ঘরোয়া ফুটবল লিগের সূচি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে দেওয়া একটি চিঠিতে ঢাকা সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
২০২৬-২৭ মৌসুমের ফুটবল লিগ সামনে রেখে সম্প্রতি বাফুফের কাছে একটি স্মারকপত্র দেওয়া হয়। সেখানে লিগের সময়সূচি নিয়ে বাফুফের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সিটি ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। চিঠিটিতে সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুল হক মঈনের স্বাক্ষর ছিল।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে সিটি ক্লাব। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই প্রস্তাবের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি চিঠিতে সাধারণ সম্পাদকের যে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও জাল বলে দাবি করেছে ক্লাবটি।
ঘটনার তদন্ত ও শাস্তির দাবি সিটি ক্লাবের
সিটি ক্লাবের অভিযোগ, তাদের অনুমতি বা মতামত ছাড়া এ ধরনের একটি চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে ক্লাবটিকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বাফুফে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রফেশনাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে সিটি ক্লাব। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
স্বাক্ষর জাল করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হক মঈন। তিনি বলেন,
আমার মতামত না নিয়ে এভাবে স্বাক্ষর করে দেওয়া দুঃখজনক। আমরা দুই মাস আগে অনুশীলন শুরু করেছি। দেশের শীর্ষ লিগ বারবার পেছাচ্ছে। আমাদের অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে এরই মধ্যে। খেলা নির্ধারিত সময়েই হওয়া উচিত।
সিটি ক্লাবের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন,
যে ক্লাবের চিঠি জাল করে এবং জাল সাইন করে সেই তথ্য দেওয়া হয়, এটা আমি মনে করি গুরুতর একটি অপরাধ। এর সঙ্গে যারা জড়িত আছে, অবশ্যই আমি আজকের ভেতরেই তদন্ত কমিটি করে সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখবো। কেন এই ধরনের জালিয়াতি হয়েছে এবং কারা এর সুযোগ নিল, এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।
জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে কিংবা একজন স্পোর্টস মিনিস্টার হিসেবে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা না, প্রয়োজনে এই ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
ফুটবলের এই ঘটনার পাশাপাশি দেশের হকির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন আমিনুল হক। সম্প্রতি গঠিত হকির নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা, আমাদের ছেলেরা হকিতে অনেক ভালো করছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আশা করি যে হকি লিগটা চালু হবে।
হকি লিগ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আমিনুল হক বলেন, আর সেই হকি লিগটা শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক না, ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিভাগীয় পর্যায়েও যাতে আমরা হকি লিগ করতে পারি, সেই ধরনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।





