২০১০ সালে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের সেটিই এখন পর্যন্ত সর্বশেষ স্বর্ণপদক। ২০২৬ এশিয়ান গেমসে আবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চায় বাংলাদেশ।
তবে স্বর্ণপদকের স্বপ্ন থাকলেও আপাতত বাংলাদেশের ভাবনায় ফাইনাল। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে অন্তত ফাইনালে জায়গা করে নিতে চায় দল। ফাইনালে উঠতে পারলে নিশ্চিত হবে একটি পদক, আর তখনই স্বর্ণ জয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
এবার এই ইভেন্টে জাতীয় দলের মূল খেলোয়াড়দের নিয়েই অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি। দলের অধিনায়ক লিটন দাসের জন্যও এটি হবে এশিয়ান গেমসে প্রথম অংশগ্রহণ।
এই খেলাকে বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন লিটন। তিনি বলেন, এই প্রথম আমি এশিয়ান গেমসে খেলব। জাতীয় দলকে তো সার্ভ করছিই, এরকম মঞ্চে খেলা এটাও বড় জিনিস। সব সময় আপনি ট্রফি জিতবেন, তবে এখানে জিতলে স্বর্ণের বিষয় থাকে। এটা একটা বড় স্বপ্ন। সব খেলোয়াড়ই এক্সাইটেড।
এশিয়ান গেমস নিয়ে সতীর্থদের আগ্রহ
এশিয়ান গেমস নিয়ে সতীর্থদের মধ্যেও যথেষ্ট আগ্রহ আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, ‘প্রত্যাশা তো সবাই করবে। আমিও তো প্রত্যাশা নিয়েই যাব। একটা জিনিস বলতে পারি খেলোয়াড়দের এই টুর্নামেন্ট নিয়ে অনেক আগ্রহ। এই টুর্নামেন্ট সব সময় আসে না, খুব কম হয়। সবাই তাই রোমাঞ্চিত। এশিয়ান গেমসের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে অলিম্পিকও। এই ইভেন্টে ভালো করতে পারলে অলিম্পিকে খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেদিকে এখনই বেশি না ভেবে এশিয়ান গেমসের ম্যাচগুলোতেই মনোযোগ দিতে চান লিটন।
অধিনায়ক বলেন, ‘অলিম্পিক কে না খেলতে চায়। এই ইভেন্টে যদি ভালো খেলি, অলিম্পিকে পৌঁছে যাব। আপাতত মনোযোগ এশিয়ান গেমস ভালো খেলা। আমাদের আপাতত লক্ষ্য কীভাবে ফাইনালে যাওয়া যায়। ফাইনালে গেলে স্বর্ণ জয়ের সুযোগ থাকবে। আগে ফাইনালে যেতে হবে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ যাব।
এশিয়ান কিংবা অলিম্পিকে ক্রিকেটের সাফল্য শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়, বাংলাদেশের পুরো ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন লিটন। তাঁর মতে, ক্রিকেট দল ভালো করলে অন্য খেলাগুলোরও সুযোগ ও উন্নয়নের পথ তৈরি হতে পারে।
লিটন বলেন, ‘দেশের জন্য কিছু করতে পারাই তো বড় বিষয়। সেটা যদি স্পোর্টসের মাধ্যমে হয়, কেন নয়? আমাদের মাধ্যমে যদি পুরো গেমের ডেভেলপমেন্ট হয়, অন্য স্পোর্টসের সুযোগ আসে, আমরা চেষ্টা করব।
তবে এই গেমসের পরিবেশ আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ কিংবা বিশ্বকাপের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে বলেও মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এমন এক জায়গায় যাচ্ছি, অনেক কিছু আমাদের আয়ত্তে নাও থাকতে পারে। যখন আমরা সিরিজ বা বিশ্বকাপ খেলি, সবকিছু গোছানো থাকে। এখানে ভিন্ন কিছু হতেও পারে। ম্যাচ খেলে ভালো কিছু করতে হবে। সেখানে আমাদের ফোকাস আছে।
তাই আপাতত লক্ষ্য একটাই-ফাইনালে ওঠা। এরপর সুযোগ এলে স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই করতে চায় বাংলাদেশ। আর এশিয়ান গেমসে ভালো ফল করতে পারলে শুধু ক্রিকেট নয়, দেশের অন্যান্য খেলাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন লিটন।
আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। যদি ভালো কিছু করি, অলিম্পিকে যেতে পারি, হয়তো বাংলাদেশের অন্যান্য স্পোর্টসও উপকৃত হবে,’ বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।




