এজবাস্টনে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসটা একসময় শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষাতেই ছিল সবাই। ৮ উইকেটে ৩১৮ রান, ইনিংস হার এড়াতে তখন প্রয়োজন মাত্র ২ রান। তিন দিনেই ম্যাচ শেষ করে সিরিজে ইংল্যান্ডের হোয়াইটওয়াশের সম্ভাবনাই যেন জোরালো হচ্ছিল। কিন্তু সব হিসাব বদলে দিলেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা রাজাউল্লাহ।
নবম উইকেটে মোহাম্মাদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে ১২৩ বলে ১২১ রানের জুটি গড়েন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চারটি চার ও নয়টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদির পাশে বসেছেন রাজাউল্লাহ। ২০০৮ সালে অভিষেক টেস্টে নয়টি ছক্কা মেরেছিলেন সাউদি।
রাজাউল্লাহর ব্যাটে ভর করেই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭৮ রান করে। ফলে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৩০ রান।
এর আগে আজান আওয়াইস, শান মাসুদ ও বাবর আজমের ব্যাটে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করেছিল পাকিস্তান। আজান করেন ৫৯, মাসুদ ৯৫ এবং বাবর ৭৬ রান। ৮৪ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে আজানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ১২৫ রান যোগ করেন মাসুদ। তবে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ৫ রানের জন্য তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি তাঁর।
বাবর আজমও ফিফটি করলেও দীর্ঘ সেঞ্চুরি-খরা কাটাতে পারেননি। টেস্টে তাঁর শেষ সেঞ্চুরি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এরপর টানা ৪০ ইনিংসে তিন অঙ্কের দেখা পাননি পাকিস্তান অধিনায়ক।
শেষ দিকে রাজাউল্লাহর ঝড়েই পাকিস্তানের স্কোর সাড়ে চার শ পেরোয়। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস ও দিনের খেলা। এখন চতুর্থ দিনে ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে নামবে ইংল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৩
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৫৩
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৯৬.৪ ওভারে ৪৪৯/১০
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৩০


