স্পেনের বিপক্ষে ভোজিনহার বীরত্বগাধা

স্পেনের বিপক্ষে ভোজিননহার বীরত্বগাধা

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা

ফুটবলের মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপে কত কোটি কোটি টাকার তারকা, কত জাঁকজমক আর গ্ল্যামার। কিন্তু এই কোটিপতিদের ভিড়েও কখনো কখনো এমন কিছু গল্প তৈরি হয়, যা কেবল গোল-অ্যাসিস্টের হিসেব দিয়ে মাপা যায় না। যা আসলে মানুষের অদম্য ইচ্ছা আর বীরত্বের গল্প। সোমবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে এমনই এক মানবিক রূপকথা লিখলেন ৩৯ বছর বয়সী এক অতন্দ্র প্রহরী যার নাম ভোজিনহা (Vozinha)

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’- এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। কাগজের কলমে দুই দলের কোনো তুলনাই হয় না। একদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের তারকাবহুল স্প্যানিশ আর্মাডা, আর অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের এক ছোট দেশ। স্পেনের একেকজন ফুটবলারের বাজারমূল্য যেখানে আকাশছোঁয়া, সেখানে কেপ ভার্দের ফুটবলাররা খেলেন কেবল দেশের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা থেকে।

কিন্তু সোমবারের রাতটি কোনো হিসাব মেলানোর রাত ছিল না। সোমবারের রাতটি ছিল এক বুড়ো বাজপাখির ডানা মেলার রাত। পুরো ম্যাচে স্পেনের বিশ্বমানের আক্রমণভাগ একের পর এক ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ল কেপ ভার্দের বক্সে। কিন্তু প্রতিবারই তিন কাঠির নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন ৩৯ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। কখনো শরীর ছুঁড়ে দিয়ে, কখনো স্রেফ আঙুলের ডগা দিয়ে নিশ্চিত গোল রুখে দিলেন তিনি।

ম্যাচের শেষ বাঁশি যখন বাজল, স্কোরবোর্ড জানাচ্ছিল স্পেন ০-০ কেপ ভার্দে।

“আমরা হয়তো ছোট দেশ হতে পারি, কিন্তু আমাদের হৃদয়টা অনেক বড়।” ম্যাচ শেষে চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন ভোজিনহা।

এই ড্র কেবল ১টি পয়েন্ট নয়, এটি একটি দেশের আত্মমর্যাদার লড়াই। যে দেশের ফুটবলাররা বাংলাদেশের তৈরি কাপড়ে প্রস্তুতকৃত জার্সি গায়ে জড়িয়ে (ঢাকার তৈরি কাপেল্লি স্পোর্টের জার্সি) মাঠে নেমেছিলেন, তারা দেখিয়ে দিলেন ফুটবলটা আসলে হৃদয়ের খেলা। ৩৯ বছর বয়সে, যখন বেশির ভাগ ফুটবলার অবসরের জীবন কাটান, তখন ভোজিনহা প্রমাণ করলেন ‘স্বপ্ন দেখার আর তা সত্যি করার কোনো বয়স হয় না।’

বুক চিতিয়ে লড়াই

ম্যাচ শেষে যখন স্পেনের তরুণ তারকারা হতাশায় মাঠে বসে পড়েছেন, তখন আটলান্টা স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন এই বুড়ো প্রহরীকে। ভোজিনহার এই বীরত্বগাথা আসলে মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে এক মানবিক বার্তা দেয়। প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বুক চিতিয়ে লড়াই করলে যেকোনো দেওয়ালই অপরাজেয় হয়ে উঠতে পারে।

ভোজিনহা আজ কেবল স্পেনের আক্রমণই আটকাননি, তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন যে, ছোটরাও বড় স্বপ্ন দেখতে পারে এবং তা ছিনিয়ে আনতে পারে।

Exit mobile version