বিশ্বকাপ ফুটবলে টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি। স্বপ্নযাত্রার অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন। করেছেন তিন গোল। কিন্তু তাকে নিয়ে হঠাৎ দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই মরক্কোর। ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না মরক্কো। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।
মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বুধবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে একটা স্বস্তির বিষয় রয়েছে। সাইবারির চোট খুব একটা গুরুতর নয়। ফলে বিশ্বকাপের বাকি অংশ তার খেলার সম্ভাবনা থাকছে।
কানাডার বিপক্ষে ইনজুরিতে
কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২২ মিনিটের মাথায় অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। ম্যাচ শেষে করা পরীক্ষার পর সোমবার এমআরআই রিপোর্টে জানা যায়, হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগেছে। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না।
ওয়াহবি বলেন, সাইবারি ছাড়া ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সবাই প্রস্তুত। এই ম্যাচটি সাইবারির জন্য দ্রুত চলে এসেছে। তবে আশা করছি সে পরবর্তীতে খেলতে পারবে এবং শতভাগ ফিট হয়ে ফিরে আসবে।
সাফল্যের কারিগর ছিলেন সাইবারি
এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাইবারি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও গোলের দেখা পান তিনি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন সাইবারি।

নকআউট পর্বেও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন সাইবারি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেননি, তবে টাইব্রেকারে মরক্কোর পক্ষে শেষ শটে লক্ষ্যভেদ করে দলকে শেষ ষোলোতে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কার
বিশ্বকাপে ধারাবাহিক উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কারও এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন সাইবারি। ১ জুলাই ৫ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেন ছেড়ে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে আশরাফ হাকিমির পর মরক্কোর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামের ফুটবলার হয়ে উঠেছেন তিনি।
সাইবারির পরিবর্তে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন সুফিয়ান রহিমি। ফ্রান্সের বিপক্ষেও আক্রমণের দায়িত্ব তার কাঁধেই উঠতে পারে। তবে একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি বড় সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ কোচ ওয়াহবি। তার বিশ্বাস পুরো স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, অনেকদূর যেতে হলে পুরো দলকেই প্রয়োজন। যারা প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছে না, তারাও জানে শেষ দিকে নেমে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্যও তাদের আছে।


