Home Blog Page 97

বেকহ্যামের নামে ভাইরাল ‘ইংল্যান্ড হারবে, মেসিকে থামানো যাবে না’-দাবিটি ভুয়া

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের নামে একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বেকহ্যাম নাকি বলেছেন, ইংল্যান্ডের চেয়ে আর্জেন্টিনা এগিয়ে, আর লিওনেল মেসিকে থামানোর মতো কোনো ফুটবলার বর্তমান ইংল্যান্ড দলে নেই। এমনকি তিনি নিজের দেশের জয়ের সম্ভাবনাও নাকি উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই। ভাইরাল হওয়া পুরো বক্তব্যই মনগড়া এবং বিভ্রান্তিকর।

আসল ঘটনা কী?

চলতি বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যাম নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিওনেল মেসিকে নিয়ে দু’টি পোস্ট করেন।

প্রথম স্টোরিতে মেসির একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “তিনি অত্যন্ত অসাধারণ একজন মানুষ। কেবল মাঠে তিনি যা করেন তার জন্যই নয়, বরং মাঠের বাইরে তিনি মানুষ হিসেবে কেমন, সেটির জন্যও।”” অর্থাৎ, “সে অত্যন্ত বিশেষ একজন মানুষ। শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের জন্য নয়, মাঠের বাইরেও সে অসাধারণ একজন মানুষ।”

আরেকটি স্টোরিতে তিনি লেখেন, “Nothing more to say.” অর্থাৎ, “নতুন করে বলার কিছু নেই।”

মূলত নিজের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সবচেয়ে বড় তারকার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই বেকহ্যাম এই পোস্টগুলো করেছিলেন। সেখানে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ, ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা কিংবা মেসিকে আটকানোর সক্ষমতা নিয়ে কোনো মন্তব্য ছিল না।

কীভাবে ছড়াল বিভ্রান্তি?

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ওঠার পর বেকহ্যামের সেই পুরোনো ইনস্টাগ্রাম স্টোরি এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাঁর লাল কার্ডের ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি একটি কাল্পনিক বক্তব্য তৈরি করে প্রচার শুরু করে।

পরবর্তীতে সেই মনগড়া বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেন। কিন্তু কোথাও বেকহ্যামের এমন মন্তব্যের নির্ভরযোগ্য কোনো ভিডিও, সাক্ষাৎকার বা অফিসিয়াল বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সেমিফাইনালের উত্তেজনা

থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড এবং লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা, দুই দলই কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ, ফলে লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

তবে ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সমর্থকদের বিভ্রান্ত করছে।

ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো জানাচ্ছে, ডেভিড বেকহ্যাম কখনোই বলেননি যে, ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার কাছে হারবে বা বর্তমান ইংল্যান্ড দলে মেসিকে থামানোর মতো কেউ নেই। ভাইরাল হওয়া এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুয়া, যার সঙ্গে বেকহ্যামের প্রকৃত বক্তব্যের কোনো মিল নেই।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের ১০ ইউনিক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই যেন ‘ফুটবলের ফকল্যান্ড যুদ্ধ’ ম্যারোডোনা-শিল্টন কথার লড়াই, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় আর ইংল্যান্ডের প্রতিশোধের ম্যাচ। এই দু-দল যখনই ফুটবল মোকাবেলায় অবতীর্ন হয় তখনই চলে আসে পুরনো হিসেব-নিকেশ। তাহলে চলুন দেখি কোন হিসেবের খেরখাতায় জমানো কৌশল নিয়ে স্কালোনি-টুখেল ফাঁদ পাততে যাচ্ছেন আজকের ফুটবল মহারণে, সেরকম ১০টি ইউনিক বিষয় খুঁজে বের করার চেষ্টা। দেখুন এক নজরে।

১. ৪০ বছরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় শুরুঃ

১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে ১৯৯৮ সালের বেকহ্যামের লাল কার্ড-আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই সবসময়ই ইতিহাসের ভার বহন করে। এবার সেই ইতিহাসে যোগ হতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায় সেমিফাইনাল দিয়ে।

২. অভিজ্ঞতার বিপক্ষে তারুণ্যের পরীক্ষাঃ

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের ১০ ইউনিক
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল

আর্জেন্টিনার ভরসা মেসির অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের শক্তি বেলিংহাম, সাকা ও গর্ডনদের গতি, শক্তি ও নির্ভীক ফুটবল। অভিজ্ঞতা নাকি তারুণ্য-উত্তর মিলবে এই ম্যাচে।

৩. মিডফিল্ড হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারকঃ

এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও ডি পলের বিপক্ষে ডেকলান রাইস, বেলিংহাম ও অ্যান্ডারসনদের লড়াই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ঠিক করে দিতে পারে।

৪. মেসিকে থামানোর পরিকল্পনাঃ

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মেসিকে বল পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া। রাইসের সঙ্গে ডাবল মার্কিং কিংবা মিড-ব্লক প্রেসিং হতে পারে টুখেলের বড় অস্ত্র।

৫. দুই দলের জয়ের পথ ভিন্নঃ

আর্জেন্টিনার ছোট ছোট পাস, ধৈর্য ও পজিশনাল ফুটবলে প্রতিপক্ষ ভেঙ্গে পড়তে পারে। ইংল্যান্ড দ্রুত ট্রানজিশন, উইং আক্রমণ এবং সেট-পিসে বেশি কার্যকর হতে পারে।

৬. শেষ ৩০ মিনিট হতে পারে সবচেয়ে বিপজ্জনকঃ

দুই দলই এই বিশ্বকাপে শেষ আধাঘণ্টায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছে, যেমন মিশরের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয় তাদের আত্ববিশ্বাস বাড়াবে। আবার ইংল্যান্ড  নরওয়ে ও কঙ্গোর সাথে পিছিয়ে পড়েও জয় লাভ করায় তাদেরও আত্ববিশ্বাস তুঙ্গে। ফলে ম্যাচ যত গড়াবে, নাটকীয়তা বাড়ার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের ১০ ইউনিক
ইংল্যান্ড ফুটবল দল

৭. গোলকিপারের ভূমিকা হতে পারে নির্ণায়কঃ

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বড় ম্যাচে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকও একাধিক ম্যাচে দলকে বাঁচিয়েছেন। ম্যাচের ভাগ্য তাদের এক-দুটি বড় সেভের ওপরও নির্ভর করতে পারে।

৮. বেঞ্চের শক্তিতেও এগিয়ে দুই দলঃ

কোচ স্কালোনি ও টুখেল-দুজনের কাছেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বিকল্প খেলোয়াড় রয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের বদলি ফুটবলাররাও হতে পারেন নায়ক।

৯. ফাউল ও আবেগের লড়াইঃ

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে আবেগ সবসময়ই বেশি থাকে। মাঝমাঠের সংঘর্ষ, ট্যাকটিক্যাল ফাউল, মানসিক লড়াই এবং স্নায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণ ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে।

১০. ফাইনালের টিকিটের সঙ্গে ইতিহাস গড়ার সুযোগঃ

এই ম্যাচে জয় মানেই শুধু বিশ্বকাপের ফাইনাল নয়। আর্জেন্টিনার জন্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা, আর ইংল্যান্ডের জন্য ১৯৬৬ পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা পেরিয়ে যাওয়া।

মনে রাখবেন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফিাইনাল “শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়-এটি ইতিহাস, প্রতিশোধ, ম্যারাডোনা-শিল্টন কথার লড়াই, কৌশল আর দুই ফুটবল দর্শনের মহারণ।”

বিশ্বকাপে ব্যর্থতায় এমবাপ্পের আত্মসমালোচনা

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে কৌশলগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর অকপটে জানালেন, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল-দুই দিকেই স্পেনের চেয়ে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়েছে ফ্রান্সের। তবে স্কোরলাইন যতটা বলছে, মাঠের বাস্তবতা ছিল তার চেয়েও কঠিন। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, ছন্দ এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বে ফরাসিদের ছাপিয়ে যায় স্পেন। ম্যাচ শেষে সেই বাস্তবতাই স্বীকার করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এমবাপ্পে বলেন, শুরু থেকেই ফ্রান্সের প্রেসিং পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। দুই খেলোয়াড়কে ঠেকাতে তিনজন নিয়ে চাপ তৈরির কৌশলে স্পেনের মাঝমাঠ সহজেই ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয়। বিশেষ করে ফাবিয়ান রুইস ও রদ্রি পর্যাপ্ত সময় পেয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। তার মতে, ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং করলে প্রতিপক্ষকে আরও বেশি চাপে রাখা সম্ভব হতো।

ম্যাচে বলের দখলে দুই দলের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। স্পেনের দখলে ছিল ৫১ শতাংশ এবং ফ্রান্সের ৪৯ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যানের বাইরে মাঠে স্পেনের সংগঠিত ফুটবল এবং কৌশলগত শৃঙ্খলার সামনে কার্যত অসহায় দেখিয়েছে ফ্রান্সকে।

এমবাপ্পে স্বীকার করেন, ফ্রান্স নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে কোনো দল যদি বুঝতেই না পারে কীভাবে খেলতে হবে, তাহলে জয় পাওয়ার সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে স্পেন নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকে বলের গতি ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

ফরাসি অধিনায়ক আরও বলেন, প্রতিপক্ষের ওপর উচ্চ প্রেসিং করে তাদের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মাঠে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো কৌশলগত সমন্বয়ের অভাবে সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে ফ্রান্স।

শুধু কৌশল নয়, নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশ এমবাপ্পে। তিনি বলেন, বল পুনরুদ্ধারের পর প্রথম স্পর্শগুলোও মানসম্মত ছিল না। ছোট ছোট ভুলের কারণেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বারবার হাতছাড়া হয়েছে। তার মতে, ফাইনালে ওঠার জন্য যে মান ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন, তা এই ম্যাচে দেখাতে পারেনি ফ্রান্স।

এই আসরে আট গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে থাকা এমবাপ্পেও স্পেনের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি। ম্যাচের শেষ দিকে গোলরক্ষক উনাই সিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ডও দেখেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে আবেগ নয়, আত্মসমালোচনাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

অধিনায়ক হিসেবে দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ফাইনালে ওঠাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং এর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তার মতে, কঠিন এই পরাজয় থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে হবে ফ্রান্সকে।

ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড হবেন মেসি!

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই। মাঠের ফুটবল, বিশ্বকাপের নাটকীয়তা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই লড়াইকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। মেসির আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডকে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মোট ১৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। আর এই লড়াইয়ে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সরা জিতেছে ৬টি ম্যাচ, আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে ৩টিতে, আর ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াই আরও বেশি রোমাঞ্চকর। ১৯৬২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাতে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে জয় পায়। ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালেও ১-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় ইংলিশরা।

তবে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড এবং গোল অব দ্য সেঞ্চুরি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ২-২ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। এরপর ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপে ২০২৬ সালের সেমিফাইনাল হবে দুই দলের ষষ্ঠ মুখোমুখি লড়াই। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল, যেখানে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জয় পেয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দেখা হচ্ছে দুই দলের।

পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা বরাবরই ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রজন্মও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। তাই আটলান্টার সেমিফাইনালে অতীতের রেকর্ড নয়।

হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের দুরন্ত ফর্ম ইংল্যান্ডকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। অন্যদিকে মেসি-আলভারেজ জুটি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইগুলোর একটি।

বরং ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে কে পাবে ফাইনালের টিকিট। ফুটবলপ্রেমীরা তাই অপেক্ষায় আরেকটি স্মরণীয় ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণের।

সম্ভাব্য একাদশে ইংল্যান্ড খেলতে পারেঃ পিকফোর্ড, রিস জেমস, কনসা, গেহি, ও’রাইলি; রাইস, অ্যান্ডারসন; সাকা, বেলিংহ্যাম, গর্ডন; হ্যারি কেইন।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশঃ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, তাগলিয়াফিকো; পারেদেস; ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

বিশ্বকাপ লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপে দেখা হয়েছিল দু’দলের। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও বিশ্ব মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে তারা।

তবে বিশ্বকাপে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মত মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর আগের পাঁচবারের দেখায় ইংল্যান্ড তিনবার ও আর্জেন্টিনা দু’বার জয় পায়। আর বিশ্বকাপে নক আউট পর্বে মুখোমুুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনাই। তিনবারের লড়াইয়ে দু’বার জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।

প্রথম ১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। গ্রুপ পর্বের ঐ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোল হারায় ইংলিশরা।

চার বছর পর ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে হওয়া বিশ্বকাপে আবারও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইংলিশরা। সেমিতে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড।

ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করে ইংল্যান্ড। পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে ইংলিশরা।

১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মত ইংল্যান্ডের সাথে দেখা হয় আর্জেন্টিনার। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে দিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ঐ ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরনীয় এক অধ্যায়ের নাম। কারন ঐ ম্যাচের ৫১ মিনিটে হেড করতে গিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। যা এখনও ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।

ঐ গোল নিয়ে পরবর্তীতে ম্যারাডোনা বলেছিলেন ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনার সেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে বিতর্কিত গোলের চার মিনিট পর আবারও ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। ফলে ৫৫ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের লিনেকার গোল করে ব্যবধান কমান। তবে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে ম্যারাডোনার দল। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা।

আর ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের মাটিতে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ গোলে হারায় আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত সময় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল।

২০০২ সালে পঞ্চবারের মত বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে হওয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম।

ঐ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ আটে ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হারে ইংলিশরা।

ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পরিসংখ্যান :

১৯৬২ সাল : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

১৯৬৬ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৮৬ সাল : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৯৮ সাল : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী আর্জেন্টিনা)

২০০২ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ (বুধবার) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। সিরিজের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে বুলাওয়েতে।

তবে চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস না থাকায় এই সিরিজেও দলের নেতৃত্বে থাকছেন তাওহীদ হৃদয়। মঙ্গলবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ফরম্যাট, তাই অতীতের ভুল পেছনে ফেলে ভালো ক্রিকেট খেলাতেই মনোযোগ দিতে চান তারা,

তিনি বলেন,‘ক্রিকেটে হয় জিতবেন, নয়তো হারবেন। তবে এটি ভিন্ন ফরম্যাট এবং ভিন্ন ভেন্যু। আমরা যদি নিজেদের সেরাটা খেলতে পারি, তাহলে ফলও আমাদের পক্ষেই আসবে। টেস্ট ও ওয়ানডেতে যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো শুধরে নিয়ে এই ফরম্যাটে আরও মনোযোগী হতে চাই।’

এদিকে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘নিজেদের মাঠে জিম্বাবুয়ে খুবই শক্তিশালী দল। চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে। তবে আমাদেরও শক্তির জায়গা আছে। আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি ধারাবাহিক ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে ভালো ফল সম্ভব।’

তবে চাপকে পেশাদার ক্রিকেটেরই অংশ বলে মনে করেন তাওহীদ। তিনি বলেন, ‘চাপ সব জায়গাতেই থাকে। একজন পেশাদার ক্রিকেটারকে সেটি সামলাতে জানতে হয়। আশা করি, ম্যাচের দিন আমরা ভালো খেলতে পারলে ফলও আমাদের অনুকূলে থাকবে।’

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পক্ষে না থাকলেও টি-টোয়েন্টিতে পরিসংখ্যান কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। দুই দলের ২৫টি মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ১৭টিতে, জিম্বাবুয়ের জয় ৮টি। সর্বশেষ পাঁচ দেখায় চারবারই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে দুই দলের শেষ টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে, ২০২৪ সালে মিরপুরে, ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

অতীতের সাফল্যের পাশাপাশি বর্তমান বাস্তবতাও মাথায় রেখে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য একটাই, টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে হতাশা ভুলে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। অধিনায়ক হিসেবে এটিই তাওহীদ হৃদয়ের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এবার দলকে জয়ের পথে ফেরাতে চান তিনি,

এছাড়া তিনি বলেন,‘অবশ্যই আমার লক্ষ্য দলকে জেতানো। নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ অবদান রাখার চেষ্টা করব। জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া গর্বের বিষয়, কিন্তু দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের জয়। আমরা সবাই চাই, এই সিরিজে জয়ের হাসি ফিরুক।’

স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েও রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দেশম

0

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে তৃতীয় টানা ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে ফ্রান্সের। ম্যাচ শেষে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ফ্রান্স নিজেদের স্বাভাবিক মানের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।

দেশম বলেন, ‘জয়ের আশা করতে হলে আমাদের সেরাটা খেলতে হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা তা পারিনি।’

ম্যাচের শুরুতেই মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর বাড়ানো বল থেকে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

পরিসংখ্যান স্পেনের দিকে

পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যের কথাই বলছে। পোরোর গোলের সময় পর্যন্ত স্পেন ৮টি শট নিলেও ফ্রান্স নিতে পেরেছিল মাত্র ২টি। পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের ১০টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র তিনটি, আর প্রতিপক্ষের গোলমুখে কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। দেশমের মতে, স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণ এবং নিজেদের কারিগরি ভুলই ফ্রান্সের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

তিনি বলেন, ‘স্পেন অসাধারণভাবে রক্ষণ সামলেছে। তারা আমাদের খুব কম জায়গা দিয়েছে। তার ওপর আমরা পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে অনেক ভুল করেছি। ফলে তাদের বিপদে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারিনি। আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় আমাদের খেলার মান অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল।

গোল হজমের পর হতাশ ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম

বিশ্বকাপে এর আগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসে মিলে ১৩ গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে এই ত্রয়ী পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচটি শট নিতে পেরেছে, যার প্রত্যাশিত গোল ছিল মাত্র ০.১৫।

স্পেনের প্রশংসা

স্পেনের প্রশংসা করে দেশম বলেন, ‘তাদের পাসিং, সমন্বয় এবং খেলা পড়ার ক্ষমতা অসাধারণ। তারা আমাদের প্রতিটি আক্রমণ আগেভাগেই থামিয়ে দিয়েছে। অবশ্যই আমাদেরও দোষ ছিল, তবে প্রতিপক্ষের কৃতিত্বও স্বীকার করতে হবে।’

তবে ম্যাচের রেফারি ইভান আরসিদেস বার্তন সিসনের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফরাসি কোচ। প্রথমার্ধে লামিন ইয়ামালের ওপর লুকা দিনিয়ের ফাউলের ঘটনায় স্পেন যে পেনাল্টি পায়, সেটি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি।

দেশম বলেন, ‘এখন কিছু বললে মনে হবে হেরে গিয়ে অজুহাত দিচ্ছি। কিন্তু আপনারাই বলুন, একজন সেমিফাইনালের রেফারির কি এই মানের হওয়া উচিত? শুধু পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নয়, আরও কিছু বিষয় ছিল।’

এই পরাজয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার বিরল সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে ফ্রান্সের। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছে শুধু পশ্চিম জার্মানি ও ব্রাজিল। তবে দেশম মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত তিনটি বিশ্বকাপেই ফ্রান্স সেমিফাইনাল খেলেছে এবং ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এই একটি ম্যাচ আমাদের আগের সব অর্জনকে মুছে দিতে পারে না। স্পেন আমাদের ভুল করতে বাধ্য করেছে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে সর্বোচ্চ পর্যায়ে না খেললে এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জেতা সম্ভব নয়।’

এদিকে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পরই শেষ হবে দেশমের ১৪ বছরের কোচিং অধ্যায়। এরপর ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার কথা কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের।

টিভিতে আজকের খেলা: ১৫ জুলাই ২০২৬

ফুটবল
বিশ্বকাপ
সেমিফাইনাল
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
রাত ১টা
টি স্পোর্টস, সময় টিভি ও বিটিভি

ক্রিকেট
প্রথম টি-টোয়েন্টি
জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ

বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট
টি স্পোর্টস

যে ম্যাচে গোল হয়ে উঠেছিল একটি জাতির প্রতিশোধের প্রতীক

বিশ্ব ফুটবলে অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, স্পেন-জার্মানি কিংবা ইতালি-ফ্রান্স- প্রতিটি লড়াইয়েরই নিজস্ব ইতিহাস আছে। কিন্তু যখন মাঠের এক প্রান্তে থাকে আর্জেন্টিনা আর অন্য প্রান্তে ইংল্যান্ড, তখন সেটি আর শুধুই ফুটবল থাকে না। তখন ৯০ মিনিটের ম্যাচ ইতিহাস, রাজনীতি, জাতীয় গর্ব এবং অগণিত মানুষের আবেগের এক বিস্ময়কর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এই ঘটনার শুরু ফুটবল মাঠে নয়, দক্ষিণ আটলান্টিকের শীতল জলরাশিতে। ১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জ ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় ইসলাস মালভিনাস) নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। মাত্র ৭৪ দিনের সেই সংঘাতে প্রাণ হারান প্রায় ৯০০ মানুষ। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন তরুণ সৈনিক, যাদের অনেকেই যুদ্ধের প্রকৃত ভয়াবহতা বোঝার আগেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছিলেন।

যুদ্ধের শেষে বিজয়ী হয় যুক্তরাজ্য। সামরিকভাবে পরাজিত হলেও আর্জেন্টিনার মানুষের মনে রয়ে যায় অপমান, ক্ষোভ আর না-পাওয়া এক গভীর বেদনা। সেই ক্ষত শুধু রাজনীতিতে নয়, সাধারণ মানুষের মনেও বছরের পর বছর জীবন্ত ছিল।

অবিশ্বাস্য দৃশ্য

ঠিক চার বছর পর, মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্ব আবার দেখল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড- কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। গ্যালারির গর্জন আর খেলোয়াড়দের প্রতি পদক্ষেপে তখন শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই ছিল না; ছিল হারিয়ে যাওয়া জাতীয় মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক অলিখিত তাগিদ। সেদিন ফুটবল ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বড় ছিল আবেগ।

গ্যালারিতে বসা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকের কাছে এটি ছিল যুদ্ধে হারার পর সম্মান পুনরুদ্ধারের সুযোগ। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কাছেও ম্যাচটি ছিল জাতীয় মর্যাদার লড়াই।

৫১তম মিনিটে আসে সেই বিতর্কিত মুহূর্ত। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের আগে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান দিয়েগো ম্যারাডোনা। রেফারির চোখ এড়িয়ে গোলটি বৈধতা পায়।

ম্যাচের আগে পিটার শিলটনের সঙ্গে ম্যারাডোনা

ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, সেটি ছিল ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত’- যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। কিন্তু চার মিনিট পর যা ঘটেছিল, সেটি বিতর্ক নয়- শুধুই বিস্ময়।

গোল অব দ্য সেঞ্চুরি

নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে পাঁচজন ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ম্যারাডোনা। প্রায় ৬০ মিটার দৌড়ে করা সেই গোলকে পরে ফিফা ঘোষণা করে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। একই ম্যাচে ফুটবল দেখেছিল দুই বিপরীত ছবি- একটি ছিল বিতর্কের, অন্যটি নিখাদ শিল্পের।

ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা কখনোই সরাসরি বলেননি যে এটি যুদ্ধের প্রতিশোধ ছিল। তবে বহু সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন, ফকল্যান্ড যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইনদের কথা তাদের মনে ছিল।

আর্জেন্টিনার অসংখ্য মানুষের কাছে সেই জয় ছিল যুদ্ধের ক্ষত কিছুটা হলেও ভুলে থাকার একটি উপলক্ষ। অবশ্য এটি কোনো সামরিক বিজয় ছিল না; ছিল কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ। তবু খেলাধুলার আবেগ কখনো কখনো মানুষের অনুভূতিতে ইতিহাসের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায়, যা কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এরপর বহু বছর কেটে গেছে। যুদ্ধ শেষ হয়েছে চার দশকেরও বেশি আগে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও বদলেছে। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের কেউই সেই সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী নন। তবু আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ এলেই ফিরে আসে ১৯৮৬ সালের সেই দুপুর, ফিরে আসে ম্যারাডোনার দৌড়, ‘হ্যান্ড অব গড’, আর ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি।

আজকের ফুটবলারদের কাছে এটি একটি সেমিফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনাল বা সাধারণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে পারে। কিন্তু অসংখ্য সমর্থকের কাছে এটি এখনও ইতিহাসের একটি জীবন্ত অধ্যায়।

ফুটবল কখনো যুদ্ধের বিকল্প হতে পারে না। একটি ম্যাচ কোনো যুদ্ধের বেদনা মুছে দিতে পারে না, কিংবা হারানো জীবন ফিরিয়ে আনতে পারে না। কিন্তু খেলাধুলা মানুষের অনুভূতি, পরিচয় এবং জাতীয় গর্বকে স্পর্শ করে- এ কারণেই কিছু ম্যাচ সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ ঠিক তেমনই একটি গল্প। যেখানে স্কোরলাইনের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে স্মৃতি, ইতিহাস আর আবেগ। আর তাই বিশ্ব ফুটবলের প্রতিটি নতুন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ যেন ১৯৮৬ সালের সেই অবিস্মরণীয় বিকেলের প্রতিধ্বনি হয়ে আবারও ফিরে আসে।

ম্যাচ জিতে ইয়ামাল লিখলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ফুটবল বিশ্বে একটাই প্রশ্ন ভাসছিল. ফ্রান্সকে আটকাবে কে? একের পর এক প্রতিপক্ষকে দাপটের সঙ্গে উড়িয়ে দিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলেরা নিজেদের টুর্নামেন্টের শীর্ষ ফেবারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মাঠের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের মঞ্চটা বুঝি ফরাসিদের জন্যই প্রস্তুত।

তবে সেমিফাইনালের মঞ্চে এসে ওলটপালট হয়ে গেল সব হিসাব-নিকাশ। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্সকে ২-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখলো স্পেন। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ফরাসিদের রীতিমতো নিষ্প্রভ করে দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল লা রোখা।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নিজের অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে দুই হাত তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন এই স্প্যানিশ তরুণ। ক্যাপশনে তিনি লেখেন কেবল একটি শব্দ, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। মুহূর্তের মধ্যেই ইয়ামালের এই পোস্টটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বজয় করেছিল স্পেন। জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও রামোস, জেরার্ড পিকে ও ইকার ক্যাসিয়াসদের সেই সোনালি প্রজন্মের পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো লা রোখা। এবার দেখার বিষয়, নতুন এই প্রজন্মের হাত ধরে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের উৎসবে মাততে পারে কিনা স্পেন।

টুর্নামেন্টজুড়ে যে ফ্রান্সকে অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছিল, ম্যাচের শেষ দিকে তাদের কেবল অসহায় দর্শকের ভূমিকায় দেখা গেছে। মেজাজ হারিয়ে অসংযত ও ছন্দহীন ফুটবল খেলে নিজেদের শেষ সম্ভাবনাটুকুও নষ্ট করেছে ফরাসিরা। অন্যদিকে, ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই পরাশক্তি। সেবার প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। দীর্ঘ দুই দশক পর সেই হারের প্রতিশোধটা যেন বিশ্বমঞ্চের সেমিফাইনালেই দাপটের সঙ্গে সুদে-আসলে বুঝিয়ে দিল স্পেন।

সেমিফাইনালের অতীত ইতিহাসও স্পেনের পক্ষে কথা বলছিল। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর পরবর্তী তিনটি আসরে তারা শেষ চারেও উঠতে পারেনি। তবে এবার সেমিফাইনালে পা রাখার পর বড় প্রতিযোগিতায় স্পেনের দুর্দান্ত অতীত পরিসংখ্যান লা রোখাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।

ফুটবলের বড় টুর্নামেন্টগুলোর সেমিফাইনালে স্পেনের হারের নজির খুবই কম। আগের সাতটি সেমিফাইনালের মধ্যে তারা মাত্র একবারই বিদায় নিয়েছিল—২০২০ ইউরোর সেমিফাইনালে। বাকি ছয়বারই তারা ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এবারও সেই সোনালি ধারাবাহিকতা ধরে রাখলো স্প্যানিশরা।

১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে আবার বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেন। শিরোপার শেষ লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়। তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে লা রোখা, তাতে ফাইনালের প্রতিপক্ষের জন্য তারা বড় এক হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে রাখল, আরও একবার বিশ্বজয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত স্পেন।