ফুটবল বিশ্বকাপে ডেভিড বনাম গোলিয়াথের মতো কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে চোখধাঁধানো এক গোলে স্টেডিয়াম স্তব্ধ করে দেন লোপেস কাবরাল। নক আউট পর্বের ম্যাচটির অতিরিক্ত সময়ে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে ড্রিবল করে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে টপ কর্নারে বল পাঠান কেপভার্দিয়ান এই ফুটবলার।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার কাবরালের করা চমৎকার গোলটি সমর্থকদের ভোটে ‘গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হয়েছে। এক পোস্টে এ নিয়ে বিষদ বিবরণ দিয়েছে ফিফা।
উজবেকিস্তানের এলদোর শোমুরোদভ এবং হাইতির উইলসন ইসিদোরের দুর্দান্ত গোল দুটিকে পেছনে ফেলে সেরা হয়েছেন কাবরাল। এর মাধ্যমে ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, দিয়েগো ফরলান, হামেস রদ্রিগেজ, বেনজেমা পাভার্ড এবং রিচার্লিসনের মতো তারকাদের পাশে নাম লেখালেন তিনি।
কাবরাল যা বললেন
সেই অবিশ্বাস্য গোল নিয়ে কাবরাল বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে পার হওয়ার মুহূর্তেই সামনে কিছুটা খালি জায়গা দেখি এবং মনে মনে ভাবি, ‘একবার শট নেওয়া যাক’। আমি দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারি। স্পেস পেয়ে টপ কর্নার লক্ষ্য করে শটটি নিখুঁতভাবে নিয়েছিলাম।’
‘শট নেওয়ার পর যখন তাকিয়ে দেখলাম বল একদম টপ কর্নারে যাচ্ছে, তখন নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। ভাবছিলাম, ‘আমি এটা কী করলাম!’ সতীর্থরা উল্লাসে চিৎকার করছিল, মাথায় হাত দিয়ে বিশ্বাস করার চেষ্টা করছিল। সবাই আনন্দে ভেসে যাচ্ছিল’-যোগ করেন তিনি।

মিয়ামি স্টেডিয়ামের ৬৫ হাজার দর্শক এবং বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমী সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী হন। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে ৩-২ গোলে হারে। ম্যাচে যখন কেপ ভার্দে ২-১ গোলে পিছিয়ে তখন কারবাল গোলটি করে খেলায় সমতায় ফেরান। গোল করার পর কাবরাল বাঁধভাঙা উল্লাসে গ্যালারির দিকে দৌড় দেওয়ার মুহূর্তেই তার মা তেরেসা জ্ঞান হারান!
শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি কেপভার্দে
অতিরিক্ত সময়ের খেলায় কাবরাল গোল করে সমতায় ফেরালেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জয় পায় ৩-২ গোলে। আর্জেন্টিনার পাওয়া শেষ গোলটি ছিল আত্মঘাতি। নাটকীয় এ জয়ের পর শেষ ষোলোতে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা। একে একে তারা মিসর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায়। সম্ভাবনা তৈরি হয় টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের। কিন্তু শিরোপার দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। রহস্যময় ফাইনালে তাদেরকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জয় করে নেয়। ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই।


