এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী ছিল ফ্রান্স। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দল। ডালাসে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লা রোজা-রা।
ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে ছিল ফ্রান্স। ১৪ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুর্দান্ত গতিতে স্প্যানিশ বক্সে ঢুকে পড়লেও কুবারসি ও লাপোর্তের নিখুঁত রক্ষণে থেমে যায় সেই আক্রমণ।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্পেন। বক্সে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করেন লুকা দিনিয়ে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পেনের হয়ে স্পট কিক নিতে আসেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাগনিয়ঁ সঠিক দিক অনুমান করলেও তার নাগালের বাইরে দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। ২৩ মিনিটেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
গোল হজমের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে ফ্রান্স। ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন দলের অন্যতম ভরসা উইলিয়াম সালিবা। বাধ্য হয়ে রক্ষণে পরিবর্তন আনেন কোচ দিদিয়ের দেশম।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও স্পেনই ছিল বেশি আত্মবিশ্বাসী। ওলমো, ইয়ামাল ও বায়েনার দ্রুত পাসিংয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান আর বাড়েনি। ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র। ৫৮ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দানি ওলমো ও পেদ্রো পোরোর দারুণ বোঝাপড়ায় আসে দ্বিতীয় গোল। মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন পোরো। এর তিন মিনিট পর ইয়ামাল বল জড়িয়েছিলেন জালে। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
শেষ ২০ মিনিটে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। এমবাপ্পে, হার্নান্দেজ, বারকোলা – সবাই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন এবং ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এমবাপ্পের একের পর এক শট ব্যর্থ করে স্পেন নিশ্চিত করে তাদের ফাইনালের টিকিট।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন। ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল লা রোজা। এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য, ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা। শেষ প্রশ্ন একটাই, স্পেন কি আবার বিশ্বসেরা হতে পারবে?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর একটি হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধের চরম উত্তেজনাকর লড়াইয়ের পর পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেন লিড নেয়, যার ফলে ম্যাচে টিকে থাকতে ফ্রান্সকে এখন আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিতে হচ্ছে।
প্রথমার্ধের হাইলাইটস:
ওয়েইয়ারজাবালের (Oyarzabal) গোল: পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়েইয়ারজাবাল।
সালিবার ইনজুরি: প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা।
ফ্রান্সের চাপ: সমতা ফেরানোর জন্য হন্যে হয়ে অবিরাম আক্রমণ চালাচ্ছে ফরাসি দল।
ইয়ামালের নৈপুণ্য: স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল টানা ফরাসি রক্ষণভাগকে ব্যস্ত ও বিপর্যস্ত করে রাখছেন।
প্রথমার্ধের বিস্তারিত বিবরণ:
খেলার ব্রেকথ্রু (২২তম মিনিট): ম্যাচের ২২তম মিনিটে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে (Lucas Digne) ডি-বক্সের ভেতরে স্পেনের লামিন ইয়ামালকে ফাউল করেন। রেফারি ইভান বার্টন কোনো দ্বিধা ছাড়াই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পেনাল্টি থেকে মিকেল ওয়েইয়ারজাবাল অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনানকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান এবং স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
ফ্রান্স শিবিরে বড় ধাক্কা: গোল খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় বিপদে পড়ে ফ্রান্স। পিঠের চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তাদের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। কোচ দিদিয়ের দেশম তার পরিবর্তে মাক্সেন্স লাক্রোয়াকে (Maxence Lacroix) মাঠে নামান। ম্যাচের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই পরিবর্তন ফরাসি রক্ষণভাগের ছন্দ কিছুটা বিঘ্নিত করে।
ফ্রান্সের পাল্টা আক্রমণ ও স্পেনের প্রতিরোধ: ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ‘লে ব্লুজ’ (Les Bleus) বা ফরাসিরা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল অলিস চমৎকার কম্বিনেশনে স্প্যানিশ ডিফেন্সকে দীর্ঘ সময় চেপে ধরে রাখেন। তবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্প্যানিশ দল রক্ষণভাগে দারুণ জমাটবদ্ধতা দেখিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষীপ্রগতির ইয়ামালের ওপর ভর করে কাউন্টার অ্যাটাকে (পাল্টা আক্রমণ) স্পেনের হুমকিও সচল ছিল।
বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফ্রান্স যেখানে তাদের প্রথম গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছে, সেখানে স্পেন তাদের এই নূন্যতম লিড ধরে রেখে আরও একটি বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মহারণ ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এই ম্যাচকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও আবেগঘন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা রবি ফাওলার।
ফাওলারের মতে, এটি শুধুমাত্র দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়, বরং ইতিহাস, আবেগ এবং অসংখ্য স্মরণীয় ঘটনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশেষ দ্বৈরথ।
তিনি বলেন, ‘এটি ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী লড়াই। শুধু বিশ্বকাপের ইতিহাস নয়, দুই দেশের পারস্পরিক ইতিহাসও এই ম্যাচকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ম্যারাডোনার গোল, ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড, তার পেনাল্টি কিংবা ফকল্যান্ডস যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, সব মিলিয়ে এটি সাধারণ কোনো ফুটবল ম্যাচ নয়।’
সেমিফাইনালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হবে মাঝমাঠের লড়াইয়ে বলেও মনে করেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা।
ফাওলার বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে খুবই সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। রক্ষণভাগে অতিরিক্ত নিচে নেমে গেলে তারা নিজেদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করবে। আর্জেন্টিনা বলের দখল ধরে রেখে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। তাই ইংল্যান্ডকে রক্ষণাত্মকভাবে খুব সংগঠিত থাকতে হবে।’
একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এমন ম্যাচে কৌশলগত পার্থক্যের চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাই বড় ভূমিকা রাখে। ‘টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে দলগুলোর মধ্যে টেকনিক্যাল ব্যবধান খুব কম থাকে। সেরা দলগুলো চাপের মধ্যেও নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকে। পিছিয়ে পড়লেও তারা আতঙ্কিত হয় না। অনেক সময় একটি সিদ্ধান্ত, একটি মুহূর্ত কিংবা কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়,’ যোগ করেন ফাওলার।
তার মতে, এই ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, মানসিক শক্তি এবং বড় মুহূর্তগুলো কাজে লাগানোর সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে কে ফাইনালের টিকিট কাটবে।
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। ফলে মায়ামির সেমিফাইনালটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের আরেকটি নতুন অধ্যায় লেখার মঞ্চও বটে।
বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়াড় ও কোচ দিদিয়ের দেশম খুব ভাল করেই জানেন কিভাবে বড় ম্যাচের আগে মাইন্ড গেম খেলতে হয়। প্রতি পক্ষকে এগিয়ে রেখে যদি মনটা হালকা করে নিজের শিষ্যদের কাছ থেকে সেরাটা পাওয়া যায় তাতে মন্দ কি? এবারের বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স বিবেচনায় ফ্রান্সই সেরা দল তাতে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়, প্রতিপক্ষ যে দলই হোক না কেন, ম্যাচের আগে ফেবারিট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফরাসিরাই।কিন্তু ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম মনে করছেন, প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনই বরং ফেবারিট। ফরাসিরা নাকি এই ম্যাচে আন্ডারডগ! কি বুঝলেন? এটাকে ‘ফরাসি কোচের মাইন্ড গেম খেলা’ ছাড়া আর কিছু বলা যায়? মোটেও না।
জ্বি হেড লাইনের কথাটি খোদ ফরাসি কোচ দেশমই বলেছেন সেমিফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। তাঁর মতে, স্পেনের আক্রমণ ও রক্ষণ-দুটি সেরা। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও পরের ম্যাচ গুলোতে ধীরে ধীরে টুর্নামেন্টে ছন্দ খুঁজে পেয়েছে স্পেন। তা ছাড়া ফ্রান্স-স্পেন সর্বশেষ লড়াইয়ে স্পেনের জয় দুটিতেই। কিন্তু বিশ্বকাপ আর অন্য ম্যাচ কি এক হল? না এক নয় সেটা দেশম নিজেও ভাল করেই জানেন আর জানেন বলেই তিনি মাইন্ড গেমে বলটা ছুড়ে দিয়েছেন স্পেন কোচের কোর্টে। বিশ্বজয়ী কোচ বলে তো কথা, মাঠের লড়াইয়ের মত কথার লড়াইয়েও অনেক এগিয়ে তিনি।
দেশম বলেন ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে ওদের প্রথম ম্যাচটি ভুলে যান। তার পর দেখুন প্রতিটি ম্যাচে স্পেন প্রমাণ করেছে যে তারাই টুর্নামেন্টের ফেবারিট। আমি অবশ্য স্প্যানিশ কোচ লুইসের ওপর বাড়তি কোনো চাপ তৈরি করতে চাই না। সে খুব ভালো করেই জানে যে মানুষ এই দলকে নিয়ে কতটা প্রত্যাশা করে আছে।
ভারসাম্যপূর্ণ স্পেনের ফুটবল দল নিয়ে ফরাসি কোচ আরও বলেন, ‘স্পেন যেমন দারুণ আক্রমণ করতে পারে, তেমনি ওদের রক্ষণভাগও চমৎকার। গত ৬ বা ৭ ম্যাচে ওরা ১টি মাত্র গোল হজম করেছে।
স্পেন কোচের মাইন্ড গেম জবাবঃ অবশ্য ফ্রান্স কোচের কথায় স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে পা টা মাটিতেই রেখেছেন। তিনি অবশ্য ফেবারিট তকমা গায়ে লাগাচ্ছেন না। তিনি বরং দেশমের মন্তব্যের কথা জেনে সংবাদ সম্মেলনে হেসে দিয়েছেন যা দেশমের জন্য; মাইন্ড গেম জবাব। লুইস ফেবারিট তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, মানুষ আমাদের ফেবারিট বলল কি বলল না, তাতে কিছুই যায়–আসে না। এটি মাঠের খেলায় কোনো প্রভাব ফেলে না। আমরা দুটি দুর্দান্ত দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছি, ঠিক যেমন অন্য সেমিফাইনালেও দুটি বড় দল লড়বে।
আজ এমবাপ্পে কি খেলবেন? মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর চোট নিয়ে ফরাসি সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও কোচ নিশ্চিত করেছেন যে, অধিনায়ক এমবাপ্পে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্পেনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে খেলার জন্য শতভাগ ফিট।
বিশ্বকাপে আজ রাত ১টায় প্রথম সেমিফাইনালে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। আর এই সেমিফিাইনাল নিয়ে স্প্যানিশ দৈনিক ‘এএস’ জানিয়েছে এক চমকপ্রদ তথ্য। দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশী।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমটির মতে ফ্রান্স ও স্পেনের এই লড়াই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল। কারণ, খেলোয়াড়দের আর্থিক মূল্যের দিক থেকে এটি অতীতের সব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালকে ছাড়িয়ে গেছে।
দলীয় বাজার মূল্যঃ আকাশছোঁয়া এই দামের মধ্যেও দুই দলের মধ্যে ব্যবধানটা প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের। ফরাসি দলের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৭৮ কোটি ডলার, অন্যদিকে স্পেনের দলটির মূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ডলার।
ব্যক্তিগত বাজার মূল্যঃ স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এই মুহূর্তে সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়, তাঁর বাজারমূল্য প্রায় ২৩.৪ কোটি ডলার। আবার ফরাসি তারকা এমবাপ্পের মূল্য প্রায় ২১ কোটি ডলার। এ ছাড়া মাইকেল ওলিসে ও পেদ্রি-দুজনেরই বাজারমূল্য প্রায় ১৭.৫ কোটি ডলার করে।
ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের বাজার মূল্যঃ উপরের এই ৪ জন তারকা ছাড়াও দুই দলে ৭জন খেলোয়াড় আছেন, যাঁদের প্রত্যেকের বাজারমূল্য ১১.৭ কোটি ডলার বা তার চেয়ে বেশি। আর দুই দল মিলিয়ে ২২ জন খেলোয়াড়ের দাম অন্তত ৫.৮ কোটি ডলার। এই ২২ জনের মধ্যে ১৫ জনই ফ্রান্সের আর ৭ জন স্পেনের। অর্থাৎ এই মানের দামি খেলোয়াড়ের সংখ্যায় স্পেনের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি এগিয়ে রয়েছে ফ্যান্স।
স্পেনের খেলোয়াড়দের বাজার মূল্যঃ পজিশন ভিত্তিক হিসাবে গোল পোস্টের নিচে এগিয়ে স্পেন। ফ্রান্সের ৩ গোলকিপারের সম্মিলিত বাজারমূল্য যেখানে প্রায় ৬.৭ কোটি ডলার, সেখানে স্পেনের ৩ গোলরক্ষকের মোট মূল্য প্রায় ১১.৪ কোটি ডলার।
রক্ষণ ভাগে এগিয়ে ফ্রান্সঃ ফরাসি ডিফেন্ডারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য ৪৭.৩ কোটি ডলার, অপরদিকে স্পেনের রক্ষণভাগের মূল্য প্রায় ৩৩.৭ কোটি ডলার। তবে মাঝ মাঠের লড়াইয়ে এগিয়ে স্পেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারদের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৪৯.১ কোটি ডলার আর ফ্রান্সের মাঝ মাঠের মূল্য প্রায় ৩৬.৫ কোটি ডলার। দুই দলের আসল পার্থক্য আক্রমণভাগে। স্পেনের ইয়ামালের একার দামই ২৩.৪ কোটি ডলার হলেও ফ্রান্সের উইঙ্গার ও স্ট্রাইকারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৮৭.৭ কোটি ডলার। যেখানে স্পেনের আক্রমণভাগের মোট বাজারমূল্য ৪৮.৮ কোটি ডলার। আক্রমণভাগের এই বিশাল পার্থক্য ফ্রান্সকে সামগ্রিক বাজারমূল্যে স্পেনের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। ৩৭ হাজার কোটি টাকার ম্যাচ বলে তো কথা!
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফুটবল ম্যাচ মানেই যেন আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ আর ইংল্যান্ডের ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের প্রতিশোধের ম্যাচ। দু-দেশের ফুটবল লড়াই মানেই ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা থেকে ৩০০ মাইল দুরের দ্বীপ ফকল্যান্ড যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রতিশোধ আর ইংল্যান্ড দলের জন্য ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার হাত দিয়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে হারানো প্রতিশোধের ম্যাচ, তাই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ফুটবল থেকে দু-দেশের মধ্যে শুরু হয় “ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে বিশ্বকাপের ফুটবল যুদ্ধ”!
বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে ১৬ জুলাই রাত ১টায় আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও দীর্ঘদিনের শিরোপা প্রত্যাশী ইংল্যান্ড। ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ এবং ২০০২-এর স্মৃতি পেরিয়ে এবারই উভয় দল সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে নামছে ফাইনালের টিকিটের জন্য। আগের ৫ দেখায় ইংল্যান্ড ৩ বার এবং আর্জেন্টিনা ২ বার জয় পেয়েছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা যেমন মাঠে খেলবে টিম হিসেবে মেসির জন্য তেমনী ব্রিটিশরা পুরনো ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায় আধুনিক ফুটবলের বাহক হতে, এক দিকে ম্যারাডোনার উত্তসুরি লিওনেল মেসি অন্যদিকে শিল্টনের উত্তরসুরি হয়ে আলো ছড়াতে চান হ্যারি কেইন।
খেলা ধুলায় ইতিহাস ঐতিহ্যের দিকে তাকিয়ে আপনি সান্তনা পাবেন কিন্তু বর্তমান দিয়েই আপনাকে মাঠে টিকে থাকতে হবে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দুই দল যোগ্য দল হিসেই সেমিতে উঠেছে দু-দলের পারফরম্যান্সের পার্থক্য খুব বেশী নয়। বড় ম্যাচে সুযোগের স্বদব্যবহার ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়, তাই স্নায়ুর চাপ এবং ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো খুব ইফেক্টিভ হবে এই ম্যাচে। চলুন দেখা যায় কোন দল কোন বিভাগে এগিয়ে রয়েছে খেলোয়াড়দের পারফর্ম্যান্স দিয়ে।
আক্রমন ভাগঃ
মেসি আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজে গড়া আক্রমন ভাগকে ৫ এ ৫ দেয়া যায় কারণ মেসি ৮ গোল করে শির্ষ গোলদার একজন, তাছাড়া আলভারেজের গতি ইংল্যান্ডের রাইট মিড ফিল্ডে অ্যান্ডারসন এবং রাইট ব্যাক কোন্সার বড় পরীক্ষা নিবে আবার লাউতারো মাটিনেজের পেনাল্টি এরিয়ার মধ্যে ফিনিশিং আর রাইট উইং এ মেসির যাদুকরী ফুটবল সামলাতে ইংল্যান্ডের লেফট মিড ফিল্ডার রাইস ও লেফট ব্যাক রাইলিকে হেমসিম খেতে হবে যেখানে এগেয়ে থাকবে আর সেখানেই আর্জেন্টিনার গোল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী বলে মনে হচ্ছে। আবার ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে সামলানোতে ব্যস্ত থাকতে হবে আর্জেন্টিনার লেফট সেন্টার ব্যাক লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও রাইট সেন্টার ব্যাক রোমেরোকে আবার রাই উইং দিয়ে ইংল্যান্ডের মাদুয়েকে যখন আক্রমনে যাবেন তখন অ্যালিস্টার এবং ট্যাগলিয়াফিকোর বাধার সামনে পড়বে আর বাম দিক দিয়ে গর্ডন দি পল এবং মলিনাকে বিট করে গোল করতে হবে গর্ডনকে তাই উভয় দলের আক্রমন ভাগ সমানে সমান।
মধ্য মাঠঃ
মধ্য মাঠেও উভয় দল থাকবে সমানে সমান ইংল্যান্ডের মধ্য মাঠে যেমন রাইস, অ্যান্ডারসন ও বেলিংহামের মত ইনফর্ম অ্যাটাকিং মিড ফিল্ডার রয়েছে যারা গোল স্কোরিং এ অনেকটাই এগিয়ে তেমনী আবার আর্জেন্টিনার রয়েছে ম্যাক অলিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ এবং দি পল ও লিয়েন্দ্র প্যারেডেসের মত মিড ফিল্ডার যারা ইংল্যন্ডের মিড ফিল্ডারদের চেয়ে প্লেয়ার রেটিং-এ একটু এগিয়ে তবে গোল স্কোরিং পাওয়ারে আবার একটু পিছিয়ে। মধ্য মাঠেও উভয় দলকে সমান এ রাখতে হবে।
রক্ষণভাগঃ
ইংল্যন্ডের রক্ষণভাগের মধ্যে রাইট ব্যাক কোন্সা বনাম আর্জেন্টিনার রাইট ব্যাট মলিনার মধ্যে প্লেয়ার রেটিং দেখলে মলিনা ৬.৬ রেটিং নিয়ে এগিয়ে আবার আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক ট্যাগলিয়াফিকো ৬.১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের লেফট ব্যাক রাইলির ৫.৭ চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের রাইট সেন্টার ব্যাট জোন্স স্টোন ও লেফট সেন্টার ব্যাক গুয়েহির ৫.৮ রের্টিং পয়েন্টের চেয়ে আর্জেন্টিনার রাইট সেন্টার ব্যাক রোমেরা এবং লেফট সেন্টার ব্যাক লিসান্দ্রো মার্টিনেজ যথাক্রমে ৭.৫ এবং ৭.৪ রেটিং পয়েন্টে নিয়ে একটি এগিয়ে আছে অতএব রক্ষণভাগে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকবে।
অভিজ্ঞাতাঃ অভিজ্ঞতায় আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখেতেই হবে কারণ আর্জেন্টিনা মোট ৬ বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৩ বার রানার্সআপ, অপরদিকে ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালে একবার ফাইনাল খেলে একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর এবার সহ মোট ৩বার সেমিফাইনালে খেলেছে। তাই অভিজ্ঞতায় আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখেতেই হচ্ছে।
প্রতি আক্রমনঃ
ইংল্যান্ড দলকে প্রতি আক্রমনে একটু এগিয়ে রাখতে হবে। কারন টমাস টুখেলের দল বল হারানোর পর দ্রুত প্রেস করে এবং প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করে। বিশেষ করে ট্রানজিশনে ইংল্যান্ডের গতি বড় অস্ত্র।
ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলাঃ
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকটিক্যাল লড়াই মেসি বনাম বেলিংহামের মধ্যে হবে। মেসি খুঁজবেন সৃজনশীল পাসের সুযোগ অপরদিকে বেলিংহাম চেষ্টা করবেন মিডফিল্ডে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে আর্জেন্টিনাকে পিছিয়ে দিতে। আর্জেন্টিনার বল দখল বনাম ইংল্যান্ডের প্রেসিং ফুটবল আবার আর্জেন্টিনা ছোট ছোট পাসে খেলে গড়তে চাইবে আক্রমন আর ইংল্যান্ড উচ্চ প্রেসিং ও দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকে ম্যাচের গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইবে। দুই দলের উইং ব্যাটেল ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির উইঙ্গাররা আর্জেন্টিনার ফুল-ব্যাকদের চাপে ফেলতে পারে। অন্যদিকে মেসির ডান দিকের কম্বিনেশন ওভারলোড তৈরি করলে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙার সুযোগ তৈরি হবে।
মেসির ‘ফ্রি রোল’ শক্তিঃ
১. লিওনেল মেসি মাঝমাঠ ও আক্রমণের মাঝের ফাঁকা জায়গায় নেমে খেলা তৈরি করেন। তাকে থামাতে ইংল্যান্ডকে সমন্বিত প্রেসিং করতে হবে; একক মার্কিং যথেষ্ট নাও হতে পারে।
২. আলভারেজ-লাউতারোর ডাবল থ্রেট জুলিয়ান আলভারেজের নিরন্তর দৌড় এবং লাউতারো মার্টিনেজের বক্সে ফিনিশিং ইংল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাকদের ব্যস্ত রাখবে। মেসির থ্রু পাস ও দ্রুত ওয়ান-টু এই জুটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
৩. নকআউট অভিজ্ঞতা লিওনেল স্কালোনির দল কঠিন ম্যাচে ধৈর্য ধরে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলেছে এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষ।
ইংল্যান্ডের শক্তিঃ
১. বেলিংহামের বক্স-টু-বক্স আধিপত্য আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই দিকেই সমান কার্যকর। দ্বিতীয় সারি থেকে তার দৌড় আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
২. হ্যারি কেইনের হোল্ড-আপ প্লে কেইন নিচে নেমে বল ধরে রেখে উইঙ্গার ও মিডফিল্ডারদের আক্রমণে যুক্ত করেন। এই কৌশল আর্জেন্টিনার সেন্টার-ব্যাকদের পজিশন ভেঙে দিতে পারে।
৩. টুখেলের সংগঠিত প্রেসিং বল হারানোর পর দ্রুত প্রেস করে এবং প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করে।
বিশেষ করে ট্রানজিশনে ইংল্যান্ডের গতি বড় অস্ত্র।
বিশ্বকাপের ২য় সেমি ফাইনাল হতে পারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কৌশলনির্ভর সেমিফাইনাল গুলোর একটি। আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ ও মেসির সৃজনশীলতার ওপর ভর করবে, আর ইংল্যান্ড নির্ভর করবে শারীরিক শক্তি, সংগঠিত প্রেসিং এবং দ্রুত ট্রানজিশনের ওপর। ম্যাচের ফল নির্ধারণে মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং ছোট ছোট ট্যাকটিক্যাল ভুলই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
হেড-টু-হেড পরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ: ১৪। ইংল্যান্ডের জয়: ৬ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জয়: ৩ ম্যাচ। (অফিসিয়াল রেকর্ডে ১৯৯৮ সালের পেনাল্টি শুটআউটের জয়টিকে ড্র হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে সেটিসহ ধরলে ৪টি জয়) ড্র: ৫ ম্যাচ।
বিশ্বকাপ মঞ্চে মুখোমুখি লড়াইঃ
ফিফা বিশ্বকাপে এই দুই দল মোট ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ইংল্যান্ড জয়ী ৩ বার আর্জেন্টিনা ২বা। তবে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনার সাফল্য বেশি।
বছর
বিশ্বকাপের মঞ্চ
ফলাফল
১৯৬২
গ্রুপ পর্ব
আর্জেন্টিনা ১ – ৩ ইংল্যান্ড
১৯৬৬
কোয়ার্টার-ফাইনাল
আর্জেন্টিনা ০ – ১ ইংল্যান্ড
১৯৮৬
কোয়ার্টার-ফাইনাল
আর্জেন্টিনা ২ – ১ ইংল্যান্ড (মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল)
১৯৯৮
শেষ ১৬
আর্জেন্টিনা ২ – ২ ইংল্যান্ড (টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী)
২০০২
গ্রুপ পর্ব
আর্জেন্টিনা ০ – ১ ইংল্যান্ড
নোট: ১৯৫৩ সালের ১৪ মে বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে জয় পেলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি বাতিল করা হয়। তাই ফিফা বা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অফিশিয়াল রেকর্ডে সেটিকে আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।
পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে জুয়ার আসরে নেইমার! অবশ্য বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের। হতাশা কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তি খুঁজতেই এবার তাকে দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক রাজকীয় ক্যাসিনোয়। সেখানে তিনি অংশ নেন বিশ্বখ্যাত পোকার প্রতিযোগিতা ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার (ডব্লিউএসওপি)-এ।
এবারের বিশ্বকাপ আসরেও খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ১০ হাজার মার্কিন ডলার বাই-ইনের মেইন ইভেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। এক্সের এক ভিডিওতেও দেখা গেছে নেইমারকে।
এ বিষয়ে ফক্স স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোকার খেলায় নেইমার নতুন নন। ২০২৫ সালে একই টুর্নামেন্টে তিনি ফাইনাল টেবিল পর্যন্ত খেলেছিলেন। সুযোগ পেলে অনলাইনেও পোকার খেলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবল তারকা।
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই নেইমারের পোকার খেলায় অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। তবে নেইমারের অংশগ্রহণের ভিডিও প্রকাশ করে আয়োজকরা লিখেছে, ‘ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার ২০২৬-এ স্বাগতম, নেইমার।’
এছাড়া তারা আরও জানায়, বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সুপারস্টার ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সিক্স-ম্যাক্স টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা নয়, বরং গাঢ় নীল ‘অ্যাওয়ে’ জার্সি পরে খেলতে চায় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিষয়টি নিশ্চিত করতে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ফিফার কাছে অনুমতিও চেয়েছে।
ফিফার জার্সি-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের জার্সির রঙে সংঘাত এড়াতে প্রয়োজন হলে একটি দলকে বিকল্প জার্সি পরতে হয়। ইংল্যান্ড সেমি-ফাইনালে তাদের ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সি পরবে। ফলে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সির পরিবর্তে গাঢ় নীল জার্সি পরার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে শুধু নিয়ম নয়, এর পেছনে রয়েছে কুসংস্কার ও ইতিহাসও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে স্মরণীয় জয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নীল জার্সি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি-দুই গোলেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে তাদের গায়েও ছিল গাঢ় নীল জার্সি।
শুধু ১৯৮৬ নয়, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়েও ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেও নীল জার্সিতেই খেলেছিল আলবিসেলেস্তেরা। তাই অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষকের বিশ্বাস, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জার্সি সৌভাগ্যের প্রতীক।
অন্যদিকে আকাশি-সাদা জার্সিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে সুখকর স্মৃতি খুব বেশি নেই আর্জেন্টিনার। ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ইংলিশদের কাছে পরাজয়ের সময় তাদের গায়ে ছিল ঘরের জার্সি। সেই অতীতও নীল জার্সির প্রতি ঝোঁক বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে নীল জার্সির সঙ্গে আর্জেন্টিনার কিছু তিক্ত স্মৃতিও রয়েছে। ১৯৯০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে একই রঙের জার্সি পরে শিরোপা হারিয়েছিল দলটি। এরপরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্যের স্মৃতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আর্জেন্টাইন শিবিরে।
আর্জেন্টাইন সংবাদপত্রগুলোর ভাষ্য, লিওনেল মেসির জন্যও এটি হতে পারে বিশেষ এক ম্যাচ। জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। তাই ইতিহাস, আবেগ, কুসংস্কার এবং ফিফার পোশাকবিধি-সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গাঢ় নীল জার্সিতেই মাঠে নামতে আগ্রহী আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে দুই বিশ্বসেরা তারকার দল। সেই লড়াইয়ে যারা জিতবে। তারাই এগিয়ে থাকবে সোনালী ট্রফির পথে!
কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতানোর নায়ক! তখন লামিনে ইয়ামালের বয়স মাত্র ১১ বছর। সাত বছর পর সেই ইয়ামালই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ তারকাদের একজন। এবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছেন এমবাপ্পে ও ইয়ামাল।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। দলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি ম্যাচটির বড় আকর্ষণ দুই তারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। যদিও বিশ্বকাপে এই প্রথম দেখা, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এর আগে ১০ বার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। সেই লড়াইয়ে এগিয়ে ইয়ামাল। ১০ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছেন স্পেনের এই উইঙ্গার।
জাতীয় দলের হয়ে দুবার মুখোমুখি হয়েছেন এমবাপ্পে ও ইয়ামাল। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। ওই ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল করেন ইয়ামাল। এক বছর পর উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও ৫-৪ ব্যবধানে জেতে স্পেন। সেবার ইয়ামাল করেন জোড়া গোল, আর এমবাপ্পেও গোলের দেখা পান।
ক্লাব ফুটবলেও জমেছে তাদের লড়াই। চ্যাম্পিয়নস লিগ, এল ক্লাসিকো, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দেল রের ফাইনাল—বিভিন্ন আসরে মুখোমুখি হয়েছেন দুজন। জয়ের হিসাবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও গোলসংখ্যায় এগিয়ে এমবাপ্পে। ১০ ম্যাচে ফরাসি অধিনায়কের গোল ৯টি, ইয়ামালের ৬টি।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স ও স্পেন ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৮ ম্যাচ, ফ্রান্স ১৩টি এবং ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আছে স্পেন। তবে বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায়, ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে অন্যতম সফল ও দীর্ঘস্থায়ী এক জুটির অবসান ঘটল। চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং। তার দীর্ঘ ও গৌরবময় মেয়াদে চেন্নাই মোট পাঁচটি আইপিএল এবং দু’টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি (CLT20) শিরোপা জিতেছে।
চেন্নাই সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি সোমবার জানিয়েছে যে, (উভয় পক্ষ) পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্লেমিং এবং সুপার কিংস ম্যানেজমেন্টের মধ্যে উন্মুক্ত ও সৎ আলোচনার পর অত্যন্ত সম্মান ও কৃতজ্ঞতার সাথে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথেও সম্পর্কের ইতি
চেন্নাই সুপার কিংসের পাশাপাশি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানাধীন অন্য দুটি দল – জোবার্গ সুপার কিংস (SA20) এবং টেক্সাস সুপার কিংসের (MLC) প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন ফ্লেমিং। সম্প্রতি টেক্সাস সুপার কিংস ২০২৬ সালের মেজর লিগ ক্রিকেটে (MLC) তলানিতে থেকে আসর শেষ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘোষণা আসে। এছাড়া এসএ-২০ (SA20) টুর্নামেন্টেও গত চার মৌসুমে জোবার্গ সুপার কিংস একবারও ফাইনালে উঠতে পারেনি।
টানা ব্যর্থতাই বিদায়ের কারণ
আইপিএলে টানা তিন মৌসুম শিরোপাহীন থাকার পর থেকেই ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। ২০২৫ সালের আইপিএলে পয়েন্ট টেবিলের সবার নিচে থাকার পর, ২০২৬ সালের আসরেও চেন্নাই অষ্টম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে। এই বছর তাদের শেষ লিগ ম্যাচের পর ফ্লেমিং নিজেই বলেছিলেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার থাকা না-থাকাটা সম্পূর্ণ “ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত, আমার নয়।”
বিদায়বেলা ফ্লেমিংয়ের আবেগঘন বিবৃতি:
“খেলাধুলার জগতে ১৮ বছর একটা জীবনের সমান, আর আমি বুকভরা কৃতজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। চেন্নাই সুপার কিংসের সাথে কাটানো সময়টা আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। সিএসকে সবসময় আমার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবে।”
এক নজরে ফ্লেমিং-সিএসকে যুগের সাফল্য (২০০৯-২০২৬)
স্টিভেন ফ্লেমিং ২০০৮ সালের প্রথম আইপিএলে সিএসকে-র খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং এর পরের মৌসুমেই (২০০৯) প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সাথে তার অবিস্মরণীয় রসায়ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে গণ্য করা হয়।
আইপিএল শিরোপা (৫টি): ২০১০, ২০১১, ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৩।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি শিরোপা (২টি): ২০১০ এবং ২০১৪।
প্লে-অফ: রেকর্ড ১২ বার।
ফাইনাল: রেকর্ড ১০ বার।
ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন
সিএসকে-র মালিক রূপা গুরুনাথ ফ্লেমিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “স্টিফেন ফ্লেমিং প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে আমাদের কোচিং ইউনিটের হৃৎপিণ্ড ছিলেন। মাঠের লড়াই শেষ হলেও তিনি দলের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন।”
চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএস বিশ্বনাথন ফ্লেমিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, “দলের ভেতর ধারাবাহিকতা, নম্রতা এবং দলকে সবার আগে রাখার সংস্কৃতি তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিং। মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝা এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
২০১০ ও ২০১১ সালের টানা শিরোপা জয়, দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে ২০১৮ সালের রূপকথার মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়া কিংবা ২০২২ সালে রবীন্দ্র জাদেজার কাছ থেকে ধোনি পুনরায় নেতৃত্ব নেওয়ার পর ২০২৩ সালের শিরোপা জয়, সবই ফ্লেমিংয়ের কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ফ্লেমিং বিদায় নিলেও ব্যাটিং কোচ মাইক হাসি এবং বোলিং কোচ এরিক সাইমন্সের মতো অন্যান্য সহকারী স্টাফদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিএসকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।