ক্রিকেটার নাঈমের ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনটাই জানিয়েন কোয়াব সভাপতি। ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনা নিয়ে বিসিবি সভাপতি ও বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।
ওই আলোচনার সময় ফোন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদও। কোয়াব প্রধান জানালেন, এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শেষে শুক্রবার নিজ শহর চট্টগ্রামে ফিরে এই ঘটনার শিকার হন নাঈম।
পুলিশ পরিচয়ে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ১৪ টেস্ট খেলা এই স্পিনার এবং পরে তাকে থানায় নিয়েও হেনস্তা করা হয়। সেই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গেছে গোটা দেশে।
কোয়াবের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে তদন্ত দাবি করে বিবৃতি দেওয়া হয় সকালেই। কোয়াব প্রধান মিঠুন দুপুরে দেখা করেন বিসিবি প্রধান তামিমের সঙ্গে। মিঠুন জানালেন, বিসিবি প্রধানের পাশাপাশি বোর্ড পরিচালক ইসরাফিল খসরু (অর্থমন্ত্রীর ছেলে) ও আরেক পরিচালক সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে) এই ব্যাপারটি দেখছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সবার কাছ থেকেই কঠোর অবস্থানের বার্তা পেয়েছে কোয়াব।
‘আপনাদের সাথে কথা বলার পরে আমি বিসিবিতে গিয়েছিলাম। সেখানে তামিম ইকবাল, ইসরাফিল ভাই এবং ইব্রাহিম ভাই উনারা ছিলেন। নাঈমের যে ইস্যুটা, মূলত উনারা তিনজনই সামলাচ্ছেন। তিনজনই ওখানে ছিলেন। তাদের সঙ্গে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কী কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে বা শাস্তি কী হবে, বিস্তারিত জানতে চেয়েছি আমরা।’
এছাড়া তিনি বলেন,‘ উনারা আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন যেন, এই ঘটনার পর থেকেই রাত ৩টা পর্যন্ত উনারা অ্যাক্টভলি বিষয়টা হ্যান্ডল করেছেন, বিশেষ করে তামিম ভাই আর ইসরাফিল ভাই। আজকে সকাল থেকে ইব্রাহিম ভাই এই জিনিসটা খুব কঠোরভাবে দেখছেন। তারা নাইমের সঙ্গে ও ওর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি থাকা অবস্থায় আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ফোন দিয়েছিলেন। উনিও আশ্বস্ত করেছেন যে, এই বিষয়টা কোনোভাবেই ছাড় দেবেন না এবং উনিও স্ট্রিক্টলি বিষয়টা দেখছেন। নাঈম ও ওর পরিবারের সঙ্গে উনি কথা বলবেন।’
মিঠুন বললেন, জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবেও তাদেরকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। `আমরা যে দাবিটা করেছিলাম, এই বিষয়টা যেন তদন্ত করে দেখা হয়, উনারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন, মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মামলা যেহেতু শুরু হয়েছে, এটা অবশ্যই কিছু সময়ের ব্যাপার। তদন্ত করবে। এখান থেকে উনারা আমাদেরকে যেটা জানিয়েছেন যে, জড়িত যারা, তারা কেউই ছাড় পাবে না। সবাইকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে।’
মিঠুনের ধারণা, এই ঘটনার পেছনে ‘অন্য কোনো ব্যাপার’ জড়িত থাকতে পারে। `সেজন্যই আমরা তদন্ত দাবি করেছি। জিনিসটা এরকম কিছু যদি থাকে (অন্য কোনো ব্যাপার), সেই জিনিসটা যেন বের হয়ে আসে। কারণ আমরা এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাই না পরবর্তীতে। যে ঘটনাটি ঘটেছে, অবশ্যই এটা ক্রিকেটের জন্য লজ্জাজনক। এই বিষয়টা যেন পরেরবার আর না ঘটে, সেজন্যই আমরা তদন্ত দাবি করেছি এবং আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে, খুব তীক্ষ্ণভাবে এটা করা হবে।”
