২০১৮ সালে নারী এশিয়া কাপ জয়ের পর আর ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ আসরেও সেমিফাইনালে থেমেছিল পথচলা। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য তাই শুধু সেমিফাইনাল নয়, ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।
সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আগামীকাল ২৬ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এর আগে গতকাল সোমবার মিরপুরে এশিয়া কাপ সামনে রেখে অফিশিয়াল ফটোসেশনে অংশ নেন দলের ক্রিকেটাররা। সেখানে নিজেদের লক্ষ্য ও প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
২০২৪ সালের নারী এশিয়া কাপে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়ায় সেমিফাইনালেই ভারতের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাদের। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চান জ্যোতি।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘শেষবার আমরা ভালো খেলতে পারিনি। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সেমিফাইনালে ভারতের সঙ্গে পড়েছিলাম। সেমিফাইনালের বাধা পার হতে পারিনি। এবার আমাদের ফাইনাল খেলার ইচ্ছা আছে। ফাইনালে খেলতে পারলে তখন শিরোপা জয়ের বিষয়টি সামনে আসবে। আমরা ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করছি।’
এবারের আসরের আগে দলের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট জ্যোতি। অনুশীলনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায়ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে দল। সব মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক।
জ্যোতি বলেন, ‘প্রস্তুতি অনেক ভালো হয়েছে। এবার আমরা অনেকগুলো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। শ্রীলঙ্কায় দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি। প্রস্তুতির দিক থেকে আমি মনে করি, আমরা খুব ভালো অবস্থায় আছি। এবার আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। বারবার সেমিফাইনাল খেলি, বাদ পড়ে ফিরে আসি। এবার আমরা এই বাধাটা ভাঙতে চাই।’
আগামী ২৮ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হবে নারী এশিয়া কাপের ষষ্ঠ আসর। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচই হবে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া।
৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় মাঠে নামবে জ্যোতির দল। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ৮ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুই সেমিফাইনাল। ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের নারী এশিয়া কাপের।
২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নারী এশিয়া কাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই সাফল্যের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে হলে আগে পেরোতে হবে সেমিফাইনালের বাধা। জ্যোতির দল অবশ্য এবার সেই বাধা ভেঙে ফাইনালে উঠেই শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে চায়।


