জিম্বাবুয়ে ব্যর্থ সফরে শেষে দেশে ফিরেছে টাইগাররা। দেশে ফিরেই দুই ক্রিকেটার শাস্তির মুখোমুখি। দেশে ফিরে বুধবার সন্ধ্যায় বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির কাছে মেহেদি তার বিরুদ্ধে ওঠা আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগের জবাব দেন। আর চিকিৎসার উদ্দেশে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন লিটন।
চোটের কারণে জিম্বাবুয়ে সফরের মাঝপথে দেশে ফিরে আসেন লিটন। কিন্তু এরপর বিসিবিকে না জানিয়ে চীনে ঘুরতে যান তিনি। ক্রিকেটারদের কোড অব কন্টাক্ট অনুযায়ী, সিরিজ বা খেলা না থাকলে, বিসিবির অনুমতি নিয়ে দেশের বাইরে যেতে হয়। তিনি সেই নিয়ম মানেননি।
অন্যদিকে, সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একাদশে জায়গা না পাওয়া নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেন শেখ মেহেদি হাসান। হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি। দলে জায়গা না পেয়ে আগেও নানা সময়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি। মেহেদির পাশাপাশি লিটনকেও শৃঙ্খলা কমিটি আর্থিক জরিমানা করার প্রস্তাব করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
তিনি বলেন,‘ এটা (শাস্তি) এখন ডিসক্লোজ না করলে ভালো হবে। যেহেতু এটা একেবারেই অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে, লিটনের কিছু আর্থিক জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শেখ মেহেদিকেও আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিটনের চেয়ে শেখ মেহেদির জরিমানার পরিমাণ বেশি।
দুজন ক্রিকেটারই এবারের প্রথমবার আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তি পেতে যাচ্ছেন। এর আগে আচরণবিধির ভঙ্গের অভিযোগে দুই ক্রিকেটারকেই শৃঙ্খলা কমিটিতে ডাকা হয়েছিল।
লিওনেল মেসি নেই, নেই রদ্রিগো দি পলও। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর অভিযানের পর দুজনই বিশ্রামে। তবে তাদের অনুপস্থিতিতেও ইন্টার মায়ামির বিজয়যাত্রা থামেনি। লুইস সুয়ারেজের জোড়া গোল আর তরুণ প্রেস্টন প্লামবেকের শেষ মুহূর্তের গোলের সৌজন্যে শিকাগো ফায়ারকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শিকাগো ফায়ারের জার্সিতে বহু প্রতীক্ষিত অভিষেক হয় পোল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রবার্ট লেফানদোভস্কির। কিন্তু তার প্রথম ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থাকল না। কারণ শেষ হাসি হেসেছে ইন্টার মায়ামিই।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল স্বাগতিকদের। ১৮ মিনিটে বিরল এক আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় শিকাগো। ইন্টার মায়ামির ডিফেন্ডার ইয়ান ফ্রের ধীরগতির ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে গোলরক্ষক রকো রিওস নোভোর পায়ের ফাঁক গলে বল জড়িয়ে যায় জালে। অপ্রত্যাশিত সেই ভুলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় শিকাগো।
সমতা ফেরান সুয়ারেজ
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি মায়ামি। ২৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান লুইস সুয়ারেজ। বিশ্বকাপ বিরতির আগে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই উরুগুইয়ান আবারও দলের আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালায়। ৬৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা পুসো দিথেজানে এমএলএস ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করে ম্যাচে আবার সমতা আনেন।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ৮৭ মিনিটে সুয়ারেজের নেওয়া শট শিকাগোর গোলরক্ষক ক্রিস ব্র্যাডি ঠেকালেও ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে জালে পাঠান প্রেস্টন প্লামবেক। এমএলএসে এটিই ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচজয়ী গোল।
রবার্ট লেফানদোভস্কি
এই জয়ে ইন্টার মায়ামির পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৬ ম্যাচে ৩৪। বিশ্বকাপ বিরতির আগে শুরু হওয়া তাদের জয়রথ এখন টানা পাঁচ ম্যাচে পৌঁছেছে।
উচ্ছ্বসিত কোচ গিয়ের্মো হয়োস
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কোচ গিয়ের্মো হয়োস। তিনি বলেন, ‘আমি পুরো দলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। এই সময়টায় সবাই অসাধারণ পরিশ্রম করেছে। শুধু খেলোয়াড় নয়, ক্লাবের পর্দার আড়ালে যারা কাজ করেন, তাদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো আবেগ, অর্জন আর সম্মিলিত প্রচেষ্টা।’
মেসি ও ডি পলের অনুপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন হয়োস। তার মতে, বিশ্বকাপের টানা প্রায় ৫০ দিনের মানসিক ও শারীরিক চাপের পর বিশ্রাম তাদের জন্য অপরিহার্য।
অন্যদিকে, শিকাগো ফায়ারের হয়ে অভিষেক হলো ৩৭ বছর বয়সী রবার্ট লেফানদোভস্কির। গত ২৯ জুন ক্লাবটিতে যোগ দেওয়া সাতবারের বুন্দেসলিগা গোল্ডেন বুটজয়ী এই স্ট্রাইকারের অভিষেক অবশ্য পিছিয়ে গিয়েছিল শিকাগো অঞ্চলের খারাপ বায়ুমানের কারণে একটি ম্যাচ স্থগিত হওয়ায়।
ক্যারিয়ারে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০২০-২১ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় রেকর্ড ৪১ গোল করা লেফানদোভস্কি প্রথম ম্যাচে দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। বরং শিকাগোর টানা তিন ম্যাচের জয়ের ধারাও থেমে গেল মায়ামির কাছে হেরে।
ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর আনন্দের মাঝেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকার (এমএলএস) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, কাসেমিরোকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘টেম্পারিং’, অর্থাৎ প্রয়োজনীয় অধিকার অর্জনের আগেই খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগ।
ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের ক্লাব এলএ গ্যালাক্সি এমএলএসের কাছে অভিযোগ করেছে যে, কাসেমিরোর সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডিসকভারি প্রায়োরিটি নেয়নি ইন্টার মায়ামি।
যদিও পরবর্তীতে দুই ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং কাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর অধিকার ইন্টার মায়ামি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্জন করেছে, তবুও তদন্ত বন্ধ করছে না এমএলএস। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুই ক্লাবের সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
এমএলএসের নিয়ম
এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাব সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড়কে তাদের ডিসকভারি লিস্টে রাখতে পারে। তালিকাভুক্ত কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনার একচেটিয়া অধিকার থাকে সেই ক্লাবের। অন্য কোনো ক্লাব ওই খেলোয়াড়কে দলে নিতে চাইলে প্রথমে ডিসকভারি অধিকার কিনতে হয়।
লিগের বিধি অনুসারে, কোনো ক্লাব চাইলে ৫০ হাজার ডলার জেনারেল অ্যালোকেশন মানি (জিএএম) দিয়ে ওই অধিকার কিনতে পারে। এরপর ডিসকভারি অধিকারধারী ক্লাবের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে-অর্থ গ্রহণ করে অধিকার ছেড়ে দেওয়া অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়কে বাস্তবসম্মত চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া।
বিশ্বকাপ খেলা ব্রাজিলের কাসেমিরো
শেষ পর্যন্ত এলএ গ্যালাক্সির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর কাসেমিরোকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয় ইন্টার মায়ামি। ব্রাজিলিয়ান এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ২০২৭ এমএলএস মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তিতে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কাসেমিরো
বিতর্কের মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কাসেমিরো। তিনি জানিয়েছেন, শুরু থেকেই তার গন্তব্য ছিল একটিই-ইন্টার মায়ামি।
কাসেমিরো বলেন, ‘আমি অনেক আগেই এলএ গ্যালাক্সির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তখনই পরিষ্কার করে দিয়েছিলাম যে আমি মায়ামিতেই যেতে চাই। এই শহরটি আমি এবং আমার পরিবার খুব ভালোবাসি। ছুটি পেলেই আমরা এখানে সময় কাটাতে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছিলাম, এমএলএসে যদি কোনো দলে খেলি, সেটি হবে ইন্টার মায়ামি। ক্লাবটির প্রকল্প আমাকে আকৃষ্ট করেছে। আর অবশ্যই, সর্বকালের সেরা ফুটবলারের লিওনেল মেস) সঙ্গে খেলার সুযোগ আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ইন্টার মায়ামিই ছিল আমার একমাত্র পছন্দ।’
কাসেমিরোর এই বক্তব্যে নিজের ইচ্ছার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও, ইন্টার মায়ামি এমএলএসের সব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে চলমান তদন্ত শেষ হওয়ার পরই। ততদিন পর্যন্ত কাসেমিরোকে ঘিরে এই বহুল আলোচিত দলবদলের গল্পে বিতর্কের অধ্যায়ও খোলা থাকছে।
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ কখনো ছাদখোলা বাসে লাখো মানুষের উল্লাসে ধরা দেয়, কখনো রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনায়। আবার কোথাও সেই আনন্দের রং মিশে যায় মাটির গন্ধে, কৃষকের ঘামে আর ফসলের প্রাচুর্যে। স্পেনের ছোট্ট শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কায় এবার বিশ্বজয়ী দুই ফুটবলার ফাবিয়ান রুইস ও গাভিকে বরণ করে নিল ঠিক তেমনই এক অনন্য আয়োজনে-তাদের ওজনের সমান টমেটো উপহার দিয়ে।
মঙ্গলবার নিজ শহরে ফেরেন স্পেনের এই দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। টাউন হলে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল উৎসবের আবহ। করতালি, পতাকা আর উচ্ছ্বসিত মানুষের ভালোবাসার মাঝেই পুরোনো ঐতিহ্য অনুসরণ করে প্রথমে তাদের ওজন মাপা হয়। এরপর সেই ওজনের সমপরিমাণ টমেটো তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে।
প্যারিস সেন্ট–জার্মেইয়ের মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইসের ওজন দাঁড়ায় ৮৪ কেজি। ফলে তিনি পান ৮৪ কেজি টমেটো। অন্যদিকে বার্সেলোনার তরুণ তারকা গাভির ওজন ৬৮ কেজি, তাই তার প্রাপ্য হয় ৬৮ কেজি টমেটো।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার এই জনপদ টমেটো চাষের জন্য যেমন বিখ্যাত, তেমনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে দেশটির সেরা ফুটবল প্রতিভাদেরও এক উর্বর ভূমি। এখান থেকেই উঠে এসেছেন স্পেনের কিংবদন্তি হেসুস নাভাস, ফাবিয়ান রুইস এবং গাভি।
এই ব্যতিক্রমী সম্মান জানানোর সূচনা হয়েছিল ২০১০ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকায় স্পেন প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতার পর হেসুস নাভাসকে তার ওজনের সমান টমেটো উপহার দিয়েছিল শহরবাসী। এরপর ২০১২ ও ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পরও সেই ঐতিহ্য বজায় ছিল। এবার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর একই সম্মান পেলেন ফাবিয়ান রুইস ও গাভি।
ফাবিয়ান রুইসের জন্য এটি জাতীয় দলের হয়ে আরেকটি বড় সাফল্য। তিনি ২০২৪ সালের ইউরো জয়ী দলেও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে গাভির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি প্রথম বড় কোনো শিরোপা, যা তার ফুটবল জীবনের স্মরণীয় এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের সদস্য ফাবিয়ান রুইস ও গাভি
উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর সোমবার সতীর্থদের সঙ্গে মাদ্রিদের রাজপথে ছাদখোলা বাসে উদ্যাপনে অংশ নেন ফাবিয়ান ও গাভি। রাজধানীর উচ্ছ্বাস শেষে তারা ছুটে যান নিজের শিকড়ে-সেই শহরে, যেখানে ফুটবল আর কৃষি একই সুতোয় গাঁথা।
স্বর্ণপদক, ট্রফি কিংবা বিলাসবহুল সংবর্ধনার বাইরে লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কার এই উপহার যেন মনে করিয়ে দেয়, একজন ক্রীড়াবিদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কখনো কখনো নিজের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই। আর সেই ভালোবাসার রং যদি হয় টমেটোর মতো টকটকে লাল, তবে বিশ্বজয়ের আনন্দও যেন আরও একটু বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ফুটবলে আর্জেন্টিনার চিরশত্রু আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি দেশ হল ব্রাজিল কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই তা যেন পরিবর্তন হয়ে ইংল্যান্ড হয়ে যায়! কিন্তু এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনা যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে হাতাহাতি, হলুদ কার্ড আর লাল কার্ড এবং ম্যাচের পর বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উত্তেজনার পারদ এতটাই উঠেছিল যা মারামারি পর্যন্ত হয়েছে আর তাতেই বলা হচ্ছে ফাইনাল শেষে ‘আর্জেন্টিনার ৫ম ফুটবল শত্রু দেশের তালিকায় স্পেন’ যুক্ত হয়েছে।
রেফারিও ফেল তাদের হাতাহাতি থামাতে
আর্জেন্টিনার সাথে ফুটবল শত্রু দেশ কথাটা শুরু হয়েছে ব্রাজিলকে নিয়ে, দু-দেশের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ হলেই যেন উপমহাদেশের ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াইয়ের মত উত্তাপ ছড়ায়। আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশী ফুটবল ম্যাচ খেলেছে উরুগুয়ের সাথে প্রায় ২০০টি, কিন্তু তা সত্বেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবল মানেই দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা আর হাঙ্গামা কাজ করে। উরুগুয়ের সাথে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ পাওয়া যায় তবে উরুগুয়ের আগের সেই পারফরম্যান্স না থাকায় তার জায়গা যুক্ত হয়েছে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপে আবার ব্রাজিল উত্তেজনা ছাড়িয়ে যুক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনার সাথে ইংল্যান্ড উত্তেজনা, প্রথমতঃ ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে তার পর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরী’ থেকেই শুরু দু-দেশের মধ্যে ফুটবল শত্রুতা। অন্যদিকে বিশ্বকাপে জার্মানির সাথেও বড় ম্যাচ বা নক আউট ম্যাচ থেকে শত্রুতার কথা শোনা যায়। ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরেই আর্জেন্টিনার ৩য় শিরোপা হাত ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু সবগুলোকে পাশকাটিয়ে এবার আর্জেন্টিনার ফুটবল শত্রুতার তালিকায় নিশ্চয়ই যুক্ত হল স্পেন তা কিন্তু বলাই যায়! তার কারণ ও অনেক আছে ২০২৬ এর ফাইনাল ম্যাচে যা হয়েছে তা থেকেই আর্জেন্টাইনরা স্পেনকে নির্দিধায় ফুটবলের ৫ম শত্রু দেশ ভাবতে পারে।
যেভাবে স্পেন আর্জেন্টিনার ৫ম শত্রু দেশে পরিনত হল:
বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৬ এ স্পেন তাদের পাসিং ও কাউন্টার প্রেসিং ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ২য় বারের মত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। খালি চোখে হয়তো এতটুকুই, কিন্তু না, খেলার মধ্যে ও পরে অনেক বিতর্কিত ঘঠনা ঘঠেছে যার কারণে দু-দেশের মধ্যে তৈরী হয়েছে বৈরিতা। ম্যাচে স্পেনের কাছে না পেরে উঠে ফাউল করে বসে আর্জেন্টিনা যার কারণে ৫টি হলুদ কার্ড ও ১টি লাল কার্ড ম্যাচের উত্তেজনায় ঘি ঢেলে দেয় যার কারণে ম্যাচ শেষেও কোচিং স্টাফরাও (সহকারী কোচ) রবার্তো আয়ালা ঘুষি মেরে বসেন দানি ওলমোকে আবার অধিনায়ক রদ্রিকে ঘুষি মারেন মলিনা এখানেই শেষ নয়, এরিক গার্সিয়াকে গলা চেপে ধরার পর ধাক্কা মেরে ফেলে দেন গাভিকে এতসব উত্তেজনায় দু-দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরী হয়। একটা ভিডিওতে দেখা যায় স্পেনের কুকুরেয়া মেসির কথা বলার সময় নিজের মুখে হাত দেন আর তাতেই মেসি রেফারীকে নালিশ করছেন, এভাবেই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ যেন রূপ নিয়েছিল ফুটবল যুদ্ধে।
লাল কার্ড:
খেলা শেষে ফিফার অফিসিয়াল ম্যাচ ট্র্যাকারে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ‘পারদেসের’ নামের পাশে লাল কার্ড দেখোনো হয়েছিল যদিও প্রায় ৩০ মিনিট পর সেটা মুছে ফেলা হয়েছে, তবে পারেদেসের লাল কার্ড ম্যাচে খেলার সময় দেখানো হয়নি ধারনা করা হচ্ছে খেলা শেষে যখন হাতাহতি হচ্ছিল তখন তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল এবং পরে তা মুছে ফেলা হয় । তবে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এখনও আছে কারণ এনজো ২বার হলুদ কার্ড দেখে তারপর লাল কার্ড পেয়েছিলেন অবশ্য ম্যাচের মধ্যেই তাকে লাল দেখানো হয়েছিল সেটা আর মুছে ফেলার কোন কারণ আছে বলে মনে হয়না।
পারেদেস চড়াও হয়েছেন স্পেনের গাভির ওপর
মেসির ভিডিও নিয়ে সংশয়:
অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেওয়া অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সব ভুলে যাও’ মন্তব্যটি নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ভিডিওর মূল কথা: ভিডিওতে দেখা যায়, ফাইনালের আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত হও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্ত থাকা। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও, ঠিক আছে? সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। চলো! মেসির বক্তব্যের পর দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও কৌশলগত আলোচনা হয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোকে স্পেনের আক্রমণভাগ, বিশেষ করে লামিন ইয়ামালের বিপক্ষে কীভাবে অবস্থান নিতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্তিনেস গোলরক্ষককে বলেন, ‘দিবু, ওরা যখন ভেতরে কাট করে তখন সাবধান থাকতে হবে। ওরা সব সময় পা খুলে শট নিতে চায়, তাই না? সেটা নিতে দেওয়া যাবেনা।
ওটামেন্ডি ও লাপোর্তে
লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘চলো নিকো, তুমি ওকে পুরো ম্যাচ জুড়ে আটকে রাখবে। দিবু, শক্ত থাকো। প্রতিটি বল নিজের করে নাও, ঠিক আছে?’ এ সময় সামনে হাঁটতে থাকা মেসি ঘুরে ডিফেন্ডারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ওরা যখন আক্রমণে আসবে, তখন পারেদেস আর ফার্নান্দেজ কে বলো যেন বেশি সামনে না উঠে।’
ভিডিওর শেষ দিকে রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে মার্তিনেজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আজ আমার দিন, আজ ইতিহাস তৈরি হবে।’ এরপর দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ করেন এবং ম্যাচ শুরুর আগে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু ম্যাচ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খেলার মধ্যে এবং শেষ বাঁশির পরও দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।
কোচ স্কালোনি:
সাংবাদিকরা ভিডিও নিয়ে কোচকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন- ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। আমি কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর খেলোয়াড়দের হাতে “মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা পতাকা নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, স্কালোনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আগে থেকে আমার কোনো ধারণা ছিল না। কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। আমি আপনাদের মতোই পরে পতাকাটি দেখেছি।’
মেসির বার্তা:
ভাইরাল ভিডিও পূর্ণাঙ্গ প্রকাশের পর অনেকের মতে, মেসির ‘সব ভুলে যাও’ বক্তব্যটি কোনো গোপন বার্তা নয়; বরং ফাইনালের চাপ, বাইরের আলোচনা ও মানসিক চাপ থেকে সতীর্থদের দূরে রাখতে শুধুমাত্র খেলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন, আর ফিফার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে ট্রফির পাশাপাশি বিশ্বসেরার ‘গোল্ডেন বল’ উঠেছে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির হাতে। কিন্তু টুর্নামেন্ট পর্দা নামার পরও সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জোর আলোচনা। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংস্থা (IFFHS) তাদের নিজস্ব পর্যালোচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হিসেবে বেছে নিয়েছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে।
কেন ফিফার সিদ্ধান্তের বিপরীতে আইএফএফএইচএস?
IFFHS স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা কোনো আবেগীয় কারণে নয়, বরং সম্পূর্ণ গাণিতিক হিসাব ও পারফরম্যান্স ইনডেক্স বিশ্লেষণ করে মেসিকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বিবেচনা করা হয়েছে:
ম্যাচভিত্তিক পারফরম্যান্স রেটিং
গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা
নকআউট পর্বে দলের ওপর খেলোয়াড়ের একক প্রভাব
পরিসংখ্যানের পাতায় ৩৯ বছরের মেসির দাপট
টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। পুরো বিশ্বকাপে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে তিনি করেন ৮টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ৪টি গোল। গড়ে ৮.৩৩ ম্যাচ রেটিং নিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেরাদের কাতারে ছিলেন এই মহাতারকা।
আইএফএফএইচএস-এর বিচারে নকআউট পর্বের গুরুত্ব
সংস্থাটির কারিগরি প্যানেলের মতে, গ্রুপ পর্বের চেয়ে নকআউট পর্বের চরম চাপের মুখে দলের হাল ধরাই একজন খেলোয়াড়ের প্রকৃত সামর্থ্য প্রকাশ করে। আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে প্রতিটি বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মেসির কার্যকারিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। চাপ সামলে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই প্রভাবকেই সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট দিয়েছে আইএফএফএইচএস।
সেরার মুকুট আসলে কার?
বিশ্বকাপ শেষে এখন স্বাভাবিকভাবেই দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে:
ফিফার অফিসিয়াল স্বীকৃতি: রদ্রি (স্পেন)
ডেটা ও পরিসংখ্যানভিত্তিক মূল্যায়ন: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
শিরোপা কিংবা অফিসিয়াল গোল্ডেন বল না পেলেও, ডেটা ও পরিসংখ্যানের বিচারে ২০২৬ ফুটবল মহাযজ্ঞে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলা খেলোয়াড় হিসেবে মেসির নামই শীর্ষে রাখছে আইএফএফএইচএস। আর এর ফলেই বিশ্বমঞ্চের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে আলোচনা গড়িয়েছে বহুদূর।
বিসিবির আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ক্রিকেটার শেখ মেহেদিকে তলব করেছে বিসিবি। জাতীয় দলের একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে বিতর্কিক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডারের বিরুদ্ধে। আচরণিবিধি ভঙ্গের অভিযোগ মাথায় নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বিসিবি শৃঙ্খলা কমিটির মুখোমুখি হবেন শেখ মেহেদি হাসান।
সবশেষ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-২০ সিরিজে চট্টগ্রামে একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। পাশাপাশি প্রকাশ করেন নিজের হতাশা। শৃঙ্খলা কমিটিতে জবাব দিতে ডাকার বিষয়টি খেলা লাইভকে নিশ্চিত করেছেন বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
তিনি বলেন,‘মেহেদীর মন্তব্য নিয়ে বিসিবির পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আজকে (বুধবার) সন্ধ্যা ছয়টায় মেহেদির বক্তব্য জানব। এরপর সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শৃঙ্খলা কমিটি বোর্ডের কাছে সুপারিশ জানাবে।’
দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে আগেও নানা সময়ে বিতর্কিত বা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শেখ মেহেদি, সেটিও বিসিবি এবার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসের বিরুদ্ধিও।
জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে বিসিবিকে না জানিয়ে চীনে ঘুরতে গিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। তার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত জানাবে বিসিবি। এছাড়া তিনি বলেন,‘ লিটনের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। আজকের (বুধবার) মধ্যে তার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।’
নিজেদের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়ে। সর্বশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা দল থেকে তিন পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকরা। এই সিরিজে জিম্বাবুয়ের অধিনায়কত্ব করবেন সিকান্দার রাজা।
চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার ওয়েসলি মাধেভারে ও ফাস্ট বোলার নিউম্যান নিয়ামহুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পাওয়া চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন নিয়ামহুরি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেয়েছেন মাধেভারে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের হয়ে ১০ টেস্ট খেললেও এবারই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার তাফাদজওয়া সিগা।
সবশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারা জিম্বাবুয়ের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন টিনোটেন্ডা মাপোসা, ক্লাইভ মাদান্দে ও তাশিঙ্গা মুসাকেয়া। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ভারত৷ এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা৷ এবার ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হচ্ছে জিম্বাবুয়ে।
আগামী ২৩ জুলাই হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শুরু হচ্ছে এই সিরিজ। একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি মাঠে গড়াবে যথাক্রমে ২৫ ও ২৬ জুলাই।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর উদযাপনের একটি মুহূর্তই এখন ডেকে এনেছে নতুন বিপদ! স্প্যানিশ ভাষায় মালভিনাস লেখা সেই ব্যানার প্রদর্শন ঘিরে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলারদের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ার হুমকির মুখে। কেননা প্রিমিয়ার লিগ তারকাদের ভিসা বাতিলের জোর দাবী উঠেছে। আর যদি সত্যিই এমনটা হয়, তাহলে ২০২৬-২৭ মৌসুমে নিজেদের ক্লাবে ফিরতে পারবেন না, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো কিংবা এনজো ফার্নান্দেজ?
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দে তখন মাতোয়ারা আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের পর মাঠে দেখা যায় একটি রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার। যেখানে লিখা ছিলো ‘Las Malvinas son Argentinas’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’। এই ব্যানার ঘিরেই এখন উত্তপ্ত যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন।
বিষয়টি এখন শুধু ফুটবল মাঠেই আর সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়তে পারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টাইন তারকাদের ওপরও! বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেস, টটেনহ্যামের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের নাম। তবে বিতর্কের আওতায় আরও কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের নামও এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দাবী উঠেছে, যেসব আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় যুক্তরাজ্যে খেলেন এবং এই রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা উচিত। তবে এখানে বড় প্রশ্ন, রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের কারণে কি সত্যিই একজন প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলারের ভিসা বাতিল করা সম্ভব?
ইতিহাস বলছে, এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধে ব্রিটেন জয়ী হলেও, দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবি আজও বহাল। ফলে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এমন রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ব্রিটিশদের একাংশ এখন ক্ষোভে ফুঁসছে।
এদিকে এই ঘটনায় নড়চড়ে বসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও। স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্টে রাজনৈতিক, আপত্তিকর কিংবা বৈষম্যমূলক ব্যানার নিষিদ্ধ। ফলে আর্জেন্টিনার এই কর্মকাণ্ড নিয়ম ভঙ্গ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ফিফা কর্তারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায়। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলারের ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করা আইনগতভাবে সহজ নয়। অর্থাৎ রাজনৈতিক চাপ যতই বাড়ুক, শুধু এই ঘটনার কারণে লিসান্দ্রো মার্তিনেস, রোমেরো বা এনজো ফার্নান্দেজের ভিসা বাতিল হয়ে যাবে এমনটাও নিশ্চিত নয়।
একদিকে ফিফার নিয়ম, অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ। এর মাঝখানে পড়ে গেছে ফুটবল! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার উদযাপন এখন পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিতর্কে। ফিফা কী সিদ্ধান্ত নেয়, আর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষই বা কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেই সবার এখন নজর। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, বিশ্বকাপের মাঠে আর্জেন্টিনার জয় হয়তো ইতিহাসে লেখা থাকবে, কিন্তু সেই জয়ের পর ফকল্যান্ডস ব্যানার বিতর্কও হয়ে থাকবে এই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।