টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় করার প্রক্রিয়া চলা প্রসঙ্গে কঠোর ও আশ্বস্ত করার মতো অবস্থান নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, আরচ্যারী দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খেলা এবং এ খেলোয়াড়দের অনুশীলনে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হবে। ময়লার ভাগাড়ের বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে যদি ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন, তাহলে আমার জায়গা থেকে যা যা করণীয়, আমি সব করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘এটা নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ আমাদের আরচ্যারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরচ্যারীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাই আরচ্যারীর সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের খেলায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে আমরা নজর রাখব ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমিতে জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচ্যারী টুর্নামেন্ট পরিদর্শন করতে আসেন। এ সময় ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের আরচ্যারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়া খাতের সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় শুটিং ও আরচ্যারীর মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মতো সর্বোচ্চ আসরে পদক অর্জনের লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসের পর থেকে বছরব্যাপী ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ১৫-১৬ জন আরচ্যারকে ইতোমধ্যে পেশাগত স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়াকার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জিরো থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরিতে দেশজুড়ে স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছর ১০টি স্পোর্টস ভিলেজের কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা ৬৪টি জেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি স্পোর্টস ভিলেজে শ্যুটিংয়ের পাশাপাশি আরচ্যারীর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে, যাতে জেলার তরুণ প্রতিভাবানরা জাতীয় পর্যায়ে সহজে অংশ নিতে পারেন।
নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রতি আস্থা রেখে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে, যারা দেশের আরচ্যারীকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে কাজ করবে।


