বাংলাদেশকে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়
সিরিজ বাঁচানোর সমীকরণে জিম্বাবুয়ের ২৪৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে একপর্যায়ে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয়ের ৬০ এবং তানজিদ হাসান তামিমের ৫৭ রানের ওপর ভর করে একসময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৬৯ রান। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। মাত্র ৬৫ রান তুলতে শেষ ৭টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
কারানের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি ও ইভান্সের ক্যামিও
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। তবে ওপেনার বেন কারান জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ইনিংসের প্রথম থেকে শেষ ওভার (পুরো ৫০ ওভার) পর্যন্ত ব্যাটিং করার এক অনন্য কীর্তি গড়েন। তিনি ১৪১ বলে ১১১ রানের এক অপরাজিত মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। শেষদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ব্র্যাডলি ইভান্স। তিনি খেলেন ৫৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস। কারান ও ইভান্সের অবিচ্ছিন্ন জুটির ওপর ভর করেই জিম্বাবুয়ে ২৪৭ রানের লড়াকু পুঁজি পায়। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।
এনগারাভার হাত ধরে জিম্বাবুয়ের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
২৪৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই খেই হারিয়ে ফেলে। ৩ উইকেট ১৬৯ রান থেকে স্কোরবোর্ড মুহূর্তেই হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৭৬ রান। এরপর ২১১ রানে ৬ উইকেট থেকে ২২২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। তিনি ৫৫ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। গোধূলির আলোয় যখন ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন মিরাজকে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এনগারাভা। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো হারারে স্টেডিয়াম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ২৪৭/৬ (৫০ ওভার) | কারান ১১১*, ইভান্স ৫৮*; মিরাজ ২/৩২। বাংলাদেশ: ২৩৪/১০ (৪৭.৩ ওভার) | হৃদয় ৬০, তানজিদ ৫৭; এনগারাভা ৩/৫৫। ফল: জিম্বাবুয়ে ১৩ রানে জয়ী এবং ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়।
এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর হারারের ঘাসের গ্যালারিগুলো মেতে ওঠে বুনো উল্লাসে। জিম্বাবুয়ের সমর্থকদের আনন্দের গান আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। নিশ্চিত খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ও সিরিজ জিতে এক নতুন ইতিহাস গড়ল স্বাগতিকরা।


