মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেকে নিয়েও কেন ব্যর্থ ছিল পিএসজি ?

মেসি-নেইমার - এমবাপ্পেকে নিয়েও কেন ব্যর্থ ছিল পিএসজি ?

মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পে

বিশ্ব ফুটবলের সেরা তারকাদের মেলা বসিয়েছিল প্যারিস সেন্ত জার্মেই। লক্ষ্য একটা- ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। সে জন্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছাড়াই সবাইকে এক ছাতার নিচে জড়ো করেছিল ফ্রেঞ্চ ক্লাবটি। কিলিয়ান এমবাপ্পে তো ছিলেনই। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিলেন লিওনেল মেসি ও নেইমারের মতো বিশ্ব তারকারা। কিন্তু ক্লাবের শোকেসে যোগ হয়নি সেই স্বপ্নের শিরোপা। মেসি নেইমার এমবাপ্পেকে নিয়েও কেন ব্যর্থ ছিল পিএসজি ? দলগত ভারসাম্য, কৌশলগত ভুল ও বড় ম্যাচের চাপ , সব কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে এখানে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে ক্লাব ছেড়ে গেছেন। মেসি ও নেইমারও থাকেননি পিএসজিতে। কাকতালীয় হলেও সত্যি যে, তাদের বিদায়েরর সঙ্গে সঙ্গে যেনো পিএসজি’র সেই দুঃসময় বিদায় নিয়েছে। সাফল্যের হাসি হাসতে শুরু করেছে দলটি। এরই মধ্যে একবার সেই স্বপ্নের ট্রফির দেখা পেয়েছে তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের মাঝ দিয়ে হয়েছে ইউরোপের সেরা ক্লাব।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। সাফল্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও তাদের ক্ষুধা মেটেনি। বরং যেন বেড়েছে। তার প্রমাণ দিয়ে চলেছে দলটি। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছেছে। টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে তারা। মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেকে নিয়ে যা হয়নি নতুনদের সঙ্গী করে সেই সাফল্য তুলে নিচ্ছে তারা। তিন তারকা ক্লাব ছাড়ার পরই ঐতিহাসিক ট্রেবলও জয় করেছে পিএসজি। লিগ ওয়ান, লিগ শিরোপার পাশাপাশি গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছে।

শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে পিএসজি ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের মুখোমুখি হবে। এ দলটি স্পেনের আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আর পিএসজি হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখকে।

মেসি নেইমার এমবাপ্পেকে নিয়েও কেন ব্যর্থ ছিল পিএসজি ? ব্যাখ্যা করেছে কোচ পচেত্তিনো

মেসি ও এমবাপ্পের ফুটবল দর্শনের পার্থক্যেই সফল হয়নি পিএসজি

নামী সব তারকা নেওয়ার পরও সাফল্য না পাওয়ায় ভক্তদের বিষ্ময়ের শেষ ছিল না। তবে মোটেও সে দলে ছিলেন না সাবেক কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। ২০২১ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পিএসজি’র কোচিংয়ের দায়িত্বে থাকা এই কোচ বলেন, মূলত কৌশল ছিল এর জন্য দায়ী। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ফুটবল ভাবনার পার্থক্যের কারণে সাফল্য ধরা দেয়নি।

পচেত্তিনো বলেন,

মেসি পেছন থেকে ধীরে ধীরে খেলা গড়তে চাইতো। ছোট, ছোট পাস, সবার মধ্যে সমম্বয়- এভাবেই আক্রমণ সাজাতে পছন্দ করতো। কারণ বল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এটি এমবাপ্পের স্বাভাবিক খেলার সঙ্গে মিলতো না।

এমবাপ্পে সম্পর্কে পচেত্তিনো বলেন,

আমরা যদি নিচের দিকে খেলতাম এবং বল ফিরে পেতাম তখন এমবাপ্পে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিত। তাকে বল দিলেই সে দৌড় শুরু করতো। ফলে সমস্যাটা ছিল কৌশলগত।

পচেত্তিনো বলেন,

যখন আমরা মেসিকে কেন্দ্র করে খেলতাম তখন এমবাপ্পের সমস্যা হতো। তার বড় শক্তি ছিল দৌড়, সে সেটা কাজে লাগাতে পারছিল না। আবার যখন এমবাপ্পের গতি কাজে লাগাতে চাইতাম তখন মেসির স্বাভাবিক খেলা সম্ভব হতো না।

পচেত্তিনো বলেন, বিশ্বের সেরা তিন খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি ভালো দল গড়ার যথেষ্ঠ সময় আমরা পাইনি। এখন যা জানি, আগে জানলে তাদের নিয়ে আরও ভালো করতে পারতাম। তারাও আমাদের অনেক কিছু দিত পারতো।

Exit mobile version