বাংলাদেশ আর্মি নারী ও পুরুষ দলের দাপুটে জয়

ফুটসাল লীগ বাংলাদেশ ২০২৫-২৬

মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শ ‘দুয়েক দর্শকদের ভালই ফুটসাল বিনোদন দিলেন বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিমিটেডের নারী ও পুরুষ দলের খেলোয়াড়রা। নারী দলের খেলোয়াড়রা মুখোমুখি হয়েছিল ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমীর আবার পুরুষ দল তারাও লড়েছে এই প্রতিপক্ষের। তবে দিন শেষে “ফুটসালে বাংলাদেশ আর্মি নারী ও পুরুষ দলের দাপুটে জয়” দেখেছে উপস্থিত দর্শকরা।

বাংলাদেশ আর্মি নারী ও পুরুষ দলের দাপুটে জয়
ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন সেনাবাহিনীর খালেদ হাসান (বল পায়ে )

 খেলায় ওয়ারিয়রের খেলোয়াড়রা প্রতি আক্রমন নির্ভর খেলে পেরে উঠেনি বিশেষ করে আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের অধিনায়ক মেহেনুর, সুলতানা, হালিমা. মিতু, বৃষ্টিদের প্রেসিং ফুটসালে। খেলার শুরু থেকেই ২-২ ফরমেশনে মধ্যমাঠের দখল নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটসালে আর্মি ব্যাস্ত করে তোলে প্রতিপক্ষ ওয়ারিয়রকে। অপরদিকে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটসাল খেলে হতাশ করেনি ওয়ারিয়র ম্যাচ হারলেও ওয়ারিয়র ২টি গোল করে স্পষ্ট ব্যাবধানের ম্যাচে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলে মাঝে মধ্যে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছে। খেলার ৬ মিনিটের মাথায় জোতি দলের প্রথম গোল করে ইঙ্গিত দিলেও আর্মি স্পোটস ক্লাবের কাছে হেরে যায় ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমী।

৫-২ গোলে জয় লাভ করে আর্মি নারী দল পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে নীড়ে ফিরেছে। বিজয়ী দলের মিতু, তনিমা জাহান ও নওশিন জাহানের কম্বিনেশনে আক্রমনের পর আক্রমন করে ওয়ারিয়রের গোল রক্ষক এনিমা খানমকে ক্লান্ত করে তুলেছিলেন অনেক গুলো গোল সেভ করেছেন খানম তা না হলে আরো ২ থেকে ৩টি গোল হজম করতে হত।অপরদিকে দিনের শেষ পুরুষ বিভাগের ম্যাচে আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিঃ খেলার ৩ মিনিটের সময় অধিনায়ক সাব্বিরের দেয়া গোলে এগিয়ে যায়। এরপরের গল্পটা শুধুই আর্মি দলের মারুফ, খালেদ হাসান, আতিক আর বাপ্পিদের, অর্থ্যাৎ নারী খেলোয়াড়দের চেয়েও পুরুষ দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচে বেশী কর্তৃত্ব নিয়ে খেলেছে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে। মাঝমাঠ, আক্রমণ ভাগ কিংবা লেফট উইং অথবা রাইট উইং সবখানেই ডমিনেট করে খেলে আর্মি স্পোর্টস ক্লাব প্রথম অর্ধ শেষ করে ৪-১ গোলে এগিয়ে থেকে। ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমীর হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তানভীর। তবে গোল ব্যাবধানে আর্মি এগিয়ে থাকলেও কোর্টের খেলায় তুমুল লড়াই হয়েছে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে উভয় দলই চিত্তাকর্ষক ফুটসাল উপহার দিয়েছে।

ওয়ারিয়র একাডেমীর গোল রক্ষক আব্দুর রহমান ভাল সেভ করেছেন

আসলে ফুটসাল খেলা অনেকটাই ট্যাকটিক্যাল গেম কারণ এখানে ছোট জায়গায় মুভমেন্ট, দ্রুত পাস, ড্রিবলিং, শুটিং এবং বল নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার গুলো খুবই চোখে পড়ে তাই যারা এগুলো রপ্ত করতে পারবে ও প্রেসিং এ এগিয়ে থাকবে তারাই ভাল করবে, আর্মি স্পোর্টস ক্লাব সবগুলো টেকনিক ভাল ভাবে প্রয়োগ করে ম্যাচে ব্যবধান গড়েছে বিশেষ করে ফিনিশিং টাচ এ বেশ দক্ষতার সাথে খেলেছে যার কারনে দ্বিতীয়ার্ধে আরো ৩টি গোল যোগ করে ৭-১ গোলের বিশাল জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরেছে।

বিশ্বকাপের আগে ফুটসাল লীগ বাংলাদেশে শুরু হলেও বর্তমানে মিরপুর ইন্ডোর উডেনফ্লোর স্টেডিয়ামে দর্শক খরা নিয়ে টুর্নামেন্টের খেলা গুলো চলছে। প্রচার প্রচারনা কেমন হয়েছে জানিনা তবে আমার মনে হয় ১১টি ক্লাব দল নারী ও পুরুষ বিভাগের সেই হিসেব করলে ২২টি ক্লাব দল যদি প্রতিটি খেলোয়াড়ের পরিবার বন্ধু বান্ধবরাও ঠিকমত আসতো তাহলে ৩শ থেকে ৪শ দর্শক হত, কিন্তু সেটাও দেখা যায় না। আশা করি সময় এখনও রয়েছে প্রচার প্রচারনা বাড়িয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করবে কর্তৃপক্ষ। এমনকি স্টেডিয়ামের বাইরে রাস্তায় বড় কোন ব্যানার বা বিল বোর্ডও চোখে পড়েনা, এটা খুবই দুঃখ জনক।

ভিআইপি গ্যালারিতে এমন কিছু দর্শক এবং তার উপরের টায়ারে কিছু দর্শক ছাড়া তেমন কোন দর্শক দেখা যায়নি।

মেইন রাস্তার পাশের মূল ফটক সবসময় বন্ধ দেখা যায় অনেক দর্শক বুঝতেই পারেনা এখানে বিনা টিকিটে খেলা দেখা যায় বা খেলা হচ্ছে। যদি বাইরে মাঝে মাঝে ঘোষনা দেয়া হত, টুর্নামেন্ট নিয়ে ইনফরমেশন দেওয়া হত তাহলে চলন্ত মানুষ জনও বুঝতে পারতো শখ করে হলেও একবার ঢুকে দেখার চেষ্টা করতো। এমনকি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার থাকা সত্বেও আশানুরূপ দর্শক চোখ পড়ছেনা। বাইরে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এখানে দেশের ১১টি পুরুষ ও নারী ক্লাব দলকে নিয়ে সবচাইতে বড় এবং প্রথম ফুটসাল টুর্নামেন্ট হচ্ছে।  

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles