এগিয়ে গিয়েও জয় ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ
এশিয়ান গেমসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। ম্যাচের শুরুতে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরও সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরে একের পর এক আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মালয়েশিয়া এবং শেষ পর্যন্ত তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করে।
চীনের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে তুলনামূলকভাবে ভালো শুরু করেছিল বাংলাদেশ। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলার চেষ্টা করে তারা। ম্যাচের একপর্যায়ে বাংলাদেশের আক্রমণ থেকে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। এতে স্বাগতিক বা প্রতিপক্ষের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায় এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

তবে ম্যাচের বাকি সময় সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। গোল হজম করার পর মালয়েশিয়া আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও চলে যায় মালয়েশিয়ার হাতে।
এগিয়ে থেকেও ধরে রাখা গেল না লিড
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল শুরুতে এগিয়ে যাওয়া। প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুতেই গোল পাওয়ায় দলটির মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু গোলের পর নিজেদের রক্ষণভাগ আরও শক্ত করার পাশাপাশি আক্রমণ ধরে রাখার প্রয়োজন থাকলেও বাংলাদেশ তা করতে পারেনি। মালয়েশিয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে।
এক গোল শোধ করার পর মালয়েশিয়ার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আরও দুটি গোল হজম করতে হয়। ফলে একসময় ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ ম্যাচের শেষ দিকে ১-৩ গোলে পিছিয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে মালয়েশিয়ার নিয়ন্ত্রণ
ম্যাচ যত গড়িয়েছে, মালয়েশিয়া তত বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তারা বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি।
অন্যদিকে মালয়েশিয়া নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে গোলের ব্যবধান বাড়াতে থাকে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া তিনটি গোল আদায় করে নেয়।
শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও মালয়েশিয়ার রক্ষণভাগ আর কোনো গোল হতে দেয়নি। ফলে ৩-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
চীনের বিপক্ষে শুরু হয়েছিল কঠিন লড়াই
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হয়েছিল শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। সেই ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ নারী হকি দল। চীনের কাছে ১৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করে তারা।
প্রথম ম্যাচের বড় হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুতে গোল করে সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছিল দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে না পারায় আবারও পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে পুরো ম্যাচজুড়ে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
এখন সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ
এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পরপর দুই ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শুধু রক্ষণভাগ শক্ত করাই নয়, আক্রমণভাগের সুযোগগুলোও কাজে লাগাতে হবে দলটিকে।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তবে সেই লিড ধরে রাখতে না পারা এবং দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে না পারা দলটির জন্য বড় শিক্ষা হতে পারে।
পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এশিয়ান গেমসের বাকি ম্যাচগুলোতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করে ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের নারী হকি দলের।


