মিশরের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে দলে ভেড়ানোর পথে বড় অগ্রগতি করেছে তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজোনস্পোর। চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন শত শত সমর্থক, যারা উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেন ‘মিশরের রাজা’কে।
সমর্থকদের ভালোবাসার জবাবে সালাহও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ট্রাবজোন, তোমরা কি প্রস্তুত? আমি তোমাদের গর্জন শুনতে পাচ্ছি। খুব শিগগিরই দেখা হচ্ছে।”
বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে গ্রিসের মাইকোনোস দ্বীপে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সেখান থেকেই ব্যক্তিগত বিমানে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। যাত্রাপথের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ট্রাবজোনস্পোর।
ক্লাবের প্রকাশিত ছবিতে সালাহকে ট্রাবজোনস্পোরের জার্সি পরে দেখা যায়। জার্সিতে ছিল ৬১ নম্বর, যা ট্রাবজোন শহর এবং ক্লাবটির ঐতিহাসিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিমানে ধারণ করা সালাহর একটি ভিডিওবার্তাও প্রকাশ করেছে ক্লাবটি।
এর আগে সালাহর সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে তুরস্কের আরেক ক্লাব বেসিকতাসের নাম জোরালোভাবে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা আর এগোয়নি। এরপর ট্রাবজোনস্পোর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, সালাহকে দলে নেওয়ার বিষয়ে তারা আলোচনা শুরু করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে এবং চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তিনি ইস্তাম্বুলে পৌঁছাবেন। একই সঙ্গে সমর্থকদের বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বাগত জানানোর আহ্বানও জানানো হয়।
সালাহকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা আরও বাড়াতে ট্রাবজোনস্পোর একটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে মিশরের পিরামিড থেকে যাত্রা শুরু করে দৃশ্যপট গিয়ে শেষ হয় ক্লাবটির ৪১ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পাপারা পার্ক স্টেডিয়ামে।
গত মার্চে জানা যায়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লিভারপুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সালাহ। এরপর থেকেই তাঁর নতুন ঠিকানা নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা। একসময় সৌদি আরবের ক্লাবগুলোকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত তুরস্কের ট্রাবজোনস্পোরই মিশরীয় এই তারকাকে দলে ভেড়ানোর সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।


