মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ক্লিনারদের টাকা হরিলুট, কঠোর অবস্থানে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল। দৈনিক আয় মাত্র ৩০০ টাকা। কিছুটা কি বাড়ানো যায় না। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টি-টোয়েন্টি চলাকালে তামিম ইকবাল গিয়েছিলেন স্টেডিয়ামের বাথরুম পরিদর্শনে।
অপরিচ্ছন্ন বাথরুমের কারণ জানতে চাইলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সে সময় এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী তামিমকে তাদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর আবদার করেন।
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বসলে দেখা যায়, বিসিবিরই কেউ একজনের যোগসাজশে ৫০০ টাকার জায়গায় মাত্র ৩০০ টাকা করে দৈনিক পারিশ্রমিক পাচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
এমনকি তাদের ওভারটাইমের টাকাও লুট করা হচ্ছে কৌশলে। সোমবার (৪ মে) বসুন্ধরায় গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এসব বিষয় ফাঁস করেন তামিম। কেন সেদিন বাথরুমের অবস্থা দেখতে গিয়েছিলেন, খোলাসা করে তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই খুব অবাক হয়েছি। গ্যালারিতে যখন গেলাম, ফিনল্যান্ডের এক মহিলা যিনি সেদিনই সকালে এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে সোজা মাঠে খেলতে দেখতে এসেছেন। এসে সুন্দর করে বলল, ভাইয়া যদি ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যেত। শুনলে অবাক হবেন, ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম তৈরির পর বাথরুমে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।’
বিসিবি থেকে একেকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য দৈনিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয় ৬৫০ টাকা। খরচ ও লাভ বাবদ ১৫০ টাকা ধরে, বাকি ৫০০ টাকা দেয় টেন্ডার নেওয়া প্রতিষ্ঠান। তবে সেই ৫০০ টাকা দেওয়া হয় বিসিবির একজনকেই। তিনি আবার সেখান থেকে ২০০ টাকা কমিয়ে ৩০০ টাকা করে দেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।
এছাড়া তামিম বলেন, ‘যা শুনেছি, খুবই শকিং। বিসিবিতে এসব হয় আইডিয়া ছিল, তবে এতটা হয় ধারণাও ছিল না। সিরিজ চলাকালে বিসিবি থার্ড পার্টি থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ক্লিনিংয়ের সুযোগ-সুবিধা নেয়। নিয়ম তো টেন্ডার পাওয়া কোম্পানি লোক দিবে। তবে টেন্ডার একটা কোম্পানি পাচ্ছে, বিসিবিরই লোকজন ৩০-৪০ জন লোক দিচ্ছে, ঐ কোম্পানি টাকাটা নিয়ে বিসিবির লোকদের দিচ্ছে। সে টাকাটা নিয়ে তার মতো ক্লিনারদের দিচ্ছে। আমি বললাম, আপনি আপনার খরচ আর লাভ শেষে ৫০০ করে দেন না কেন। বলল ভাইয়া আমি ৫০০ করেই দেই। কাকে দেন? বিসিবির ঐ অমুককে দেই। উনি খালাদের ৩০০ করে দেন।’
বিসিবির সভাপতি তামিম সাফ জানিয়েছেন, এখন থেকে টেন্ডার প্রতিষ্ঠানকেই সরাসরি ক্লিনারদের একাউন্টে টাকা দিতে হবে, সেই প্রমাণ দেখিয়ে তবেই বিসিবি থেকে বিল পাশ করিয়ে নিতে হবে। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বিসিবি সভাপতি জানান, ‘যাদের আয় রোজ ৩০০-৪০০ টাকা, তাদের টাকা চুরি করতে হবে? এবসেলিউটলি ননসেন্স।’
তামিম হুঁশিয়ার করে আরও বলেছেন, নির্দেশনা না মানা হলে চুক্তি তো বাতিল হবেই, টেন্ডার নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে যাতে আর কখনও বিসিবিতে কাজ না করা যায়।
জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘এই নারীরা প্রতিদিন কষ্ট করে তাদের পরিবার চালান। আমি আমার বেতন ১ মাস পর পেলেও সমস্যা হবে না। উনাদের বেতন যদি ১ দিনও দেরি হয় এটা অনেক বড় সমস্যা।’
গণমাধ্যমকর্মীদেরও এসব বিষয়ে নজর রাখার অনুরোধ করে তামিম বলেন, ‘প্রত্যেকটা জিনিস আমি খুব স্ট্রংলি মনিটর করছি। হয়ত আপনারা দেখছেন ইন্টার্নালি অনেক বদল হচ্ছে। এগুলো করার পুরোপুরিভাবে চেষ্টা করছি। একটা বড় দুর্নীতি হলে সময় পাবেন, তদন্ত কমিটি করবেন, তদন্ত করবেন, অনেক কিছু নিয়ে ধরতে পারবেন।
কিন্তু এই যে নারী যারা ৭-৮ হাজার বা ১০ হাজার টাকা বেতন পান তাদের এই টাকায় পুরো পরিবার চলে। তাদের থেকে যদি ৫০০ টাকাও কেউ নেয়, এটা অনেক বড় অপরাধ। আর আমি থাকতে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। এক পারসেন্টও ছাড় হবে না। পরবর্তীতে কোনো কোম্পানি টেন্ডারে কাজ পেলে যেন এই ধরনের দুই নম্বরি করতে না পারে। আর আপনারাও নজর রাখবেন, এটা আমার অনুরোধ আমার পক্ষ থেকে। গরীবের যেন কোনো সমস্যা না হয়।’
