দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনায় মেতে উঠবে ফুটবলপ্রেমীরা। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা আর সম্ভাবনা। বিশ্বকাপ ফুটবলে গোলের রূপকার হিসেবে কে এগিয়ে তা নিয়ে আলোচনা।
আধুনিক ফুটবলে গোলদাতার যেমন গুরুত্ব রয়েছে ঠিক তেমনই গুরুত্ব রয়েছে যিনি গোল তৈরি কর দিচ্ছেন বা অ্যাসিস্ট করছেন। ম্যাচের চরম মুহুর্তে, কঠিন ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে একটি নিখুঁত পাস মুহুর্তের মধ্যে খেলার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমন সব জাদুকরী পাস দেখা গেছে যা টুর্নামেন্টের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমনই ঐতিহাসিক মুহুর্ত তৈরি হয়েছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকোর অ্যাজটেক স্টেডিয়ামে। ফাইনালে মুখোমুখি জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। একটা সময়ে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ম্যাচ জয় সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না জার্মানি। ফলে এক পর্যায়ে তারা ২-২ গোলে সমতা ফেরায়। এমন সময়ের দিয়াগো ম্যারাডোনার সেই মোক্ষম পাস বা অ্যাসিস্ট। বুরুচাগা তা থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব জয়ের মুকুট এনে দেন।
২০২২ বিশ্বকাপে মেসি
এমনই জাদুকরী পাস দেখা গেছে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে। দোহার লুসেইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার গাভার্দিওলকে যেভাবে বোকা বানিয়ে বক্সের মধ্যে বল ফেলেছিলেন সেই চোখ ধাঁধানো পাস ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে। মেসির সেই অনবদ্য পাস থেকে গোল করেছিলেন হুলিয়ান আভারেজ। বিশ্বকাপের সেরা পাসের স্বীকৃতি পেয়ে আস মেসির এই পাস।
ধারেকাছে নেই কেউ
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে মাঠের এই চূড়ান্ত পাস বা অ্যাসিস্টের ক্ষেত্রে ম্যারাডোনা বা মেসির কাছাকাছি কেউ নেই। পাঁচটি বিশ্বকাপে মোট ২৬ ম্যাচ খেলে মেসি আটটি গোলের রূপকার হয়েছেন। ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ খেলেছেন চারটি। ম্যাচের সংখ্যা ২১টি। তবে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা মেসির সমান আটটি। তবে গোল করার দিক থেকে ম্যারাডোনার থেকে মেসি অনেক অনেক এগিয়ে। ম্যারাডোনার গোলের সংখ্যা আটটি, মেসি গোল করেছেন ১৩টি। বিশ্বকাপ ফুটবলে অ্যাসিস্টের সংখ্যায় ম্যারাডোনা ও মেসির কাছাকাছি কেউ নেই। এমনকি ফুটবল সম্রাট ব্রাজিলের পেলেও পিছিয়ে। ব্রাজিলের এই ফুটবলার গোলের রূপকার হয়েছেন ছয়টিতে।
বিশ্বকাপের অ্যাসিস্টের তালিকায় এ সময়ের অন্যতম ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নেই। এমন কি সেখানে নেই মিশেল প্লাতিনি, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, জিনেদিন জিদান বা ইয়োহান ক্রুয়েফের মতো খেলোয়াড়রা।
