২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তবে সেই হতাশা বেশিদিন স্থায়ী হতে দিল না লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে ৪-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে লা রোহা। স্কোরলাইন বড় হলেও পরিসংখ্যানে স্পেনের দাপট ছিল আরও বেশি।
বলের নিয়ন্ত্রণেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ
পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে স্পেন ছিল অনেক এগিয়ে। স্প্যানিশদের দখলে ছিল ৬১ শতাংশ বল, যেখানে সৌদি আরবের ছিল মাত্র ৩১ শতাংশ। মাঝমাঠে স্পেনের দ্রুত পাসিং ও পজিশনাল ফুটবলের সামনে সৌদি খেলোয়াড়রা বারবার পিছিয়ে পড়েছেন।বিশেষ করে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে স্পেন এমন গতি ও তীব্রতায় খেলেছে যে সৌদি আরব কার্যত ম্যাচে ফেরার সুযোগই পায়নি।
আক্রমণে একতরফা আধিপত্য
ম্যাচে স্পেন মোট ২২টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৮টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে সৌদি আরব পুরো ম্যাচে মাত্র ৩টি শট নিতে পেরেছে এবং গোলমুখে রাখতে পেরেছে মাত্র একটি।এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় দুই দলের আক্রমণভাগের মধ্যে পার্থক্য কতটা ছিল।
স্পেন প্রতিনিয়ত সুযোগ তৈরি করেছে, উইং ব্যবহার করেছে এবং বক্সের ভেতরে বিপজ্জনক অবস্থান তৈরি করেছে। সৌদি রক্ষণ এক সময় পুরোপুরি চাপে পড়ে যায়।
xG-তেও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব
Expected Goals (xG) পরিসংখ্যানে স্পেনের মান ছিল ২.২২, যেখানে সৌদি আরবের মাত্র ০.১০। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, স্পেন এমন অনেক সুযোগ তৈরি করেছে যেগুলো থেকে গোল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বেশি। বিপরীতে সৌদি আরব পুরো ম্যাচে তেমন কোনো পরিষ্কার গোলের সুযোগই তৈরি করতে পারেনি।
পাসিং ফুটবলে স্প্যানিশ ক্লাস
স্পেন ম্যাচে ৬৭৩টি সফল পাস সম্পন্ন করেছে। সৌদি আরবের সফল পাসের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০২। এটাই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলোর একটি। স্পেন বল নিজেদের দখলে রেখে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়েছে এবং প্রতিপক্ষকে দৌড় করিয়ে ক্লান্ত করে ফেলেছে। পাসিংয়ের এই আধিপত্যই সৌদি আরবকে ম্যাচজুড়ে রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করেছে।
কর্নার ও বল পুনরুদ্ধারেও এগিয়ে স্পেন
ম্যাচে স্পেন পেয়েছে ৬টি কর্নার, সৌদি আরব মাত্র ১টি। এছাড়া বল হারানোর পর পুনরুদ্ধার করতে স্পেনের সময় লেগেছে গড়ে ১২ সেকেন্ড, যেখানে সৌদি আরবের লেগেছে ১৯ সেকেন্ড। অর্থাৎ বল হারানোর পরও স্পেন দ্রুত প্রেসিং করে আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।
আধুনিক ফুটবলে এই পরিসংখ্যান একটি দলের সংগঠিত প্রেসিং ও শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বার্তা
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর স্পেনকে নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, এই ম্যাচে তার জোরালো জবাব দিয়েছে লা রোহা। শুধু জয় নয়, খেলার ধরন, আক্রমণের ধার, পাসিংয়ের মান এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা, সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল স্পেনের অন্যতম পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় একটি বড় জয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ দলের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। সৌদি আরবের বিপক্ষে এই জয় স্পেনকে শুধু তিন পয়েন্টই দেয়নি, বরং পুরো টুর্নামেন্টের জন্য একটি শক্ত বার্তাও দিয়েছে, লা রোহা আবার ছন্দে ফিরেছে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














