ন্যাট সিভার ব্রান্টের স্বপ্ন – স্বাগতিক অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

দলের প্রস্তুতি এবং পূর্বসূরিদের গৌরবময় রেকর্ড বজায় রাখার প্রত্যয় অর্থাৎ স্বাগতিক অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করতে চান তিনি

মাইক্রোফোন হাতে কথা বলছেন ন্যাট" সিভার-ব্রান্ট।

ঘরের মাঠে আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ন্যাট সিভার ব্রান্টকে। দেশের মাটিতে এটি তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। আসন্ন এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে নিজের রোমাঞ্চ, দলের প্রস্তুতি এবং পূর্বসূরিদের গৌরবময় রেকর্ড বজায় রাখার প্রত্যয় অর্থাৎ স্বাগতিক অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করতে চান তিনি। আইসিসির এক কলামে নিজের এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান ইংলিশ অধিনায়ক।

ঘরের মাঠের অপরাজেয় রেকর্ড ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি অনন্য রেকর্ড রয়েছে—দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপে কখনোই ব্যর্থ হয়নি তারা। এই পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দিয়ে সিভার-ব্রান্ট রসিকতার ছলে বলেন,

“আমাকে অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ইংল্যান্ড ঘরের মাঠে কখনোই বিশ্বকাপ হারেনি। তার মানে তো এটাই দাঁড়ায় যে এবারও আমরাই জিতছি! তবে অবশ্যই আমি জানি বাস্তবটা এমন নয়। তাই এই পরিসংখ্যান আসলে বাড়তি কোনো চাপ তৈরি করছে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, পূর্বসূরিদের মতো তিনিও ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা অধিনায়কদের তালিকায় নিজের নাম লেখাতে চান। একই সাথে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ না জেতা প্রথম ইংলিশ অধিনায়ক হওয়ার রেকর্ড নিজের নামের পাশে দেখতে চান না তিনি।

২০১৭ সালের স্মৃতি ও আয়োজক দেশের সুবিধা

২০১৭ সালের নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি চারণ করে সিভার-ব্রান্ট জানান,

“সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এখন ১০ বছর আগের ঘটনা মনেই হয় না। সেবার পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অনেক চড়াই-উতরাই পার করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।”

তার মতে, আয়োজক দেশ হওয়াটা র‍্যাংকিংয়ের চেয়েও বড় একটি সুবিধা বা ‘এজ’ দেয়। পুরো দেশের সমর্থনকে পুঁজি করে এবারও তারা সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে চান। তবে মাঠের খেলায় যেন এই প্রত্যাশার চাপ বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি না করে, সেদিকেও নজর রাখছেন তিনি। শান্ত থেকে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

দলে নতুন ও পুরোনোদের দারুণ রসায়ন

ইংল্যান্ড দলে বর্তমানে অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের একটি দারুণ ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। তরুণ বাঁহাতি স্পিনার টিলি কর্টিন-কোলম্যানের দলে অন্তর্ভুক্তি ও অভিষেক সিভার-ব্রান্টকে নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। কর্টিন-কোলম্যানকে তিনি ইংল্যান্ড ক্রিকেটের এক দারুণ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি লিন্সি স্মিথ এবং দানি গিবসনের মতো ক্রিকেটারদের দলে ফিরে আসা এবং নিজেদের মেলে ধরাটা পুরো দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

চূড়ান্ত লক্ষ্য: ফাইনাল ও ট্রফি জয়

গত এক বছরে ইংল্যান্ড দলে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে দলের লক্ষ্য এবং নিজেদের অবস্থান নিয়ে খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ পরিষ্কার। সিভার-ব্রান্ট অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, তার দলে এমন কিছু ক্রিকেটার রয়েছেন যারা যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে লড়াই করে দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলের প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন বলে তিনি জানান।

Exit mobile version