দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে শুটিং ও আরচ্যারীর মতো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক আসরে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এশিয়ান গেমসের পর থেকেই বছরব্যাপী নিবিড় ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শনকালে এসব কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সাথে একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় করার প্রক্রিয়া চলার বিষয়ে কঠোর ও আশ্বস্ত করার মতো অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরির উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আরচ্যারী দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি খেলা এবং খেলোয়াড়দের অনুশীলনে বিঘ্ন ঘটে এমন কিছু হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন: “আমাকে যদি ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন, তাহলে আমার জায়গা থেকে যা যা করণীয়, আমি সব করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।”
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “এটা নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ আমাদের আরচ্যারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরচ্যারীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাই আরচ্যারীর সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের খেলায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে আমরা নজর রাখব ইনশাআল্লাহ।”
সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়া খাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় শুটিং ও আরচ্যারীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে একদম ‘জিরো’ থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে।
খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করতে ইতোমধ্যে ১৫-১৬ জন আরচ্যারকে পেশাগত স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়াকার্ডের আওতায় আনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে দেশজুড়ে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলার এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানান আমিনুল হক। চলতি বছরই ১০টি স্পোর্টস ভিলেজের কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা দেশের ৬৪টি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিটি স্পোর্টস ভিলেজে শুটিং ও আরচ্যারীর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে, যাতে জেলার তরুণ প্রতিভাবানরা সহজেই জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসতে পারেন।
এর আগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমিতে চলমান জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচ্যারী টুর্নামেন্ট পরিদর্শন করেন। সেখানে পৌঁছালে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী সেখানে বিভিন্ন দেশের আরচ্যারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে, যারা দেশের আরচ্যারীকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে কাজ করবে।


