বিশ্বকাপ যখন বিদায় মঞ্চ
অনেক সঙ্কার পর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়েছিল নেইমার জুনিয়রের, শুরুতে নিয়মিত দলে না থাকলেও গুরুত্বপুর্ণ ম্যাচে বদলি হিসেবে ভালই খেলছিলেন। রাউন্ড অব সিক্সটিনের বাঁচা মরার লড়াইায়ে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামলেন গোল করলেন কিন্তু ব্রাজিল হেরে গেল। শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের এমন বিদায়ের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমার। নেইমারের ক্যারিয়ার যেমন ছিল জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভরা তেমনই আবার ইনজুরি ও নাটকীয়তায় মোড়ানো ছিল অনেকটা সময়। বিশ্বকাপ শেষের দিকে দুজন খেলোয়াড়ের বিদায় বেলায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মনের গহীনে আর তা হল; নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

বিদায় বেলায় সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলের আন্তর্জাতিক ৭৭ গোলকে পেছনে ফেলে নেইমার ১৩১ ম্যাচে ৮১ গোলের রেকর্ড ঝুলিতে ভরেছেন। গতি, ড্রিবলিং, স্কিল এবং ক্রিয়েটিভিটির জন্য নেইমারকে রোনালদিনহো ও পেলের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করা হতো কিন্তু ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ব্রাজিলের জার্সিতে নিঃসন্দেহে তার ফুটবলীয় অবদান তাকে অবশ্যই ইতিহাসের অন্যতম সেরাদের কাতারে রাখবে।
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ার এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প গাঁথায় ভরা। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং, কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিকতা তাকে ফুটবলের রেকর্ড চূড়ায় নিয়ে গেছে। ২৩২ ম্যাচে ১৪৬ গোল আর ৫টি ব্যালন ডি অর, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা দেশকে উপহার দিলেও বিশ্বকাপ যেন অধরা ছিল রোনালদোর কাছে আর এই আক্ষেপ নিয়ে নিজের ৬ষ্ট বিশ্বকাপটা রাঙ্গিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রোনালদো। ক্লাব ফুটবলের সকল রেকর্ড পুর্ণ হলেও শুধু বিশ্বকাপটাই অধরা ছিল কিন্তু বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে ওঠার ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো হার মানলেন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে। আর তাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাট চুকিয়ে বিদায় বললেন ফুটবলকে। আসলে রোনালদো না যতটা পর্তুগালের তারকা তার চেয়ে বেশী যেন বিশ্ব ফুটবলের তারকা তাইতো বিদায় বেলায় শুধু তার চোখেই পানি ছিলনা বিশ্বময় অনেক ভক্ত সমর্থকরাও কেঁদেছে তার জন্য।

নতুন অভিযানে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক
বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে? এই প্রশ্নে যে নাম দুটি প্রথমে আসবে তা হল পেলে এবং ম্যারাডোনা আর তার পরেই আসবে লিওনেল মেসি। আপাতত উত্তরটা কি হবে তা আপাতত থাক, এবার মেসিকে নিয়ে না হয় কিছু অনুমান করা যাক, না তাকে নিয়ে তো অনুমান করলে তিনি আবার ভুল প্রমাণ করেন, রোনালদোর মতই ক্লাব ফুটবলের সকল অর্জন পুর্ণ করলেও শুধু বিশ্বকাপের স্বপ্নটাই ছিল তার কাছে আকাশের চাঁদ তবে সেই স্বপ্ন ২০২২ সালে পুরণ করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন গুঞ্জন উটেছিল বিদায়ের, এবার মনে হয় মেসি বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে কিন্তু না থেমে যাননি, অবসরের বিষয়টা মেসি পরিস্কার করে বলেননি আবার জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলবেন এটাও পরিস্কার না করে খেলা চালিয়ে যাওয়া মেসি যেন নিজের দিকে তাকিয়েছেন আর ভেবেছেন আর কত? কিন্ত যার মধ্যে ফুটবলের অনন্ত ক্ষুধা লুকায়িত তিনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেননি তাকে কোথায় থামতে হবে এ যেন স্কালোনি-মেসি জুটির অপুর্ব মেলবন্ধন যা মেসিকে নিয়ে এলো আরেকটা বিশ্বকাপের মঞ্চে।

মেসি ক্যারিয়ারের ৮টি ব্যালন ডি অর, ২টি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়, ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী ট্রফি জয়ী খেলোয়াড় আর চলমান বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৭টি গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০টি গোলদাতা মেসি কি তবে এবার নেইমার, রোনালদোর মত বিশ্বকাপটা শেষ করে বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে? আসলে রেকর্ড দিয়ে মাপা যায় নিদিষ্ট মাপের কিছু খেরোয়াড়কে কিন্তু কোন খেলোয়াড় যখন আকাশের মত বিশাল হয়ে যান তখন তাকে মাপার সাধ্য আর রেকর্ডের থাকেনা, মেসি হলেন সেই রকম ফুটবলের মহীরুহ যাকে দেখতে হয় শুধুই আকাশের দিকে তাকিয়ে। তাই এখন শুধুই অপেক্ষার পালা কবে কখন থামবেন ফুটবল ইতিহাসের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মহাকাব্যিক লিওনেল মেসি!


