বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে নতুন এক বিতর্কে সরব হয়েছে ইংল্যান্ড। লিভারপুলের তরুণ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসার দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে ফিফার বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠেছে। শুধু ইংল্যান্ড শিবিরেই নয়, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক কয়েকজন আন্তর্জাতিক রেফারিও।
নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে কোয়ানসাকে পাচ্ছেন না ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচেও খেলা হবে না এই ডিফেন্ডারের। একই ধরনের অপরাধের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি দেওয়াতেই মূলত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ঘটনা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখলেও তার নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে খেলতে কোনো বাধা থাকেনি তার। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বেলজিয়ামও, তবে ফিফা তা গ্রহণ করেনি।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে গুরুতর ফাউলের দায়ে লাল কার্ড দেখেন কোয়ানসা। ভিএআরের পরামর্শে ম্যাচ রেফারি তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন। পরে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি তাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার সুযোগও নেই।
এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক ফিফা রেফারি জোনাস এরিকসন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, রেফারিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো ধারাবাহিকতা। একই ধরনের ঘটনায় দুই ধরনের শাস্তি কেন দেওয়া হচ্ছে, সেটি তার বোধগম্য নয়।
আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি কিথ হ্যাকেট। তার মতে, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ফিফার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয় এবং এখানে বাইরের প্রভাবও থাকতে পারে।
তবে বিতর্ক নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করতে চাইছে না ইংল্যান্ড। নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে কোয়ানসাকে ছাড়াই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন টুখেল। দলের হতাশার কথা স্বীকার করেছেন বুকায়ো সাকা।
তিনি বলেন, ‘কোয়ানসা দুই ম্যাচ খেলতে পারবে না জেনে আমরা হতাশ হয়েছি। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। এখন আমাদের লক্ষ্য নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা।’


