ফুলহ্যামের সঙ্গে ১-১ ড্র
জয়ের খরা কাটল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে টানা তৃতীয় ম্যাচে জয়হীন থাকল ইংলিশ জায়ান্টরা। ক্রাভেন কটেজে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকার পর ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে মাতেউস কুনহার শট ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে জড়ালে কোনো রকমে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাইকেল ক্যারিকের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইউনাইটেডকে বেশ নিষ্প্রভ দেখিয়েছে। বলের দখল ও আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি দলটির খেলায়। বিপরীতে নিজেদের মাঠে ফুলহ্যাম ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় এবং সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল।
অদ্ভুত আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে ম্যান ইউ
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে ফুলহ্যামের গোলের সময়। ক্যালভিন বাসে বল নিয়ে দ্রুত ইউনাইটেডে্ময রক্ষণভাগের দিকে এগিয়ে যান। মাঝমাঠে মাতেউস কুনহা বল হারানোর পর ফুলহ্যাম দ্রুত আক্রমণে ওঠে এবং সেই আক্রমণ থেকেই আসে গোলের সুযোগ।
বাসের শট সামলানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেন লামেন্স বলটি হাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে পা দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে তৈরি হয় আরও বিভ্রান্তি। পরে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ব্যাকপাসও ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। বল শেষ পর্যন্ত নিজেদের জালেই ঢুকে যায়।
গোলটি মার্তিনেজের আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হলেও পুরো ঘটনাটিতে গোলরক্ষক লামেন্সের ভুলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউনাইটেডের জন্য এটি ছিল ম্যাচের সবচেয়ে হতাশাজনক মুহূর্তগুলোর একটি।
জয়ের পথে এগিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ফুলহ্যামের
গোল পাওয়ার পর ফুলহ্যাম নিজেদের রক্ষণ আরও সংগঠিত করে খেলার চেষ্টা করে। ইউনাইটেড একাধিকবার আক্রমণে উঠলেও শেষ পাস এবং ফিনিশিংয়ে কার্যকারিতার অভাব ছিল স্পষ্ট।
সময় যত গড়াতে থাকে, ইউনাইটেডের ওপর চাপ তত বাড়তে থাকে। তবে গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে দলটি বেশ সংগ্রাম করে। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফুলহ্যামই তিন পয়েন্ট পাওয়ার পথে ছিল।
স্বাগতিকদের কোচ আলভারো আরবেওলার জন্য এটি হতে পারত প্রিমিয়ার লিগে প্রথম জয়। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে কুনহার গোল সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়।
৮৯ মিনিটে কুনহার গোলে সমতা
ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরায় ইউনাইটেড। কুনহা বল নিয়ে শট নেন। তাঁর নেওয়া শট ফুলহ্যামের ডিফেন্ডার ডেভিড অ্যাফগ্রুনফারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।
গোলটির ধরনও ছিল কিছুটা ভাগ্যনির্ভর। তবে সেটিই শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেডকে পরাজয় থেকে বাঁচায়।
গোল পাওয়ার পর ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও জয় ছিনিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় আর হাতে ছিল না। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
টানা তৃতীয় ম্যাচে জয়হীন ইউনাইটেড
এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় ম্যাচে জয় পেল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার সময় পয়েন্ট তালিকার নিচের অর্ধেই থাকতে হচ্ছে ক্যারিকের দলকে।
ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি এবং সেগুলো কাজে লাগানো—দুই ক্ষেত্রেই দলটির উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষণের ভুলও তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, ফুলহ্যাম জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট আদায় করতে পারেনি। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেললেও শেষ মুহূর্তের ডিফ্লেক্টেড গোলে তাদের জয় হাতছাড়া হয়।
ফলে ক্রাভেন কটেজের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ভিন্ন ধরনের হতাশা নিয়ে শেষ হয়েছে—ফুলহ্যাম জয়ের কাছাকাছি গিয়েও জয় পায়নি, আর ইউনাইটেড দীর্ঘ সময় দুর্বল পারফরম্যান্সের পর শেষ মুহূর্তের গোলে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে।


