ডারবান টেস্টে হারের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ আফ্রিকা

ডারবান টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ের জন্য ৪২১ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থদিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ১০২ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। জিততে হলে শেষ দিনে আরও ১৩৯ রান করতে হবে টেম্বা বাভুমার দলকে। হাতে রয়েছে মাত্র ছয় উইকেট। ফলে ডারবান টেস্টে জয়ের চেয়ে হার এড়ানোই এখন দক্ষিণ আফ্রিকার বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩১৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। এর আগে প্রথম ইনিংসের লিডসহ তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪২১ রান। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে এত রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই। সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই বিরল কীর্তি গড়েছিল তারা।

ডারবান টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দিকে ব্যাটিং ঝড়

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ম্যাট রেনশ। আগের ইনিংসে ১৯০ রানে আউট হওয়া এই ব্যাটার এবারও দলের সংগ্রহে বড় অবদান রাখেন। বো ওয়েবস্টার করেন অপরাজিত ৩৯ রান। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স মাত্র ইনিংসে ঝড় তোলেন। ১২ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন তিনি। ফলে শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর একটা ঝড় বয়ে যায়। এ সময় অস্ট্রেলিয়া শেষ আট ওভারে ৯৪ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করে।

ডারবান টেস্টে হারের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ আফ্রিকা
উইকেট শিকারের আনন্দে অস্ট্রেলিয়া

জবাবে ব্যাটিং নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। জশ হ্যাজলউডের বলে ২ রান করে ফেরেন রায়ান রিকেলটন। ডেভিড বেডিংহাম করেন ৪৬ রান। এরপর দ্রুত বিদায় নেন অধিনায়ক বাভুমা ও ত্রিস্তান স্টাবস। দিন শেষে এইডেন মার্করাম ৪৫ এবং উইয়ান মুল্ডার ৫ রানে অপরাজিত আছেন।

পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ ও নাথান লিয়নের স্পিন সামলে তিন সেশন টিকে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য কঠিন পরীক্ষা। তার ওপর বেশির ভাগ স্বীকৃত ব্যাটার এরই মধ্যে আউট হয়ে ফিরেছেন। এখন অপেক্ষায় হারের তিক্ত স্বাদ হজমের। ২০০৮ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৪ রান তাড়া করে জয়ের স্মৃতি অবশ্য প্রোটিয়াদের অনুপ্রেরণা দিতে পারে। প্রোটিয়া ব্যাটারদের সামনে ক্রিজে কচ্ছপ কামড় দিয়ে পড়ে থেকে ম্যাচটা ড্রয়ের পথ বের করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তবে ডারবানে বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়াই জয়ের পথে এগিয়েই। আর দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে অসহায় আত্মসমর্পন ছাড়া খুব একটা পথ নেই।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles