মাঠের লড়াই শুরুর আগেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ভিসা জটিলতায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ইরান ফুটবল দল। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে দলটির বিশ্বকাপ মিশনে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতার কারণে ইরান ইতিমধ্যেই তাদের মূল বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বাধার মুখে পড়েছেন ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়া ১৫ সদস্যের মধ্যে ১০ জন মেক্সিকো থেকে নতুন করে আপিল করেছিলেন। যার মধ্যে মাত্র ৪ জনের ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজসহ বাকি ১১ জনের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
ভিসা জটিলতায় কারা বাদ পড়েছেন?
ভিসা পাওয়া ৪ জনের মধ্যে রয়েছেন দলের একজন টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিভাগের দুজন কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, আপিল করেও যাদের ভিসা মেলেনি তাদের তালিকায় আছেন:
- ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি: মেহেদি তাজ।
- অন্যান্য: ফেডারেশনের একজন সহ-সভাপতি, দৈনন্দিন অপারেশন দেখভালের দায়িত্বে থাকা দুজন প্রশাসক, একজন মিডিয়া অফিসার এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
প্রথম দফার আবেদনের পর আরেকজন মিডিয়া অফিসার নতুন করে আর আবেদনই করেননি। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে ইরান। এরপর তারা বেলজিয়াম ও মিশরের মুখোমুখি হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য তাদের মেক্সিকোর ক্যাম্প থেকে যাতায়াত করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কঠোর অবস্থান
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরু থেকেই ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে কিছু বিশেষ শর্ত দাবি করেছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল – ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে (IRGC) বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য আগেই অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানি খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো হলেও আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার সীমিত বা নিষিদ্ধ থাকতে পারে। এর আগে গত এপ্রিলে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে যাওয়া ইরানি কর্মকর্তাদেরও কানাডিয়ান সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা এই জটিলতারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও ব্লাটারের সমালোচনা
কেবল কর্মকর্তাদের ভিসা জটিলতাই নয়, মার্কিন প্রশাসন ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দকৃত গ্রুপ পর্বের টিকিটগুলোও বাতিল করেছে। তবে ফিফা জানিয়েছে, সমর্থকরা যাতে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
শুধু ইরান নয়, সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন ফিফার সাবেক দীর্ঘকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন,
“বিশ্বকাপের আয়োজক দেশকে অবশ্যই দুটি মৌলিক নীতি নিশ্চিত করতে হবে: দেশের নিরাপত্তা এবং যোগ্যতা অর্জনকারী সমস্ত দল, কর্মকর্তা ও রেফারিদের অবাধ প্রবেশাধিকার। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। ফুটবলের সার্বজনীনতার প্রশ্নে ফিফার কখনোই আপস করা উচিত নয়।”
বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন ফুটবলের মিলনমেলা হওয়ার কথা, তখন মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক জটিলতা কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন চলছে নানা জল্পনা।
