ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে নিজে শীর্ষে উঠলেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে। এই ম্যাচে নিজে গোল পাননি কিন্তু ২টি গোল অ্যাসিস্ট করে সেমিফাইনালে ফুটবলের চিরশত্রুদের বিপক্ষে জয়ী হয়ে ২য় বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল তুললেন আর্জেন্টিনাকে। ঐতিহাসিক ম্যাচে নিজে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে একক ভাবে শীর্ষে মেসি।
গতকাল রাতে আটলান্টায় ইংল্যান্ড বধ ম্যাচে নিজের দুর্দান্ত প্রভাব ঠিকই রেখেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে দলের দুই গোল বানিয়ে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম নায়কও মেসি। তাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, দুজনেরই গোল ৮টি করে। কিন্তু বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। ইংল্যান্ড ম্যাচ শুরুর আগে মেসির অ্যাসিস্ট ছিল ২টি সেখানে এমবাপ্পের ৩টি অ্যাসিস্ট ছিল। এই ম্যাচে ২টি অ্যাসিস্ট করে শীর্ষে উঠলেন মেসি।
গোল্ডেন বুট দৌড়ঃ
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট
আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল
জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন): ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
উপরের ৭ জনের মধ্যে হলান্ড ছাড়া বাকি ছয়জনের সামনে আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। রোববারের ফাইনালে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।
ফিফা বিশ্বকাপে মোট ২২টি আসর (১৯৩০–২০২২) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে গোল্ডেন বুট/গোল্ডেন শু (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন ২৮ জন খেলোয়াড়। কারণ ১৯৬২ সালে ৬ জন এবং ১৯৯৪ সালে ২ জন যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে এই পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে গোল্ডেন শু নামে চালু হয়, পরে ২০১০ সালে এর নাম বদলে গোল্ডেন বুট রাখা হয়।
| বিশ্বকাপ | খেলোয়াড় | দেশ | গোল |
| ১৯৩০ | গিয়ের্মো স্তাবিলে | আর্জেন্টিনা | ৮ |
| ১৯৩৪ | ওলদ্রিখ নেয়েদলি | চেকোস্লোভাকিয়া | ৫ |
| ১৯৩৮ | লিওনিদাস | ব্রাজিল | ৭ |
| ১৯৫০ | আদেমির | ব্রাজিল | ৮ |
| ১৯৫৪ | শানদর কচিস | হাঙ্গেরি | ১১ |
| ১৯৫৮ | জুস্ত ফঁতেন | ফ্রান্স | ১৩ |
| ১৯৬২ | গারিঞ্চা | ব্রাজিল | ৪ |
| ১৯৬২ | ভাভা | ব্রাজিল | ৪ |
| ১৯৬২ | লিওনেল সানচেস | চিলি | ৪ |
| ১৯৬২ | দ্রাজান জেরকোভিচ | যুগোস্লাভিয়া | ৪ |
| ১৯৬২ | ভ্যালেন্তিন ইভানোভ | সোভিয়েত ইউনিয়ন | ৪ |
| ১৯৬২ | ফ্লোরিয়ান আলবার্ট | হাঙ্গেরি | ৪ |
| ১৯৬৬ | ইউসেবিও | পর্তুগাল | ৯ |
| ১৯৭০ | গার্ড মুলার | পশ্চিম জার্মানি | ১০ |
| ১৯৭৪ | গ্রেজেগর্জ লাতো | পোল্যান্ড | ৭ |
| ১৯৭৮ | মারিও কেম্পেস | আর্জেন্টিনা | ৬ |
| ১৯৮২ | পাওলো রসি | ইতালি | ৬ |
| ১৯৮৬ | গ্যারি লিনেকার | ইংল্যান্ড | ৬ |
| ১৯৯০ | সালভাতোরে স্কিলাচ্চি | ইতালি | ৬ |
| ১৯৯৪ | ওলেগ সালেঙ্কো | রাশিয়া | ৬ |
| ১৯৯৪ | হ্রিস্টো স্তইচকভ | বুলগেরিয়া | ৬ |
| ১৯৯৮ | দাভোর শুকের | ক্রোয়েশিয়া | ৬ |
| ২০০২ | রোনালদো | ব্রাজিল | ৮ |
| ২০০৬ | মিরোস্লাভ ক্লোসে | জার্মানি | ৫ |
| ২০১০ | টমাস মুলার | জার্মানি | ৫ |
| ২০১৪ | হামেস রদ্রিগেস | কলম্বিয়া | ৬ |
| ২০১৮ | হ্যারি কেন | ইংল্যান্ড | ৬ |
| ২০২২ | কিলিয়ান এমবাপ্পে | ফ্রান্স | ৮ |
মজার ব্যাপার হল একই বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের রেকর্ড করেন ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন যিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি।


