শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে আবারও টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে ইংল্যান্ড। তবে এক নম্বর হওয়ার আনন্দে থেমে থাকতে চান না অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। বরং এই অবস্থান যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে রাখার জন্য সতীর্থদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার এমিরেটস ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড। মাত্র ১২৫ রানের লক্ষ্য তারা পেরিয়ে যায় ৯.৪ ওভারে। জস বাটলার ৩২ বলে অপরাজিত ৬২ রান করে ছক্কায় ম্যাচ শেষ করেন। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে পূর্ণ আধিপত্যের পাশাপাশি আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে টপকে আবারও এক নম্বরে উঠে যায় ইংল্যান্ড।
এটি অবশ্য ইংল্যান্ডের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গ্রীষ্মে ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে তারা এক নম্বরে উঠেছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত আবারও সেই অবস্থান দখল করে নেয়। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতে ভারতকে সরিয়ে আবার শীর্ষে ফিরল ইংল্যান্ড।
ব্রুকের অধিনায়কত্বের সময়েই ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি উত্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত গ্রীষ্মের শুরুতে সীমিত ওভারের অধিনায়ক হওয়ার সময় র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ড ছিল তিন নম্বরে। এরপর শেষ হওয়া ২৬টি ম্যাচের মধ্যে ২৩টিতেই জয় পেয়েছে তারা। টানা সাত জয়ের ধারায় থাকা দলটি দ্বিতীয়বারের মতো ভারতকে টপকে টি-টোয়েন্টির এক নম্বর দল হলো।
শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার পর ব্রুক নিজের দল নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, আরেকটি সিরিজ জয়, তার সঙ্গে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়া—সব মিলিয়ে ড্রেসিংরুমের প্রত্যেকেরই গর্বিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
ইংল্যান্ডের বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের পারফরম্যান্সকে ব্রুক নেতৃত্ব দেওয়া সেরা দলগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ে দলের উন্নতি তাঁর নজর কেড়েছে। খেলোয়াড়েরা নিজেদের দায়িত্ব বুঝে সঠিক জায়গায় অবস্থান নিচ্ছেন এবং দলের পরিকল্পনাগুলো মাঠে পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন অধিনায়ক।
তবে শীর্ষস্থান ধরে রাখার কাজটি সহজ হবে না—এ কথাও স্বীকার করছেন ব্রুক। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। তার আগে ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সূচিতে টেস্ট ও ওয়ানডের গুরুত্ব বাড়বে। ফলে সব সংস্করণে খেলা ক্রিকেটারদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভাবতে হবে দলকে।
ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ ম্যাচে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে উপস্থিত ছিলেন। সাদা বলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে তিনি দলের খেলোয়াড়দের তিন সংস্করণে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা করছেন। ফ্লেমিংয়ের দায়িত্বের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সীমিত ওভারের সফরের শেষ অংশের সঙ্গে সময়ের দিক থেকে মিলে যাচ্ছে।
এরপর ইংল্যান্ডের সামনে রয়েছে অ্যাশেজ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ফলে তিন সংস্করণে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সেই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে টি-টোয়েন্টি দলের ওপর এবং ব্রুকের ওপরও। কারণ তিনি টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কও।
এই সিরিজের আগে ব্রুককে বিশ্রাম দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচকেরা বিবেচনা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁকে সিরিজে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিনায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার পাশাপাশি দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি ফর্মও ধরে রাখতে চান ব্রুক।
তাঁর মতে, এক নম্বর র্যাঙ্কিং শুধু অর্জন করলেই হবে না, সেটিকে ধরে রাখার জন্যও দলের মধ্যে ক্ষুধা থাকতে হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ খেলানোর সিদ্ধান্তও সেই মানসিকতার অংশ ছিল। হোয়াইটওয়াশের সুযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার সুযোগটিও দলকে বাড়তি প্রেরণা দিয়েছে।
তবে ভারত যত বেশি টি-টোয়েন্টি খেলে, ইংল্যান্ডের সূচিতে এই সংস্করণের ম্যাচ তুলনামূলক কম। তাই দীর্ঘ সময় এক নম্বর থাকা সহজ হবে না বলেই মনে করেন ব্রুক। তাঁর বার্তা পরিষ্কার—যখনই টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ আসবে, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আধিপত্য দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর তাই ইংল্যান্ডের সামনে নতুন লক্ষ্য শুধু জয় নয়; নিজেদের দখলে ফেরা টি-টোয়েন্টির শীর্ষস্থানটিও যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা।


