বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে থমাস ডুলির প্রথম একাদশ অনুমান করাই কঠিন ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই কাজটা আরও কঠিন হতে পারে।
জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক ২-১ গোলের জয়ই ডুলির হাতে এখন পর্যন্ত একমাত্র ম্যাচের অভিজ্ঞতা। এবার আজকের ফিফা আসিয়ান কাপ উদ্বোধনী ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নামার আগে তিনি হারিয়েছেন সেই ম্যাচের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সেন্টার-ব্যাক তপু বর্মণ ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিনকে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে বিকাল তিনটায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের দুটি গোলই করেছিলেন তপু। প্রথম গোলের আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মোরসালিনের ক্রসে।
তবে এবার ডুলির হাতে এসেছে নতুন কিছু বিকল্প। দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য রাকিব হোসেন দলে ফিরেছেন। এছাড়া জাপানি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড শুকি ইতুফুসা এবং ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফরহান আলী ওয়াহিদের বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হতে পারে। রক্ষণেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক SAFF অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ডুলিকে মুগ্ধ করা সেন্টার-ব্যাক জিদান ইউসুফও এখন একাদশের বিবেচনায় রয়েছেন।
আক্রমণেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে আক্রমণভাগে। দলে স্বীকৃত কোনো ‘নম্বর নাইন’ নেই। ডুলি ও তার আগে দায়িত্বে থাকা হাভিয়ের কাবরেরাও বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা নাইন হিসেবে মোরসালিন, রাকিব হোসেন, এমনকি জামাল ভূঁইয়াকেও ব্যবহার করেছেন।
ডুলি এখনও নির্দিষ্ট কোনো কৌশলগত কাঠামো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। তাই আক্রমণভাগে কে শুরু করবেন, সেটিই সবচেয়ে কঠিন অনুমানের বিষয়।
রক্ষণভাগ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। দুই ফুল-ব্যাক হিসেবে জাইয়ান আহমেদ ও সাদ উদ্দিনের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সেন্টার-ব্যাকে তারিক কাজীর সঙ্গী হতে পারেন শাকিল আহাদ তাপু, মঞ্জুরুর রহমান মানিক কিংবা জিদান ইউসুফ।
তবে অভিষেক হতে যাওয়া কোনো খেলোয়াড়কে ডুলি সরাসরি একাদশে রাখবেন কি না, সেটিই প্রশ্ন। শুরুতে না নামিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামানোর সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
মাঝমাঠের মূল ভরসা হামজা
মাঝমাঠে হামজা চৌধুরীই থাকবেন দলের মূল ভরসা। বল কেড়ে নেওয়া, পাস দেওয়া এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ—সব দায়িত্বেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে তার।
তার সঙ্গে সোহেল রানা সিনিয়র অথবা মোহাম্মদ হৃদয়কে অপেক্ষাকৃত রক্ষণাত্মক ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। তারা সেন্টার-ব্যাকদের সামনে অবস্থান নিয়ে রক্ষণকে সুরক্ষা দিতে পারেন কিংবা প্রয়োজনে ডিফেন্স লাইনের মাঝেও নেমে যেতে পারেন।
আক্রমণভাগের সমীকরণ অবশ্য অনেকটাই অনিশ্চিত। প্রতিষ্ঠিত কোনো গোলস্কোরার বা নির্ভরযোগ্য ‘ফলস নাইন’ না থাকায় বাংলাদেশকে উইংয়ের খেলোয়াড়দের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হতে পারে। একই সঙ্গে উইঙ্গার ও আক্রমণাত্মক ফুল-ব্যাকদের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সতর্ক কৌশল?
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ডুলি শুরুতে কিছুটা সতর্ক কৌশল বেছে নিতে পারেন।
সে ক্ষেত্রে তারিক, তাপু ও জিদানকে নিয়ে তিন সেন্টার-ব্যাকের কাঠামো দেখা যেতে পারে। মাঝমাঠে থাকতে পারেন হামজা, সোহেল, জামাল ভূঁইয়া ও শামিত শোম। আর আক্রমণে একমাত্র ফরোয়ার্ড হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন রাকিব।
এমন কৌশলে নতুন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের বেঞ্চে রেখে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ডুলি যদি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতে চান, কিংবা ম্যাচের কোনো পর্যায়ে গোলের জন্য বাড়তি আক্রমণশক্তি প্রয়োজন হয়, তাহলে বাম দিক দিয়ে আক্রমণ বাড়াতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ফাহেমেদুল ইসলাম, ফরহান ও ইতুফুসার মতো খেলোয়াড়দের হাতে ভালো বিকল্প থাকবে। তিনজনেরই গতি ও বল পায়ে দক্ষতা রয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন সমন্বয়ে ব্যবহার করা সম্ভব।
গোলরক্ষক নিয়েও অনিশ্চয়তা
গোলরক্ষকের জায়গাতেও রয়েছে প্রশ্ন। সান মারিনোর বিপক্ষে মিতুল মারমা শুরু করেছিলেন। তবে নিকোলাস জাকোপেত্তির সমতাসূচক গোলটি নিজের কাছের পোস্টে ঠেকাতে পারেননি তিনি। ফলে তার জায়গা একাদশে নিশ্চিত নয়।
ডুলি পরিবর্তন আনলে সুজন হোসেনের চেয়ে মেহেদী হাসান শ্রাবণের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ডুলির কোচিং অধ্যায় এখনও একেবারে শুরুর দিকে। তাই বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ অনুমান করা অনেকটা উপকূলীয় বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুমান করার মতোই কঠিন। তবে প্রথম বড় কৌশলগত পরীক্ষার মুখে ডুলির সামনে এই একাদশের ধাঁধাটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়।


