আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন অধ্যায়ে প্রত্যাশা নিয়ে আসিয়ান কাপের মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো হামজা চৌধুরীর দলকে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে আক্রমণভাগের কার্যকর ফিনিশিং এবং রক্ষণে বাংলাদেশের ভুল কাজে লাগিয়ে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে মালয়েশিয়া।
শুক্রবার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে মালয়েশিয়া। পঞ্চম মিনিটে ফয়সাল হালিমের দূরপাল্লার শট অবশ্য মেহেদী হাসান শ্রাবণ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন।
তবে বেশিক্ষণ বাংলাদেশকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি মালয়েশিয়া। ১৮ মিনিটে লায়ান নুয়ারের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাংলাদেশের বক্সে ঢুকে পড়েন আরিফ আইমান। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিচু শটে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
পিছিয়ে পড়ার পরও বাংলাদেশের আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখা যায়নি। ৩৩ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে রাকিব হোসেন ব্যাকহিল করে গোলের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার শট লক্ষ্যে থাকেনি।
এরপরই রক্ষণে ভুলের সুযোগ নেয় মালয়েশিয়া। ৩৭ মিনিটে শাকিল আহাদ তপুর কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। গুস্তাভো সিলভেইরা দি সিলভার পাস থেকে আবারও জালে বল পাঠান আরিফ আইমান। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তৃতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মালয়েশিয়া। ফয়সাল হালিমের স্লাইডিং প্রচেষ্টা এবারও প্রতিহত করেন শ্রাবণ। ফলে দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পরও পরিস্থিতি বদলায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও একবার বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে যায়। লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্রুত শট নেন গুস্তাভো দি সিলভা। তার নিচু শটে পরাস্ত হন শ্রাবণ। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া।
এরপর একাধিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। জিদান ইউসুফ, শেখ মোরসালিন ও শুকি ইতোফুসা মাঠে নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণে কিছুটা প্রাণ ফেরে। তবে মালয়েশিয়ার রক্ষণে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।
৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলোর একটি আসে হামজা চৌধুরীর সামনে। শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে শক্তিশালী শট নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করে সেটিও ঠেকিয়ে দেন।
শেষ দিকে বাংলাদেশ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও স্কোরলাইনে আর পরিবর্তন আসেনি। ফলে ৩-০ গোলের হার দিয়েই আসিয়ান কাপের যাত্রা শুরু করতে হলো হামজা চৌধুরীদের।
ম্যাচটিতে বাংলাদেশ একাদশে ছিলেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী তরুণ ফারহান আলি ওয়াহিদ। দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছে আরও দুই প্রবাসী ফুটবলার জিদান ইউসুফ ও শুকি ইতোফুসার।
এখন প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। আগামী রোববার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে হামজার নেতৃত্বাধীন দল।




