Home Blog Page 99

ব্যর্থতার দায় নিয়ে ইংল্যান্ড সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ম্যাককালাম

0

ভারতের বিপক্ষে সিরিজ এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাশেজের মতো মেগা সিরিজগুলোতে প্রত্যাশিত ফলাফল এনে দিতে না পারার দায় কাঁধে নিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের পদ থেকে সদ্য বরখাস্ত হওয়া এই নিউজিল্যান্ডার স্বীকার করেছেন যে, অন্য কারো এখন এই দায়িত্ব নেওয়ার সঠিক সময় এসেছে। একই সাথে ব্যর্থতার জন্য ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের কাছে হার এবং বিদায়ের নেপথ্য

গত রবিবার, ১২ জুলাই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাককালামকে টেস্ট কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে তার চার বছরের টেস্ট অধ্যায়ের অবসান ঘটল, যেখানে ইংল্যান্ড ২৭টি জয়, ২০টি হার এবং ২টি ড্র দেখেছে।

ইসিবি-র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার এবং এর পরপরই টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসের আকস্মিক অবসরের সিদ্ধান্তই ম্যাককালামকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যর্থতাই কাল হলো

ম্যাককালামের অধীনে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় সিরিজগুলোতে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক:

  • গত শীতকালীন মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ হার।
  • ২০২৪ সালের শুরুতে ভারতের মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ পরাজয়।
  • ঘরের মাঠে উভয় দলের বিপক্ষেই ২-২ ব্যবধানে সিরিজ ড্র (কোনো সিরিজ জয় নেই)।

বড় সিরিজগুলোতে এই টানা ব্যর্থতা, দলের মাঠের বাইরের কিছু আচরণ এবং দলীয় সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের কারণে শেষ পর্যন্ত ইসিবি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

“পিঠে একটা টোকা দেওয়া হলো এবং বলা হলো সময় শেষ”

ভারতের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের আগে এজবাস্টনে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাককালাম তার বরখাস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, তাকে পদত্যাগ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি, বরং সরাসরি চাকরিচ্যুতির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল:

“আমাকে ডেকে পিঠে একটা টোকা দেওয়া হলো (বিদায় জানানো হলো)। আমি প্রাথমিকভাবে হতাশ হয়েছিলাম, তবে একই সাথে এই সিদ্ধান্তকে আমি পুরোপুরি সম্মান জানাই। আমরা এমন একটা পেশায় আছি যা ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল এবং সত্যি বলতে আমাদের ফলাফল যথেষ্ট ভালো ছিল না। এখন অন্য কারও এসে চেষ্টা করার সময় হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজগুলোই হলো ক্রিকেটের আসল মঞ্চ। আপনি যদি সেগুলোতে জিততে না পারেন, তবে আপনার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। আমরা বড় সিরিজগুলো জিততে পারিনি, আর সেটার জন্য আমি কেবল দুঃখ প্রকাশ করতে পারি (ক্ষমা চাচ্ছি)।”

চার বছরের টেস্ট অধ্যায় এক নজরে

মানদণ্ডপরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ৪৯টি
জয়২৭টি
হার২০টি
ড্র২টি

ম্যাককালামের মতে, ফলাফল যা-ই হোক না কেন, গত চার বছর ছিল তার ২০ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হাইলাইট বা গৌরবময় সময়।

পরবর্তী টেস্ট কোচ কে?

ইসিবি ইতিমধ্যেই নতুন টেস্ট কোচের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। যার মধ্যে ইংল্যান্ডের সাবেক সফল কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার প্রধান পছন্দের তালিকায় আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সাদা বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে চান ম্যাককালাম

টেস্ট দল থেকে বাদ পড়লেও ২০২৫ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া সীমিত ওভারের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) কোচ হিসেবে বহাল থাকছেন ম্যাককালাম। আগামী বছরের নভেম্বর (২০২৭) পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে।

টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ড সম্প্রতি ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। ম্যাককালাম জানান, এখন তার পুরো মনোযোগ ও শক্তি থাকবে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দলের ওপর, যাতে ইংল্যান্ডকে আবারও বড় ট্রফি জেতানো যায় এবং ইংলিশ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হয়।

১০০ ম্যাচে ২৯২ গোল – ২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড ভাঙা গোলের মহোৎসব

ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের পরিধি এবং দলের সংখ্যা বাড়ায় এবার ম্যাচ সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই মাঠের লড়াইয়ে দেখা গেছে গোলের বন্যা। পুরো টুর্নামেন্টের ১০০টি ম্যাচ শেষে জাল কাঁপানো গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২৯২টি! প্রতি ম্যাচে গোলের অবিশ্বাস্য গড় এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের এমন প্রদর্শনী এর আগে কোনো বিশ্বকাপে দেখেনি ফুটবল বিশ্ব।

পরিসংখ্যানের আয়নায় গোলবন্যা

৪৮ দলের এই বিশাল মহাযজ্ঞে প্রথম ম্যাচ থেকেই দলগুলো রক্ষণাত্মক কৌশল ভেঙে আক্রমণাত্মক ফুটবলে মনোযোগ দেয়। যার প্রভাব পড়েছে সরাসরি স্কোরবোর্ডে।

  • মোট ম্যাচ: ১০০টি
  • মোট গোল: ২৯২টি
  • ম্যাচ প্রতি গোলের গড়: ২.৯২ (প্রায় ৩টি গোল প্রতি ম্যাচে)

এই দুর্দান্ত গড় প্রমাণ করে যে, আধুনিক ফুটবলে দলগুলো কেবল রক্ষণ সামলানোর চেয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ছোট দলগুলোর বড় দলগুলোকে চমকে দেওয়া এবং হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোতে একের পর এক গোল এই সংখ্যাকে তিনশর কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

রেকর্ড ভাঙার বিশ্বকাপ

এর আগে ৩২ দলের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল ১৭২টি (১৯৯৮, ২০১৪ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে)। তবে দল এবং ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার গোলের সব পুরোনো রেকর্ড ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। ১০০টি ম্যাচের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নকআউট পর্ব এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোতে গোলের হার ছিল সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দল বাড়ার কারণে মাঠের লড়াইয়ে যেমন বৈচিত্র্য এসেছে, তেমনি নতুন ও উদীয়মান দলগুলো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অকুতোভয় ফুটবল খেলে গোল সংখ্যা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

গোলবন্যার পেছনে প্রধান কারণসমূহ

  • আক্রমণাত্মক কৌশল: অংশগ্রহণকারী দলগুলোর “কাউন্টার অ্যাটাকিং” এবং হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলার প্রবণতা।
  • তারকা স্ট্রাইকারদের ফর্ম: কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসিসহ বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদের গোল খরাহীন অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা।
  • অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি: নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোলের ছড়াছড়ি।

দর্শকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় টুর্নামেন্ট

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এবারের বিশ্বকাপ ছিল এক পরম তৃপ্তির। মাঠে ম্যাড়ম্যাড়ে ড্র বা গোলশূন্য ম্যাচের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। ১০০টি ম্যাচে ২৯২টি গোলের এই রোমাঞ্চকর পরিসংখ্যান কেবল রেকর্ড বইয়েই জায়গা করে নেয়নি, বরং ২০২৬ বিশ্বকাপকে ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ও সফলতম টুর্নামেন্ট হিসেবে অমরত্ব এনে দিয়েছে।

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলার ছাড়পত্র পেলেন শাহীন আফ্রিদি

0

খেলবেন ক্যান্ডি রয়্যালস এর হয়ে

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (LPL) নিজের অভিষেক আসর মাতাতে প্রস্তুত পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। চলতি সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ক্যান্ডি রয়্যালসের হয়ে মাঠ মাতাবেন তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) নিশ্চিত করেছে যে, এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য আফ্রিদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) দেওয়া হয়েছে।

টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত

সম্প্রতি টেস্ট ক্রিকেটে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েন ২৬ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার। মূলত লাল বলের চেয়ে সাদা বলের ক্রিকেটের প্রতিই আফ্রিদির ঝোঁক এখন বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পাকিস্তানের নির্বাচক ও হাই-পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন:

“কোন সংস্করণে খেলবেন, সেটি একজন খেলোয়াড়কে নিজেই বেছে নিতে হবে।”

উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজটির সময়সূচি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (LPL) সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় আফ্রিদি লাল বলের ক্রিকেট বাদ দিয়ে এলপিএলকেই বেছে নিয়েছেন। এর আগে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে চলমান সাদা বলের ক্যাম্পে ডাক পেলেও সিলেটের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল।

অধিনায়ক হিসেবে সাম্প্রতিক সাফল্য

লাল বলে অফ-ফর্ম থাকলেও সাদা বলের ক্রিকেটে আফ্রিদির সাম্প্রতিক ফর্ম দুর্দান্ত। গত বছর পাকিস্তানের ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর, গত মাসে তার নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে পাকিস্তান।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মাত্র ১২.১৪ গড়ে ৭টি উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন তিনি। তার সাথে সমান ৭টি করে উইকেট নেন নবাগত বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাস এবং অস্ট্রেলিয়ার পেসার নাথান এলিস।

এক নজরে শাহীন আফ্রিদির টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শাহীন আফ্রিদি বিশ্বজুড়ে অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন এক বোলার। তার সামগ্রিক পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:

ক্যাটাগরিআন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি (T20I)সামগ্রিক টি-টোয়েন্টি (T20)
মোট উইকেট১৩৬টি*৩৬২টি
গড় (Average)২১.৩৫২০.৯৯
ইকোনমি রেট৭.৮৩৭.৯৭

*উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৩৬ উইকেট নিয়ে আফ্রিদিই এখন পাকিস্তানের ইতিহাসের সফলতম টি-টোয়েন্টি বোলার।

এক বছরে দ্বিতীয় বিদেশি লিগ

গত এক বছরের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে কোনো বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে শাহীন আফ্রিদির দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে (BBL) ব্রিসবেন হিটের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। যদিও বিবিএলের সেই সফরটি তার জন্য সুখকর ছিল না; ৪ ম্যাচ খেলে ৭৬.৫০ গড়ে মাত্র ২ উইকেট নিতে পেরেছিলেন তিনি। তবে ক্যান্ডি রয়্যালসের হয়ে লঙ্কান কন্ডিশনে সেই ব্যর্থতা ঘুচিয়ে ফর্মে ফিরতে মরিয়া থাকবেন এই স্পিডস্টার।

এলপিএল সূচি ও ক্যান্ডির প্রথম ম্যাচ

এবারের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (LPL) শুরু হবে আগামী ১৭ জুলাই এবং পর্দা নামবে ৮ আগস্ট। শাহীন আফ্রিদির দল ক্যান্ডি রয়্যালস আগামী ১৮ জুলাই ডাম্বুলা সিক্সার্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের মিশন শুরু করবে।

দেখে নিন বিশ্বকাপ সেমির আগে ফ্রান্স-স্পেনের সেরা পাঁচ লড়াই

দেখে নিন বিশ্বকাপ সেমির আগে ফ্রান্স-স্পেনের সেরা পাঁচ লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ১৪ জুলাই রাত ১টায় মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ফ্রান্স ও স্পেন। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থ এবং টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার লক্ষ্যে নিয়ে মাঠে নামবে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।

অন্যদিকে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেনের লক্ষ্য দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। প্রথম ও শেষবার ২০১০ সালে ফাইনাল খেলেছিল স্প্যানিশরা। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করেছিল স্পেন। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্প্যানিশরা।

ফ্রান্স ও স্পেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালের আগে অতীতে হওয়া দু’দলের মধ্যকার সেরা পাঁচ লড়াইয়ে চোখ বোলানো যাক।

‘আরকোনাদার মারাত্মক ভুল, ফ্রান্সের প্রথম শিরোপা’

১৯৮৪ সালে ইউরোপীয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ফ্রান্স। ফাইনালে স্পেনকে ২-০ গোলে হারায় তারা।

১৯৮৪ সালে ইউরো ফাইনালে ইউরোপের দুই প্রতিবেশী ফ্রান্স ও স্পেনের কোন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের প্রথম দেখা হয়েছিল। মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় ফ্রান্স।

প্যারিসের পার্ক ডি প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও, ৫৭ মিনিটে গোল করে ফ্রান্সকে প্রথম এগিয়ে দেন প্লাতিনি। ডি বক্সের বাইরে থেকে প্লাতিনির ফ্রি-কিক স্পেনের গোলরক্ষক লুইস আরকোনাদার হাত ফসকে বল জালে প্রবেশ করে। ঐ টুর্নামেন্টের পাঁচ ম্যাচে এটি নবম গোল ছিল প্লাতিনির।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ফ্রান্সের লে রুক্স লাল কার্ড দেখলে দশ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স। তবে ৯০ মিনিটে ব্রুনো বেলোনে গোল করলে ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলেই ফাইনাল জিতে শিরোপা ঘরে তুলে ফরাসিরা।

এরপর ২০০৮ সালে ইউরো জয়ের আগে আর কোন প্রতিযোগিতামূলক আসরের ফাইনালে উঠতে পারেনি স্পেন।

‘হ্যানোভারে ফরাসিদের প্রত্যাবর্তন ’

২০০৬ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ফ্রান্স ৩ : স্পেন ১

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের ১টিতে জয় ও ২টিতে হেরে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে ফ্রান্স। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোর টিকিট পায় স্পেন। এরপর হ্যানোভারে শেষ ষোলোতে দেখা হয় ফ্রান্স ও স্পেনের। কাগজে কলমে ফেভারিটের তকমাটা স্পেনের গায়েই ছিল। সেটি মাঠে প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নেয়নি স্প্যানিশরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ডেভিড ভিয়া।

তবে লিড ধরে রাখতে পারেনি স্পেন। প্রথমার্ধেই গোল পরিশোধ করে ফ্রান্স। ৪১ মিনিটে ফ্রাঙ্ক রিবেরির গোলে ম্যাচে সমতা পায় ফরাসিরা।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া থাকে ফ্রান্স ও স্পেন। অবশেষে ৮৩ মিনিটে প্যাট্রিক ভিয়েরার গোলে ম্যাচে লিড নেয় ফ্রান্স। এরপর ইনজুরি সময়ে স্পেনের জালে তৃতীয়বারের মতো বল পাঠান ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ফ্রান্স।

শেষ আটে ব্রাজিলকে ও সেমিফাইনালে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে ফ্রান্স। কিন্তু ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারে ফরাসিরা।

‘নেশন্স লিগ জিতলেন এমবাপ্পে’

২০২১ উয়েফা নেশন্স লিগ ফাইনাল : স্পেন ১ – ফ্রান্স ২

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেনের। যার শুরুটা হয়েছিল মিলানে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের নেশন্স লিগের ফাইনাল দিয়ে।

কোভিড মহামারির কারণে সীমিত সংখ্যক দর্শকের সামনে, খেলার প্রথমভাগে কোন দলই গোল করতে পারেনি। ৬৪ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবাল। ১-০ গোলের লিড নেয় লুইস এনরিকের স্পেন।

পিছিয়ে পড়ার দুই মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরায় রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। কিলিয়ান এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন বেনজেমা।

ম্যাচের সমতা ফিরিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ফ্রান্স। এবার ৮০ মিনিটে নিজেই গোলদাতার তালিকায় নাম তুলেন এমবাপ্পে। এতে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নেয় ফ্রান্স।

‘ইয়ামালের বিস্ময়কর গোল’

ইউরো ২০২৪ সেমিফাইনাল : স্পেন ২ – ফ্রান্স ১

ইউরো ২০২৪ সালের দল থেকে চলতি বিশ্বকাপের ফ্রান্স দল একেবারেই ভিন্ন। ঐ আসরে পাঁচ ম্যাচে তিনটি গোল করে শেষ চারের টিকিট পায় ফরাসিরা। যার মধ্যে একটি পেনাল্টি এবং অন্য দু’টি আত্মঘাতী গোল ছিল।

মিউনিখে স্পেনের বিপক্ষে সেমি ফাইনালে খেলার শুরুতে নবম মিনিটে এমবাপ্পের দারুণ পাস থেকে হেডে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন রান্ডাল কোলো মুয়ানি। টুর্নামেন্টে প্রথম ফরাসি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেন মুয়ানি।

তবে ১৭তম জন্মদিনের চার দিন আগে ডি-বক্সের বাইরে বাঁকানো শটে গোল করেন লামিন ইয়ামাল। এতে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় স্পেন। ৪ মিনিট পর দানি ওলমো গোলে দ্বিগুণ লিড নেয় স্পেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধান ধরে রেখে ফাইনালে উঠে স্পেন। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে স্প্যানিশরা।

 ‘নয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ’

২০২৫ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ সেমিফাইনাল : স্পেন ৫- ফ্রান্স ৪

গত বছরের জুন মাসে স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও স্পেন।

নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোর গোলে ২৫ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর ৫৪ মিনিটে লামিন ইয়ামালের পেনাল্টি এবং ৫৫ মিনিটে পেদ্রির গোলে ৪-০ গোলে এগিয়ে সহজ জয় দেখছিল স্পেন।

৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ব্যবধান কমায় ফ্রান্স। তবে ৬৭ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় স্পেন। পেনাল্টি থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। ৫-১ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।

পাঁচ গোল হজম করেও দমে যায়নি ফ্রান্স। ম্যাচে ফিরতে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে তারা। ৭৯ মিনিটে রায়ান চেরকি, ৮৪ মিনিটে দানি ভিভিয়ানের আত্মঘাতী গোল এবং ৯৩ মিনিটে ও রান্দাল কোলো মুয়ানির গোলে ব্যবধান ৫-৪এ নামিয়ে আনে ফ্রান্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি ফরাসিদের। নয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ হেরে সেমি থেকে বিদায় নেয় তারা। 

ফাইনালে টাইব্রেকারে পর্তুগালের কাছে হেরে যায় যায় স্পেন। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে সমতা থাকার পর পেনাল্টিতে ৫-৩ গোলে হারে স্প্যানিশরা।

২০২৪ অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জয়ের ম্যাচে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়েছিল স্পেন।

বিশ্বকাপে স্পেন-ফ্রান্স প্রথম সেমিতেরেফারি বার্টন

ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্স-স্পেনের মধ্যকার হাইভোল্টেজ প্রথম সেমিফাইনাল প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন এল সালভাদরের ইভান বার্টন। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ১৪ জুলাই আজ রাত ১টায় অনুষ্ঠিতব্য ফ্রান্স-স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের রেফারিদের নাম চূড়ান্ত করেছে ফিফা।

এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথম এল সালভাদরীয় রেফারি হিসেবে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন বার্টন। এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ৩৫ বছর বয়সী বার্টন। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে-তুরস্ক ম্যাচ, জাপান-সুইডেন এবং শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল হবে বার্টনের চতুর্থ ম্যাচ। তুরস্ক-প্যারাগুয়ে ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বার্টন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে লাল কার্ড দেন বার্টন। কারণ ম্যাচ চলাকালীন মুখ ঢেকে তুরস্কের মের্ত মুলদুরের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন আলমিরন। এটি দেখে ফেলেন বার্টন।

এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে আলমিরনকে লাল কার্ড দেখান বার্টন।  মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে লাল কার্ডের ঘটনা এই বিশ্বকাপে প্রথম তুরস্ক-প্যারাগুয়ে ম্যাচে ঘটল।  এছাড়া নিয়মিত নেশনস লিগ ও গোল্ড কাপসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে বার্টনের।

তবে প্রথম সেমিফাইনালে সহকারী রেফারি-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বার্টনের স্বদেশি ডেভিড মোরান এবং সহকারী রেফারি-২ হিসেবে থাকছেন নিকারাগুয়ার আন্তোনিও পুপিরো। ম্যাচে চতুর্থ এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন সুইডেনেরই গ্লেন নিয়বার্গ ও মাহবোদ বেগি।

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে ফিফা ঘোষিত রেফারিদের তালিকায় আরও আছেন :

প্রধান রেফারি : ইভান বার্টন (এল সালভাদর)

সহকারী রেফারি-১ : ডেভিড মোরান (এল সালভাদর)

সহকারী রেফারি-২ : আন্তোনিও পুপিরো (নিকারাগুয়া)

চতুর্থ রেফারি : গ্লেন নিয়বার্গ (সুইডেন)

রিজার্ভ সহকারী রেফারি : মাহবোদ বেইগি (সুইডেন)

স্পেন বনাম ফ্রান্স – দুই পরাশক্তির মহারণে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট কার?

বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হয়, তখন সেটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ থাকে না, এটি পরিণত হয় কৌশল, গতি, দক্ষতা এবং মানসিক শক্তির এক অনন্য পরীক্ষায়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালও ঠিক তেমনই একটি লড়াই। বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান দুই পরাশক্তি আজ মঙ্গলবার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামবে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই যাদের শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেই দুই দলই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ চারে। টেক্সাসের আর্লিংটন স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত একটায়।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের এই মুহুর্তে শীর্ষে থাকা ফ্রান্স এবং তিনে থাকা স্পেন শুধু নামের জোরে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও দেখিয়েছে কেন তারা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দল। তাই ফুটবলবিশ্বের চোখ এখন এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালের দিকে।


অপরাজিত ফ্রান্স, ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচও হারেনি ফ্রান্স। ছয় ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র দু’টি। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি রক্ষণ নয়, বরং বিধ্বংসী আক্রমণভাগ।

দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ছয় ম্যাচে আট গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন। প্রতিটি ম্যাচেই তার গতি, ফিনিশিং এবং ডিফেন্স ভাঙার ক্ষমতা প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে তুলেছে।

অন্যদিকে, উসমান দেম্বেলে ইতোমধ্যেই পাঁচ গোল করেছেন। ডান কিংবা বাম, দুই দিক থেকেই সমান কার্যকর এই ফরোয়ার্ড। আর মাইকেল অলিসে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছয়টি অ্যাসিস্ট করে ফরাসি আক্রমণকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমবাপ্পে-দেম্বেলে-অলিসের সমন্বয়ই এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণত্রয়ী।

নেটএসআই স্পোর্ট রিসার্চ গ্রুপের পরিচালক ব্রেনান ক্লেইনের মতে, ফ্রান্সের এই আক্রমণভাগই তাদের অপরাজিত থাকার সবচেয়ে বড় কারণ। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের সামান্য ভুলও মুহূর্তের মধ্যে গোলে পরিণত করতে পারে তারা।


স্পেনের শক্তি: নিখুঁত রক্ষণ, বলের নিয়ন্ত্রণ আর মিডফিল্ডের আধিপত্য

যেখানে ফ্রান্স আক্রমণে ভয়ঙ্কর, সেখানে স্পেনের মূল শক্তি তাদের অসাধারণ রক্ষণ এবং বলের নিয়ন্ত্রণ।

পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র একটি। শুধু রক্ষণভাগ নয়, বল হারানোর পর দ্রুত সেটি পুনরুদ্ধার করার ক্ষেত্রেও তারা সবার চেয়ে এগিয়ে।

পরিসংখ্যান বলছে—

  • বলের দখল হারানোর পর পুনরুদ্ধারে স্পেনের গড়ে সময় লাগে মাত্র ১১.৬ সেকেন্ড।
  • একই কাজে ফ্রান্সের সময় লাগে ১৪.৬ সেকেন্ড।
  • প্রতি ম্যাচে স্পেন প্রতিপক্ষকে গড়ে ৪৮.২ বার বল হারাতে বাধ্য করে।
  • ফ্রান্সের গড় ৪১.২।

এই আধিপত্যের মূল কারিগর তিন মিডফিল্ডার- পেদ্রি, রদ্রি এবং দানি ওলমো। তাদের সঙ্গে উইংয়ে আছেন মিকেল ওয়ারজাবাল এবং তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল, যারা দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলতে এবং বলের দখল ধরে রাখতে অসাধারণ ভূমিকা রাখছেন।


পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে?

মানদণ্ডস্পেনফ্রান্স
টুর্নামেন্ট-পূর্ব ফিফা র‍্যাঙ্কিং৩১
হজম করা গোল১২
বল রিকভারি সময়১১.৬ সেকেন্ড১৪.৬ সেকেন্ড
ম্যাচপ্রতি Forced Turnover৪৮.২৪১.২

এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায়, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষেত্রে স্পেন এগিয়ে। অন্যদিকে গোল করার দক্ষতায় ফ্রান্সের সমকক্ষ বর্তমানে খুব কম দলই আছে।


শুধু আক্রমণ বনাম রক্ষণ নয়, এটি দুই পূর্ণাঙ্গ দলের লড়াই

অনেকেই ম্যাচটিকে ফ্রান্সের আক্রমণ বনাম স্পেনের রক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তবে ব্রেনান ক্লেইন মনে করেন, বাস্তবতা আরও জটিল।

তার মতে, দুটি দলই আক্রমণ, রক্ষণ, মিডফিল্ড এবং দলীয় সংগঠনের দিক থেকে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। তাই ম্যাচটি নির্ধারিত হবে ছোট ছোট মুহূর্ত, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতার ওপর।

অর্থাৎ এটি কেবল এমবাপ্পে বনাম রদ্রির লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের সেরা দুই দলীয় দর্শনের সংঘর্ষ।


বিশেষজ্ঞের চোখে ম্যাচ

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ অ্যাশলে ফিলিপস মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে এটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

তার ভাষায়—

“বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দক্ষতার কারণে স্পেন সামান্য এগিয়ে থাকবে। তবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। মাঠে যে পরিমাণ প্রতিভা রয়েছে, তাতে এটি কোনো ম্যাড়ম্যাড়ে ১-০ ব্যবধানের ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং গোলবহুল এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখার সম্ভাবনাই বেশি।”


ইতিহাসও বলছে সমানে সমান

স্পেন ও ফ্রান্স ইউরোপের সবচেয়ে সফল দুই ফুটবল শক্তি। বিশ্বকাপ, ইউরো কিংবা নেশন্স লিগ, বড় আসরে একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। ফলে এই সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বেরও পরীক্ষা।


যে লড়াই নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী এই দুই দলকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে দেখেছিলেন। ভাগ্যের পরিহাসে সেই মহারণ হচ্ছে ফাইনালের আগেই।

একদিকে এমবাপ্পে-দেম্বেলে-অলিসের বিধ্বংসী আক্রমণ, অন্যদিকে রদ্রি-পেদ্রি-ওলমোদের বলের নিয়ন্ত্রণ ও নিখুঁত কৌশল। পরিসংখ্যান বলছে স্পেন সামান্য এগিয়ে, কিন্তু ব্যক্তিগত প্রতিভা ও ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্যে ফ্রান্সও সমান ভয়ঙ্কর।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই সেমিফাইনাল। নব্বই মিনিট, কিংবা প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের শেষে নিশ্চিত হবে, বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেবে স্পেন, নাকি ফ্রান্স। আর সেই সঙ্গে নির্ধারিত হবে, কে আর মাত্র এক ধাপ দূরে থাকবে বিশ্বসেরার মুকুট ছোঁয়ার।

লর্ডসে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের লজ্জায় ডোবালো ভারত

0

ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিজেদের প্রথম নারী টেস্ট ম্যাচেই ইতিহাস গড়ল ভারত। স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে ভারতীয় স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৯৫ মিনিটেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। এই জয়টি নারী টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয় হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে।

শেষ দিনের রোমাঞ্চ ও স্নেহ রানার ঘূর্ণি

চতুর্থ দিনে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২৭ রান, হাতে ছিল মাত্র ৪ উইকেট। ১৩০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করে ইংল্যান্ড।

অ্যামি জোনসের দ্রুত বিদায়: আগের দিনের ৫২ রানের সাথে মাত্র ২ রান যোগ করে দিনের শুরুতেই (চতুর্থ দিনের ১৮তম বলে) স্নেহ রানার শিকার হন অ্যামি জোনস। মিডউকেটে শেফালি বর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজঘরে ফিরলে ইংল্যান্ডের টেল-এন্ডাররা পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

এক্লেস্টোনের প্রতিরোধ ও পতন: ইংলিশ স্পিনার সোফি এক্লেস্টোন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে খেলেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক হাফ-সেঞ্চুরি (৫০ রান)। ৬১ বলে ফিফটি ছোঁয়ার ঠিক পরেই স্নেহ রানার একটি ঘূর্ণি বল তার রক্ষণ ভেঙে স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেয়। এটি ছিল ইনিংসে রানার চতুর্থ এবং ম্যাচে ষষ্ঠ উইকেট।

লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতা: লরেন ফাইলার ২২ বল খেলে ১টি চারের সাহায্যে ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তবে অন্যদিকে ইসি অং ৩৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করার পর দীপ্তি শর্মার করা দিনের পঞ্চম বলেই বোল্ড হন।

বেলকে ফিরিয়ে জয় নিশ্চিত: পেটের পেশির ব্যথার কারণে তৃতীয় দিন ফিল্ডিং করতে না পারা লরেন বেল ব্যাট করতে নামলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দীপ্তি শর্মার দুর্দান্ত এক টার্নিং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ০ রানে বিদায় নেন তিনি। দীপ্তি মাত্র ৭ বলের ব্যবধানে শেষ দুটি উইকেট শিকার করেন।

বিদায়ী তারকাদের হতাশা

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক হেদার নাইট এবং ওপেনার ট্যামি বিউমন্ট এই ম্যাচের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিদায়ী ম্যাচটি রঙিন করতে পারেননি কেউই। দ্বিতীয় ইনিংসে নাইট মাত্র ১৩ রান করে আউট হন এবং বিউমন্ট আউট হন গোল্ডেন ডাক (০) মেরে।

প্রথম ইনিংস থেকেই ভারতের আধিপত্য

ইংল্যান্ড টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠালেও ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। স্মৃতি মান্ধানার ৮৩, অধিনায়ক হারমানপ্রীতের ৫৮ এবং দীপ্তি শর্মার ৫৭ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৮৫ রান তোলে ভারত।

জবাবে ভারতীয় পেসার ক্রান্তি গৌড়ের বিধ্বংসী স্পেলের (৫/৩৭) সামনে ১৭০ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে প্রথম ইনিংসেই ১১৫ রানের বড় লিড পায় ভারত।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইয়াস্তিকা ভাটিয়ার দুর্দান্ত ১১৩ রান, স্মৃতি মান্ধানার ৭০ এবং রিচা ঘোষের অপরাজিত ৫০ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ইংল্যান্ডের সামনে পাহাড়সম ৪৫৭ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় তারা।

তৃতীয় দিন শেষ বিকেলেই ভারতের দুই পেসার ক্রান্তি গৌড় ও সায়ালি সাতঘরে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারে আঘাত হেনে ৪টি উইকেট ভাগ করে নেন। বাকি কাজটুকু শেষ দিনে সেরে নেন স্পিনার স্নেহ রানা ও দীপ্তি শর্মা। পুরো ম্যাচ জুড়ে দাপট বজায় রেখে লর্ডসের মাটিতে এক ঐতিহাসিক জয়ের লাল গালিচায় পা রাখল ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:

  • ভারত (প্রথম ইনিংস): ২৮৫/১০ (স্মৃতি মান্ধানা ৮৩, হারমানপ্রীত কৌর ৫৮, দীপ্তি শর্মা ৫৭)
  • ইংল্যান্ড (প্রথম ইনিংস): ১৭০/১০ (অ্যামি জোনস ৫২; ক্রান্তি গৌড় ৫-৩৭)
  • ভারত (দ্বিতীয় ইনিংস): ৩৪১/৭ ডিক্লেয়ার্ড (ইয়াস্তিকা ভাটিয়া ১১৩, স্মৃতি মান্ধানা ৭০, রিচা ঘোষ ৫০*; সোফি এক্লেস্টোন ৫-১১৮)
  • ইংল্যান্ড (দ্বিতীয় ইনিংস): ১৮৬/১০ (অ্যামি জোনস ৫৪, সোফি এক্লেস্টোন ৫০; স্নেহ রানা ৪-৪২)
  • ফলাফল: ভারত ২৭০ রানে জয়ী।

লর্ডসের অনার্স বোর্ডে চার নাম

এই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে লর্ডসের বিখ্যাত ‘অনার্স বোর্ডে’ নাম লিখিয়েছেন চারজন ক্রিকেটার:

  1. ইয়াস্তিকা ভাটিয়া (ভারত): দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রানের অনবদ্য সেঞ্চুরি করে ব্যাটিং অনার্স বোর্ডে নিজের নাম তোলেন।
  2. ক্রান্তি গৌড় (ভারত): প্রথম ইনিংসে ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই বোলিং অনার্স বোর্ডে নাম লেখান।
  3. সোফি এক্লেস্টোন (ইংল্যান্ড): ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে অনার্স বোর্ডে নিজের নাম যুক্ত করেন।
  4. সায়ালি সাতঘরে (ভারত): প্রথম ইনিংসে দারুণ বোলিং করে অবদান রাখেন।

লেনক্সের ৫ উইকেট – ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল নিউজিল্যান্ড

0

বোলিং সহায়ক উইকেটে জেডেন লেনক্সের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের ওপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফেরালো নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের মাত্র ১৩৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কিউইরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৩৮/১০ (জন ক্যাম্পবেল ৪৩; জেডেন লেনক্স ৫/১৯)
  • নিউজিল্যান্ড: ১৪১/৫ (টম লাথাম ৩৭*; আলজারি জোসেফ ১ উইকেট)
  • ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।

লেনক্সের ঘূর্ণি ও ক্যারিবিয়ানদের ধস

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা অবশ্য দুর্দান্ত ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে জন ক্যাম্পবেল ও আকিম অগুস্ত ৬৩ রান যোগ করেন। তবে মাইকেল ব্রেসওয়েল এই জুটি ভাঙার পরই শুরু হয় স্বাগতিকদের ব্যাটিং বিপর্যয়। উইকেটের ফায়দা তুলে নিয়ে মাত্র ৭৫ রানের ব্যবধানে শেষ ১০টি উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার জেডেন লেনক্স একাই ধসিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডার। মাত্র ১৯ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৫টি উইকেট। এটি নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো স্পিনারের তৃতীয় সেরা বোলিং রেকর্ড। লেনক্সের প্রথম ৪টি উইকেটই আসে বোল্ড আউট থেকে। প্রথম দু’টি রেকর্ড ধরে রেখেছেন ইশ সোধি ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। ইশ সোধি ৩৯ রানে ৬ এবং ভেট্টোরি ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।

তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তিনি ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররা মিলে মোট ৯টি উইকেট ভাগ করে নেন, যা কিউই ওয়ানডে ইতিহাসের এক ইনিংসে স্পিনারদের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।

রান তাড়া ও নিউজিল্যান্ডের জয়

১৩৯ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডও কিছুটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল। ৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটির পর দ্রুতই ৩টি উইকেট হারিয়ে বসে তারা, যার মধ্যে মার্ক চ্যাপম্যান শূন্য রানে রানআউট হন।

দলের স্কোর ৯৬ রানে ৫ উইকেট হয়ে যাওয়ার পর ইনিংসের হাল ধরেন টম লাথাম ও মাইকেল ব্রেসওয়েল। লাথাম ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অন্যপ্রান্তে ব্রেসওয়েল দুটি চারের সাহায্যে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের ১০০০ রান পূর্ণ করেন।

৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি এখন ১-১ সমতায় রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার গায়ানায় সিরিজের শেষ ও নির্ধারক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে অর্জনের ঝুলি এতটাই সমৃদ্ধ যে নতুন করে আর কী পাওয়ার থাকতে পারে- এমন প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন-সবই নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবু এত দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একটি অপূর্ণতা রয়ে গিয়েছিল। সেটি হলো ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে কখনো না খেলা।

সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা, আর ৩৯ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি।

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ড শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার পরই নিশ্চিত হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত এই দ্বৈরথ। বিশ্ব ফুটবলের দুই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে এবার যুক্ত হচ্ছে মেসির নামও।

ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে সাফল্য

অবশ্য ক্লাব ফুটবলে ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে মেসির অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। বার্সেলোনার জার্সিতে তিনি খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, লিভারপুল, আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবগুলোর বিপক্ষে। বিশেষ করে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে চার গোলের অবিস্মরণীয় ম্যাচটি এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত।

সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ৩৬ ম্যাচে মেসির গোল ২৭টি, সঙ্গে রয়েছে ৬টি অ্যাসিস্ট। কিন্তু ক্লাব পর্যায়ে এত সাফল্য থাকলেও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে কখনো মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার।

এর পেছনে রয়েছে এক বিরল কাকতালীয় ঘটনা। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। তার মাত্র তিন মাস আগে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল মেসির। কিন্তু সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞার কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো টুর্নামেন্ট বা প্রীতি ম্যাচে আর মুখোমুখি হয়নি দুই দল। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির না খেলার বিষয়টি এখন এক ব্যতিক্রমী পরিসংখ্যানে পরিণত হয়েছে।

গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে মেসি

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ইতিহাসও রোমাঞ্চে ভরা। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড কিংবা ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের জয়-প্রতিবারই এই লড়াই বিশ্ব ফুটবলে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

মেসির জন্ম ১৯৮৭ সালে হওয়ায় ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এই তারকা জানিয়েছেন, ভিডিও, ছবি এবং মানুষের মুখে মুখেই সেই ম্যাচের স্মৃতি তার কাছে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘১৯৮৬ সালের ম্যাচের যত স্মৃতি আমার আছে, সবই ভিডিও আর ছবির মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার মানুষ এখনও সেই ম্যাচগুলো বারবার দেখে এবং স্মরণ করে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ নিয়ে মেসি বলেন, ‌প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, আমরা নিজেদের ফুটবলই খেলতে চাই। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ। তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই খেলেছি। তাই ব্যক্তিগতভাবেও এই ম্যাচটি আমার জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’

ছন্দে মেসি

চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এখন পর্যন্ত আট গোল করে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে গোলযাত্রা শুরু করা মেসি পরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। এছাড়া জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে একটি করে গোল করেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সেমিফাইনাল শুধু আর্জেন্টিনার জন্য ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়; এটি মেসির ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবার নিজের নাম লেখানোর সুযোগটি তাই তার জন্যও হয়ে উঠেছে বিশেষ তাৎপর্যের।

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে বীরের বেশে দেশে ফিরল নরওয়ে

বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারেনি নরওয়ে। পৌঁছাতে পারেনি ফাইনাল বা সেমিফাইনালে। তবু উত্তর ইউরোপের দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এবারের আসরটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই ইতিহাসের নায়কদের বরণ করে নিতে সোমবার রাজধানী অসলোয় নেমেছিল জনতার ঢল। হাজার হাজার উচ্ছ্বসিত সমর্থকের ভালোবাসা আর রাজপরিবারের উপস্থিতিতে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে নরওয়ে দলের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেয় নরওয়ে। প্রথমবারের মতো তারা পৌঁছে যায় পুরুষদের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা রচনা করে অন্যতম বড় অঘটন। যদিও শেষ আটে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে শেষ হয়ে যায় তাদের স্বপ্নযাত্রা।

বিশ্বকাপজুড়ে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন আর্লিং হালান্ড। সাত গোল করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে। বিশ্বমঞ্চে তার জনপ্রিয়তাও পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

ওয়াটার স্যালুট

দেশে ফেরার পথে নরওয়ে দলের বিমানকে সামরিক যুদ্ধবিমান দিয়ে এসকর্ট করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের জানালার পাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ সেই বিরল দৃশ্য উপভোগ করছেন।

অসলো বিমানবন্দরে অবতরণের পরও ছিল চমকের শেষ নেই। হালান্ডকে দেখা যায় হাতে একটি ট্যাক্সিডার্মি করা র্যাকুন এবং একটি খালি বোতল নিয়ে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামতে। তার এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি উপস্থিত সবার মধ্যে হাস্যরসের জন্ম দেয়।

বিশ্বকাপ শেষে নরওয়ে দল দেশে পৌঁছালে তাদের বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়

দলকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যরাও। ক্রাউন প্রিন্স হাকোন নিজেই সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্বকাপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘ভাইকিং রো’ উদ্‌যাপনে। ড্রাম বাজিয়ে তিনি নেতৃত্ব দেন সেই ঐতিহ্যবাহী উল্লাসে, যেটি বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও হালান্ডের নেতৃত্বে আলোচনায় এসেছিল।

ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ

এরপর খোলা ছাদের বাসে শহর প্রদক্ষিণ করেন ফুটবলাররা। রাস্তাজুড়ে অপেক্ষমাণ সমর্থকদের শুভেচ্ছা ও করতালির জবাবে হাত নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানান খেলোয়াড়রা। সমর্থক ও দলের এই পারস্পরিক ভালোবাসা যেন এক অবিস্মরণীয় ফুটবল গ্রীষ্মের সমাপ্তিকে আরও আবেগঘন করে তোলে।

যদিও মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের অতিরিক্ত সময়ের গোলে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান থেমে যায় নরওয়ের, তবু এবারের আসর তাদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্বকাপ না জিতেও দেশের মানুষের হৃদয় জয় করে ফিরেছে হালান্ড-ওডেগার্ডরা। নরওয়ের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই দলটি বহুদিন ধরে সাহস, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে থাকবে।