সোমবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এইচ’ এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন এবং আফ্রিকার লড়াকু দল কেপ ভার্দে। কাগজের কলমে স্পেন অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলের সেই চিরন্তন অনিশ্চয়তাই যেন আরও একবার সত্য প্রমাণিত হলো। স্প্যানিশ আর্মাডাদের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে ম্যাচটি গোলশূন্য (০-০) ড্রয়ে শেষ করলো কেপ ভার্দে। আর এই ঐতিহাসিক ড্রয়ের নেপথ্যে যিনি নায়ক হয়ে উঠলেন, তিনি আর কেউ নন, কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলকিপার ভোজিনহা (Vozinha)। এ যেন , ভোজিনহার দেয়ালে আটকে গেল স্পেন ।
সব মিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা, একের পর এক আক্রমণ আর শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য ডিফেন্স সব মিলিয়ে রীতিমতো জমে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মেগা ইভেন্ট ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তিকিতাকা ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল স্পেন। মাঝমাঠের নিখুঁত পাসিং আর উইং দিয়ে বারবার কেপ ভার্দের বক্সে হানা দিচ্ছিলেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটেই গোলের খাতা খোলার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া জোরালো শট প্রথম দফায় রুখে দেন ভোজিনহা। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় স্পেনের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রাখে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।
ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দে কোচ বলেন,
আমরা জানতাম স্পেন কতটা শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল একটাই, নিজেদের রক্ষণভাগকে জমাট রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা। ছেলেরা আজ জানপ্রাণ দিয়ে খেলেছে।
মরিয়া স্পেন
দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে ওঠে স্পেন। আক্রমণের ধার বাড়াতে ডাগআউট থেকে একের পর এক পরিবর্তন আনেন স্প্যানিশ কোচ। ম্যাচের ৬০ থেকে ৮০ মিনিটের মধ্যে রীতিমতো ঝড়ের বেগে আক্রমণ চালায় স্পেন। কখনো দূরপাল্লার শট, কখনো আবার ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার। কিন্তু প্রতিবারই স্পেনের সামনে দুর্ভেদ্য দেওয়াল হয়ে দাঁড়ালেন তিন কাঠির নিচে প্রাচীর হয়ে থাকা কেপ ভার্দের অতন্দ্র প্রহরী ভোজিনহা।
বিশেষ করে ম্যাচের ৮২ মিনিটে বক্সের একদম কোণ থেকে নেওয়া একটি নিশ্চিত গোলের শট যেভাবে তিনি তালুবন্দী করেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।
বলা চলে, এদিন আটলান্টা স্টেডিয়ামে অসাধারণ এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ডিফেন্সের প্রদর্শনী দেখাল কেপ ভার্দে। স্পেনের বিশ্বমানের আক্রমণভাগ যে দেওয়াল ভেদ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। স্প্যানিশ মিডফিল্ডাররা বারবার রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করলেও কেপ ভার্দের ‘লো-ব্লক’ ডিফেন্সের সামনে তাদের সব কৌশল ভেস্তে যায়।
কেপ ভার্দের কাছে জয়ের চেয়েও বড়
নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এভাবে আটকে যাবে, তা হয়তো স্পেনের কট্টর সমালোচক ভাবেননি। অন্যদিকে, বিশ্বমঞ্চে স্পেনের মতো দলের বিরুদ্ধে এই ১ পয়েন্ট অর্জন করা কেপ ভার্দের জন্য যেকোনো জয়ের চেয়ে কম নয়।
ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কেপ ভার্দে শিবির। আর পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানায় ম্যাচের সেরা নায়ক ভোজিনহাকে, যাঁর হাত ধরে বিশ্বকাপের গ্রুপ এইচ-এর সমীকরণ এখন অনেকটাই জমে উঠল।
