চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় মন খারাপ ছিল অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের। কিন্তু মাঠে তার কোনো ছাপই দেখা গেল না। বরং এক দিন পরই নিজের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত এক গোলে লিভারপুলকে এনে দিলেন ২-১ ব্যবধানের জয়।
ম্যাচের আগে ম্যাক অ্যালিস্টার জানিয়েছিলেন, নতুন চুক্তি না পাওয়ায় হতাশ হলেও লিভারপুলের জন্য তিনি নিজের শতভাগই উজাড় করে দেবেন। কথার পর মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা গেল। ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত শটে আতলেতিকোর গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাককে পরাস্ত করে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
অবশ্য শুরুটা লিভারপুলের পক্ষে ছিল না। ম্যাচে প্রথম গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন মার্কোস ইয়োরেন্তে। আনহেল কোরেয়ার বদলে আক্রমণে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইয়োরেন্তে আবারও অ্যানফিল্ডে নিজের গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। লিভারপুলের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে কোচ হিসেবে তিন ম্যাচে এটি ছিল তার পঞ্চম গোল।
তবে পিছিয়ে পড়ে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকেরা। বিরতির পাঁচ মিনিট আগে দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করেন ডমিনিক সোবোসলাই। গোলটির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রোনাল্ড আরাউহো। ধারে লিভারপুলে থাকা বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক মূলত সেন্টার-ব্যাক হলেও এদিন রাইট-ব্যাক হিসেবেও বেশ পরিণত পারফরম্যান্স দেখান। তাঁর চমৎকার ব্যাকহিল থেকেই সোবোসলাইয়ের গোলের পথ তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালোভাবে নেয় লিভারপুল। বিরতির পরপরই বল দখল ফিরে পেয়ে দ্রুত আক্রমণে যায় তারা। আর সেই চাপ থেকেই আসে ম্যাক অ্যালিস্টারের গোল। পেনাল্টি এলাকার বাইরে পাওয়া বলে দুর্দান্ত শটে সেটিকে জালে পাঠান তিনি।
ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলের আগে অবশ্য লিভারপুলের নতুন তারকা ব্র্যাডলি বারকোলার সামনে ব্যবধান বাড়ানোর বড় সুযোগ এসেছিল। ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে যোগ দেওয়া ফরাসি ফরোয়ার্ডের এটি ছিল লিভারপুলের হয়ে পূর্ণাঙ্গ অভিষেক। প্রথমার্ধেই ওবলাককে দুবার পরীক্ষা করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে কাটিয়ে প্রায় ফাঁকা জাল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন বারকোলা।
এরপর চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় তার অভিষেকের আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। তবে সব মিলিয়ে লিভারপুলের জন্য ম্যাচটি ছিল ইতিবাচক। ভির্টজের সঙ্গে বারকোলার বোঝাপড়া আশাব্যঞ্জক ছিল, ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহাও দেখিয়েছেন প্রতিভার ঝলক। আর সবচেয়ে বড় স্বস্তি-প্রথমে গোল হজম করার পরও জয় পেয়েছে লিভারপুল। চলতি বছরের জানুয়ারির পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে আগে গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল দলটি।


