পরাজয়ের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিলো আর্জেন্টিনা: মেসির জাদুতে মিশরের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়
পরাজয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্ত থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও একবার নিজেদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখলো আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার বিকেলে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড়ে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধেই মিশরের চমক ও মেসিকে রুখে দেওয়া
ম্যাচের শুরুতেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চমকে দেয় মিশর। ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। ২০২২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
২১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শৌবির বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির শট রুখে দিলে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।
ভিএআর (VAR) নাটক ও জিকোর দ্বৈত রূপ
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মোস্তফা জিকো। তবে ভিএআর (VAR) রিভিউতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেছিলেন মিশরের আত্তিয়া। ফলে গোলটি বাতিল হয় এবং ব্যবধান ১-০ ই থাকে।
তবে এতে দমে যায়নি মিশর। ৬৭তম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে বক্সে পাস দেন হাইসেম হাসানকে। হাসানের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি সেই জিকো। এবার আর কোনো বাধা ছাড়াই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মিশর।
১৩ মিনিটের অতিমানবীয় কামব্যাক
দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় আরও একবার জ্বলে উঠলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুসজ্জিত তারকা লিওনেল মেসি।
- প্রথম আঘাত (৭৯ মিনিট): মেসির চমৎকার লব পাস থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো জোরালো হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার শিবিরে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন (২-১)।
- সমতা (৮৩ মিনিট): মিশরীয় ডি-বক্সের ভেতর বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ের এক পর্যায়ে বল পান মেসি। বাম পায়ের নিখুঁত স্ট্রাইকে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ সমতায় ফেরান তিনি (২-২)। এটি চলতি টুর্নামেন্টে মেসির অষ্টম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২১তম গোল। একই সাথে বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি।
- বিজয়সূচক গোল (৯০+২ মিনিট): ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ হেডের সাহায্যে গোল করে আর্জেন্টিনার এই অলৌকিক কামব্যাক সম্পূর্ণ করেন (৩-২)।
রেকর্ডের সামনে আর্জেন্টিনা
এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। আগামী শনিবার কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা।
উল্লেখ্য, ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডের হাতছানি এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে।


