২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। ঠিক এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার কারণে টিকিট কেটেও বিশ্বকাপবঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় দর্শকরা । ডালাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য আয়োজক শহরগুলোতে খেলা দেখার স্বপ্ন দেখা অনেক বিদেশি ভক্তই হয়তো শেষ পর্যন্ত ভিসা জটিলতার কারণে মাঠে উপস্থিত হতে পারবেন না।
অভিবাসন বিষয়ক মার্কিন আইনজীবী টেসি ওর্তিজ বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়াকরণ সময়ের কারণে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওর্তিজ বলেন ,
আমার মনে হয় অনেক সমর্থকই শেষ পর্যন্ত দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাদের হয়তো টিকিট হাতে নিয়েই বসে থাকতে হবে, অথবা তা বিক্রি করে দিতে হবে। এমনকি ভিসা পাওয়ার পরও অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় (পোর্ট অব এন্ট্রি) আটকে যেতে পারেন, কারণ ভিসা থাকা মানেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের শতভাগ নিশ্চয়তা নয়।
বহাল থাকছে ট্যুরিস্ট ভিসার নিয়ম
বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট হলেও দর্শকদের জন্য ‘বি১/বি২’ (B1/B2) ট্যুরিস্ট ভিসার নিয়ম অপরিবর্তিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। অবশ্য চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ‘ফিফা প্রায়োরিটি শিডিউলিং সিস্টেম’ বা ‘ফিফা পাস’ (FIFA Pass) চালু করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, যারা সরাসরি ফিফার কাছ থেকে টিকিট কিনেছেন, তারা যেন দ্রুততম সময়ে ভিসার ইন্টারভিউয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পান। তবে ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পেলেই যে ভিসা মিলবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।
আইনজীবী ওর্তিজের মতে, দর্শকদের মধ্যে এখন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভয় কাজ করছে। তিনি বলেন,
মানুষ সময়মতো ভিসা পাওয়া নিয়ে যেমন চিন্তিত, তেমনি অনেকে ভাবছেন- যাব কি যাব না? ভিসা অনুমোদিত হওয়ার পরও অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে ভয় পাচ্ছেন।
থার্ড-পার্টি বা পুনঃবিক্রয়কারীদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা
যারা সরাসরি ফিফা থেকে টিকিট না কিনে ‘স্টাবহাব’ (StubHub) এর মতো বিভিন্ন পুনঃবিক্রয়কারী (রিসেল) প্ল্যাটফর্ম বা থার্ড-পার্টির কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও বেশি। টেসি ওর্তিজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই থার্ড-পার্টি ক্রেতারা ‘ফিফা পাস’ এর সুবিধা পাবেন না। ফলে তাদের ভিসার জন্য আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
অবশ্য এই কঠোর বিধিনিষেধের পক্ষে সাফাই গেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি মুখপাত্র মিগনন হিউস্টন জানান, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জালিয়াতি কমাতে এবং অননুমোদিত বিক্রেতারা যাতে ‘ফিফা পাস’ এর অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা। আমরা মার্কিন নাগরিক এবং বিদেশি- উভয়ের নিরাপত্তার স্বার্থেই সর্বোচ্চ মানের স্ক্রিনিং ও যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করছি। অতীতে যাদের ভিসা অপব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি আরও বেশি। এটা শুধু টুর্নামেন্টের সফলতার জন্য নয়, সবার নিরাপত্তার জন্যই জরুরি।
দেশভেদে অপেক্ষার ভিন্নতা
ভিসা পাওয়ার সময়সীমা একেক দেশে একেক রকম। ওর্তিজের দাবি, কিছু কিছু দেশে ভিসা পেতে প্রায় ১০০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে, এমনকি কোনো কোনো কনসুলেটে এই জট ৬ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে।
তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মিগনন হিউস্টন এই দাবি কিছুটা নাকচ করে জানান,
চাপ সামলাতে ৬০০ এর বেশি ভিসা কর্মকর্তা দিনরাত কাজ করছেন। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ দেশেই ভিসার জন্য অপেক্ষার সময় এখন দুই মাসেরও কম, অর্থাৎ প্রায় ৬০ দিনের কাছাকাছি।
বিশ্বকাপের মহোৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি এই ভিসা সংক্রান্ত উৎকণ্ঠাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত মাঠের ফুটবলের উন্মাদনা সব শঙ্কাকে ছাপিয়ে যেতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















