ইংল্যান্ডকে ১৬ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরালো শ্রীলঙ্কা

হেডিংলিতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ইংল্যান্ডকে ১৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় জয়ের পথেই ছিল স্বাগতিকরা। তবে জস বাটলারের চোট এবং শেষদিকে শ্রীলঙ্কার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সফরকারীদের হাতে। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে।

বৃহস্পতিবার লিডসের হেডিংলিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানোর চাপ সামলে দলের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান কামিন্দু মেন্ডিস ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস।

পাথুম নিসাঙ্কার সঙ্গে কামিন্দুর উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৫ রান। নিসাঙ্কা ৩৩ বলে ২৫ রান করে ফিরলেও এরপর কুশলকে নিয়ে বড় জুটি গড়েন কামিন্দু। দুজনের ব্যাটে শ্রীলঙ্কার স্কোর দ্রুত বাড়তে থাকে। কামিন্দু ৬৫ বলে ৫৪ রান করে বিদায় নেন। অন্যদিকে কুশল মেন্ডিস ব্যাট হাতে ছিলেন আরও আগ্রাসী।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে কুশল শেষ পর্যন্ত ১০০ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলেন। তার বিদায়ের সময় শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২২ রান।

এরপর মাঝের সারির ব্যাটাররা ইনিংসকে আরও শক্ত ভিত দেন। আসালাঙ্কা ১১ রানে আউট হলেও পাভান রাথনায়েকে ৪৮, জানিথ লিয়ানাগে ৩২ এবং দুনিথ ভেল্লালাগে ১৬ রান যোগ করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩২১ রানের বড় সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা।

ইংল্যান্ডের হয়ে রেহান আহমেদ ও গাস অ্যাটকিনসন দুটি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট পান জফরা আর্চার।

দুর্দান্ত শুরু, শেষটা হতাশার

৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টন শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন মিলে ১৪৩ রান যোগ করেন।

ডাকেট ৬৩ বলে ৬৭ এবং ব্যান্টন ৬২ বলে ৭৩ রান করে ফিরলে ইংল্যান্ড কিছুটা চাপে পড়ে। এরপর জো রুট ১৭ বলে ১৫ এবং হ্যারি ব্রুক মাত্র ১ রান করে আউট হন।

তখন দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক বাটলার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তিনি ইংল্যান্ডকে আবারও জয়ের স্বপ্ন দেখান এবং তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক। কিন্তু রান নেওয়ার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় একপর্যায়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

বাটলারের অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের রান তাড়ায় গতি কমে যায়। তবে উইল জ্যাকস হাল ছাড়েননি। ৬১ বলে ৫২ রানের ইনিংসে তিনি দলকে লড়াইয়ে ধরে রাখেন।

শেষদিকে চোট নিয়েই আবার ব্যাট করতে ফেরেন বাটলার। তখন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান, হাতে ছিল শেষ ওভার। প্রথম বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ইংলিশ অধিনায়ক। ৪৯ বলে ৬৯ রানের সাহসী ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে সেখানেই।

বাটলার ফেরার পর আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৩০৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন দুনিথ ভেল্লালাগে। তিনি তিনটি উইকেট নেন। ইশান মালিঙ্গা ও দিলশান মাদুশাঙ্কা পান দুটি করে উইকেট। আসিথা ফার্নান্দো ও সাচিন্দু কলম্বাগে একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরেছে। এখন তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেই নির্ধারিত হবে সিরিজের ট্রফি যাবে কোন দলের হাতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

শ্রীলঙ্কা: ৩২১/৬ (৫০ ওভার)

  • কুশল মেন্ডিস ১২১
  • কামিন্দু মেন্ডিস ৫৪
  • পাভান রাথনায়েকে ৪৮

ইংল্যান্ড: ৩০৫ অলআউট (৪৯.৪ ওভার)

  • জস বাটলার ৬৯
  • টম ব্যান্টন ৭৩
  • বেন ডাকেট ৬৭
  • উইল জ্যাকস ৫২

ফল: শ্রীলঙ্কা জয়ী ১৬ রানে

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles