আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে জায়গা সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ ও আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট গুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের চক্রে সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এ সময়ে টি-টোয়েন্টি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ কমিয়ে নতুন কাঠামো চালুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
পরবর্তী ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) নিয়ে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে পূর্ণ সদস্য দেশ গুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্রিকেটকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে এই সংস্করণকে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে আইসিসি।
প্রতি দুই বছর পরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন এবং সহযোগী দেশ গুলোর জন্য এই সংস্করণে আরও বেশি সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও টি-টোয়েন্টি বাড়ানোর অন্যতম কারণ। ফলে আগামী চক্রে দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের সংখ্যা বাড়তে পারে।
তবে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডেকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে ১৯৯০-এর দশকের আদলে ত্রিদেশীয় বা চারজাতি সিরিজ আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। এতে একাধিক দলকে নিয়ে সিরিজ আয়োজনের মাধ্যমে ওয়ানডেকে আরও অর্থবহ করার চেষ্টা হতে পারে।
ওয়ানডে সুপার লিগের পরিবর্তে এমন বহুদলীয় সিরিজ চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সংখ্যা কমলেও ওয়ানডে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক পরিসর ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে।
টি-২০ নিয়ে অলিম্পিকের প্রভাব
২০২৭-৩১ চক্রে সূচি তৈরির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় এই অলিম্পিকে প্রায় এক সপ্তাহের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা থাকবে। ফলে ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আয়োজন নিয়ে সূচিগত সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) দলের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমান নয় দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই তিন দলকে ডব্লিউটিসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে ২০২৭-৩১ চক্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তবে নতুন এফটিপি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্টের ম্যাচসংখ্যা এবং কাঠামো সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।




