১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করে বলেছিলেন যে ‘‘হ্যান্ড অব গড” তার কয়েক মিনিট পর আবার শতাব্দীর সেরা গোলও করেছিলেন। আজ ম্যারাডোনা নেই কিন্তু রয়েছে তার গোলের সেই বল! সেই ম্যাচের রেফারি তিউনিসিয়ার আলী বিন নাসের ম্যাচ শেষে বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং তিন দশকেরও বেশি সময় সংরক্ষণ করে ২০২৩ সালে তিনি লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছিলেন যে, এটিই ছিল ওই ম্যাচে ব্যবহৃত বল; পরবর্তী সময়ে নানা ভাবে যাচাইয়েও এর সত্যতা প্রমানিত হয়েছে। সম্প্রতি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা, গোলের বল নিলামে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হল ৪১ কোটি টাকায়।

বিখ্যাত সেই বলটি তৈরী করেছিল অ্যাডিডাস যা “অ্যাডিডাস আজতেকা” মডেলের। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ২২ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রে নিলামে বলটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে বলের গায়ে নেই ম্যারাডোনার কোন সই বা দৃশ্যমান কোন ছাপ তবে আছে শুধু তাঁর পায়ের এবং হাতের ছোঁয়া যা দেখাও যায়না আবার ছোঁ|য়াও যায়না। তারপরও এই বলের এত মূল্য। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, একই বলেই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত গোল এবং অন্যতম সেরা গোল—দুটিই হয়েছিল।
অকশনস প্রতিষ্ঠানের আশায় গুড়ে বালি: টেক্সাসের নিলাম প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশনস শনিবার বলটি বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করেছিল এই বলের দাম অন্তত ১ কোটি ডলার হবে কিন্তু আশায় গুড়ে বালি। শেষ পর্যন্ত বিক্রয়মূল্য সেই প্রত্যাশার অর্ধেকেরও কম হয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ের প্রথম গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’, দ্বিতীয় গোলটি পরে ফিফার ভোটে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নির্বাচিত হয়। ম্যাচটি হয়েছিল মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বৈরিতাঃ মূলতঃ সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল বিতর্ক থেকেই ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বৈরিতা শুরু হয়। ৫১ মিনিটে গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে উঠে বাঁ হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। রেফারি আলি বিন নাসের ঘটনাটি ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ হয়। পরে ম্যারাডোনা মজা করে বলেছিলেন, গোলটি হয়েছিল ‘ম্যারাডোনার মাথা আর ঈশ্বরের হাতের’ মিশেলে। অবশ্য তার ৪ মিনিট পর পরের গোলটি ছিল পুরোপুরি ফুটবল ইতিহাসেরই সেরা নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দৌড় শুরু করে ইংল্যান্ডের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে শিলটনকে পরাস্ত করে গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা।
তবে ম্যারাডোনার ওই ম্যাচের জার্সি বলের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল ২০২২ সালে। সোথবিজে জার্সিটির দাম উঠেছিল ৯৩ লাখ ডলার, ম্যাচে ব্যবহৃত কোনো ক্রীড়াসামগ্রীর জন্য যা রেকর্ড পরিমাণ মূল্য।
সারকথা: ম্যারাডোনা নেই কিন্তু তার ফুটবল কীর্তি তাকে দিয়েছে অমরত্ব। তার চলাফেরা ও লাইফ স্টাইল নিয়ে সমালোচানা থাকলেও শুধু এই একটি “গোল” ছাড়া তার খেলায় ছিল অসাধারণ শিল্পের ছোঁয়া। আর তাইতো তিনি আজও বিশ্ব ফুটবলের ম্যারাডোনা।


