নাটকীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১ উইকেটে হারালো অস্ট্রেলিয়া

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১ উইকেটে হারিয়ে এক রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকদের সংগৃহীত ২৭১ রানের জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজিরা। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ ১২ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ ক্লিন সোয়াইপ করল অস্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

  • জিম্বাবুয়ে: ২৭১/৮ (৫০ ওভার)(সিকান্দার রাজা ৮১, ক্রেইগ এরভাইন ৫৯, ইনোসেন্ট কাইয়া ৫৫ অবসর; নাথান এলিস ৩/৫০, স্পেন্সর জনসন ২/৫৮)*
  • অস্ট্রেলিয়া: ২৭২/৯ (৪৯.১ ওভার)(জশ ইংলিস ১০৩, নাথান এলিস ৩৬, অ্যালেক্স ক্যারি ২৬; ব্র্যাড ইভান্স ৪/৪৭, সিকান্দার রাজা ২/৪১)*
  • ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী (সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ী)।

জিম্বাবুয়ের ইনিংস: জয়ের ভিত্তি গড়েছিলেন রাজা ও এরভাইন

টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ওপেনিং জুটি শুরুটা ভালো করলেও ৬ ওভারের মাথায় ৩৪ রানের মাথায় প্রথম ধাক্কা খায় তারা। বেন কারান ৭ রান করে স্পেন্সর জনসনের লেগ-সাইডের বলে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে ক্যাচ দেন। অপর ওপেনার ব্রায়ান বেনেট বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শট খেলে ৩০ রানে এলিসের শিকার হন। অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলরও খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি; অ্যাডাম জাম্পার এক দুর্দান্ত ফ্লিপারে ৯ রান করে বোল্ড হন তিনি।

এরপর ম্যাচের হাল ধরেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিন। চতুর্থ উইকেটে দুজনে ৮০ রানের কার্যকর জুটি গড়েন। কাইয়া ৫৯ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে ব্যক্তিগত ৫৫ রানে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়ে তিনি ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়লে জিম্বাবুয়ের রানের গতি খানিকটা থমকে যায়।

এরপর অধিনায়ক আরভিন (৫৯) ও সিকান্দার রাজা দলের স্কোর ২০০ পার করান। তবে শেষ ১০ ওভারে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। ২২ রানের ব্যবধানে ৪টি উইকেট হারিয়ে ৩০০ রানের সম্ভাবনা হাতছাড়া করে তারা। শেষ দিকে একা লড়াই চালিয়ে যান সিকান্দার রাজা। তিনি শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের লড়াকু পুঁজিতে পৌঁছে দেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নাথান এলিস ৫০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।

অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া: ইংলিসের সেঞ্চুরি ও ধস

২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্র্যাড ইভান্সের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ ওভারে মাত্র ২৫ রানে ট্র্যাভিস হেড ও মিচেল মার্শ—দুই টপ অর্ডার ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন ইভান্স। এরপর জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে ৮৫ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন।

ইংলিস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। ৮৫ বল খেলে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এটি চলতি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের তৃতীয় সেঞ্চুরি (এর আগে ম্যাট রেনশ ও ট্র্যাভিস হেড সেঞ্চুরি করেছিলেন)।

তবে ২৬তম ওভারে ইভান্সের বলে ক্যারি (২৬) আউট হওয়ার পরই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামে। সিকান্দার রাজা ও দীর্ঘদিন পর ওয়ানডেতে ফেরা গ্রায়েম ক্রেমারের ঘূর্ণিতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ২০০ রানে ৫ উইকেট থেকে দেখতে দেখতে ২৪৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসে অজিরা। জশ ইংলিশ ১০৩ রান করে সিকান্দার রাজার বলে বোল্ড হলে জিম্বাবুয়ের জয় উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

শেষ উইকেটের নাটকীয়তা ও ফিল্ডিংয়ের ভুল

জয় থেকে তখনো ২৭ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া, হাতে শেষ ১ উইকেট। এক প্রান্তে ছিলেন নাথান এলিস, আর শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসেন স্পেন্সর জনসন। অলরাউন্ডার নাথান এলিস ঠাণ্ডা মাথায় স্পেন্সর জনসনকে সাথে নিয়ে হিসাব কষে ব্যাটিং শুরু করেন।

এই সময় জিম্বাবুয়ে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করে: ১. ইংলিসের ক্যাচ মিস: জশ ইংলিস যখন ৪৮ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন ওয়েসলি মাধেভেরে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে লাফিয়ে উঠেও ক্যাচটি নিতে পারেননি। ২. এলিসের ড্রপ ক্যাচ: পেনাল্টিমেট ওভারে (৪৯তম ওভার) নাথান এলিস বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তোলেন। তবে সহজ ক্যাচটি হাতে জমাতে ব্যর্থ হন মাধেভেরে। ৩. বোলিং নিয়ন্ত্রণে ভুল: জয়ের জন্য শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৯ রান। অভিজ্ঞ লেগস্পিনার গ্রায়েম ক্রেমারের ১ ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও অধিনায়ক রাজা বল তুলে দেন ওয়েসলি মাধেভেরের হাতে। মাধেভেরের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন এলিস।

ম্যাচ বিশ্লেষণ ও ফলাফল

নাথান এলিস ৫৬ বল খেলে দায়িত্বশীল ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন এবং বল হাতে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নায়কে পরিণত হন।

জিম্বাবুয়ে দুর্দান্ত লড়াই করলেও চাপের মুখে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস ও শেষ দিকের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে জয় হাতছাড়া করে। ২০২৬ সালের ঘরের মাঠে এটিই ছিল জিম্বাবুয়ের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফলে ঘরের মাঠে অসাধারণ লড়াইয়ের পরেও ভক্তদের একটি সান্ত্বনার জয় উপহার দিতে না পারার হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় সিকান্দার রাজাবাহিনীকে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles