট উইঙ্গার হিসেবে না খেললেও ডান দিক থেকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও আক্রমণ পরিচালনা ছিল অসাধারণ। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট তাঁকে তালিকার অন্যতম সেরার তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।
  • রাফিনিয়া: রাইট উইং এ গতি ও ড্রিবলিংয়ে দক্ষ ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেওয়ার ক্ষমতা ক্রস ও সুযোগ তৈরিতে কার্যকর অসাধারন।
  • জেরেমি ডোকু- এক বনাম একে পজিশনে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার ক্ষমতা তার অনেক বেশী এবং গতি দিয়ে অন্যতম সেরা উইঙ্গারে একজন এই বেলজিয়ামের ফুটবলার। বিশ্বকাপের ২১টি সফল টেক-অন ছিল তাঁর।
  • ব্রাহিম দিয়াজ- ডান দিক থেকে আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি গোল ও অ্যাসিস্টে কার্যকর ছিলেন; বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে ৪টি অ্যাসিস্টও করেছেন।
  • রবার্তো আলভারাদো- ডান প্রান্ত থেকে সৃষ্টিশীলতা ও সুযোগ তৈরিতে ভালো পারফরম্যান্স মেক্সিকানের এবার বিশ্বকাপে তিনি ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন।
  • অ্যান্থনি গর্ডন- আক্রমণে গতি নিয়ে খেরতে পারেন, বিশ্বকাপে ৩টি অ্যাসিস্ট করে ইংল্যান্ডের আক্রমণে অবদান রেখেছেন।
  • ক্রিসেনসিও সামারভিল- যদিও নেদারল্যান্ড বিশ্বকাপে বেশীদুর যেতে পারেননি তারপরও ডান দিক থেকে আক্রমণে গতি ও সৃষ্টিশীলতার জন্য তালিকায় জায়গা পাওয়ার দাবি রাখেন তিনি।
  • বারিশ আলপার ইয়িলমাজ- তিনি ডান উইংয়ে খেলতে পারেন এবং গতি, শক্তি, ড্রিবলিং ও সরাসরি আক্রমণের জন্য তিনি অবদান রাকতে পারেন।

বিশেষভাবে অলিসেকে এগিয়ে রাখার কারণ: গোলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁর সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা। ৭ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি শুধু পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিলেন না, ফিফার সৃষ্টিশীলতার র‍্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে ছিলেন। তাই বিশ্বকাপের সেরা রাইট উইঙ্গার হিসেবে তাঁর দাবিই সবচেয়ে শক্তিশালী।

সম্মান রক্ষার ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ভাবনায় ব্যাটিং, কিউইদের লক্ষ্য ৪-১ ব্যবধান

0

সিরিজের ৫ম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বার্বাডোজে আজ রাত সাড়ে ১২টায় মুখোমুখি হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচ জিতে শুভসূচনা করলেও টানা তিন হারে ওডিআই সিরিজ ইতিমধ্যেই হাতছাড়া হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিকদের সামনে এখন সিরিজের শেষ ম্যাচটি মূলত মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার লড়াই। তবে মাঠের নামার আগে ক্যারিবীয় শিবিরের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের নড়বড়ে ব্যাটিং লাইনআপ।

সিরিজের তিনটি পরাজয়ের কোনোটিতেই পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের স্বপ্ন ফিকে হতে বসেছে এবং আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা দলটি আবারো বাছাইপর্ব খেলার আশঙ্কায় রয়েছে। এমতাবস্থায় সেপ্টেম্বরের কাট-অফ ডেটের আগে বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দলের সাথে র‍্যাঙ্কিং ব্যবধান কমাতে ব্যাটিং বিভাগের আমূল পরিবর্তন ও বড় সংগ্রহ জরুরি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানো নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য এখন শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেওয়া। যা আগামী বিশ্বকাপের আগে কিউইদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।

কেমার রোচকে বিশেষ সম্মাননা

সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে এক বিশেষ ক্ষণের সাক্ষী থাকবে কেনসিংটন ওভাল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা অভিজ্ঞ পেসার কেমার রোচকে ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সম্মাননা জানাবে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

নজরে যাঁরা থাকবেন: হোপ ও চ্যাপম্যান

ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপের ফর্ম দলের জয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৮৭ রানের চোখধাঁধানো ইনিংস খেলে দলকে জেতালেও পরবর্তী তিন ম্যাচে তিনি এক অঙ্কের ঘরেই আউট হয়েছেন। ওয়ানডেতে ৫০-এর বেশি গড় থাকা এই ব্যাটারের ব্যাটে রান ফেরাটা স্বাগতিকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, কিউই মিডল অর্ডারে দারুণ ধারাবাহিক মার্ক চ্যাপম্যান। গত ম্যাচে ৮০ রানের কার্যকারী ইনিংস খেলা চ্যাপম্যান শেষ ১২ ওয়ানডে ইনিংসে একটি শতক ও ছয়টি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। তাঁর চোখ থাকবে একাদশে নিজের স্থান স্থায়ী করার দিকে।

দলীয় পরিবর্তন ও একাদশের ভাবনা

ধারাবাহিক ব্যর্থতায় থাকা শেরফেন রাদারফোর্ডের পরিবর্তে দীর্ঘদিন পর একাদশে দেখা যেতে পারে শিমরন হেটমায়ারকে। ২০২৫ সালের জুনের পর এই ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডে দলে ফেরা হতে পারে এই মারকুটে ব্যাটারের।

সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ড একাদশেও দেখা যেতে পারে রোটেশন। হিপের চোটে পড়ে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন ড্যারিল মিচেল। ফলে একাদশে সুযোগ মিলতে পারে বেন লিস্টার কিংবা ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের।

বার্বাডোজের পিচ ও স্পিন ট্র্যাকিং

ঐতিহ্যগতভাবে কেনসিংটন ওভাল পেস সহায়ক হলেও চলতি সিরিজে দেখা গেছে স্পিনারদের রাজত্ব। পুরো সিরিজে স্পিনাররা তুলে নিয়েছেন রেকর্ড ৪২টি উইকেট, যা ক্যারিবীয় মাটিতে কোনো ওয়ানডে সিরিজে স্পিন বোলারদের সর্বোচ্চ সাফল্য। শেষ ম্যাচেও গুদাকেশ মোতির ৫ উইকেট সেই ইঙ্গিতই দেয়। ম্যাচের দিন বার্বাডোজের আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যক্তিগত মাইলফলকের সামনে

  • উইল ইয়ং: ওডিআই ক্রিকেটে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা থেকে মাত্র ৬ রান দূরে আছেন এই কিউই ওপেনার।
  • গুদাকেশ মোতি: কেনসিংটন ওভালে ওয়ানডেতে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহক স্পিনার হতে মোতির প্রয়োজন আর মাত্র ১টি উইকেট।

হতাশার সিরিজ শেষ মুহূর্তে কিছুটা রঙিন করতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অন্যদিকে আধিপত্য বজায় রেখে ব্যবধান ৪-১ করাই লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের।