ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল ডিআর কঙ্গো। সেই লিড ধরে রেখে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন বুনছিল উজবেকিস্তানও। তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কঙ্গোকে দেখল ফুটবল বিশ্ব। প্রথমার্ধের ভুলত্রুটি শুধরে দ্বিতীয়ার্ধে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তিন-তিনটি গোল আদায় করে নেয় আফ্রিকান দলটি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বও নিশ্চিত করেছে তারা।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ গ্রুপ ‘কে’-এর এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয়ের পর, সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট কাটল ডিআর কঙ্গো।
বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের প্রথম গোলদাতা এলদোর শামুরোদভ
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই কঙ্গোর জালে বল পাঠিয়ে চমকে দিয়েছিলেন উজবেকিস্তানের এলদোর শামুরোদভ, তবে অফসাইডের কারণে রেফারি তা নাকচ করে দেন। কিন্তু ম্যাচের ১০ মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড। কঙ্গোর ডিফেন্সের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে আব্বোসবেক ফায়জুল্লায়েভের পাস থেকে এক দর্শনীয় চিপ শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান শমুরুদভ। এর মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে উজবেকিস্তানের পক্ষে প্রথম গোলের অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া কঙ্গো ১৮ মিনিটে নাথান এমবুকুর দূরপাল্লার শটে গোল পেলেও, ভিএআর (VAR) রিভিউতে দেখা যায় গোলটির বিল্ড-আপের সময় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাউল করা হয়েছিল। ফলে সেই গোলটিও বাতিল হয়। এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কঙ্গো আর কোনো বিপজ্জনক আক্রমণ করতে না পারায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় উজবেকিস্তান।
দ্বিতীয়ার্ধে উইসা-মায়েলে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড উজবেকিস্তান
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ডিআর কঙ্গো। একের পর এক আক্রমণে তারা কাঁপিয়ে দেয় উজবেক রক্ষণভাগ। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ইয়োনে উইসাকে ফাউল করে বসেন ম্যানচেস্টার সিটির উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ। পেনাল্টির বাঁশি বাজলে স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে কঙ্গোকে ১-১ সমতায় ফেরান নিউক্যাসেলের ফরোয়ার্ড উইসা।
সমতা আসার পর কঙ্গোর বদলি খেলোয়াড়রা ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দেন। ৭৮ মিনিটে মেসাক এলিয়ার একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলে, দারুণ রিফ্লেক্সে ফিরতি বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা ফিস্টন মায়েলে। এই গোলের সুবাদে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় কঙ্গো।
ম্যাচের শেষ দিকে উজবেকিস্তান অলআউট আক্রমণে গিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোল পায়নি। উল্টো যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিটে) মেসাক এলিয়ার নিখুঁত পাস থেকে এক চমৎকার নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইয়োনে উইসা। এটি চলতি বিশ্বকাপে উইসার তৃতীয় গোল।
শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে ৩-১ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধে চেনা ছন্দে না থাকলেও, দ্বিতীয় অর্ধেকের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ পা রাখল আফ্রিকান পরাশক্তিরা, আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো উজবেকিস্তানকে।
