বিশ্বকাপ জয়কে আমরা অভ্যাসে পরিণত করতে চাই- হারমানপ্রীত কৌর

বিশ্বকাপ জয়কে আমরা অভ্যাসে পরিণত করতে চাই- হারমানপ্রীত কৌর

আগামী আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ইংল্যান্ড সফরের দল ঘোষণার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে পোজ দিচ্ছেন ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর; মুম্বাই, ২ মে, ২০২৬। (ছবি: গেটি ইমেজেস)

বিশ্বকাপ জয়কে আমরা অভ্যাসে পরিণত করতে চাই- হারমানপ্রীত কৌর , ১২ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল, আইসিসি’র পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের বিশেষ কলাম। খেলা লাইভের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বছরের সেই রোমাঞ্চকর সময়টা আবার চলে এসেছে। আমরা আরও একটি আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এর মেগা টুর্নামেন্টের একদম দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আইসিসি’র যেকোনো টুর্নামেন্ট মানেই বাড়তি উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর তুমুল উদ্দীপনা। এই বড় মঞ্চে নামার আগে আমাদের প্রস্তুতিও চমৎকার হয়েছে। সত্যি বলতে, ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার পর মুহূর্ত থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল।

বিশ্বকাপ জয়কে আমরা অভ্যাসে পরিণত করতে চাই- হারমানপ্রীত কৌর । ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের সেই বিশ্বকাপ জয় ছিল ভারতীয় নারী ক্রিকেটের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। এটা কেবল একটা ট্রফি জেতার চেয়েও বড় কিছু ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, এই জয় আমাদের মাঝে বিশ্বাস এনে দিয়েছিল এবং দেশের ছোট ছোট মেয়েদের দেখিয়ে দিয়েছিল যে, বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো মোটেও অসম্ভব নয়।

চাপ আছে, তবে সেটা ইতিবাচক

২০২৫ সালের বিশ্বকাপ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। তবে ওটা কেবল শুরু মাত্র। আমরা এখন জয়কে একটা অভ্যাসে পরিণত করতে চাই। সেই জয় যেমন আমাদের অসীম আনন্দ দিয়েছিল, তেমনি আমাদের কাঁধে অনেক বড় দায়িত্বও তুলে দিয়েছে। আমরা জানি যে এখন আমাদের প্রতি ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। আর প্রত্যাশা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই চাপ আসে। তবে এটি একটি ইতিবাচক চাপ। এই চাপ আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনি দারুণ কিছু অর্জন করেছেন এবং আপনাকে আবারও তা করে দেখাতে হবে।

পার্থ, অস্ট্রেলিয়া – ৮ মার্চ ২০২৬: পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত নারী টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনে এক সমর্থকের সাথে পোজ দিচ্ছেন ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। (ছবি: গেটি ইমেজেস)

বিগত বিশ্বকাপের স্মৃতি গুলো এখনও আমাদের মনে সতেজ। আমরা সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাস নিয়েই এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠে নামব। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ গুলো আমাদের নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা পরখ করে নিতে এবং অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আমাদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো কমতি রাখেনি। বেঙ্গালুরুর ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এ আমাদের কিছু চমৎকার ক্যাম্প হয়েছে, যা দলের সবাইকে দারুণ সাহায্য করেছে। দলের ভেতরে অনেক খোলামেলা আলোচনা হয়েছে, যা আমাকে এই টুর্নামেন্টে নামার আগে ভীষণ ইতিবাচক রাখছে।

ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া – ২৪ ফেব্রুয়ারি: অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং করছেন ভারতের হরমনপ্রীত কৌর। (ছবি: গেটি ইমেজেস)

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চ্যালেঞ্জ ও ডব্লিউপিএল (WPL)-এর ভূমিকা

এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার হবে। আইসিসি-র প্রতিটি ট্রফিরই নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। এই ফরম্যাটটা ছোট, ভুলের সুযোগ কম এবং চাপ অনেক বেশি। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই আমাদের অনেক বেশি সতর্ক ও ধারালো থাকতে হবে এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত গুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। আমরা যদি এই টুর্নামেন্টটা জিততে পারি, তবে তা ভারতীয় নারী ক্রিকেটে এক শক্তিশালী ও ধারাবাহিক যুগের সূচনা করবে।

আমাদের এই স্কোয়াডটি নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী, কারণ দলে চমৎকার একটি ভারসাম্য রয়েছে। এখানে যেমন প্রতিভা ও নির্ভীকতা আছে, তেমনি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক দারুণ মিশ্রণ রয়েছে।

এর বড় একটা কৃতিত্ব দিতে হবে ওমেনস প্রিমিয়ার লিগ বা ডব্লিউপিএল (WPL)-কে। এই লিগটি ভেতর থেকে আসল প্রতিভা গুলোকে বের করে এনেছে। চাপের মুখে কীভাবে খেলতে হয়, বড় মানের ক্রিকেটের সাথে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয় তা এই টুর্নামেন্টের কল্যাণে মেয়েরা নিয়মিত শিখছে। বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের সাথে খেলার ফলে আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিক পরিপক্বতা বেড়েছে এবং তাদের মধ্যে জেতার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। দলের সবার মধ্যে দারুণ একতা রয়েছে এবং সাপোর্ট স্টাফরা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ চমৎকার ও প্রাণবন্ত করে রেখেছেন।

ফিরে দেখা ২০১৭ এবং আগামীর লক্ষ্য

আমার এখনও ২০১৭ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কথা খুব মনে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার সেই ১৭১ রানের ইনিংসটি আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে আমাদের দলের পারফরম্যান্স ছিল ভারতীয় নারী ক্রিকেটের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ফাইনালে আমরা অল্পের জন্য ট্রফিটা ছোঁয়া না পেলেও, দেশে ফেরার পর ভক্ত ও মিডিয়ার কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সংবর্ধনা পেয়েছিলাম, তা ছিল অবিশ্বাস্য। সেই সফরের পরই মানুষ নারী ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে এবং এরপর থেকে আমাদের ক্রিকেট শুধু এগিয়েই গেছে।

পেছনের দিন গুলোর দিকে তাকালে আজ আমার ভীষণ গর্ব হয় যে আমরা কতদূর চলে এসেছি। আর সামনের দিকে তাকিয়ে আমি শুধু এটুকুই বলব আমরা আরও ভালো খেলতে চাই, নিজেদের মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চাই এবং জয়কে আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।

Exit mobile version