জিনেদিন জিদান ও কিলিয়ান এমবাপের সম্পর্কটা বেশ পুরোনো। কিশোর বয়সে প্রথমবার রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনকেন্দ্রে যাওয়ার সময় এমবাপের পাশে ছিলেন ফ্রান্সের এই কিংবদন্তি। এবার জাতীয় দলে সেই জিদানই তাঁর কোচ। বিষয়টিকে তাই ‘সিনেমার গল্পের মতো’ মনে হচ্ছে এমবাপের কাছে।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পাঁচ বছর পর আবারও কোচিংয়ে ফিরেছেন জিদান। ফ্রান্সের দায়িত্ব নিয়ে এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথমবারের মতো দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি। গত শুক্রবার প্রথম দল ঘোষণার সময় এমবাপেকে অধিনায়ক হিসেবেও বহাল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিদান।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপে বলেন, তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই জিদানকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।
“হ্যাঁ, বহু বছর আগের কথা। তিনিই প্রথম আমাকে রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন আমার বয়স ১৩ বা ১৪ বছর—অনেক আগের কথা। আর এখন তিনি আমার জাতীয় দলের কোচ। বিষয়টি যেন কোনো সিনেমার গল্পের মতো। তবে নিঃসন্দেহে তিনি শীর্ষমানের একজন কোচ।”
ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন জিদান। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। আর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২২ সালে ফাইনালে ওঠা ফ্রান্স দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন এমবাপে।
দিদিয়ে দেশোঁর ১৪ বছরের অধ্যায়ের পর ফ্রান্সের দায়িত্ব নিয়েছেন জিদান। গত জুলাইয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর।
নতুন কোচের অধীনে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী এমবাপে। ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, “নতুন কোচের হাত ধরে এটি নতুন অধ্যায়। সবার জন্যই এটি নতুন অভিজ্ঞতা, কারণ এতদিন আমরা শুধু দেশোঁর কোচিংয়েই খেলেছি। আমাদের জন্য এটি একটি পরিবর্তন। তবে আমার বিশ্বাস, সবকিছু খুব ভালোই হবে।”
আগামী শুক্রবার তুরস্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে অভিষেক হবে জিদানের। এরপর বেলজিয়াম সফরে যাবে ফ্রান্স। অক্টোবরে ঘরের মাঠে ইতালি ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে দলটি।


